📄 অনর্থক কথা ও গান বাদ্য অন্তরে নেফাক সৃষ্টি করে
عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ أَنَّهُ قَالَ : يَقُولُ اللهُ تَعَالَى يَعْنِي يَوْমَ الْقِيَامَةِ أَيْنَ الَّذِينَ يُنَزِّهُونَ أَنْفُسَهُمْ وَأَسْمَاعَهُمْ فِي الدُّنْيَا عَنِ اللَّهْوِ وَمَزَامِيرِ الشَّيْطَانِ، اجْعَلُوهُمْ فِي رِيَاضِ الْمِسْكِ. ثُمَّ يَقُولُ لِلْمَلَائِكَةِ أَسْمِعُوهُمْ صَوْتَ حَمْدِي وَثَنَائِي، وَأَخْبِرُوهُمْ أَنْ لَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ.
হযরত মুহাম্মাদ ইবনে মুনকাদির রহ. বলেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহ বলবেন, ওই সমস্ত লোক কোথায়, যারা নিজেদেরকে গানবাদ্য এবং শয়তানের বাঁশি শোনা থেকে পবিত্র রেখেছিল? তাদেরকে মেশকের বাগানে নিয়ে যাও। অতঃপর তিনি ফেরেশতাদেরকে আদেশ করবেন, তাদের কে আমার হামদ ও নাত-সংগীত শোনাও এবং তাদের বলে দাও তাদের কোনো ভয় নেই এবং কোনো দুঃখও নেই।
হযরত শাকীক ইবনে সালামা রহ. থেকে বর্ণিত। একবার তাকে কোনো এক ওলীমার অনুষ্ঠানে দাওয়াত করা হলে তিনি উপস্থিত হয়ে দেখলেন সেখানে কয়েকজন গায়ক বসে আছে। তিনি সাথে সাথে ফিরে এলেন। তিনি বলেন, আমি হযরত ইবনে মাসউদ রাযি. কে বলতে শুনেছি, 'গানের আওয়াজ অন্তরে নেফাক সৃষ্টি করে' (إِنَّ الْغِنَاءَ يُنْبِتُ النَّفَاقَ فِي الْقَلْبِ كَمَا يُنْبِتُ الْمَاءُ الْبَقْلَ)।
টিকাঃ
৩৪১. শরহুস সুন্নাহ, বাগাবী: হাদীস-১৬৮২; আয যুহদ (আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক): পৃষ্ঠা-৪৩।
📄 মদপানকে হালাল মনে করার শাস্তি
عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ قَالَ : শَرِبَ نَفَرٌ مِنْ أَهْلِ الشَّامِ الْخَمْرَ وَعَلَيْهِمْ يَوْمَئِذٍ مُعَاوِيَةُ بْنُ أَبِي سُفْيَانَ، وَقَالُوا هِيَ لَنَا حَلَالٌ لِأَنَّ اللهَ تَعَالَى قَالَ : لَيْسَ عَلَى الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ جُنَاحٌ فِيمَا طَعِمُوا (المائدة: (৯৩) فَكَتَبَ فِيهِمْ إِلَى عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ بِذلِكَ وَكَتَبَ عُمَرُ أَنِ ابْعَثْهُمْ إِلَيَّ قَبْلَ أَنْ يَفْسُدُوا مِنْ قِبَلِكَ. فَلَمَّا قَدِمُوا عَلَى عُمَرَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ جَمَعَ لَهُمْ أَصْحَابُ رَسُولِ اللهِ ﷺ فَشَاوَرَهُمْ فِي ذَلِكَ، فَقَالُوا: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ إِنَّهُمُ افْتَرَوْا عَلَى اللَّهِ وَشَرَّعُوا فِي دِينِهِ مَا لَمْ يَأْذَنْ بِهِ اللَّهُ فَاضْرِبْ أَعْنَاقَهُمْ، وَعَلِيٌّ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ سَاكِتْ فِي الْقَوْمِ، فَقَالَ لِعَلِيَّ مَا تَرَى؟ قَالَ : أَرَى أَنْ تَسْتَتِيبَهُمْ فَإِنْ لَمْ يَتُوبُوا فَاضْرِبْ أَعْنَاقَهُمْ، وَإِنْ تَابُوا فَاضْرِبْهُمْ ثَمَانِينَ جَلْدَةً، فَاسْتَتَابَهُمْ فَتَابُوا فَضَرَبَهُمْ ثَمَانِينَ جَلْدَةً.
হযরত আব্দুর রহমান সুলামী রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত উমর রাযি.-এর যুগে একবার শামে একদল লোক মদপান করল এবং তারা বলতে লাগল, আমাদের জন্য মদপান হালাল। কারণ, আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেছেন- لَيْسَ عَلَى الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ جُنَاحٌ فِيمَا طَعِمُوا (অর্থ: যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে তাদের জন্য কোনো সমস্যা নেই তারা যা খায় তার ব্যাপারে)।
সে সময় হযরত মুআবিয়া রাযি. সেখানকার গভর্নর ছিলেন। তিনি হযরত উমর রাযি.-এর নিকট তাদের বিষয়টি লিখে পাঠালেন। তিনি সাথে সাথে উত্তর পাঠালেন, তাদেরকে আমার নিকট পাঠিয়ে দাও। তারা উপস্থিত হলে হযরত উমর অন্যান্য সাহাবায়ে কেরামকে ডেকে তাদের ব্যাপারে পরামর্শ চাইলেন। তারা বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন! তারা আল্লাহর নামে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে। তারা আল্লাহর দীনের মধ্যে এমন কিছুর অনুপ্রবেশ করিয়েছে, যার অনুমোদন তিনি দেননি। সেখানে হযরত আলী রাযি. উপস্থিত ছিলেন এবং নীরব ছিলেন। উমর রাযি. তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আলী, তোমার মতামত কী? তিনি বললেন, আমার মতে আপনি প্রথমে তাদের তাওবা করান। যদি তারা তাওবা করতে অস্বীকার করে তাহলে তাদের মৃত্যুদণ্ড দিন। আর যদি তারা তাওবা করে, তাহলে প্রত্যেককে আশি দোররা মারা হবে। তার পরামর্শ অনুসারে উমর তাদের তাওবার আদেশ দিলেন তারা তারা করল। ফলে তাদেরকে আশিটি করে দোররা মারা হলো।
হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মদপান হারাম করে আয়াত নাযিল হলে সবাই বলাবলি করতে লাগল, ইতঃপূর্বে আমাদের যে সমস্ত স্বজন মদপান করে মারা গেছে তাদের অবস্থা কী হবে? তখন এই আয়াতটি নাযিল হলো- لَيْسَ عَلَى الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ جُنَاحٌ فِيمَا طَعِمُوا (অর্থ: যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তাদের জন্য কোনো সমস্যা নেই তারা যা খায় তার ব্যাপারে)। অর্থাৎ, যারা মদ হারাম হওয়ার পূর্বে মদপান করেছে, এর জন্য তাদের কোনো গুনাহ হবে না।
টিকাঃ
৩৪২. সূরা মায়েদা: আয়াত-৯৩
৩৪৩. মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ: ৫/৫০৩; শরহু মাআনিল আসার: ৩/১৫৪।
৩৪৪. সূরা মায়েদা: আয়াত-৯০
৩৪৫. সুনানে তিরিমিযী: হাদীস-৩০৫০; সহীহ ইবনে হিব্বান ১২/১৭২; মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৭/১৭। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।