📄 চোগলখোর জান্নাতে যাবে না
عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُولُ : لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ فَتَاتُ يَعْنِي النَّمَّامَ.
হযরত হুযায়ফা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, চোগলখোর জান্নাতে যাবে না।
টিকাঃ
৩৭৪. সহীহ বুখারী: হাদীস-৬০৫৬; সহীহ মুসলিম: হাদীস-১০৫; সুনানে আবী দাউদ হাদীস-৪৮৭১; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২০২৬।
📄 চোগলখোর সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যক্তি
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ : هَلْ تَدْرُونَ مَنْ شِرَارُكُمْ؟ قَالُوا : اللهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ . قَالَ : أَوَّلُ شِرَارُكُمْ ذُو الْوَجْهَيْنِ الَّذِي يَأْتِي هَؤُلَاءِ بِوَجْهِ وَهَؤُلَاءِ بِوَجْهِ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, তোমরা কি জানো কারা তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট লোক? সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি ইরশাদ করলেন, তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট তারা যারা দুই চেহারা নিয়ে থাকে। এক দলের কাছে এক চেহারা নিয়ে যায়, অন্যদের কাছে যায় ভিন্ন চেহারা নিয়ে।
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا قَالَ : مَرَّ النَّبِيُّ اللَّهِ بِقَبْرَيْنِ جَدِيدَيْنِ فَقَالَ : إِنَّهُمَا لَيُعَذِّبَانِ . وَمَا يُعَذِّبَانِ فِي كَبِيرٍ، فَأَمَّا أَحَدُهُمَا فَكَانَ لَا يَسْتَنْزِهُ مِنَ الْبَوْلِ، وَأَمَّا الْآخَرُ فَكَانَ يَمْشِي بِالنَّمِيمَةِ . ثُمَّ أَخَذَ جِرِيدَةً وَطِبَةً فَشَقَّهَا نِصْفَيْنِ وَغَرَزَ فِي كُلِّ قَبْرٍ وَاحِدَةً، فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ : لِمَ صَنَعْتَ هَذَا؟ فَقَالَ : لَعَلَّهُ أَنْ يُخَفِّفَ عَنْهُمَا مَا لَمْ يَيْبَسًا.
ইবনু আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ দু'টি কবরের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। (এমনি সময়) তিনি বললেন- এ দু'টি কবরের লোককে আযাব দেওয়া হচ্ছে। (অবশ্য) কোন কবীরা গুনাহর কারণে আযাব দেওয়া হচ্ছে না। (এরপর তিনি কবর দু'টির দিকে ইঙ্গিত করে বললেন) এই কবরের অধিবাসী, সে তার পেশাবের ফোঁটা হতে বেঁচে থাকত না। আর এই কবরের অধিবাসী, সে চোগলখোরি করে বেড়াত। তারপর তিনি একটি খেজুরের তাজা শাখা আনতে বললেন। (শাখা আনা হলে) তিনি তা দু'ভাগে বিভক্ত করলেন এবং উভয় কবরের উপর একটি করে শাখা পুঁতে দিলেন। তারপর বললেন- আল্লাহ তা'আলা হয়তো শাখাগুলো না শুকানো পর্যন্ত এদের আযাব হালকা করে দেবেন।
ইমাম সমরকন্দী বলেন, বড় কোনো গুনাহের জন্য তাদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে না -এর অর্থ হলো, এই গুনাহ তোমাদের বিচারে বড় নয়। তবে তা আল্লাহর নিকট গুরুতর।
টিকাঃ
৩৭৫. সহীহ বুখারী: হাদীস-৬০৫৮; সহীহ মুসলিম হাদীস-২৫২৬; আবু দাউদ: হাদীস-৪৮৭২; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২০২৫।
৩৭৬. সহীহ বুখারী: হাদীস-১৩৭৮; সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৯২; সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-২০; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-৭০।
📄 চোগলখোরীর সাথে জড়িত ব্যক্তি জান্নাতে যাবে না
হুযাইফা রাযি.-এর বর্ণনায় এসেছে, চোগলখোরীকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না। এর অর্থ হলো, সে জাহান্নামে যাবে। কারণ, পরকালে জান্নাত আর জাহান্নাম ছাড়া তৃতীয় কোনো স্থান নেই। সুতরাং যখন সে জান্নাতে যাবে না, তখন প্রমাণিত হলো যে, সে জাহান্নামে যাবে। অতএব, যে ব্যক্তি এই গুনাহ করে তার উচিত মৃত্যুর পূর্বে তাওবা করা। কারণ, চোগলখোর দুনিয়াতে লাঞ্ছিত, মৃত্যুর পর সে কবরে শাস্তি ভোগ করবে, আর কিয়ামতের দিন জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে, আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হবে। আর যদি মৃত্যুর পূর্বে তাওবা করে আল্লাহ তা'আলা তাকে মাফ করে দিবেন।
عَنِ الْحَسَنِ عَنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ أَنَّهُ قَالَ: مِنْ شَرِّ النَّاسِ ذُو الْوَجْهَيْنِ، يَأْتِي هَؤُلَاءِ بِوَجْهِ وَهَؤُلَاءِ بِوَجْهِ، وَمَنْ كَانَ ذَا لِسَانَيْنِ فِي الدُّنْيَا فَإِذَا اللهُ تَعَالَى يَجْعَلُ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لِسَانَيْنِ مِنَ النَّارِ.
হযরত হাসান রহ. বর্ণনা করেন, রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, দুই রূপের অধিকারী ব্যক্তি হলো, সবচেয়ে নিকৃষ্ট। তারা এক দলের কাছে আসে এক চেহারা নিয়ে। আর আরেক দলের কাছে যায় ভিন্ন চেহারা নিয়ে। দুনিয়াতে যে ব্যক্তি দুই জিভওয়ালা হবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার মুখে আগুনের দুই জিভ লাগিয়ে দিবেন।
عَنْ قَتَادَةَ أَنَّهُ قَالَ: كَانَ يُقَالُ : مِنْ شَرِّ عِبَادِ اللهِ كُلُّ طَعَانٍ، لَعَانٍ، نَمَّامِ. وَكَانَ يَقُولُ : عَذَابُ الْقَبْرِ ثَلَاثَةُ أَثْلَاثٍ : ثُلُثُ مِنَ الْغِيبَةِ، وَثُلُثُ مِنَ الْبَوْلِ، وَثُلُثُ مِنَ النَّمِيمَةِ.
হযরত কাতাদা রহ. হতে বর্ণিত। নিকৃষ্ট ব্যক্তি হলো, যারা চোগলখোরী করে, লানত করে ও চোগলখোরী করে। তিনি আরো বলতেন- কবরের আযাবের তিন ভাগের এক ভাগ হয় গীবতের কারণে। আরেকভাগ পেশাব থেকে অসতর্কতার কারণে। আরেক ভাগ চোগলখোরীর কারণে।
টিকাঃ
৩৭৭. সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-৪৮৭৩; সহীহ বুখারী: হাদীস-১৩৭৮; সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৯২।
📄 চোগলখোরীর পরিণতি
হযরত হাম্মাদ ইবনে সালামা রহ. থেকে বর্ণিত- জনৈক ব্যক্তি একটি গোলাম খরিদ করার সময় বিক্রেতা বলল, তার মধ্যে চোগলখোরী ছাড়া কোনো দোষ নেই। ক্রেতা বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিল না। সে গোলামটিকে খরিদ করে নিলো। কিছু দিন পর সে তার মনিবের স্ত্রীকে বলল, তোমার স্বামী তোমাকে পছন্দ করে না। সে একটি দাসী রাখার পরিকল্পনা করছে। তুমি কি চাও তোমার স্বামী তোমার প্রতি আকৃষ্ট থাক? সে বলল, হ্যাঁ। গোলাম বলল, তাহলে সে যখন ঘুমিয়ে পড়বে তখন একটি ক্ষুর দিয়ে তার গলার কাছ থেকে কিছু দাড়ি কেটে আনবে। এ দিকে সে স্বামীকে গিয়ে বলল, তোমার স্ত্রীর অন্য পুরুষের সাথে সম্পর্ক রয়েছে। সে তোমাকে ঘৃণা করে এবং তোমাকে খুন করতে চায়। তুমি কি এটা যাচাই করতে চাও? সে বলল, হ্যাঁ। গোলাম বলল, তাহলে রাতে ঘুমের ভান করে পড়ে থাকবে। রাত্রিতে সে গোলামের কথামত ঘুমের ভান করে পড়ে রইলো। আর স্ত্রী গোলামের কথা মত ক্ষুর নিয়ে দাড়ি কাটতে এলো। স্বামীর বিশ্বাস হয়ে গেল সে তাকে খুন করতে আসছে। তাই সে তার হাত থেকে ক্ষুর কেড়ে নিয়ে স্ত্রীকে খুন করে ফেলল। আর মহিলার আত্মীয়স্বজনরা এসে স্বামীকে হত্যা করে ফেলল। এই হত্যার প্রতিশোধ নিতে স্বামীর আত্মীয় স্বজন ছুটে এলো। এইভাবে দুই দলের মাঝে যুদ্ধ বেধে গেল।