📄 পাঁচটি জিনিসের চিন্তা
বলা হয়, জীবিতদের চিন্তার বিষয় পাঁচটি। প্রতিটি মানুষের উচিত সর্বদা এই পাঁচটি বিষয় নিয়ে চিন্তা করা। যথা-
১. অতীত জীবনের গুনাহ নিয়ে চিন্তা করা। কারণ, সে জানে যে, গুনাহ হয়েছে, কিন্তু মাফ হয়েছে কিনা তা জানে না।
২. নেক আমলের চিন্তা। কারণ, তার অনেক নেক আমল থাকলেও তার জানা নেই তা কবুল হয়েছে কিনা।
৩. ভবিষ্যত জীবনের চিন্তা। কারণ, তার অতীত কিভাবে কেটেছে তা জানা আছে, কিন্তু ভবিষ্যত জীবন কিভাবে কাটাবে তা তো জানা নেই।
৪. জান্নাত জাহান্নামের চিন্তা। কারণ, জানা গেছে, জান্নাত ও জাহান্নাম আছে। কিন্তু তার তো জানা নেই সে জান্নাতে যাবে না জাহান্নামে।
৫. আল্লাহর সন্তুষ্টি নিয়ে ভাবনা। কারণ, আল্লাহ তা'আলা তার উপর সন্তুষ্ট না অসন্তুষ্ট এটা সে জানে না।
যে ব্যক্তি দুনিয়ায় এই পাঁচটি বিষয় নিয়ে চিন্তা করবে, সে হাসি থেকে বেঁচে থাকতে পারবে। আর যে এই পাঁচটি বিষয় নিয়ে চিন্তা করবে না, মৃত্যুর পর সে পাঁচটি দুশ্চিন্তায় আক্রান্ত হবে-
১. রেখে যাওয়া সম্পদের উপর আক্ষেপ। যা সে দুনিয়াতে হালাল ও হারাম পন্থায় উপার্জন করেছে এবং ওয়ারিশদের জন্য রেখে গেছে।
২. নেক আমলে অলসতার উপর আক্ষেপ।
৩. কৃত গুনাহের জন্য আক্ষেপ।
৪. পাওনাদারদের উপর আক্ষেপ।
৫. আল্লাহর বিষয়ে আক্ষেপ।
عَنْ أَبِي ذَرِّ الْغِفَارِيِّ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: لَوْ تَعْلَمُونَ مَا أَعْلَمُ لَضَحِكْتُمْ قَلِيلًا وَلَبَكَيْتُمْ كَثِيرًا، وَلَوْ تَعْلَمُونَ مَا أَعْلَمُ لَخَرَجْتُمْ إِلَى الصُّعُدَاتِ تَجْأَرُونَ إِلَى رَبِّكُمْ وَتَبْكُونَ، وَلَوْ تَعْلَمُونَ مَا أَعْلَمُ مَا انْبَسَطْتُمْ إِلَى نِسَائِكُمْ وَلَا تَقَارَرْتُمْ عَلَى فُرُشِكُمْ. وَلَوَدِدْتُ أَنَّ اللَّهَ خَلَقَنِي يَوْمَ خَلَقَنِي شَجَرَةً تُعْضَدُ.
হযরত আবু যর গিফারী রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, আমি যা জানি তোমরা যদি তা জানতে তাহলে তোমরা কম হাসতে এবং বেশি বেশি কাঁদতে। আমি যা জানি তোমরা যদি তা জানতে তাহলে তোমরা পাহাড় পর্বতে চলে যেতে এবং সর্বদা আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করতে। আমি যা জানি তোমরা যদি তা জানতে তাহলে তোমরা কখনো তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সোহাগ করতে না এবং বিছানায় স্থির থাকতে না। বরং প্রতিটি ব্যক্তি এই কামনা করতে যে, হায় যদি আমি সাধারণ বৃক্ষ হতাম যেটা কেটে ফেলা হতো!
টিকাঃ
৪৩৭. সূরা নাজম: আয়াত-৫৯-৬১
৪৩৮. সূরা ইসরা: আয়াত-১০৯
৪৩৯. সুনানে তিরযিমী: হাদীস-২৩১২; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-৪১৯০; মুসনাদে আহমাদ: ৩৫/৪০৫। হাদীসটিকে ইমাম তিরমিযী হাসান বলেছেন।
📄 হাসান বসরী রহ.-এর হালাত
হযরত ইউনুস রহ. থেকে বর্ণিত। হযরত হাসান বসরী রহ. বলেন, মুমিন রাত দিন সর্বক্ষণ চিন্তিত থাকে। ইউনুস রহ. বলেন, হযরত হাসান বসরী রহ. কে সর্বদা বিপদাক্রান্ত ব্যক্তির ন্যায় বিষণ্ণই দেখেছি। অন্য এক বর্ণনায় আছে, তিনি সর্বদা এত বিষণ্ণ থাকতেন যে, তাকে দেখে মনে হতো, এইমাত্র তিনি তার মা'র দাফন সম্পন্ন করে এসেছেন।
আল্লাহ ইরশাদ করেন- مَا لِهَذَا الْكِتَابِ لَا يُغَادِرُ صَغِيرَةً وَلَا كَبِيرَةً إِلَّا أَحْصَاهَا অর্থ: তারা বলবে, হায়রে এটা কী ধরনের কিতাব (আমলনামা) ছোট বড় কোনো গুনাহই লিখতে ছাড়েনি।
টিকাঃ
৪৪০. সূরা কাফ: আয়াত-৪৯
📄 কান্নার ভান করা
এই আয়াতের ব্যাখ্যায় হযরত আউযায়ী রহ. বলেন, এখানে ছোট গুনাহ বলতে মুচকি হাসি, আর বড় গুনাহ বলতে অট্ট হাসি বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ, অট্টহাসি কবীরা গুনাহ।
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ أَنَّهُ قَالَ: لَوْ تَعْلَمُونَ مَا أَعْلَمُ لَضَحِكْتُمْ قَلِيلًا وَلَبَكَيْتُمْ كَثِيرًا، وَلَوْ تَعْلَمُونَ مَا أَعْلَمُ لَسَجَدَ أَحَدُكُمْ حَتَّى يَنْقַטِعَ صُلْبُهُ، وَلَصَرَخَ حَتَّى يَنْقַطِعَ صَوْتُهُ، ابْكُوا إِلَى اللَّهِ تَعَالَى، فَإِذَا لَمْ تَسْتَطِيعُوا أَنْ تَبْكُوا فَتَبَاكَوْا.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমার ইবনুল আস রাযি. বলেন, আমি যা জানি তোমরা যদি তা জানতে, তাহলে তোমরা কম হাসতে আর বেশি বেশি কাঁদতে। আমি যা জানি তোমরা যদি তা জানতে, তাহলে এতো লম্বা সেজদা করতে যে, মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙ্গে যেত। আর এতটাই চিৎকার করতে যে, কণ্ঠনালী ছিঁড়ে ফেলতে। আল্লাহর নিকট কান্নাকাটি কর। যদি কান্না না আসে তাহলে কান্নার ভান কর।
📄 তিন ধরনের চোখ
عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلَانَ فِي حَدِيثٍ يَذْكُرُهُ قَالَ : كُلُّ عَيْنٍ بَاكِيَةٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِلَّا ثَلَاثَةَ أَعْيُنٍ : عَيْنٌ بَكَتْ مِنْ خَشْيَةِ اللهِ تَعَالَى، وَعَيْنٌ غَضَّتْ عَنْ مَحَارِمِ اللَّهِ تَعَالَى، وَعَيْنٌ سَهِرَتْ فِي سَبِيلِ اللهِ تَعَالَى .
হযরত মুহাম্মদ ইবনে আজলান রহ. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, তিন ধরনের চোখ ছাড়া কিয়ামতের দিন প্রতিটি চোখকে কাঁদতে হবে।
১. যে চোখ আল্লাহর ভয়ে কেঁদেছে।
২. যে চোখ হারাম থেকে বিরত থেকেছে।
৩. যে চোখ আল্লাহর রাস্তায় জাগ্রত থেকেছে।
টিকাঃ
৪৪১ হিলইয়াতুল আউলিয়া ৩/১৬৩; কানযুল উম্মাল হাদীস-৪৩৩৫৭; হাদীসটিকে আল্লামা আসবাহানী গরীব ও শায়েখ আলবানী জয়ীফ বলেছেন।