📄 বিনয় নবীদের এবং অহংকার কাফেরদের স্বভাব
ইমাম সমরকন্দী রহ. বলেন, অহংকার হলো, কাফের ও ফিরআউনদের স্বভাব আর বিনয় হলো নবী ও নেক বান্দাদের স্বভাব। কারণ, আল্লাহ তা'আলা কাফেরদের স্বভাব বর্ণনা করে বলেছেন-
إِنَّهُمْ كَانُوا إِذَا قِيلَ لَهُمْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ يَسْتَكْبِرُونَ অর্থ: যখন তাদের বলা হতো আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তখন তারা অহংকার করত।
অন্য এক আয়াতে ইরশাদ হয়েছে- وَقَارُونَ وَفِرْعَوْنَ وَهَامَانَ وَلَقَدْ جَاءَهُمْ مُوسَى بِالْبَيِّنَاتِ فَاسْتَكْبَرُوا فِي الْأَرْضِ. অর্থ: কারুন, ফিরআউন এবং হামান তাদের নিকট মূসা আ. স্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে হাজির হলেন। তারা জমিনে অহংকার করেছিল।
আল্লাহ তা'আলা আরো ইরশাদ করেন- إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِي سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ অর্থ: যারা অহংকার বশত আমার ইবাদত করে না, তারা লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।
অন্য আয়াতে এসেছে- ادْخُلُوا أَبْوَابَ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا فَبِئْسَ مَثْوَى الْمُتَكَبِّرِينَ অর্থ: তোমরা চিরদিনের জন্য জাহান্নামের দরজাগুলো দিয়ে প্রবেশ কর, অহংকারীদের আশ্রয়স্থল খুবই নিকৃষ্ট।
আল্লাহ তা'আলা আরো ইরশাদ করেন- إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُসْتَكْبِرِينَ অর্থ: নিশ্চয় আল্লাহ অহংকারীদের পছন্দ করেন না।
টিকাঃ
৪১২. সূরা সাফ্ফাত ৩৫
৪১৩. সূরা আনকাবুত: আয়াত-৩৯
৪১৪. সূরা মু'মিন: আয়াত-৬০
৪১৫. সূরা যুমার: আয়াত-৭২
৪১৬. সূরা নাহল: আয়াত-২৩
📄 বিনয়ীদের প্রশংসা
পক্ষান্তরে বিনয় গুণের কারণে আল্লাহ তার মুমিন বান্দাদেরকে প্রশংসা করে বলেছেন- وَعِبَادُ الرَّحْمَنِ الَّذِينَ يَمْشُونَ عَلَى الْأَرْضِ هَوْنًا অর্থ: রহমানের বান্দারা, যারা জমিনে হাঁটে বিনয়ের সাথে। আল্লাহ তার নবীকে বিনয় অবলম্বনের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন- وَاخْفِضْ جَنَاحَكَ لِمَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ অর্থ: যে সকল মুমিনগণ তোমার অনুসরণ করেছে, তাদের জন্য তোমার ডানা অবনমিত করে রাখ। আল্লাহ তা'আলা তার নবী지의 চরিত্রের প্রশংসা করে বলেছেন, وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ অর্থ: নিশ্চয় তুমি আছ মহান চরিত্রের উপর।
বিনয় ছিল রাসূল ﷺ-এর প্রধান দিক। যেমন হাদীসে এসেছে, রাসূল গাধায় চড়তেন এবং দাসরা ডাকলে তাদের ডাকে সাড়া দিতেন। পূর্বযুগের বুযুর্গদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল বিনয়। তাই তাদের অনুসরণ করা আমাদের কর্তব্য।
টিকাঃ
৪১৭. সূরা ফুরকান: আয়াত-৬৩
৪১৮. সূরা হিজর: আয়াত-৮৮
৪১৯. সূরা কলাম: আয়াত-৪
📄 উমর ইবনে আব্দুল আযিয রহ.-এর বিনয়ের ঘটনা
বর্ণিত আছে, একদা হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযিয রহ.-এর নিকট মেহমান এল। এশার নামাযের পর বাতি জ্বালিয়ে তিনি লেখার কাজ করছিলেন। আর মেহমান পাশেই বসা ছিল। সে সময় বাতিটি নিভু-নিভু করতে লাগল। মেহমান বলল, আমীরুল মুমিনীন! আমি বাতিতে তেল ভরে দেই। তিনি বললেন, لَيْسَ مِنْ مُرُوءَةِ الرَّجُلِ أَنْ يَسْتَعْمِلَ ضَيْفَهُ অর্থাৎ, মেহমানকে দিয়ে কাজ নেওয়া কোনো ভদ্র মানুষের কাজ নয়। সে বলল, তাহলে খাদেমকে জাগিয়ে দেই। তিনি বললেন, নাহ, সে তো এই মাত্র ঘুমিয়েছে। এরপর তিনি নিজে উঠে গিয়ে বাতিতে তেল ভরে আনলেন। মেহমান বলল, আমীরুল মুমিনীন! আপনি নিজে এই কাজ করলেন? তিনি বললেন, তাতে কী হয়েছে! এই কাজ করার আগেও আমি উমর ছিলাম, এখনো আমি উমরই আছি। বিনয়ী আল্লাহর সবচেয়ে পছন্দের বান্দা।
📄 হযরত উমর রাযি.-এর বিনয়ের ঘটনা
কায়েস ইবনে আবূ হাযেম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত উমর রাযি. সিরিয়ায় গমন করলে সেখানকার উলামা এবং নেতৃবৃন্দ তার সাথে সাক্ষাৎ করতে আসল। তখন কেউ তাকে বলল, আপনি এই ঘোড়াটিতে উঠে বসুন, যাতে লোকে আপনাকে দেখতে পায়। তিনি বললেন, তোমরা বিষয়টি দেখছ এই দিক থেকে। কিন্তু মূলত সিদ্ধান্ত হয় ওই দিক থেকে। এই বলে তিনি আকাশের দিকে ইশারা করলেন। অতঃপর বললেন, আমাকে আমার মত থাকতে দাও।
আরেক বর্ণনা মতে তিনি সিরিয়ায় যাওয়ার সময় গোলামের সাথে পালা বণ্টন করে নিলেন। তিনি এক ফারছাখ দূরত্ব পরিমাণ চড়তেন, গোলাম লাগাম ধরে গাধাকে টেনে নিয়ে যেত। তারপর এক ফারছাখ পরিমাণ পথ গোলাম গাধার পিঠে চড়ত আর তিনি লাগাম হাতে হাঁটতেন। এইভাবে চলতে চলতে সিরিয়ায় প্রবেশকালে গোলামের পালা পড়ল। সে আরোহণ করল আর উমর রাযি. উটের লাগাম ধরলেন। পথে পানি পড়লে তিনি সে অবস্থাতেই বাম বগলের নিচে জুতা রেখে পানিতে নেমে গেলেন। সে সময় সেখানকার আমির ছিলেন হযরত আবূ ওবায়দা ইবনুল জাররাহ। তিনি খলীফা উমরকে এগিয়ে নিতে এসেছিলেন। এই দৃশ্য দেখে তিনি বললেন, খলীফা! সিরিয়ার শাসকরা আপনাকে এই অবস্থায় দেখলে কী ভাববে? তিনি বললেন, আল্লাহ ইসলাম দ্বারা আমাদের সম্মানিত করেছেন। ইসলামই আমাদের মর্যাদার উৎস। মানুষ কী বলল, এতে কিছু যায় আসে না।