📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 গীবত নেকিকে বরবাদ করে দেয়

📄 গীবত নেকিকে বরবাদ করে দেয়


একদা হযরত হাসান বসরী রহ.কে বলা হলো, অমুক ব্যক্তি আপনার গীবত করছে। তিনি সাথে সাথে তার নিকট কিছু খেজুর হাদিয়া পাঠিয়ে দিলেন এবং বললেন আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে আপনি আমাকে কিছু নেকি হাদিয়া দিয়েছেন। তাই তার বিনিময় হিসাবে আমি আপনাকে এই হাদিয়া পাঠালাম। কিন্তু আফসোস! পূর্ণ বিনিময় দিতে পারলাম না। আমাকে তার জন্য ক্ষমা করে দিয়েন।

একদা হযরত ইবরাহীম বিন আদহাম রহ. কিছু লোককে দাওয়াত করলেন। মেহমানরা খেতে বসে এক লোকের নিন্দা করতে লাগল। শুনে হযরত ইবরাহীম বিন আদহাম বললেন, লোকে আগে রুটি তারপর গোশত খায়, তোমরা তো দেখছি রুটির সাথে গোশত খেতে শুরু করেছ।

عَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِي رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ : إِنَّ الْعَبْدَ لَيُعْطَى كِتَابَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيَرَى فِيهِ حَسَنَاتٍ لَمْ يَكُنْ عَمِلَهَا، فَيَقُولُ يَا رَبُّ مِنْ أَيْنَ لِي هَذَا؟ فَيَقُولُ هَذَا بِمَا اغْتَابَكَ النَّاسُ وَأَنْتَ لَا تَشْعُرُ.

হযরত আবূ উমামা আল-বাহেলী রহ. বলেন, কিয়ামতের দিন মুমিন তার আমলনামায় এমন কিছু নেক আমলের সওয়াবের অংশ দেখতে পাবে, যা সে কখনো করেনি। তখন সে বলবে, হে রব! এই আমল আমার আমলনামায় কোত্থেকে এলো, অর্থ আমি এই আমল করিনি? আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করবেন, তোমার অগোচরে তোমার গীবত করা হয়েছিল, কিন্তু তুমি তা জানতে না। এগুলো তার বিনিময়।

হযরত ইবরাহীম বিন আদহাম রহ. বলেন- 'হায়রে বোকা মানুষ! তুমি দুনিয়ার ব্যাপারে বন্ধুদের সাথে কৃপণতা করছ কিন্তু আখেরাতের ক্ষেত্রে উদার হস্তে আপন শত্রুদেরকে দান করছ। তোমার এ কৃপণতাও ক্ষমার যোগ্য না আর তোমার এই উদারতাও প্রশংসনীয় না।'

জনৈক আরেফ বলেন, গীবত হলো, পাঠকদের জন্য ফলস্বরূপ, ফাসেকদের মেহমানদারী স্বরূপ, মহিলাদের চারণভূমি স্বরূপ, কুকুর স্বভাবী মানুষদের জন্য সুস্বাদু তরকারী স্বরূপ। আর মুত্তাকীদের জন্য ডাষ্টবিন স্বরূপ。

টিকাঃ
৩৬৮. মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ হাদীস-২৬৬৮; মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৮/৯৪; আল-মাতালেবুল আলিয়া: ২/৪আল-মাতালেবুল আলিয়া ২/৪৩১।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 চারটি বিষয় থেকে বেঁচে থাকো

📄 চারটি বিষয় থেকে বেঁচে থাকো


عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ : أَرْبَعُ يُفْطِرْنَ الصَّائِمَ وَيَنْقُضْنَ الْوُضُوءَ وَيَهْدِمْنَ الْعَمَلَ الْغِيبَةُ، وَالْكَذِبُ، وَالنَّمِيمَةُ وَالنَّظَرُ إِلَى مَحَاسِنِ الْمَرْأَةِ الَّتِي لَا يَحِلُّ لَهُ النَّظَرُ إِلَيْهَا، وَهُنَّ يَسْقِينَ أُصُولَ الشَّرِّ كَمَا يُسْقِي الْمَاءُ أُصُولَ الشَّجَرِ. وَشُرْبُ الْخَمْرِ يَعْلُو الْخَطَايَا.

হযরত আনাস ইবনে মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত- রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, চার জিনিস রোজা নষ্ট করে দেয়, উযূ ভেঙ্গে দেয় এবং আমল বরবাদ করে দেয়। যথা- ১. গীবত। ২. মিথ্যা। ৩. চোগলখোরী। ৪. যে নারীর দিকে তাকানো অবৈধ, তার সৌন্দর্য দর্শন। এগুলো মন্দের গোড়ায় পানি প্রবাহ দেয়। যেমন গাছের গোড়ায় পানি দেওয়া হয়। আর মদপানের অবস্থান সমস্ত গুনাহের শীর্ষ।

হযরত কা'ব আল-আহবার রহ. বলেন, যে ব্যক্তি গীবত থেকে তাওবা করে মৃত্যুবরণ করবে সে সবার শেষে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তি গীবতের তাওবা না করে মৃত্যুবরণ করবে সে সবার আগে জাহান্নামে প্রবেশ করবে。

টিকাঃ
৩৬৯. আল-ফিরদাউস, দাইলামী হাদীস-২৯৭৯; আল-লাআ'লী আল-মাসনুয়াহ ২/১০৬। হাফেজ সুয়ূতী হাদীসটিকে জাল বলেছেন।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 গীবত করা অপরকে উলঙ্গ করার শামিল

📄 গীবত করা অপরকে উলঙ্গ করার শামিল


বর্ণিত আছে, হযরত ঈসা আ. তার সঙ্গীদের বললেন, তোমাদের কোনো সাথী যদি ঘুমিয়ে থাকে আর বাতাস তার কাপড়ে লেগে লজ্জাস্থানের কিছু খুলে যায়, তাহলে কি তোমরা তা ঠিক করে দেবে না? তারা বলল, অবশ্যই ঠিক করে দিব। তিনি বললেন, না, তোমরা বরং তার বাকি কাপড়ও খুলে দিবে। তারা আশ্চর্য হয়ে বলল, সেটা কি করে সম্ভব? তিনি বললেন, তোমাদের নিকট যখন কারো একটু নিন্দা করা হয় তখন কি তোমরা তার আর যা যা দোষ আছে তার আলোচনা শুরু কর না? এটাই তার দেহের বাকী অংশ খুলে দেওয়ার সমতুল্য।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 গীবত শুকরের গোশত ভক্ষণ থেকেও নিকৃষ্টতর

📄 গীবত শুকরের গোশত ভক্ষণ থেকেও নিকৃষ্টতর


হযরত খালেদ রবঈ রহ. বলেন, একদা আমি মসজিদে বসা ছিলাম। তখন শুনতে পেলাম একদল লোক এক ব্যক্তির নিন্দা করছে। আমি তাদেরকে বারণ করলে তারা তাকে বাদ দিয়ে অন্য আরেক লোকের নিন্দা করতে শুরু করল। তারা আবার পুনরায় প্রথম জনের নিন্দা শুরু করলে এই বার আমি তাদের সাথে যোগ দিয়ে তার কিছু দোষের কথা উল্লেখ করলাম। সে রাতে আমি স্বপ্নে দেখলাম, কালো লম্বা এক লোক একটি থালায় কিছু শুকরের মাংস নিয়ে আমার সামনে এসে উপস্থিত হয়ে আমাকে সে মাংস খাওয়ার আদেশ করছে। আমি বললাম, শুকরের মাংস খাব? আল্লাহর কসম আমি তা খাব না। তখন সে আমাকে কঠিন ধমক দিলে আমি আতঙ্কিত হয়ে তা খেতে শুরু করলাম আর সে জোর করে আমার মুখে সে মাংস ঠেলে দিতে লাগল। এরপর ত্রিশ কিংবা চল্লিশ দিন পর্যন্ত কোনো খাবার খেতে গেলেই সে মাংসের বিস্বাদ ও দুর্গন্ধ পেতাম।

ফন্ট সাইজ
15px
17px