📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 মদপানের ক্ষতি

📄 মদপানের ক্ষতি


হযরত হাসান বসরী রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বান্দা যখন প্রথমবার মদপান করে তখন তার অন্তর কালো হয়ে যায়। দ্বিতীয়বার যখন মদ পান করে, তখন তার হেফাজতের দায়িত্বে থাকা ফেরেশতাগণ তার থেকে দায়মুক্ত হয়ে যায়। তৃতীয়বার যখন পান করে, তখন মালাকুল মওত তার থেকে দায়মুক্ত হয়ে যায়। চতুর্থবার যখন পান করে, তখন নবী ﷺ তার থেকে দায়মুক্ত হয়ে যান। পঞ্চমবার যখন পান করে, তখন সাহাবায়ে কেরাম তার ব্যাপারে দায়মুক্ত হয়ে যান। ষষ্ঠবার যখন পান করে, তখন তার ব্যাপারে আজরাঈল আ. দায়মুক্ত হয়ে যান। সপ্তমবার যখন পান করে, তখন ইসরাফীল আ. তার ব্যাপারে দায়মুক্ত হয়ে যান। অষ্টমবার যখন পান করে, তখন মিকাঈল আ. তার দায়মুক্তহয়ে যান। নবমবার যখন পান করে, তখন আসমানের সকল ফেরেশতারা দায়মুক্ত হয়ে যায়। দশমবার যখন পান করে, তখন জমিনের সকল ফেরেশতারা দায়মুক্ত হয়ে যান। একাদশবার যখন পান করে, তখন সমুদ্রের মাছগুলোও তার ব্যাপারে দায়মুক্ত হয়ে যান। দ্বাদশবার যখন পান করে, তখন তার ব্যাপারে চাঁদ, সূর্য দায়মুক্ত হয়ে যায়। ক্রয়োদশবার যখন পান করে, তখন আসমানের নক্ষত্ররা তার ব্যাপারে দায়মুক্ত হয়ে যায়। চতুর্থদশবার যখন পান করে, তখন সৃষ্টিকুল তার ব্যাপারে দায়মুক্ত হয়ে যায়। পঞ্চদশবার যখন পান করে, তখন তার জন্য জান্নাতের সমস্ত দরজা বন্ধ হয়ে যায়। ষষ্ঠদশবার যখন পান করে, তখন তার জন্য জাহান্নামের সমস্ত দরজা খুলে দেওয়া হয়। সপ্তদশবার যখন পান করে, তখন আরশ বহনকারী ফেরেশতাগণ তার ব্যাপারে দায়মুক্ত হয়ে যায়। অষ্ঠদশবার যখন পান করে, তখন আল্লাহর কুরসী তার ব্যাপারে দায়মুক্ত হয়ে যায়। উনবিংশবার যখন পান করে, তখন তার ব্যাপারে স্বয়ং আল্লাহ তা'আলা দায়মুক্ত হয়ে যান।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 মদ্যপের নামায কবূল হয় না

📄 মদ্যপের নামায কবূল হয় না


عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ يَزِيدَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهَا قَالَتْ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ : مَنْ شَرِبَ الْخَمْرَ فَجَعَلَهَا فِي بَطْنِهِ، لَمْ تُقْبَلْ مِنْهُ صَلَاتُهُ سَبْعًا، فَإِنْ هِيَ أَذْهَبَتْ عَقْلَهُ لَمْ تُقْبَلْ صَلَاتُهُ أَرْبَعِينَ يَوْمًا، وَإِنْ مَاتَ مَاتَ كَافِرًا وَإِنْ تَابَ تَابَ اللَّهُ عَلَيْهِ، وَإِنْ عَادَ كَانَ حَقًّا عَلَى اللهِ أَنْ يَسْقِيَهُ مِنْ طِينَةِ الْخَبَالِ يَعْنِي مِنْ صَدِيدِ أَهْلِ النَّارِ.

হযরত আছমা বিনতে ইয়াযীদ রাযি. থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, আমি রাসূল ﷺ কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি মদপান করে সাতদিন পর্যন্ত তার নামায কবূল করা হয় না। আর যদি এর ফলে সে মাতাল হয়ে যায়, তাহলে চল্লিশ দিন পর্যন্ত তার নামায কবুল করা হয় না। এই অবস্থায় যদি সে মারা যায়, তাহলে সে কাফের হয়ে মারা গেল। তবে যদি সে তাওবা করে, তাহলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিবেন। কিন্তু যদি সে পুনরায় পান করে, তাহলে আল্লাহ অবশ্যই তাকে জাহান্নামবাসীর পুঁজ পান করাবেন।

টিকাঃ
৩৩৬. সহীহ মুসলিম : হাদীস-২০০২; সুনানে আবী দাউদ : হাদীস-৩৬৮০; মুসনাদে আহমাদ ৩৫/৩৯৬; হাদীসটি সহীহ।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 মদ্যপের নামায রোযা কবূল হয় না

📄 মদ্যপের নামায রোযা কবূল হয় না


অপর এক হাদীসে আছে। কেউ যদি একবার মদ পান করে তাহলে চল্লিশ দিন তার নামায রোযা কবুল করা হয় না এবং অন্য কোনো আমলও না। যদি সে দ্বিতীয়বার পান করে তাহলে আশি দিন তার নামায রোযা কিছুই কবুল করা হয় না। তৃতীয়বার পান করলে একশত বিশদিন তার নামায রোযা কিছুই কবুল করা হয় না। আর যদি সে চতুর্থবার পান করে তাহলে তাকে ক্ষমা করা হবে না। আর আল্লাহ অবশ্যই তাকে জাহান্নামবাসীর পুঁজ পান করাবেন।

অপর এক হাদীসে আছে- إِنَّ الذُّنُوبَ وَالْخَطَايَا جُعِلَتْ كُلُّهَا فِي بَيْتٍ وَاحِدٍ وَجُعِلَ مِفْتَاحُهُ شُرْبَ الْخَمْرِ (সমস্ত গুনাহ ও পাপ কোনো এক ঘরে বন্ধি করে রাখা হয়েছে। সে ঘরের চাবি হলো, মদ পান)। অর্থাৎ, মদপান করা মানে নিজের জন্য যাবতীয় গুনাহ ও অপরাধের দরজা খুলে দেওয়া।

টিকাঃ
৩৩৭. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-১৮৬২; সুনানে নাসায়ী হাদীস-৫৬৬৮; মুসনাদে আহমাদ: ৮/৫১৪। হাদীসটি সহীহ।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 মদপান যিনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়

📄 মদপান যিনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়


জনৈক সাহাবী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন- مَنْ زَوَّجَ كَرِيمَتَهُ مِنْ شَارِبِ الْخَمْرِ فَكَأَنَّمَا سَاقَهَا إِلَى الزَّنَى. অর্থাৎ, মদপায়ীর নিকট মেয়ে বিয়ে দেওয়া মানে তাকে যিনার দিকে ঠেলে দেওয়া। অর্থাৎ, মদ্যপ ব্যক্তি মাতাল হয়ে নানান কথা বলে থাকে। হতে পারে, এর মধ্যে কখনো এমন কথা বলে ফেলেছে, যার ফলে তার স্ত্রী হারাম হয়ে গেছে। কিন্তু মাতলামীর কারণে তা সে বুঝতে পারে না।

ফন্ট সাইজ
15px
17px