📄 মদ্যপের নামায রোযা কবূল হয় না
অপর এক হাদীসে আছে। কেউ যদি একবার মদ পান করে তাহলে চল্লিশ দিন তার নামায রোযা কবুল করা হয় না এবং অন্য কোনো আমলও না। যদি সে দ্বিতীয়বার পান করে তাহলে আশি দিন তার নামায রোযা কিছুই কবুল করা হয় না। তৃতীয়বার পান করলে একশত বিশদিন তার নামায রোযা কিছুই কবুল করা হয় না। আর যদি সে চতুর্থবার পান করে তাহলে তাকে ক্ষমা করা হবে না। আর আল্লাহ অবশ্যই তাকে জাহান্নামবাসীর পুঁজ পান করাবেন।
অপর এক হাদীসে আছে- إِنَّ الذُّنُوبَ وَالْخَطَايَا جُعِلَتْ كُلُّهَا فِي بَيْتٍ وَاحِدٍ وَجُعِلَ مِفْتَاحُهُ شُرْبَ الْخَمْرِ (সমস্ত গুনাহ ও পাপ কোনো এক ঘরে বন্ধি করে রাখা হয়েছে। সে ঘরের চাবি হলো, মদ পান)। অর্থাৎ, মদপান করা মানে নিজের জন্য যাবতীয় গুনাহ ও অপরাধের দরজা খুলে দেওয়া।
টিকাঃ
৩৩৭. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-১৮৬২; সুনানে নাসায়ী হাদীস-৫৬৬৮; মুসনাদে আহমাদ: ৮/৫১৪। হাদীসটি সহীহ।
📄 মদপান যিনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়
জনৈক সাহাবী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন- مَنْ زَوَّجَ كَرِيمَتَهُ مِنْ شَارِبِ الْخَمْرِ فَكَأَنَّمَا سَاقَهَا إِلَى الزَّنَى. অর্থাৎ, মদপায়ীর নিকট মেয়ে বিয়ে দেওয়া মানে তাকে যিনার দিকে ঠেলে দেওয়া। অর্থাৎ, মদ্যপ ব্যক্তি মাতাল হয়ে নানান কথা বলে থাকে। হতে পারে, এর মধ্যে কখনো এমন কথা বলে ফেলেছে, যার ফলে তার স্ত্রী হারাম হয়ে গেছে। কিন্তু মাতলামীর কারণে তা সে বুঝতে পারে না।
📄 মদ্যপ মূর্তিপূজক সমতুল্য
বলা হয়, মদ্যপ ব্যক্তি মূর্তিপূজক সমতুল্য। কারণ, আল্লাহ তা'আলা মদ এবং মূর্তিপূজা দুটোই রিছ বা নাপাকী বলে আখ্যায়িত করেছেন। যেমন মদ সম্পর্কে ইরশাদ হয়েছে- رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ (অর্থ: নিশ্চয় তা নাপাক এবং শয়তানের কাজ। সুতরাং তোমরা তা থেকে দূরে থাক)।
মূর্তিপূজা সম্পর্কে ইরশাদ হয়েছে- فَاجْتَنِبُوا الرِّجْسَ مِنَ الْأَوْثَانِ (অর্থ: তোমরা মূর্তির নাপাকি এড়িয়ে চল)।
টিকাঃ
৩৩৮. সূরা মায়েদা: আয়াত-৯০
৩৩৯. সূরা হজ: আয়াত-৩০
📄 কবরে মদ্যপের মুখ কেবলা থেকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ : إِنَّ مَنْ شَرِبَهَا نَهَارًا أَشْرَكَ بِاللَّهِ تَعَالَى حَتَّى يُمْسِي، وَإِنَّ مَنْ شَرِبَهَا لَيْلًا أَشْرَكَ بِاللَّهِ تَعَالَى حَتَّى يُصْبِحَ. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. বলেন, যে ব্যক্তি সকালে মদ পান করে সে সন্ধ্যা পর্যন্ত আল্লাহর সাথে শিরক করতে থাকে। আর যদি সন্ধ্যায় পান করে, তাহলে সে সকাল পর্যন্ত আল্লাহর সাথে শিরক করতে থাকে।
তিনি আরো বলেন, কোনো মদ্যপ মারা গেলে তাকে দাফন কর। তারপর আমাকে আটকে রেখে তার কবর খুড়ে দেখ। তার মুখ অবশ্যই কেবলার দিক থেকে ঘুরানো থাকবে। যদি না থাকে তাহলে আমাকে হত্যা করে ফেল।
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : أَنَّهُ قَالَ: بَعَثَنِي اللهُ تَعَالَى هُدًى وَرَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ، وَبَعَثَنِي لِأَمْحُوَ الْمَعَازِفَ وَالْمَزَامِيرَ وَأَمْرَ الْجَاهِلِيَّةِ وَالْأَوْثَانَ، وَحَلَفَ رَبِّي بِعِزَّتِهِ لَا يَشْرَبُ عَبْدُ مِنْ عَبِيدِي الْخَمْرَ فِي الدُّنْيَا إِلَّا حَرَّمْتُهَا عَلَيْهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَلَا يَتْرُكُهَا عَبْدٌ مِنْ عَبِيدِي إِلَّا سَقَيْتُهُ مِنْ حَظِيرَةِ الْقُدْسِ. হযরত আনাস ইবনে মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা'আলা আমাকে বিশ্ববাসীর জন্য হেদায়েত ও রহমত স্বরূপ পাঠিয়েছেন। তিনি আমাকে পাঠিয়েছেন বাদ্যযন্ত্র, বাঁশি, মূর্তি এবং জাহিলিয়্যাতকে মিটিয়ে দেওয়ার জন্য। আমার রব তার ইজ্জতের কসম করে বলেছেন, আমার কোনো বান্দা যদি দুনিয়াতে মদ পান করে তাহলে তাকে আমি আখেরাতে মদ পান থেকে বঞ্চিত করব। আর আমার যে বান্দা দুনিয়াতে মদপান ত্যাগ করবে তাকে আমি জান্নাতে মদ পান করাব।
হযরত আউস ইবনে সামআন রাযি. বলেন, ওই সত্ত্বার শপথ! যিনি আপনাকে সত্য দিয়ে পাঠিয়েছেন, তাওরাতে পঁচিশ জায়গায় মদপান হারাম হওয়ার কথা আমি পাই। তাতে লেখা আছে, মদ পানকারীর জন্য ধ্বংস। দুনিয়াতে আল্লাহর যে বান্দা মদ পান করবে আখেরাতে তিনি তাকে জাহান্নামবাসীদের পুঁজ পান করাবেন।
টিকাঃ
৩৪০. মুসনাদে আহমাদ ৩৬/৫৫২; মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক হাদীস-২৯৩৯; শায়েখ আরনাউত সনদটিকে অত্যন্ত জয়ীফ বলেছেন। তবে আল্লামা মুনযিরী সনদটিকে হাসান বলেছেন। (আত-তারগীব: ৩/১৮১)।