📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 অপবাদ চর্চা থেকে তাওবা

📄 অপবাদ চর্চা থেকে তাওবা


কেউ যদি কারো নামে মিথ্যে অপবাদ তথা বুহতান চর্চা করে তাহলে তার তাওবার তিনটি সুরত। যথা-
১. যাদের নিকট মিথ্যা অপবাদ বলা হয়েছে, তাদের নিকট গিয়ে বলা যে, আমি অমুকের নামে অমুক কথা বলেছি তা মিথ্যা ছিল। তার সাথে এর কোনো সম্পর্ক নাই。
২. যার নামে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে তার নিকট গিয়ে দোষ স্বীকার করা এবং ক্ষমা চাওয়া。
৩. আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাওয়া এবং তাওবা করা। কারণ, বুহতান বা অপরের নামে মিথ্যা অপবাদ হলো, অন্যতম কঠিন গুনাহ। অন্যান্য গুনাহের তাওবা হলো, একবার আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাওয়া। কিন্তু বুহতান-এর তাওবার জন্য তিনজনের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। কারণ, আল্লাহ তা'আলা বুহতান কে কুফরীর সাথে যুক্ত করে বলেছেন-

فَاجْتَنِبُوا الرِّجْسَ مِنَ الْأَوْثَانِ وَاجْتَنِبُوا قَوْلَ الزُّورِ অর্থ: তোমরা নাপাকী অর্থাৎ, মুর্তিপূজা থেকে বিরত থাক এবং মিথ্যা বলা বর্জন কর।

টিকাঃ
৩৭২. সূরা হজ্ব: আয়াত-৩০

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা দলের সমালোচনা গীবত

📄 নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা দলের সমালোচনা গীবত


বলা হয়, নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা দলের সমালোচনা করলেই কেবল গীবত হয়। সুতরাং অনির্দিষ্ট কোনো জাতি বা গোষ্ঠীর সমালোচনা করলে সেটা গীবত হবে না। যেমন কেউ বলল, অমুক শহরের লোকেরা কৃপণ অথবা তারা মন্দ। একথা বলার দ্বারা গীবত হবে না। তবে এই ধরনের সমালোচনা থেকেও বিরত থাকা উত্তম।

বর্ণিত আছে, এক দরবেশ তার স্ত্রীর জন্য কিছু তুলা কিনে আনলে, তার স্ত্রী বলল, তুলা বিক্রেতারা সব বাটপার, তারা আপনার সাথে খেয়ানত করেছে। সাথে সাথে তিনি স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দিলেন। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি এমন করলেন কেন? তিনি বললেন, আমার আত্মমর্যাদা রয়েছে। আমার ভয় হয় যে, কিয়ামতের দিন সব তুলা ব্যবসায়ীরা আমার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করবে। ফলে লোকে বলাবলি করবে যে, অমুকের স্ত্রীর বিরুদ্ধে তুলা ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছে। একারণে তাকে আমি তালাক দিয়েছি।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 যাদের সমালোচনা গীবত হবে না

📄 যাদের সমালোচনা গীবত হবে না


তিন ব্যক্তির সমালোচনা গীবত বলে বিবেচিত হবে না। ১. سُلْطَانُ جَائِرٌ অর্থাৎ, অত্যাচারী শাসক। ২. وَفَاسِقٌ مُعْلِنٌ অর্থাৎ, প্রকাশ্য গুনাহকারী। ৩. وَصَاحِبُ بِدْعَةٍ অর্থাৎ, বিদআতী।

অর্থাৎ, যদি তাদের কর্মের এবং ধর্মের সমালোচনা করা হয় তাহলে তা গীবত হবে না। কারণ, মানুষকে সতর্ক করার জন্য তাদের সমালোচনা করা প্রয়োজন। কিন্তু যদি তাদের শারীরিক বা ব্যক্তিগত কোনো ত্রুটি নিয়ে সমালোচনা করা হয়, তাহলে তা আবার গীবত হিসাবে গণ্য হবে। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন-
اذْكُرُوا الْفَاجِرَ بِمَا فِيهِ لِكَيْ يَحْذَرَهُ النَّاسُ

গুনাহচারীর গুনাহের সমালোচনা কর, যাতে মানুষ তার সম্পর্কে সাবধান হয়ে যায়。

টিকাঃ
৩৭৩. আল-কামেল: ২/১৭৩; সুনানে বাইহাকী : ১০/২১০; আল-মাজরুহীন লিইবনে হিব্বান: ১/২২০। সুযুতি, আলবানী ও ইবনুল জাওযীপ্রমুখ হাদীসটিকে জয়ীফ বলেছেন।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 গীবতের প্রকারভেদ

📄 গীবতের প্রকারভেদ


গীবত চার প্রকার। যথা- ১. এক প্রকার গীবত, যার ফলে মানুষ কাফের হয়ে যায়। ২. আরেক প্রকার গীবত, যার ফলে মানুষ মুনাফিক হয়ে যায়। ৩. আরেক প্রকার গীবত, যা না ফরমানী। ৪. আরেক প্রকার গীবত, যা মুবাহ ও সওয়াবের কাজ।

যে গীবতের ফলে মানুষ কাফের হয়ে যায় তা হলো, কোনো মুসলমানের গীবত করা হলে কেউ তাকে বারণ করল আর সে বলল, গীবত নয়, আমি যা বলছি সত্যিই বলেছি। কারণ, এর ফলে আল্লাহ যা হারাম করেছেন তাকে হালাল গণ্য করা হয়। আর আল্লাহ যা হারাম করেছেন তাকে হালাল গণ্য করা কুফুরী।

যে গীবতের ফলে মানুষ মুনাফিক হয়ে যায়, তাহলো নাম উল্লেখ না করে এমন ব্যক্তির নিকট সমালোচনা করা যে, বুঝতে পারে কার সমালোচনা করা হলো। গীবতকারী মনে করে, সে গীবত করছে না, অথচ সে গীবত করছে। এটা এক ধরনের মুনাফিকী।

আর যে গীবত নাফরমানী বা গুনাহের কাজ বলে গণ্য তা হলো, নাম ধরে কারো সমালোচনা করা। এটা স্পষ্ট গুনাহ। যে এ কাজ করবে তার অবশ্যই তাওবা করা উচিত।

আর মুবাহ ও বৈধ গীবত হলো, প্রকাশ্যে গুনাহকারীর গুনাহের সামালেচনা করা বা বেদআতির ধর্ম-কর্মের সামালচনা করা। এই সমালোচনা বৈধ। বরং এই সমালোচনা করে মানুষকে তাদের সম্পর্কে সাবধান করা সওয়াবের কাজ। যেমন রাসূল ইরশাদ করেন, গুনাহগারের গুনাহের সমালোচনা কর, যাতে মানুষ তার সম্পর্কে সাবধান হতে পারে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px