📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 মুনাফিকের আলামত

📄 মুনাফিকের আলামত


عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ: اعْتَبِرُوا الْمُنَافِقَ بِثَلَاثٍ: إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ، وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ، وَإِذَا عَاهَدَ غَدَرَ.

হযরত ইবনে মাসউদ রাযি. বলেন, মুনাফিক নির্ণয়ের আলামত তিনটি। যখন কথা বলে মিথ্যা বলে। ওয়াদা করলে খেলাফী করে। কোনো প্রতিশ্রুতি দিলে তা ভঙ্গ করে। হযরত আব্দুল্লাহ রাযি. বলেন, এর প্রমাণ আল্লাহ তা'আলার বাণী-

وَمِنْهُمْ مَنْ عَاهَدَ اللَّهَ لَئِنْ আতানা মিন ফাদ্বলিহি (آتَانَا مِنْ فَضْلِهِ) লানাস্সাদ্যাক্বান্না (لَنَصَّدَّقَنَّ) ওয়ালাতাকুনান্না মিনাস সালিহিন (وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الصَّالِحِينَ) ফাল্লাম্মা আতাহুম মিন ফাদ্বলিহি (فَلَمَّا آتَاهُمْ مِنْ فَضْلِهِ) বাখিলু বিহি ওয়াতাউয়াল্লাউ ওয়াহুম মু’রিদ্বুন (بَخِلُوا بِهِ وَتَوَلَّوْا وَهُمْ مُعْرِضُونَ) ফাআ’ক্বাবাহুম নিফাক্বান ফী ক্বুলুবিহিম ইলা ইয়াওমি ইয়ালক্বাউনিহি বিমা আখলাফুল্লাহা মা ওয়াআ’দুহু ওবিমা কানু ইয়াকজিবুন (فَأَعْقَبَهُمْ نِفَاقًا فِي قُلُوبِهِمْ إِلَى يَوْمِ يَلْقَوْنَهُ بِمَا أَخْلَفُوا اللَّهَ مَا وَعَدُوهُ وَبِمَا كَانُوا يَكْذِبُونَ)

অর্থ: তাদের মধ্যে কেউ আল্লাহর নিকট অঙ্গীকার করেছিল, আল্লাহ নিজ কৃপায় আমাদের দান করলে আমরা নিশ্চয় সদকা করব এবং সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হব। অতঃপর যখন তিনি নিজ কৃপায় তাদেরকে সম্পদ দান করলেন তখন তারা এই বিষয়ে কার্পণ্য করল এবং বিরুদ্ধভাবাপন্ন হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিল। পরিণামে তিনি তাদের অন্তরে কপটতা স্থির করলেন আল্লাহর সাথে তাদের সাক্ষাত দিবস পর্যন্ত। কারণ, তারা আল্লাহর নিকট যে অঙ্গীকার করেছিল তা ভঙ্গ করেছিল এবং তারা ছিল মিথ্যাবাদী।

টিকাঃ
৩৪৭. মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৮/৪০৬; আয যুহদ লি-ইবনিল মুবারক হাদীস-১০৬৭; আল্লামা হাইসামী হাদীসটির সনদটিকে সহীহ বলেছেন (মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ১/৩০১)।
৩৪৮. সূরা তাওবা: আয়াত-৭৫-৭৭

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 কামেল মুসলমান সে যে মিথ্যা বলে না

📄 কামেল মুসলমান সে যে মিথ্যা বলে না


হযরত মালেক রহ. বলেন, একদা লোকমান হাকীমকে জিজ্ঞেস করা হলো, কীভাবে আপনি এই স্তর অর্জন করলেন? তিনি বললেন, صِدْقُ الْحَدِيثِ، وَأَدَاءُ الْأَمَانَةِ، وَتَرْكُ مَا لَا يَعْنِينِي অর্থাৎ, সত্যকথন, আমানত রক্ষা এবং অনর্থক বিষয়াদি বর্জনের মাধ্যমে।

عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ أَنَّهُ قَالَ : قِيلَ يَا رَسُولَ اللهِ، أَيَكُونُ الْمُؤْمِنُ جَبَانًا؟ قَالَ : نَعَمْ. فَقِيلَ لَهُ: أَيَكُونُ الْمُؤْمِنُ بَخِيلًا ؟ قَالَ : نَعَمْ قِيلَ لَهُ أَيَكُونُ الْمُؤْمِنُ كَذَّابًا؟ قَالَ : لَا.

হযরত সাফওয়ান ইবনে সালিম রহ. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ কে জিজ্ঞেস করা হলো, মুমিন কি ভীরু হতে পারে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। মুমিন কি কৃপণ হতে পারে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। মুমিন কি কায্যাব (মিথ্যুক) হতে পারে? তিনি বললেন, না।

টিকাঃ
৩৪৯. শরহুস সুন্নাহ, যুরকানী ৪/৩১৭; জামেউল উলুম ওয়াল হিকাম: ১/১১৬।
৩৫০. মুয়াত্তা মালেক: হাদীস-২৮৩২;, মাকারিমুল আখলাক: হাদীস-১৪৭। হাদীসটি মুরসালে হাসান। শায়েখ আরনাউত সনদটিকে সহীহ বলেছেন।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 জান্নাতের দায়িত্ব

📄 জান্নাতের দায়িত্ব


عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: اضْمَنُوا سِتًّا مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَضْمَنُ لَكُمُ الْجَنَّةَ: اصْدُقُوا إِذَا حَدَّثْتُمْ، وَأَوْفُوا إِذَا وَعَدْتُمْ، وَأَدُّوا إِذَا ائْتُمِنْتُمْ، وَاحْفَظُوا فُرُوجَكُمْ وَغُضُّوا أَبْصَارَكُمْ وَكُفُّوا أَيْدِيَكُمْ.

হযরত উবাদা ইবনে সামেত রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, তোমরা নিজেদের ছয়টি বিষয়ের দায়িত্ব নাও, আমি তোমাদের জান্নাতের দায়িত্ব নিব। যথা-
১. যখন কথা বলবে তখন সত্য বলবে।
২. ওয়াদা করলে তা পূরণ করবে।
৩. তোমাদের নিকট কোনো আমানত রাখা হলে তা আদায় করবে।
৪. তোমাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করবে।
৫. দৃষ্টি অবনত রাখবে।
৬. হাতকে সংযত রাখবে।

ইমাম সমরকন্দী রহ. বলেন, এই ছয় বিষয়ের উল্লেখ করে রাসূল ﷺ মূলত সমস্ত নেক আমলের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। প্রথমে তিনি ইরশাদ করেছেন, যখন কথা বলবে তখন সত্য বলবে। এতে কালেমায়ে শাহাদাতের ব্যাপারে সত্য বলা এবং মানুষের সাথে সাধারণ কথা বলায় সত্য বলা দুটিই অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ যখন তুমি লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু (আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই) এই কথা বলবে তখন তা মন থেকে বলবে, সত্য করে বলবে। অনুরূপ মানুষের সাথে যখন কথা বলবে, তখনও সত্য বলবে। অতঃপর তিনি ইরশাদ করেছেন, ওয়াদা করলে তা পূরণ করবে। এখানে দুটি ওয়াদার কথা বলা হয়েছে। ১. আল্লাহর সাথে ওয়াদা। ২. মানুষের সাথে ওয়াদা। আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা পূরণ করার অর্থ হলো, মৃত্যু পর্যন্ত ঈমানের উপর অবিচল থাকা। মানুষের সাথে কৃত ওয়াদা পূরণ করার অর্থ হলো, যে কোনো মানুষের সাথে করা যাবতীয় ওয়াদা পূরণ করা।

এরপর তিনি ইরশাদ করেন, তোমরা আমানত রক্ষা কর। এটাও দু'প্রকার। যথা- ১. একটা হলো আল্লাহ ও বান্দার মাঝে। ২ অপরটি হলো, বান্দা ও বান্দার মাঝে। প্রথমটি সেসব দায়িত্ব যেগুলো বান্দার করা আবশ্যক। এটা তার নিকট আল্লাহর আমানত। সুতরাং এগুলো যথাসময়ে পালন করা বান্দার উপর ফরয। দ্বিতীয়টি হলো, সে সব আমানত যেগুলো একজন অপর জনের নিকট রাখে। যেমন- টাকা-পয়সা, গোপন কথা ইত্যাদি। এগুলোও যথাসময়ে রক্ষা করা বান্দার কর্তব্য।

এরপর তিনি ইরশাদ করেন, তোমাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত কর। হেফাজত দুই ধরনের। ১. লজ্জাস্থানকে হারাম কাজে লিপ্ত হওয়া থেকে হেফাজত করা। ২. লজ্জাস্থানকে অন্যের নজর থেকে হেফাজত করা। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, 'দৃষ্টিদানকারী এবং যার প্রতি দৃষ্টি পড়ল-তাদের উভয়ের উপর আল্লাহর লানত' (لَعَنَ اللَّهُ النَّاظِرَ وَالْمَنْظُورَ إِلَيْهِ)। সুতরাং এস্তেঞ্জা করার সময় সতর্ক থাকতে হবে, যার জন্য তার লজ্জাস্থান দর্শন জায়েয নয় এমন কারো নজর যেন সে স্থানে না পড়ে।

এরপর রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, তোমাদের দৃষ্টি অবনত রাখবে। অর্থাৎ, যে সব অঙ্গের দিকে তাকানো হারাম সে সব অঙ্গের দিকে তাকানো এবং নারীর সৌন্দর্যের দিকেও তাকাবে না ও দুনিয়ার দিকে লোভের দৃষ্টি দেবে না। যেমন আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন-

وَلَا تَمُدَّنَّ عَيْنَيْكَ إِلَى مَا مَتَّعْنَا بِهِ أَزْوَاجًا مِنْهُمْ زَهْرَةَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا لِنَفْتِنَهُمْ

অর্থ: তুমি তোমার চক্ষুদ্বয় কখনো প্রসারিত কর না তার প্রতি, যা আমি তাদের বিভিন্ন শ্রেণীকে পার্থিব জীবনের সৌন্দর্যস্বরূপ উপভোগের উপকরণ হিসাবে দিয়েছি। তা দ্বারা তাদেরকে পরীক্ষা করবার জন্য। অবশেষে রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, তোমাদের হাত সামলে রাখবে। অর্থাৎ, হারাম কোনো বস্তুর দিকে হাত বাড়াবে না।

টিকাঃ
৩৫১. মুসনাদে আহমাদ ৩৭/৪১৭; মুসতাদরাকে হাকেম ৪/৩৫৮; সহীহ ইবনে হিব্বান হাদীস-২৭১। শায়েখ শুয়াইব আরনাউত হাদীসটিকে হাসান বলেছেন।
৩৫২. সুনানে বায়হাকী ৭/৯৯; মারাসিলে আবূ দাউদ হাদীস-৪৯৮; আল কামেল লি ইবনে আদী: ১/৫৩৮। ইবনে আদী, মুল্লা আলী কারী, আজলুনী, শায়েখ বিন বায ও আলবানীসহ অনেকের মতে হাদীসটি জাল/বাতিল। (কাশফুল খফা: ২/৫৫২)।
৩৫৩. সূরা ত্বহা: আয়াত-১৩১

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 নেফাকের আলামত থেকে বেঁচে থাকা কর্তব্য

📄 নেফাকের আলামত থেকে বেঁচে থাকা কর্তব্য


হযরত হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল ﷺ-এর যুগে কেউ মিথ্যে বললে তাকে মুনাফিক গণ্য করা হতো। অথচ আমি তোমাদের মুখে অহরহ তা শুনতে পাচ্ছি। মিথ্যা বলা মুনাফিকীর আলামত। সুতরাং মুমিনের উচিত মিথ্যা না বলা এবং নিজেকে মুনাফিক হওয়া থেকে হেফাজত করা।

ফন্ট সাইজ
15px
17px