📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 চোগলখোরীর সাথে জড়িত ব্যক্তি জান্নাতে যাবে না

📄 চোগলখোরীর সাথে জড়িত ব্যক্তি জান্নাতে যাবে না


হুযাইফা রাযি.-এর বর্ণনায় এসেছে, চোগলখোরীকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না। এর অর্থ হলো, সে জাহান্নামে যাবে। কারণ, পরকালে জান্নাত আর জাহান্নাম ছাড়া তৃতীয় কোনো স্থান নেই। সুতরাং যখন সে জান্নাতে যাবে না, তখন প্রমাণিত হলো যে, সে জাহান্নামে যাবে। অতএব, যে ব্যক্তি এই গুনাহ করে তার উচিত মৃত্যুর পূর্বে তাওবা করা। কারণ, চোগলখোর দুনিয়াতে লাঞ্ছিত, মৃত্যুর পর সে কবরে শাস্তি ভোগ করবে, আর কিয়ামতের দিন জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে, আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হবে। আর যদি মৃত্যুর পূর্বে তাওবা করে আল্লাহ তা'আলা তাকে মাফ করে দিবেন।

عَنِ الْحَسَنِ عَنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ أَنَّهُ قَالَ: مِنْ شَرِّ النَّاسِ ذُو الْوَجْهَيْنِ، يَأْتِي هَؤُلَاءِ بِوَجْهِ وَهَؤُلَاءِ بِوَجْهِ، وَمَنْ كَانَ ذَا لِسَانَيْنِ فِي الدُّنْيَا فَإِذَا اللهُ تَعَالَى يَجْعَلُ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لِسَانَيْنِ مِنَ النَّارِ.

হযরত হাসান রহ. বর্ণনা করেন, রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, দুই রূপের অধিকারী ব্যক্তি হলো, সবচেয়ে নিকৃষ্ট। তারা এক দলের কাছে আসে এক চেহারা নিয়ে। আর আরেক দলের কাছে যায় ভিন্ন চেহারা নিয়ে। দুনিয়াতে যে ব্যক্তি দুই জিভওয়ালা হবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার মুখে আগুনের দুই জিভ লাগিয়ে দিবেন।

عَنْ قَتَادَةَ أَنَّهُ قَالَ: كَانَ يُقَالُ : مِنْ شَرِّ عِبَادِ اللهِ كُلُّ طَعَانٍ، لَعَانٍ، نَمَّامِ. وَكَانَ يَقُولُ : عَذَابُ الْقَبْرِ ثَلَاثَةُ أَثْلَاثٍ : ثُلُثُ مِنَ الْغِيبَةِ، وَثُلُثُ مِنَ الْبَوْلِ، وَثُلُثُ مِنَ النَّمِيمَةِ.

হযরত কাতাদা রহ. হতে বর্ণিত। নিকৃষ্ট ব্যক্তি হলো, যারা চোগলখোরী করে, লানত করে ও চোগলখোরী করে। তিনি আরো বলতেন- কবরের আযাবের তিন ভাগের এক ভাগ হয় গীবতের কারণে। আরেকভাগ পেশাব থেকে অসতর্কতার কারণে। আরেক ভাগ চোগলখোরীর কারণে।

টিকাঃ
৩৭৭. সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-৪৮৭৩; সহীহ বুখারী: হাদীস-১৩৭৮; সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৯২।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 চোগলখোরীর পরিণতি

📄 চোগলখোরীর পরিণতি


হযরত হাম্মাদ ইবনে সালামা রহ. থেকে বর্ণিত- জনৈক ব্যক্তি একটি গোলাম খরিদ করার সময় বিক্রেতা বলল, তার মধ্যে চোগলখোরী ছাড়া কোনো দোষ নেই। ক্রেতা বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিল না। সে গোলামটিকে খরিদ করে নিলো। কিছু দিন পর সে তার মনিবের স্ত্রীকে বলল, তোমার স্বামী তোমাকে পছন্দ করে না। সে একটি দাসী রাখার পরিকল্পনা করছে। তুমি কি চাও তোমার স্বামী তোমার প্রতি আকৃষ্ট থাক? সে বলল, হ্যাঁ। গোলাম বলল, তাহলে সে যখন ঘুমিয়ে পড়বে তখন একটি ক্ষুর দিয়ে তার গলার কাছ থেকে কিছু দাড়ি কেটে আনবে। এ দিকে সে স্বামীকে গিয়ে বলল, তোমার স্ত্রীর অন্য পুরুষের সাথে সম্পর্ক রয়েছে। সে তোমাকে ঘৃণা করে এবং তোমাকে খুন করতে চায়। তুমি কি এটা যাচাই করতে চাও? সে বলল, হ্যাঁ। গোলাম বলল, তাহলে রাতে ঘুমের ভান করে পড়ে থাকবে। রাত্রিতে সে গোলামের কথামত ঘুমের ভান করে পড়ে রইলো। আর স্ত্রী গোলামের কথা মত ক্ষুর নিয়ে দাড়ি কাটতে এলো। স্বামীর বিশ্বাস হয়ে গেল সে তাকে খুন করতে আসছে। তাই সে তার হাত থেকে ক্ষুর কেড়ে নিয়ে স্ত্রীকে খুন করে ফেলল। আর মহিলার আত্মীয়স্বজনরা এসে স্বামীকে হত্যা করে ফেলল। এই হত্যার প্রতিশোধ নিতে স্বামীর আত্মীয় স্বজন ছুটে এলো। এইভাবে দুই দলের মাঝে যুদ্ধ বেধে গেল।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 চোগলখোরী শয়তানের শয়তানী থেকেও মন্দ

📄 চোগলখোরী শয়তানের শয়তানী থেকেও মন্দ


হযরত ইয়াহইয়া ইবনে আকসাম রহ. বলেন-
النَّمَّامُ شَرٌّ مِنَ السَّاحِرِ ، وَيَعْمَلُ النَّمَّامُ فِي سَاعَةٍ مَا لَا يَعْمَلُ السَّاحِرُ فِي شَهْرٍ.

চোগলখোর জাদুকর থেকেও বিপজ্জনক। জাদুকর এক মাসে যা করতে পারে না, চোগলখোর এক মুহূর্তে তা করে ফেলে। কেউ কেউ বলেন, عَمَلُ النَّمَّامِ أَضَرُّ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ অর্থাৎ, চোগলখোরের কর্ম শয়তানের কর্ম থেকেও বেশি অনিষ্টকর। কারণ, শয়তান কাজ করে ওয়াসওয়াসা ও প্ররোচনার মাধ্যমে। আর চোগলখোর কাজ করে সরাসরি। আল্লাহ তা'আলার বাণী حَمَّالَةَ الْحَطَبِ অর্থ: লাকড়ি বহনকারিনী।

অধিকাংশ মুফাসসির বলেন, লাকড়ি বা জ্বালানি দ্বারা এখানে চোগলখোরীকে বুঝানো হয়েছে। কারণ, আগুন যেমন লাকড়িকে জ্বালিয়ে দেয়, তেমনি চোগলখোর সমাজে শত্রুতা ও পরস্পর বিদ্বেষের আগুন জ্বালিয়ে দেয়।

হযরত আকসাম বিন সাফী রহ. বলেন, সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত চার ব্যক্তি। ১. চোগলখোর। ২. মিথ্যাবাদী। ৩. ঋণগ্রস্ত। ৪. এতিম।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 চোগলখোরী লাঞ্ছনা বয়ে আনে

📄 চোগলখোরী লাঞ্ছনা বয়ে আনে


হযরত উবাইদুল্লাহ কুরাশী রহ. বলেন, এক ব্যক্তি সাতটি বিষয় জানার জন্য সাত শত ফরছাখ পাড়ি দিয়ে এক আলেমের নিকট গমন করে। যখন তার দরবারে উপস্থিত হলে, বলল, আল্লাহ আপনাকে যে জ্ঞান দান করেছেন, আমি তা জানার জন্য আপনার কাছে এসেছি।

১. আমাকে বলুন আসমান ও আসমানের চেয়েও কোন জিনিস ভারী? তিনি বললেন, নির্দোষ ব্যক্তির উপর অপবাদ দেওয়া।
২. আমাকে বলুন, জমিন ও জমিনের চেয়েও কোন জিনিস প্রশস্ত? তিনি বললেন, সত্য।
৩. কোন জিনিস পাথর থেকেও কঠোর? তিনি বললেন, কাফেরের হৃদয়।
৪. কোন জিনিস সমুদ্র থেকেও গভীর? তিনি বললেন, অল্পে তুষ্ট মন।
৫. কোন জিনিস আগুনের চেয়েও বেশী গরম? তিনি বললেন, মানুষের লোভ।
৬. কোন জিনিস বরফের চেয়ে বেশি ঠান্ডা? তিনি বললেন, নিকটজনের নিকট করা ব্যর্থ প্রার্থনা।
৭. কে এতীমের চেয়েও বেশী অসহায়? তিনি বললেন, ধরা পড়া চোগলখোর।

অন্য আরেক বর্ণনায় আছে, কোন জিনিস বিষের চেয়ে বেশি বিপজ্জনক? তিনি বললেন, চোগলখোরী।

ফন্ট সাইজ
15px
17px