📄 চোগলখোরী শয়তানের শয়তানী থেকেও মন্দ
হযরত ইয়াহইয়া ইবনে আকসাম রহ. বলেন-
النَّمَّامُ شَرٌّ مِنَ السَّاحِرِ ، وَيَعْمَلُ النَّمَّامُ فِي سَاعَةٍ مَا لَا يَعْمَلُ السَّاحِرُ فِي شَهْرٍ.
চোগলখোর জাদুকর থেকেও বিপজ্জনক। জাদুকর এক মাসে যা করতে পারে না, চোগলখোর এক মুহূর্তে তা করে ফেলে। কেউ কেউ বলেন, عَمَلُ النَّمَّامِ أَضَرُّ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ অর্থাৎ, চোগলখোরের কর্ম শয়তানের কর্ম থেকেও বেশি অনিষ্টকর। কারণ, শয়তান কাজ করে ওয়াসওয়াসা ও প্ররোচনার মাধ্যমে। আর চোগলখোর কাজ করে সরাসরি। আল্লাহ তা'আলার বাণী حَمَّالَةَ الْحَطَبِ অর্থ: লাকড়ি বহনকারিনী।
অধিকাংশ মুফাসসির বলেন, লাকড়ি বা জ্বালানি দ্বারা এখানে চোগলখোরীকে বুঝানো হয়েছে। কারণ, আগুন যেমন লাকড়িকে জ্বালিয়ে দেয়, তেমনি চোগলখোর সমাজে শত্রুতা ও পরস্পর বিদ্বেষের আগুন জ্বালিয়ে দেয়।
হযরত আকসাম বিন সাফী রহ. বলেন, সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত চার ব্যক্তি। ১. চোগলখোর। ২. মিথ্যাবাদী। ৩. ঋণগ্রস্ত। ৪. এতিম।
📄 চোগলখোরী লাঞ্ছনা বয়ে আনে
হযরত উবাইদুল্লাহ কুরাশী রহ. বলেন, এক ব্যক্তি সাতটি বিষয় জানার জন্য সাত শত ফরছাখ পাড়ি দিয়ে এক আলেমের নিকট গমন করে। যখন তার দরবারে উপস্থিত হলে, বলল, আল্লাহ আপনাকে যে জ্ঞান দান করেছেন, আমি তা জানার জন্য আপনার কাছে এসেছি।
১. আমাকে বলুন আসমান ও আসমানের চেয়েও কোন জিনিস ভারী? তিনি বললেন, নির্দোষ ব্যক্তির উপর অপবাদ দেওয়া।
২. আমাকে বলুন, জমিন ও জমিনের চেয়েও কোন জিনিস প্রশস্ত? তিনি বললেন, সত্য।
৩. কোন জিনিস পাথর থেকেও কঠোর? তিনি বললেন, কাফেরের হৃদয়।
৪. কোন জিনিস সমুদ্র থেকেও গভীর? তিনি বললেন, অল্পে তুষ্ট মন।
৫. কোন জিনিস আগুনের চেয়েও বেশী গরম? তিনি বললেন, মানুষের লোভ।
৬. কোন জিনিস বরফের চেয়ে বেশি ঠান্ডা? তিনি বললেন, নিকটজনের নিকট করা ব্যর্থ প্রার্থনা।
৭. কে এতীমের চেয়েও বেশী অসহায়? তিনি বললেন, ধরা পড়া চোগলখোর।
অন্য আরেক বর্ণনায় আছে, কোন জিনিস বিষের চেয়ে বেশি বিপজ্জনক? তিনি বললেন, চোগলখোরী।
📄 আট ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না
عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ : لَمَّا خَلَقَ اللَّهُ تَعَالَى الْجَنَّةَ. قَالَ لَهَا تَكَلَّمِي. قَالَتْ : سَعِدَ مَنْ دَخَلَنِي. فَقَالَ الْجَبَّارُ جَلَّ وَعَلَا، وَعِزَّتِي وَجَلَالِي لَا يَسْكُنُ فِيكِ ثَمَانِيَةُ نَفَرٍ مِنَ النَّاسِ مُدْمِنُ خَمْرٍ وَلَا مُصِرُّ عَلَى الزَّنَى وَلَا نَمَّامُ، وَلَا دَيُّوثُ وَهُوَ القُرْطَبَانُ، وَلَا الشَّرَطِيُّ، وَلَا الْمُخَنَّثُ، وَلَا قَاطِعُ الرَّحِمِ وَلَا الَّذِي يَقُولُ عَلَى عَهْدُ اللَّهِ إِنْ لَمْ أَفْعَلْ كَذَا أَوْ كَذَا، ثُمَّ لَمْ يَفِ بِهِ .
হযরত ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা'আলা জান্নাত সৃষ্টি করে বললেন, কিছু বল। জান্নাত বলল, সৌভাগ্যবান সে ব্যক্তি যে আমার মাঝে প্রবেশ করবে। আল্লাহ তা'আলা বললেন, আমার ইজ্জত ও জালালতের শপথ! আট শ্রেণীর মানুষ তোমার মধ্যে প্রবেশ করবে না। যথা- ১. মদপানে আসক্ত। ২. ব্যভিচারে লিপ্ত ব্যক্তি। ৩. চোগলখোর। ৪. দায়ুস বা লম্পট। ৫. পুলিশ। ৬. হিজরা (পুলিশ ও হিজরা সাধারণত গুনাহে লিপ্ত হয়। তাই তারা জান্নাতে যেতে পারবে না। তবে এদের অনেক নেককার হয়ে থাকেন। তারা অবশ্যই জান্নাতে যাবেন)। ৭. আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী। ৮. যে ব্যক্তি আল্লাহর নামে কসম করে কোনো কাজ করার কথা বলে অথচ তা পূরণ করে না।
হযরত হাসান বসরী রহ. বলেন, যে ব্যক্তি তোমার নিকট অন্যের কথা বলে, তাহলে মনে রাখবে সে তোমার কথাও অন্যের কাছে বলে।
হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহ. থেকে বর্ণিত- তার নিকট জনৈক ব্যক্তি এসে অন্য আরেক জনের নিন্দা করল। তিনি বললেন, যদি চাও তাহলে আমরা তোমার কথা যাচাই করে দেখতে পারি। তারপর তুমি যদি মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত হও তাহলে তুমি এই আয়াতে উল্লিখিত লোকদের অন্তর্ভুক্ত হবে- إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَأَ فَتَبَيَّنُوا অর্থ: তোমাদের নিকট যদি কোনো ফাসেক খবর নিয়ে আসে, তাহলে তোমরা তা যাচাই করে দেখ। আর যদি তুমি সত্যবাদী প্রমাণিত হও, তাহলে তুমি হবে এই আয়াতে উল্লিখিত লোকদের অন্তর্ভুক্ত হবে- هَمَّازٍ مَشَاءٍ بِنَمِيمٍ অর্থ: পিছনে নিন্দাকারী, যে একের কথা অন্যের নিকট লাগিয়ে বেড়ায়। আর যদি চাও তাহলে তোমাকে ক্ষমা করে দিব। সে বলল, আমীরুল মুমিনীন, আমাকে ক্ষমা করুন। আমি আর কখনো এরূপ আচরণ করব না।
টিকাঃ
৩৭৯. আল্লামা ইরাকী রহ. বলেন, হুবহু এভাবে আমি হাদীসটি পাইনি। এই সনদের মধ্যে অপরিচিত রাবি রয়েছে। আল-ইতহাফ: ৭/৫৬৩]。
৩৮০. সূরা হুজুরাত: আয়াত-৬
📄 জারজ সন্তানের বৈশিষ্ট্য
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক রহ. থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, 'জারজ সন্তান কখনো অন্যের কথা হজম করতে পারে না। আর ভদ্র লোক কখনো তার প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয় না' (وَلَدُ الزِّنَى لَا يَكْتُمُ الْحَدِيثَ ، وَذُو الْحَسَبِ فِي قَوْمِهِ لَا يُؤْذِي جَارَهُ)। অর্থাৎ, যে ব্যক্তি কোনো কথা গোপন রাখতে পারে না, বরং লোকদের নিকট সব বলে দেয়, সে জারজ সন্তান। কেননা, যদি সে জারজ সন্তান না হতো, তাহলে কথা গোপন রাখতে পারতো। যেমন নিম্নোক্ত আয়াতে বর্ণিত হয়েছে-
هَمَّازٍ مَشَاءٍ بِنَمِيمٍ مَنَّاعٍ لِلْخَيْرِ مُعْتَدٍ أَثِيمٍ عُتُلٍ بَعْدَ ذَلِكَ زَنِيمٍ
অর্থ: পিছনে নিন্দাকারী, যে একের কথা অপরের নিকট লাগিয়ে বেড়ায়, যে কল্যাণকর্মে বাধা দান করে, যে সীমালঙ্ঘনকারী, গুনাহগার, রূঢ় স্বভাবের এবং তদুপরি কুখ্যাত।
এই আয়াতে মূলত ওলীদ ইবনে মুগীরার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। সে নিন্দা করত, চোগলখোরী করত এবং ভালোকাজে বাঁধা দিতো। সে যেহেতু জারজ সন্তান ছিল তাই আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক চোগলখোরীকে জারজ সন্তানের বৈশিষ্ট্য বলে উল্লেখ করেছেন।
জনৈক দরবেশের নিকট তার এক সাথী সাক্ষাৎ করতে এলো এবং তার নিকট অপর এক সাথীর দোষচর্চা করল। তিনি বললেন, তুমি অনেক দিন পর আমার সাথে সাক্ষাৎ করতে এসে তিনটি খারাপ কাজ করেছ। যথা- ১. আমার মনে আমার বন্ধু সম্পর্কে মন্দ ধারণা সৃষ্টি করেছ। ২. আমার মুক্ত হৃদয় কে ব্যস্ত করে দিয়েছ। ৩. নিজেকে মিথ্যার সাথে জড়িয়ে নিয়েছ।
টিকাঃ
৩৮১. সূরা কলাম: আয়াত-১১
৩৮২. সূরা কলাম: আয়াত-১১-১৩