📄 ছয়টি উপদেশ
বর্ণিত আছে, এক ব্যক্তি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.-এর নিকট এসে বললেন, আমাকে উপদেশ দিন। তিনি বললেন, আমি তোমাকে ছয়টি উপদেশ দিচ্ছি। যথা-
১. يَقِينُ الْقَلْبِ بِالْأَشْيَاءِ الَّتِي تَكَفَّلَ اللَّهُ لَكَ بِهَا অর্থাৎ, আল্লাহ তা'আলা তোমার যে সব বিষয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন তার ব্যাপারে পূর্ণ একীন রাখবে।
২. بِأَدَاءِ الْفَرَائِضِ لِوَقْتِهَا অর্থাৎ, সময় মতো নামায আদায় করবে।
৩. بِلِسَانٍ رَطْبٍ فِي ذِكْرِ اللَّهِ تَعَالَى অর্থাৎ, জিহ্বাকে সর্বদা আল্লাহর যিকিরে ভিজিয়ে রাখবে।
৪. لَا تُوَافِقِ الشَّيْطَانَ فَإِنَّهُ حَاسِدٌ لِلْخَلْقِ অর্থাৎ, শয়তানের মতো হয়ো না। অর্থাৎ, হিংসা শয়তানের চরিত্র, কখনো হিংসা করবে না।
৫. لَا تُعَمَّرِ الدُّنْيَا فَإِنَّهَا تُخَرَّبُ آخِرَتَكَ অর্থাৎ, দুনিয়া আবাদ করবে না। কারণ, এটি তোমার আখেরাতকে বরবাদ করবে।
৬. أَنْ تَكُونَ نَاصِحًا لِلْمُسْلِمِينَ دَائِمًا অর্থাৎ, সর্বদা মুসলমানের মঙ্গল কামনা করবে।
ইমাম সমরকন্দী রহ. বলেন, মানুষের উচিত সর্বদা মুসলমানের মঙ্গল কামনা করা। কারণ, তা সৌভাগ্যের সোপান।
📄 সৌভাগ্যের আলামত
কথিত আছে, এগারোটি স্বভাব মানুষের সৌভাগ্যবান হওয়ার আলামত। যথা-
১. أَنْ يَكُونَ زَاهِدًا فِي الدُّنْيَا رَاغِبًا فِي الْآخِرَةِ অর্থাৎ, দুনিয়ার প্রতি অনাসক্ত এবং আখেরাতের প্রতি আসক্ত হওয়া।
২. أَنْ يَكُونَ هِمَّتُهُ الْعِبَادَةَ وَتِلَاوَةَ الْقُرْآنِ অর্থাৎ, সর্বদা ইবাদত ও কুরআন তিলাওয়াতের প্রতি মনোযোগী হওয়া।
৩. قِلَّةُ الْقَوْلِ فِيمَا لَا يُحْتَاجُ إِلَيْهِ অর্থাৎ, অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে কথা কম বলা।
৪. أَنْ يَكُونَ مُحَافِظًا عَلَى الصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ অর্থাৎ, পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের প্রতি যত্নবান হওয়া।
৫. أَنْ يَكُونَ وَرِعًا فِيمَا قَلَّ أَوْ ক্সাতুর مِنَ الْحَرَامِ অর্থাৎ, সর্ব প্রকার হারাম ও সন্দেহপূর্ণ বিষয় থেকে বেঁচে থাকা।
৬. أَنْ تَكُونَ صُحْبَتُهُ مَعَ الصَّالِحِينَ অর্থাৎ, নেককারদের সাথে উঠাবসা করা।
৭. أَنْ يَكُونَ مُتَوَاضِعًا غَيْرَ مُتَكَبِّرٍ অর্থাৎ, বিনয়ী হওয়া, অহংকারী না হওয়া।
৮. أَنْ يَكُونَ سَخِيًّا كَرِيمًا অর্থাৎ, দানশীল হওয়া।
৯. أَنْ يَكُونَ رَحِيمًا بِخَلْقِ اللَّهِ تَعَالَى অর্থাৎ, আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি দয়া ও সহমর্মিতা দেখানো।
১০. أَنْ يَكُونَ نَاصِحًا لِلْخَلْقِ অর্থাৎ, সর্বদা সৃষ্টির উপকারী হওয়া।
১১. أَنْ يَكُونَ ذَاكِرًا لِلْمَوْتِ كَثِيرًا অর্থাৎ, বেশি বেশি মৃত্যুর কথা স্মরণ করা।
📄 দুর্ভাগ্যের আলামত
অনুরূপ এগারোটি স্বভাব মানুষের দুর্ভাগা হওয়ার আলামত।
১. أَنْ يَكُونَ حَرِيصًا عَلَى جَمْعِ الْمَالِ অর্থাৎ, সম্পদের প্রতি লোভী হওয়া।
২. أَنْ تَكُونَ نَهْمَتُهُ فِي الشَّهَوَاتِ وَاللَّذَّاتِ فِي الدُّنْيَا অর্থাৎ, সর্বদা পার্থিব ভোগবিলাসের মধ্যে মজে থাকা।
৩. أَنْ يَكُونَ فَحَاشًا فِي الْقَوْلِ مِكْتَارًا অর্থাৎ, অতিরিক্ত অশ্লীল কথা বলা।
৪. أَنْ يَكُونَ مُتَهَا وِنًا فِي الصَّلَوَاتِ অর্থাৎ, নামাযের ব্যাপারে উদাসীন হওয়া।
৫. أَنْ يَكُونَ أَكْلُهُ مِنَ الْحَرَامِ وَالشُّبُهَاتِ، وَصُحْبَتُهُ مَعَ الْفُجَّارِ অর্থাৎ, হারাম ও সন্দেহযুক্ত মাল খাওয়া এবং ফাসেকদের সাথে উঠা-বসা করা।
৬. أَنْ يَكُونَ سَيِّئَ الْخُلُقِ অর্থাৎ, বদ চরিত্রের হওয়া।
৭. أَنْ يَكُونَ مُخْتَالًا مُتَكَبِّرًا فَخُورًا অর্থাৎ, অহংকারী, দাম্ভিক হওয়া।
৮. أَنْ يَمْنَعَ مَنْফَعَتَهُ مِنَ النَّاسِ অর্থাৎ, মানুষকে তার দ্বারা উপকৃত হতে না দেওয়া।
৯. أَنْ يَكُونَ قَلِيلَ الرَّحْمَةِ لِلْمُسْلِمِينَ অর্থাৎ, মানুষের প্রতি দয়া ও সহমর্মিতা না দেখানো।
১০. أَنْ يَكُونَ بَخِيلًا অর্থাৎ, কৃপণ হওয়া।
১১. أَنْ يَكُونَ نَاسِيًا لِلْمَوْتِ অর্থাৎ, মৃত্যুকে ভুলে যাওয়া। কারণ, মানুষ মৃত্যুর স্মরণে থাকলে মুসলমানের প্রতি দয়ালু হবে এবং খাদ্য জমা করে রাখবে না।
জনৈক দরবেশ সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তার বাড়িতে কিছু গম সংরক্ষণ করা ছিল। দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে তিনি তা বিক্রি করে দিলেন। এরপর নিজ প্রয়োজনে বাজার থেকে কিনে খেতে লাগলেন। লোকেরা তাকে বলল, আপনি নিজের জন্য কিছু রেখে বাকিগুলো বিক্রি করতেন। তিনি বললেন, আমার ইচ্ছা ছিল এই দুর্ভোগে আমি মানুষের সাথে শরীক হই।