📄 চারটি বিষয় থেকে বেঁচে থাকো
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ : أَرْبَعُ يُفْطِرْنَ الصَّائِمَ وَيَنْقُضْنَ الْوُضُوءَ وَيَهْدِمْنَ الْعَمَلَ الْغِيبَةُ، وَالْكَذِبُ، وَالنَّمِيمَةُ وَالنَّظَرُ إِلَى مَحَاسِنِ الْمَرْأَةِ الَّتِي لَا يَحِلُّ لَهُ النَّظَرُ إِلَيْهَا، وَهُنَّ يَسْقِينَ أُصُولَ الشَّرِّ كَمَا يُسْقِي الْمَاءُ أُصُولَ الشَّجَرِ. وَشُرْبُ الْخَمْرِ يَعْلُو الْخَطَايَا.
হযরত আনাস ইবনে মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত- রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, চার জিনিস রোজা নষ্ট করে দেয়, উযূ ভেঙ্গে দেয় এবং আমল বরবাদ করে দেয়। যথা- ১. গীবত। ২. মিথ্যা। ৩. চোগলখোরী। ৪. যে নারীর দিকে তাকানো অবৈধ, তার সৌন্দর্য দর্শন। এগুলো মন্দের গোড়ায় পানি প্রবাহ দেয়। যেমন গাছের গোড়ায় পানি দেওয়া হয়। আর মদপানের অবস্থান সমস্ত গুনাহের শীর্ষ।
হযরত কা'ব আল-আহবার রহ. বলেন, যে ব্যক্তি গীবত থেকে তাওবা করে মৃত্যুবরণ করবে সে সবার শেষে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তি গীবতের তাওবা না করে মৃত্যুবরণ করবে সে সবার আগে জাহান্নামে প্রবেশ করবে。
টিকাঃ
৩৬৯. আল-ফিরদাউস, দাইলামী হাদীস-২৯৭৯; আল-লাআ'লী আল-মাসনুয়াহ ২/১০৬। হাফেজ সুয়ূতী হাদীসটিকে জাল বলেছেন।
📄 গীবত করা অপরকে উলঙ্গ করার শামিল
বর্ণিত আছে, হযরত ঈসা আ. তার সঙ্গীদের বললেন, তোমাদের কোনো সাথী যদি ঘুমিয়ে থাকে আর বাতাস তার কাপড়ে লেগে লজ্জাস্থানের কিছু খুলে যায়, তাহলে কি তোমরা তা ঠিক করে দেবে না? তারা বলল, অবশ্যই ঠিক করে দিব। তিনি বললেন, না, তোমরা বরং তার বাকি কাপড়ও খুলে দিবে। তারা আশ্চর্য হয়ে বলল, সেটা কি করে সম্ভব? তিনি বললেন, তোমাদের নিকট যখন কারো একটু নিন্দা করা হয় তখন কি তোমরা তার আর যা যা দোষ আছে তার আলোচনা শুরু কর না? এটাই তার দেহের বাকী অংশ খুলে দেওয়ার সমতুল্য।
📄 গীবত শুকরের গোশত ভক্ষণ থেকেও নিকৃষ্টতর
হযরত খালেদ রবঈ রহ. বলেন, একদা আমি মসজিদে বসা ছিলাম। তখন শুনতে পেলাম একদল লোক এক ব্যক্তির নিন্দা করছে। আমি তাদেরকে বারণ করলে তারা তাকে বাদ দিয়ে অন্য আরেক লোকের নিন্দা করতে শুরু করল। তারা আবার পুনরায় প্রথম জনের নিন্দা শুরু করলে এই বার আমি তাদের সাথে যোগ দিয়ে তার কিছু দোষের কথা উল্লেখ করলাম। সে রাতে আমি স্বপ্নে দেখলাম, কালো লম্বা এক লোক একটি থালায় কিছু শুকরের মাংস নিয়ে আমার সামনে এসে উপস্থিত হয়ে আমাকে সে মাংস খাওয়ার আদেশ করছে। আমি বললাম, শুকরের মাংস খাব? আল্লাহর কসম আমি তা খাব না। তখন সে আমাকে কঠিন ধমক দিলে আমি আতঙ্কিত হয়ে তা খেতে শুরু করলাম আর সে জোর করে আমার মুখে সে মাংস ঠেলে দিতে লাগল। এরপর ত্রিশ কিংবা চল্লিশ দিন পর্যন্ত কোনো খাবার খেতে গেলেই সে মাংসের বিস্বাদ ও দুর্গন্ধ পেতাম।
📄 জবানের হেফাজত
হযরত সুফইয়ান ইবনুল হুসাইন রহ. বলেন, একদা আমি হযরত ইয়াস ইবনে মুআবিয়া রহ.-এর সাথে বসা ছিলাম। তখন পথ দিয়ে একটি লোক অতিক্রমকালে আমি তার কিছু দোষ চর্চা করলাম। তিনি আমাকে ধমক দিয়ে বললেন, চুপ কর। তারপর তিনি বললেন, রোমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলে? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তুর্কীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছ? আমি বললাম- না। তিনি বললেন, রোমান ও তুর্কীরা তোমার হাত থেকে রক্ষা পেল। কিন্তু তোমার এই মুসলিম ভাইটি তোমার হাত থেকে রক্ষা পেল না। তিনি বলেন, এরপর আর কখনো কারো গীবত করিনি আমি।
হযরত হাতিম যাহিদ রহ. বলেন, কোনো মজলিসে যদি এই তিনটি বিষয় থাকে তাহলে সে মজলিস আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত থাকে। ১. দুনিয়ার আলোচনা। ২. হাসি-তামাশা ৩. গীবত।
হযরত ইয়াহ্ইয়া ইবনে মুআয রহ. বলেন, মুমিন হতে হলে কমপক্ষে তিনটি গুণ থাকতে হবে। ১. اَنَّكَ إِنْ لَمْ تَنْفَعْهُ فَلَا تَضُرُّه অর্থাৎ, মানুষের উপকার করতে না পারলেও তার কোনো ক্ষতি না করা। ২. إِنْ لَمْ تَسُرُّهُ فَلَا تَغْمُّهُ অর্থাৎ, মানুষকে খুশী করতে না পারলেও তাকে কষ্ট না দেওয়া। ৩. إِنْ لَمْ تَمْدَحْهُ فَلَا تَذْمَّهِ অর্থাৎ, অন্যের প্রশংসা না করতে পারলেও, নিন্দা না করা।
হযরত মুজাহিদ রহ. থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, প্রতিটি মজলিসে একদল ফেরেশতা থাকেন। যখন কেউ কারো ভালো কিছু আলোচনা করে তখন সে ফেরেশতারা বলতে থাকেন, তাকে এবং তোমাকে আল্লাহ এর সওয়াব দান করুন। আর যখন কেউ কারো দোষ চর্চা করে, তখন ফেরেশতাগণ বলেন, আল্লাহ যার দোষ ঢেকে রেখেছেন তুমি তার দোষের চর্চা করছ? নিজের কথা চিন্তা কর এবং আল্লাহর প্রশংসা ও শুকরিয়া আদায় কর। তিনি তো তোমার দোষ ঢেকে রেখেছেন।
বর্ণিত আছে, একবার হযরত ইবরাহীম বিন আদহাম রহ.-কে এক অনুষ্ঠানে দাওয়াত করা হলো। তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলেন। ইত্যবসরে শুনতে পেলেন, এক ব্যক্তি বলছে অমুকে তো আসেনি। তখন অপর আরেকজন বলল, লোকটি বেশ অলস। তখন ইবরাহীম বিন আদহাম বললেন, এ হলো, আমার পেটের কারসাজি। পেটই আমাকে এমন মজলিসে নিয়ে এসেছে যেখানে গীবত চর্চা হয়। এই বলে তিনি উঠে গেলেন। এরপর পেটকে শায়েস্তা করার জন্য তিনি অনবরত তিন দিন রোযা রাখলেন।
জনৈক আরেফ বলেন, যদি তোমার তিনটি কাজ করার সাধ্য না থাকে তাহলে অন্তত অপর তিনটি কাজ কর।
১. إِ نْ ضَعُفْتَ عَنِ الْخَيْرِ فَامْسِكْ عَنِ الشَّرِّ অর্থাৎ, যদি ভালো কাজ করতে না পার তাহলে অন্তত মন্দ কাজ থেকে বিরত থাক।
২. وَإِنْ كُنْتَ لَا تَسْتَطِيعُ أَنْ تَصُومَ فَلَا تَأْكُلْ لُحُومَ النَّاسِ অর্থাৎ, যদি রোযা রাখতে না পার তাহলে অন্তত মানুষের মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকো।
৩. وَإِنْ كُنْتَ لَا تَسْتَطিيعُ أَنْ تَنْفَعَ النَّاسَ فَامْسِكْ عَنْهُمْ ضُرَّكَ অর্থাৎ, যদি মানুষের উপকার করতে না পার অন্তত মানুষের ক্ষতি করা থেকে বিরত থাক।
হযরত ওয়াহাব মাক্কী রহ. থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, গীবত থেকে বেঁচে থাকা দুনিয়ার যাবতীয় সম্পদ দান করার চেয়েও উত্তম। অনুরূপ দুনিয়ার যাবতীয় সম্পদ দান করার চেয়ে আমার নিকট উত্তম হলো, আল্লাহ যার দিকে দৃষ্টি দিতে বারণ করেছেন তার প্রতি দৃষ্টি পাত না করা। অতঃপর তিনি নিম্নোক্ত আয়াত দুটি পাঠ করলেন-
وَلَا يَغْتَب بَعْضُكُم بَعْضًا অর্থ: তোমরা পরস্পর গীবত কর না।
قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ অর্থ: আপনি মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে।