📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিনয় ও আল্লাহর দাসত্ব অবলম্বন করেছেন

📄 রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিনয় ও আল্লাহর দাসত্ব অবলম্বন করেছেন


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ وَأَنَّهُ قَالَ : مَا نَقَصَ مَالٌ مِنْ صَدَقَةٍ، وَمَا عَفَا رَجُلٌ عَنْ مَظْلَمَةٍ إِلَّا زَادَهُ اللَّهُ تَعَالَى عِزَّا.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত- রাসূল ইরশাদ করেন, সদকা করলে সম্পদ কমে না। কারো উপর করা জুলুম ক্ষমা করলে তার মর্যাদাই বৃদ্ধি পায়।

একদা নবী কারীম হযরত আয়েশা রাযি.-এর ঘরে ছিলেন। তার সামনে ছিল গোশতের পাত্র। তিনি হাঁটুর উপর বসে থালায় রাখা গোশত খাচ্ছিলেন ইত্যবসরে এক মহিলা এলো, যার চলাফেরা ছিলো খুবই উগ্র। সে বলল, انْظُرُوا إِلَيْهِ يَجْلِسُ كَمَا يَجْلِسُ الْعَبْدُ অর্থাৎ, দেখ গোলাম যেভাবে বসে, সেও সেভাবে বসেছে। গোলাম যেভাবে খায়, সেও সেভাবে খাচ্ছে। রাসূল ইরশাদ করলেন- أَنَا عَبْدُ أَجْلِسُ كَمَا يَجْلِسُ الْعَبْدُ، وَأَكُلُ كَمَا يَأْكُلُ الْعَبْدُ অর্থাৎ, আমি আসলেই একজন গোলাম এবং গোলামের মত বসে খাই। তারপর তাকে আহ্বান করে বললেন, তুমিও আমার সাথে খাও। সে বলল, তুমি হাত দিয়ে খাইয়ে না দিলে খাব না। রাসূল তাকে নিজ হাতে খাইয়ে দিলেন। তারপর সে বলল, আর খাব না। তবে তোমার মুখ থেকে দিলে খেতে পারি। আর রাসূল ﷺ-এর মুখে ছিল একটি শক্ত গোশতের টুকরা। তিনি তা চিবিয়ে নরম করে তাকে দিয়ে দিলেন। সে গোশতের টুকরা তার পেটে যেতেই সে বদলে গেল। তার স্বভাব চলে গেল। এরপর সে এতটা লজ্জাবতী হয়ে গেল যে, কারো দিকে চোখ তুলে তাকাতেই পারত না। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর থেকে তার মুখ থেকে আর কখনো অশালীন কথা শোনা যায়নি।

عَنِ الْحَسَنِ عَنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ أَنَّهُ قَالَ : أُوتِيتُ مَفَاتِيحَ الْأَرْضِ، فَخُيِّرْتُ بَيْنَ أَنْ أَكُونَ عَبْدًا نَبِيًّا أَوْ نَبِيًّا مَلَكًا، فَأَوْمَا إِلَيَّ جِبْرِيلُ أَنْ تَوَاضَعُ وَكُنْ عَبْدًا، فَاخْتَرْتُ أَنْ أَكُونَ عَبْدًا نَبِيًّا، فَأُوتِيتُ ذَلِكَ وَإِنِّي أَوَّلُ مَنْ تَنْشَقُ عَنْهُ الْأَرْضُ، وَأَنَّاي أَوَّلُ شَافِعِ.
হযরত হাসান রহ. বর্ণনা করেন- নবী কারীম ইরশাদ করেন, আমাকে পৃথিবীর যাবতীয় ধনভাণ্ডারের চাবি দেওয়া হয়েছিল এবং বলা হয়েছিল আপনি দাস নবী বা বাদশাহ নবী, দু'টির কোনো একটি বেছে নিতে পারেন। জিবরাঈল আ. আমাকে ইঙ্গিতে বললেন, বিনয় অবলম্বলন করুন এবং দাসত্ব বেছে নিন। আমি তাই করলাম। কিয়ামতের দিন আমি কবর থেকে সবার আগে উঠব এবং আমিই সর্বপ্রথম সুপারিশ করব।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. বলেন- مَنْ تَوَاضَعَ تَخَشُعًا رَفَعَهُ اللهُ تَعَالَى يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَمَنْ تَطَاوَلَ تَعَظَّمًا، وَضَعَهُ اللَّهُ تَعَالَى يَوْمَ الْقِيَامَةِ. যে ব্যক্তি বিনয় অবলম্বন করবে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে সুউচ্চ মর্যাদা দান করবেন। আর যে ব্যক্তি মর্যাদার বড়াই করবে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে অপদস্থ করবেন।

عَنْ قَتَادَةَ رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى أَنَّهُ قَالَ : ذُكِرَ لَنَا أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ كَانَ يَقُولُ : مَنْ فَارَقَتْ رُوحُهُ جَسَدَهُ. وَفِي رِوَايَةٍ مَنْ فَارَقَ الدُّنْيَا وَهُوَ بَرِيءٌ مِنْ ثَلَاثٍ دَخَلَ الْجَنَّةَ : مِنَ الْكِبْرِ وَالْخِيَانَةِ وَالدَّيْنِ.
হযরত কাতাদা রহ. থেকে বর্ণিত- রাসূল বলতেন, অহংকার, খেয়ানত, এবং ঋণ এই তিন জিনিস থেকে মুক্ত অবস্থায় যার মৃত্যু হবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

টিকাঃ
৪২০. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৫৮৮; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২০২৯; মুসনাদে আহমাদ: ১২/১৩৯। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।
৪২১. আস-সিলসিলাতুস সহীহাহ: হাদীস-৫৮৮। হাদীসটিকে শায়েখ আলবানী মুরসাল সহীহ বলেছেন।
৪২২. আল্লামা হাইসামী বলেছেন, বায্যার ও ত্ববারানী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসের সকল রাবী বিশ্বস্ত [মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৯/১৯২] ।
৪২৩. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-১৫৭২; সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস-২৪১২; মুসনাদে আহমাদ: ৩৭/৭৪। হাদীসটি সহীহ।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 দাসের সঙ্গে আলী রাযি.-এর উত্তম আচরণ

📄 দাসের সঙ্গে আলী রাযি.-এর উত্তম আচরণ


عَنْ طَلْحَةَ بْنِ زَيْدٍ عَنْ أَبِي عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي جَعْفَرَ قَالَ : دَخَلَ عَلِيُّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ السُّوقَ فَاشْتَرَى قَمِيصَيْنِ مِنْ هَذِهِ الْكَرَابِيسِ بِسِتَّةِ دَرَاهِمَ ثُمَّ قَالَ لِغُلَامِهِ يَا أَسْوَدُ اخْتَرْ أَيُّهُمَا شِئْتَ. فَاخْتَارَ الْغُلَامُ خَيْرَهُمَا، وَلَبِسَ عَلَيَّ كَرَّمَ اللَّهُ وَجْهَهُ الْآخَرَ فَفَضَلَ كُمَّاهُ عَلَى أَطْرَافِهِ، فَدَعَا بِالشَّفْرَةِ فَقَطَعَ كُمَّيْهِ. وَخَطَبَ بِالنَّاسِ يَوْمَ الْجُمْعَةِ وَنَحْنُ نَنْظُرُ إِلَى تِلْكَ الْهُدَبِ عَلَى ظَهْرِ كَفَّيْهِ.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আবু জাফর রাযি. থেকে বর্ণিত- একদা হযরত আলী রাযি. বাজার থেকে ছয় দিরহাম দিয়ে দু'টি জামা খরিদ করে তার গোলামকে বললেন, এর থেকে তোমার যেটি খুশি বেছে নাও। সে তার মধ্যে তুলনামূলক ভালো জামাটি বেছে নিল। আলী রাযি. দ্বিতীয় জামাটি পরলেন। দেখা গেল তার হাতা তুলনামূলক বড়। তিনি কাঁচি এনে তা কেটে ফেললেন। জুমআর দিন সে এই জামা পরেই তিনি খুতবা দিতে এলেন। আমরা দূর থেকেও তার হাতা কাটা দেখতে পেলাম।

হযরত আলী রাযি. এক ব্যক্তিকে জামা ঝুলিয়ে পরতে (সে সময় সেটা অহংকারের চিহ্ন ছিল) দেখে বললেন, ভাই, জামাটা উপরে উঠিয়ে পর, তাতে তোমার জামা পরিষ্কার থাকবে এবং মনও অহংকার মুক্ত থাকবে।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 অহংকার আল্লাহর গুণ

📄 অহংকার আল্লাহর গুণ


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ: قَالَ تَعَالَى: الْعَظَمَةُ إِذَا رِي، وَالْكِبْرِيَاءُ رِدَائِي، فَمَنْ نَازَعَنِي فِي وَاحِدٍ مِنْهُمَا أَلْقَيْتُهُ فِي النَّارِ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা'আলা বলেন, বড়ত্ব আমার লুঙ্গি এবং অহংকার আমার চাদর। যে ব্যক্তি এর কোনো একটি নিয়ে টানাটানি করবে, আমি তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব। আর এতে আমি কারো কোনো পরোয়া করি না।

ইমাম সমরকন্দী রহ. বলেন, এর অর্থ হলো, এগুলো আমার সিফাত বা গুণ। যেমন কুরআনে এসেছে-
الْعَزِيزُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّرُ অর্থ: (তিনি) পরাক্রমশালী, প্রতাপশালী এবং অহংকারী। বড়ত্ব ও অহংকার আল্লাহর সিফাত। তাই দুর্বল বান্দার অহংকার দেখানো উচিত নয়।

টিকাঃ
৪২৪. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৬২০; সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-৪০৯০; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-৪১৭৪।
৪২৫. সূরা হাশর: আয়াত-২৩

ফন্ট সাইজ
15px
17px