📄 অপরিচিতদের জন্য সুসংবাদ
عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، قَالَ : خَرَجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ يَوْمٍ إِلَى الْمَسْجِدِ، فَإِذَا قَوْمٌ يَتَحَدَّثُونَ وَيَضْحَكُونَ، فَوَقَفَ وَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ ثُمَّ قَالَ: أَكْثِرُوا ذِكْرَ هَادِمِ اللَّذَاتِ، قُلْنَا: وَمَا هَادِمُ اللَّذَاتِ? قَالَ: الْمَوْتُ. ثُمَّ خَرَجَ بَعْدَ ذَلِكَ مَرَّةً أُخْرَى فَإِذَا قَوْمٌ يَضْحَكُونَ فَقَالَ : أَمَا وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، لَوْ تَعْلَمُونَ مَا أَعْلَمُ لَضَحِكْتُمْ قَلِيلًا وَلَبَكَيْتُمْ كَثِيرًا. ثُمَّ خَرَجَ أَيْضًا. فَإِذَا قَوْمٌ يَتَحَدَّثُونَ وَيَضْحَكُونَ، فَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ ثُمَّ قَالَ : إِنَّ الْإِسْلَامَ بَدَأَ غَرِيبًا وَسَيَعُودُ غَرِيبًا فَطُوبَى لِلْغُرَبَاءِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، فَقِيلَ وَمَنِ الْغُرَبَاءُ يَوْমَ الْقِيَامَةِ? قَالَ : الَّذِينَ إِذَا فَسَدَ النَّاسُ صَلَحُوا.
হযরত ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, একদা রাসূল ﷺ মসজিদে গেলেন। দেখলেন একদল লোক কথা বলছে আর হাসাহাসি করছে। তা দেখে তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন এবং তাদের সালাম দিলেন। অতঃপর ইরশাদ করলেন- তোমরা স্বাদ বিস্বাদকারীর কথা স্মরণ কর। সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন। স্বাদ বিস্বাদকারী কী? রাসূল ﷺ ইরশাদ করলেন, মৃত্যু।
এরপর তিনি বের হয়ে আসলেন। কিছুক্ষণ পর দেখতে পেলেন আরেক দল লোক হাসাহাসি করছে। তা দেখে তিনি বললেন, সে সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ! আমি যা জানি, তোমরা যদি তা জানতে, তাহলে তোমরা কম হাসতে এবং বেশি বেশি কাঁদতে।
এরপর তিনি বের হয়ে আসলেন। কিছুক্ষণ পর দেখতে পেলেন আরো একদল লোক কথা বলছে আর হাসাহাসি করছে। তিনি মসজিদে প্রবেশ করে তাদেরকে সালাম দিলেন। তিনি বললেন, ইসলাম অপরিচিতের মত প্রকাশ পেয়েছে। অচিরেই তা যেভাবে প্রকাশ পেয়েছে সে অবস্থায় ফিরে যাবে। সুতরাং কিয়ামতের দিন গুরাবা বা অপরিচিতদের জন্য সুসংবাদ। সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন, অপরিচিতরা কারা? তিনি বললেন, সর্বত্র ফাসাদ দেখা দিলেও যারা সৎ থাকে।
টিকাঃ
৪৩৪. সহীহ বুখারী: হাদীস-৪৬২১; সহীহ মুসলিম: হাদীস-৪২৬,১৪৫।
📄 হযরত খিজির আ.-এর উপদেশ
হযরত ইসহাক ইবনে মানসূর বলেন, মূসা আ. বিদায়কালে হযরত খিজির আ.-কে বললেন, আমাকে কিছু উপদেশ দিন। তিনি বললেন-
১. يَا مُوسَى، إِيَّاكَ وَاللَّجَاجَةَ অর্থাৎ, হে মূসা! তুমি কার সাথে ঝগড়া কর না।
২. وَلَا تَكُنْ مَاشِيًّا بِغَيْرِ حَاجَةٍ অর্থাৎ, অপ্রয়োজনে কোথাও সফর কর না।
৩. وَلَا تَضْহَكْ مِنْ غَيْرِ عَجَبٍ অর্থাৎ, অকারণে হাসাহাসি কর না।
৪. وَلَا تَعْجَبْ عَلَى الْخَاطِئِ بِخَطِيئَتِهِ অর্থাৎ, গুনাহগারকে তার গুনাহের কথা বলে লজ্জা দিও না।
৫. وَابْكِ عَلَى خَطِيئَتِكَ يَابْنَ عِمْرَانَ অর্থাৎ, ইবনে ইমরান! বরং নিজের গুনাহের জন্য কাঁদো।
عَنْ عَوْفِ بْنِ عَبْدِ اللهِ، قَالَ : كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَضْحَكُ إِلَّا تَبَسُّمًا، وَلَا يَلْتَفِتُ إِلَّا جَمِيعًا.
হযরত আউফ ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী ﷺ খুব কম হাসতেন, যখন হাসতেন মুচকি হাসি হাসতেন।
টিকাঃ
৪৩৫. মুসনাদে আহমাদ: ৩৪/৪৬৬; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-৩৬৪৫। হাদীসটি হাসান।
📄 আমলদার আলেমদের কথাই মনে প্রভাব ফেলে
এ হাদীস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, মুচকি হাসি জায়েয আর অট্টহাসি নিষেধ। সুতরাং, বুদ্ধিমানের উচিত অট্ট হাসি না দেওয়া। কারণ, দুনিয়াতে যে সামান্য অট্টহাসি দিবে, কিয়ামতের দিন তাকে অনেক কাঁদতে হবে। তাহলে যে ব্যক্তি দুনিয়াতে সবসময় অট্টহাসি হাসে, কিয়ামতের দিন তার পরিণতি কী হবে ভাববার বিষয়। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন- فَلْيَضْহَكُوا قَلِيلًا وَلْيَبْকُوا كَثِيرًا অর্থ: তোমরা কম হাস এবং বেশি বেশি কাঁদো।
রবি ইবনে হাইসাম বলেন, তারা দুনিয়াতে সামান্য হাসুক। কারণ, আখেরাতে তারা অনেক কাঁদবে। হাসান বসরী রহ. বলেন, তারা দুনিয়ায় সামান্য হাসুক। কারণ, তাদের কৃতকর্মের জন্য আখেরাতে অনেক কাঁদতে হবে। তিনি আরো বলেন- يَا عَجَبًا كُلَّ الْعَجَبِ مِنْ ضَاحِكٍ وَمِنْ وَرَائِهِ النَّارُ ، وَمِنْ مَسْرُورٍ وَمِنْ وَرَائِهِ الْمَوْتُ.
অর্থাৎ, কী আশ্চর্য! মানুষ হাসে অথচ জাহান্নাম তার পিছনে। মানুষ আনন্দ করে অথচ মৃত্যু তার পশ্চাতে।
বর্ণিত আছে, একদা হাসান বসরী রহ. কোনো এক সময় এক যুবকের নিকট দিয়ে গমন করছিলেন, আর যুবকটি হাসছিল।
তিনি বললেন- يَا بُنَيَّ هَلْ جُزْتَ عَلَى الصَّرَاطِ? অর্থাৎ, হে বৎস! তুমি কি পুলসিরাত পার হয়ে গেছ?
সে বলল, না।
তিনি বললেন, هَلْ تَبَيَّنَ لَكَ، إِلَى الْجَنَّةِ تَصِيرُ أَمْ إِلَى النَّارِ? অর্থাৎ, তুমি জান্নাতী না জাহান্নামী তা জানো কী?
সে বলল, না।
তিনি বললেন, فَفِيمَ هُذَا الضَّحِكُ অর্থাৎ, তাহলে কীভাবে তুমি হাসছ? এরপর থেকে সে যুবককে আর হাসতে দেখা যায়নি।
হাসান বসরী রহ.-এর কথা তার মনে গেঁথে যায়। ফলে সে হাসা থেকে তাওবা করে। সেকালের আলেমরা এমনই ছিলেন। তারা কোনো কথা বললে তা যথাযথ কার্যকর হতো। কারণ, তারা ইলম অনুযায়ী আমল করত। ফলে তাদের ইলম দ্বারা অন্যরাও উপকৃত হতো।
📄 হাসির পরিণাম
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا أَنَّهُ قَالَ : مَنْ أَذْنَبَ ذَنْبًا وَهُৱ يَضْحَكُ، دَخَلَ النَّارَ وَهُৱ يَبْكِي.
হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন, যে ব্যক্তি হাসতে হাসতে গুনাহ করবে সে কাঁদতে-কাঁদতে জাহান্নামে যাবে।
বলা হয়-
অধিক মানুষ দুনিয়ায় যে হাসবে, তারা আখেরাতে বেশি কাঁদবে। আর যারা দুনিয়াতে বেশি কাঁদে আখেরাতে তারা বেশি হাসবে।
হযরত ইয়াহইয়া ইবনে মুআয রাজী রহ. বলেন, চার কারণে কোনো মুমিন হাসি তামাশায় লিপ্ত হতে পারে না।
১. هُمُ الْمَعَادِ অর্থাৎ, পরকালের চিন্তা।
২. وَشُغْلُ الْمَعَاشِ অর্থাৎ, জীবন জীবিকা নিয়ে ব্যস্ততা।
৩. وَغَمُ الذُّنُوبِ অর্থাৎ, গুনাহের দুশ্চিন্তা।
৪. وَإِلْمَامُ الْمَصَائِبِ অর্থাৎ, বিপদাপদের আশঙ্কা।
অর্থাৎ, মুমিনের উচিত এই চারটি বিষয় নিয়ে ব্যস্ত থাকা, যাতে হাসি থেকে বেঁচে থাকতে পারে। কারণ, হাসি-তামাশা মুমিনের স্বভাব নয়। আল্লাহ এ কারণে অনেক জাতির নিন্দাবাদ করেছেন। যেমন ইরশাদ হয়েছে-
أَفَمِنْ هَذَا الْحَدِيثِ تَعْجَبُونَ * وَتَضْحَكُونَ وَلَا تَبْكُونَ * وَأَنْتُمْ سَامِدُونَ
অর্থ: তোমরা কি এ কথায় বিস্ময় বোধ করছ? হাসি-ঠাট্টা করছ ক্রন্দন করছ না! তোমরা তো উদাসীন। এবং কাঁদার কারণে অন্য এক জাতির প্রশংসা করেছেন। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন-
وَيَخِرُّونَ لِلْأَذْقَانِ يَبْكُونَ অর্থ: এবং তারা কাঁদতে কাঁদতে ভূমিতে লুটিয়ে পড়ে।
টিকাঃ
৪৩৬. সূরা তাওবা: আয়াত-৮২