📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 গীবত থেকে তাওবা

📄 গীবত থেকে তাওবা


ইমাম সমরকন্দী রহ. বলেন, গীবত কারীর তাওবা সম্পর্কে ফকীহদের মাঝে মতবিরোধ রয়েছে। কেউ কেউ বলেন, যার গীবত করা হয়েছে তার থেকে মাফ না নেওয়া পর্যন্ত তার তাওবা কবুল হবে না। আবার কেউ বলেন, ব্যক্তির নিকট ক্ষমা না নিলেও তার তাওবা হবে। এর দুইটি সূরত রয়েছে। যথা-
১. যার গীবত করা হয়েছে গীবতের ব্যাপারটি যদি তার কানে পৌঁছে, তাহলে তার নিকট থেকে মাফ নিয়ে নিতে হবে। আর এটাই এই অপরাধের তাওবা।
২. আর যদি ব্যাপারটি তার কানে না পৌঁছে থাকে, তাহলে আল্লাহর নিকট ক্ষমা চেয়ে নেওয়া এবং মনে মনে এই কর্ম পুনরায় না করার প্রতিজ্ঞা করা。

বর্ণিত আছে, ইবনে সীরীন রহ.-এর নিকট এসে এক ব্যক্তি বলল, আমি আপনার গীবত করেছি, আপনি আমাকে হালাল করে দিন অর্থাৎ, মাফ করে দিন। তিনি বললেন, চমৎকার তো! আল্লাহ যা হারাম করেছেন, আমি তা হালাল করব কীভাবে? এ কথা বলে তিনি মাফ করার পাশাপাশি আল্লাহর দরবারে তাওবা ও ইস্তেগফারের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। আর যদি গীবতের কথা তার নিকট না পৌঁছে তাহলে তাকে জানিয়ে মাফ নিতে হবে না, বরং আল্লাহর নিকট তাওবা করলেই হবে। কারণ, এতে তার মনে কষ্ট আসতে পারে।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 অপবাদ চর্চা থেকে তাওবা

📄 অপবাদ চর্চা থেকে তাওবা


কেউ যদি কারো নামে মিথ্যে অপবাদ তথা বুহতান চর্চা করে তাহলে তার তাওবার তিনটি সুরত। যথা-
১. যাদের নিকট মিথ্যা অপবাদ বলা হয়েছে, তাদের নিকট গিয়ে বলা যে, আমি অমুকের নামে অমুক কথা বলেছি তা মিথ্যা ছিল। তার সাথে এর কোনো সম্পর্ক নাই。
২. যার নামে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে তার নিকট গিয়ে দোষ স্বীকার করা এবং ক্ষমা চাওয়া。
৩. আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাওয়া এবং তাওবা করা। কারণ, বুহতান বা অপরের নামে মিথ্যা অপবাদ হলো, অন্যতম কঠিন গুনাহ। অন্যান্য গুনাহের তাওবা হলো, একবার আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাওয়া। কিন্তু বুহতান-এর তাওবার জন্য তিনজনের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। কারণ, আল্লাহ তা'আলা বুহতান কে কুফরীর সাথে যুক্ত করে বলেছেন-

فَاجْتَنِبُوا الرِّجْسَ مِنَ الْأَوْثَانِ وَاجْتَنِبُوا قَوْلَ الزُّورِ অর্থ: তোমরা নাপাকী অর্থাৎ, মুর্তিপূজা থেকে বিরত থাক এবং মিথ্যা বলা বর্জন কর।

টিকাঃ
৩৭২. সূরা হজ্ব: আয়াত-৩০

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা দলের সমালোচনা গীবত

📄 নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা দলের সমালোচনা গীবত


বলা হয়, নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা দলের সমালোচনা করলেই কেবল গীবত হয়। সুতরাং অনির্দিষ্ট কোনো জাতি বা গোষ্ঠীর সমালোচনা করলে সেটা গীবত হবে না। যেমন কেউ বলল, অমুক শহরের লোকেরা কৃপণ অথবা তারা মন্দ। একথা বলার দ্বারা গীবত হবে না। তবে এই ধরনের সমালোচনা থেকেও বিরত থাকা উত্তম।

বর্ণিত আছে, এক দরবেশ তার স্ত্রীর জন্য কিছু তুলা কিনে আনলে, তার স্ত্রী বলল, তুলা বিক্রেতারা সব বাটপার, তারা আপনার সাথে খেয়ানত করেছে। সাথে সাথে তিনি স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দিলেন। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি এমন করলেন কেন? তিনি বললেন, আমার আত্মমর্যাদা রয়েছে। আমার ভয় হয় যে, কিয়ামতের দিন সব তুলা ব্যবসায়ীরা আমার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করবে। ফলে লোকে বলাবলি করবে যে, অমুকের স্ত্রীর বিরুদ্ধে তুলা ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছে। একারণে তাকে আমি তালাক দিয়েছি।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 যাদের সমালোচনা গীবত হবে না

📄 যাদের সমালোচনা গীবত হবে না


তিন ব্যক্তির সমালোচনা গীবত বলে বিবেচিত হবে না। ১. سُلْطَانُ جَائِرٌ অর্থাৎ, অত্যাচারী শাসক। ২. وَفَاسِقٌ مُعْلِنٌ অর্থাৎ, প্রকাশ্য গুনাহকারী। ৩. وَصَاحِبُ بِدْعَةٍ অর্থাৎ, বিদআতী।

অর্থাৎ, যদি তাদের কর্মের এবং ধর্মের সমালোচনা করা হয় তাহলে তা গীবত হবে না। কারণ, মানুষকে সতর্ক করার জন্য তাদের সমালোচনা করা প্রয়োজন। কিন্তু যদি তাদের শারীরিক বা ব্যক্তিগত কোনো ত্রুটি নিয়ে সমালোচনা করা হয়, তাহলে তা আবার গীবত হিসাবে গণ্য হবে। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন-
اذْكُرُوا الْفَاجِرَ بِمَا فِيهِ لِكَيْ يَحْذَرَهُ النَّاسُ

গুনাহচারীর গুনাহের সমালোচনা কর, যাতে মানুষ তার সম্পর্কে সাবধান হয়ে যায়。

টিকাঃ
৩৭৩. আল-কামেল: ২/১৭৩; সুনানে বাইহাকী : ১০/২১০; আল-মাজরুহীন লিইবনে হিব্বান: ১/২২০। সুযুতি, আলবানী ও ইবনুল জাওযীপ্রমুখ হাদীসটিকে জয়ীফ বলেছেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px