📄 উমর ইবনে আব্দুল আযিয রহ.-এর বিনয়ের ঘটনা
বর্ণিত আছে, একদা হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযিয রহ.-এর নিকট মেহমান এল। এশার নামাযের পর বাতি জ্বালিয়ে তিনি লেখার কাজ করছিলেন। আর মেহমান পাশেই বসা ছিল। সে সময় বাতিটি নিভু-নিভু করতে লাগল। মেহমান বলল, আমীরুল মুমিনীন! আমি বাতিতে তেল ভরে দেই। তিনি বললেন, لَيْسَ مِنْ مُرُوءَةِ الرَّجُلِ أَنْ يَسْتَعْمِلَ ضَيْفَهُ অর্থাৎ, মেহমানকে দিয়ে কাজ নেওয়া কোনো ভদ্র মানুষের কাজ নয়। সে বলল, তাহলে খাদেমকে জাগিয়ে দেই। তিনি বললেন, নাহ, সে তো এই মাত্র ঘুমিয়েছে। এরপর তিনি নিজে উঠে গিয়ে বাতিতে তেল ভরে আনলেন। মেহমান বলল, আমীরুল মুমিনীন! আপনি নিজে এই কাজ করলেন? তিনি বললেন, তাতে কী হয়েছে! এই কাজ করার আগেও আমি উমর ছিলাম, এখনো আমি উমরই আছি। বিনয়ী আল্লাহর সবচেয়ে পছন্দের বান্দা।
📄 হযরত উমর রাযি.-এর বিনয়ের ঘটনা
কায়েস ইবনে আবূ হাযেম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত উমর রাযি. সিরিয়ায় গমন করলে সেখানকার উলামা এবং নেতৃবৃন্দ তার সাথে সাক্ষাৎ করতে আসল। তখন কেউ তাকে বলল, আপনি এই ঘোড়াটিতে উঠে বসুন, যাতে লোকে আপনাকে দেখতে পায়। তিনি বললেন, তোমরা বিষয়টি দেখছ এই দিক থেকে। কিন্তু মূলত সিদ্ধান্ত হয় ওই দিক থেকে। এই বলে তিনি আকাশের দিকে ইশারা করলেন। অতঃপর বললেন, আমাকে আমার মত থাকতে দাও।
আরেক বর্ণনা মতে তিনি সিরিয়ায় যাওয়ার সময় গোলামের সাথে পালা বণ্টন করে নিলেন। তিনি এক ফারছাখ দূরত্ব পরিমাণ চড়তেন, গোলাম লাগাম ধরে গাধাকে টেনে নিয়ে যেত। তারপর এক ফারছাখ পরিমাণ পথ গোলাম গাধার পিঠে চড়ত আর তিনি লাগাম হাতে হাঁটতেন। এইভাবে চলতে চলতে সিরিয়ায় প্রবেশকালে গোলামের পালা পড়ল। সে আরোহণ করল আর উমর রাযি. উটের লাগাম ধরলেন। পথে পানি পড়লে তিনি সে অবস্থাতেই বাম বগলের নিচে জুতা রেখে পানিতে নেমে গেলেন। সে সময় সেখানকার আমির ছিলেন হযরত আবূ ওবায়দা ইবনুল জাররাহ। তিনি খলীফা উমরকে এগিয়ে নিতে এসেছিলেন। এই দৃশ্য দেখে তিনি বললেন, খলীফা! সিরিয়ার শাসকরা আপনাকে এই অবস্থায় দেখলে কী ভাববে? তিনি বললেন, আল্লাহ ইসলাম দ্বারা আমাদের সম্মানিত করেছেন। ইসলামই আমাদের মর্যাদার উৎস। মানুষ কী বলল, এতে কিছু যায় আসে না।
📄 হযরত সালমান ফারসী রাযি.-এর বিনয়
বর্ণিত আছে, হযরত সালমান ফারসী রাযি. মাদাইনের গভর্নর ছিলেন। সেখানকার কোনো এক সরদার বাজার থেকে সদাই ক্রয় করে, সালমান রাযি.- এর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে মজদুর ভেবে বলল, এই মজদুর! আমার সদাইগুলো মাথায় তুলে নাও। হযরত সালমান বোঝা মাথায় উঠিয়ে নিলেন। পথে লোকজন তাকে চিনে ফেলে বোঝাটা নিতে চেষ্টা করল। কিন্তু তিনি রাজি হলেন না। এই দিকে সে লোক তো লজ্জায় শেষ। সে ওযরখাহি করে বলল, আমীর! ক্ষমা করুন। আমি আপনাকে চিনতে পারিনি। তিনি বললেন, তুমি তো কোনো অপরাধ করনি। চল তোমার বাসা পর্যন্ত। এই বলে তিনি তার মাল তার বাসা পর্যন্ত পৌঁছে দিলেন। আর ওই ব্যক্তি ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ না করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করল।
📄 আম্মার ইবনে ইয়াসির রাযি.-এর বিনয়
وَرُوِيَ عَنْ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ أَنَّهُ كَانَ أَمِيرًا بِالْكُوفَةِ، فَخَرَجَ إِلَى حَانُوتِ الْعَلَّافِ فَاشْتَرَى مِنْهُ الْقَتَّ، فَرَبَطَهُ الْبَائِعُ ، وَأَخَذَ الْبَائِعُ جَانِبَ الْحِرْمَةِ، فَجَعَلَ يَمُدُّ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا يَدَهُ، حَتَّى صَارَ نِصْفُ الْقَتِّ فِي يَدِ هُذَا، وَنِصْفُهُ فِي يَدِ هُذَا، ثُمَّ جَعَلَهُ عَلَى عَاتِقِ عَمَّارٍ فَذَهَبَ بِهِ إِلَى مَنْزِلِهِ।
বর্ণিত আছে, কুফার আমীর থাকাকালে হযরত আম্মার ইবনে ইয়াসির বাজারে গেলেন। বাজার থেকে পশুর খাদ্য ক্রয় করলেন এবং নিজ কাঁধে নিয়ে বাড়িতে আসলেন।
وَرُوِيَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ بَعَثَهُ عُمَرُ بْنِ الْخَطَّابِ أَمِيرًا عَلَى الْبَحْرَيْنِ، فَدَخَلَ الْبَحْرَيْنِ وَهُوَ رَاكِبُ عَلَى حِمَارٍ، وَجَعَلَ يَقُولُ : طَرَّقُوا لِلْأَمِيرِ، طَرَّقُوا لِلْأَمِيرِ، فَهَؤُلَاءِ أَصْحَابُ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ خُلُقُهُمُ التَّوَاضُعَ، وَكَانُوا أَعِزَّاءَ عِنْدَ الْخَلْقِ، وَعِنْدَ الْمَلَائِكَةِ وَعِنْدَ اللَّهِ سُبْحَانَهُ وَতَعَالَى।
হযরত উমর রাযি. তার শাসনকালে হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. কে বাহরাইনের আমীর বানিয়ে ছিলেন। তখন তিনি একা একটি গাধায় চড়ে বাহরাইন গমন করলেন এবং গাধার পিঠে চড়ে নিজেই চিৎকার করে বলতে লাগলেন, আমীর আসছে রাস্তা ছেড়ে দাও! আমীর আসছে রাস্তা ছেড়ে দাও!!
এরূপ ছিল রাসূল ﷺ-এর মহান সাহাবীগণের চরিত্র। বিনয় ছিল তাদের প্রধান বৈশিষ্ট্য। ফলে তারা মানুষ, ফেরেশতা এবং আল্লাহ তা'আলার নিকট সম্মানিত হয়েছেন।