📄 মজুদদারির প্রকারভেদ
ইমাম সমরকন্দী রহ. বলেন, যেসব হাদীসে সম্পদকে যে পুঞ্জিভূত করতে নিষেধ করা হয়েছে তা হলো, নিজ শহরে থেকে সম্পদ ক্রয় করে মানুষের প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও বিক্রি না করে আটকে রাখা। তবে কেউ যদি সংরক্ষণ করার উদ্দেশ্যে কোনো পণ্য আটকে রাখে তাহলে তাতে গুনাহ হবে না। অনুরূপ কেউ যদি অন্য শহর থেকে পণ্য আমদানী করে কুক্ষিগত করে রাখে, তাহলেও কোনো ক্ষতি নেই। তবে যদি নাগরিকদের প্রয়োজনীয় পণ্য হয় তাহলে তা আটকে না রেখে বিক্রি করে দেওয়া উত্তম। নগরবাসীর খুব প্রয়োজন দেখা দিলে কুক্ষিগতকারীকে আটকে রাখা পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হতে হবে। তবে তার উপর পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া যাবে না।
📄 মূল্য নির্ধারণ ও বাজার ঠিক করা
রাসূল ইরশাদ করেছেন-
أَنَا لَا أُسْعَرُ فَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى هُوَ الْمُسَعِّرُ
আমি কারো জন্য কোনো মূল্য নির্ধারণ করে দেইনি। কারণ, আল্লাহই প্রকৃত মূল্য নির্ধারক। রাসূল ইরশাদ করেন, চড়ামূল্য ও সস্তামূল্য মূলত আল্লাহর দুই সৈনিক। তার একটির নাম রগবত (আকর্ষণ) অপরটির নাম গাইরে রগবত (আকর্ষণহীনতা)। আল্লাহ যখন কোনো কিছু সস্তা করতে চান তখন মানুষের মনে রহবত ছড়িয়ে দেন। ফলে তারা হাত থেকে পণ্য ছেড়ে দেয় এবং তা সস্তা হয়ে যায়। আর আল্লাহ যদি কোনো কিছুর মূল্য বাড়াতে চান তাহলে মানুষের মনে রগবত সৃষ্টি করে দেন, ফলে তারা পণ্য আটকে রাখে এবং এর ফলে তার মূল্য বৃদ্ধি পায়।
টিকাঃ
৪২৯. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-১৩১৪; সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস-২২০০; সুনানে আবু দাউদ: হাদীস-৩৪৫১। হাদীসটিকে ইমাম তিরমিযী হাসান সহীহ বলেছেন।
৪৩০. আল-ফিরদাউস: হাদীস-৪৩১২; তানযীহুশ শারীয়াহ ২/১৮৮; কাশফুল খফা: ২/১০৩। অধিকাংশ ইমামগণ হাদীসটিকে বাতিল বা জাল বলেছেন।
📄 নিয়তের ফল
বর্ণিত আছে, বনী ইসরাঈলের এক আবেদ একটি বালির টিলা দেখে মনে মনে বলল, এই টিলার সব বালি যদি আটা হয়ে যেত তাহলে আমি বনী ইসরাঈলের লোকদের মাঝে বণ্টন করে তাদের দুর্ভিক্ষ দূর করতে পারতাম। তখন আল্লাহ তা'আলা বনী ইসরাঈলের তৎকালীন নবীর নিকট ওহী পাঠালেন যে, আমার অমুক বান্দাকে জানিয়ে দাও, সে যা নিয়ত করেছিল আল্লাহ তা'আলা তাকে সে আমলের প্রতিদান দিয়ে দিয়েছেন। অর্থাৎ, উক্ত আবেদ তার সৎ নিয়ত এবং মানুষের প্রতি তার দয়ার উদ্রেক হওয়ায় দান না করেও সে পাহাড়সম আটা দান করার সওয়াব পেয়ে গেছে। সুতরাং সবার উচিত নিয়ত শুদ্ধ রাখা এবং মানুষের প্রতি সহমর্মিতা ও দয়াপ্রবণ হওয়া।
📄 ছয়টি উপদেশ
বর্ণিত আছে, এক ব্যক্তি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.-এর নিকট এসে বললেন, আমাকে উপদেশ দিন। তিনি বললেন, আমি তোমাকে ছয়টি উপদেশ দিচ্ছি। যথা-
১. يَقِينُ الْقَلْبِ بِالْأَشْيَاءِ الَّتِي تَكَفَّلَ اللَّهُ لَكَ بِهَا অর্থাৎ, আল্লাহ তা'আলা তোমার যে সব বিষয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন তার ব্যাপারে পূর্ণ একীন রাখবে।
২. بِأَدَاءِ الْفَرَائِضِ لِوَقْتِهَا অর্থাৎ, সময় মতো নামায আদায় করবে।
৩. بِلِسَانٍ رَطْبٍ فِي ذِكْرِ اللَّهِ تَعَالَى অর্থাৎ, জিহ্বাকে সর্বদা আল্লাহর যিকিরে ভিজিয়ে রাখবে।
৪. لَا تُوَافِقِ الشَّيْطَانَ فَإِنَّهُ حَاسِدٌ لِلْخَلْقِ অর্থাৎ, শয়তানের মতো হয়ো না। অর্থাৎ, হিংসা শয়তানের চরিত্র, কখনো হিংসা করবে না।
৫. لَا تُعَمَّرِ الدُّنْيَا فَإِنَّهَا تُخَرَّبُ آخِرَتَكَ অর্থাৎ, দুনিয়া আবাদ করবে না। কারণ, এটি তোমার আখেরাতকে বরবাদ করবে।
৬. أَنْ تَكُونَ نَاصِحًا لِلْمُسْلِمِينَ دَائِمًا অর্থাৎ, সর্বদা মুসলমানের মঙ্গল কামনা করবে।
ইমাম সমরকন্দী রহ. বলেন, মানুষের উচিত সর্বদা মুসলমানের মঙ্গল কামনা করা। কারণ, তা সৌভাগ্যের সোপান।