📄 মদ্যপের সাথে উঠা-বসা
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهَا عَنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ أَنَّهُ قَالَ : مَنْ أَطْعَمَ شَارِبَ الْخَمْرِ لُقْمَةً، سَلَّطَ اللَّهُ عَلَى جَسَدِهِ حَيَّةً وَعَقْرَبًا، وَمَنْ قَضَى حَاجَتَهُ فَقَدْ أَعَانَ عَلَى هَدْمِ الْإِسْلَامِ، وَمَنْ أَقْرَضَهُ قَرْضًا فَقَدْ أَعَانَ عَلَى قَتْلِ مُؤْمِنٍ، وَمَنْ جَالَسَهُ حَشَرَهُ اللَّهُ تَعَالَى يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْمَى لَا حَاجَةَ لَهُ، وَمَنْ شَرِبَ الْخَمْرَ فَلَا تُزَوَّجُوهُ، فَإِنْ مَرِضَ فَلَا تَعُودُوهُ، وَإِنْ شَهِدَ فَلَا تَقْبَلُوا شَهَادَتَهُ. فَوَالَّذِي بَعَثَنِي بِالْحَقِّ نَبِيًّا إِنَّهُ مَا يَشْرَبُ الْخَمْرَ إِلَّا مَلْعُونُ فِي ٱلتَّوْرَاةِ وَٱلْإِنْجِيلِ وَٱلزَّبُورِ وَٱلْفُرْقَانِ وَمَنْ شَرِبَ ٱلْخَمْرَ فَقَدْ كَفَرَ بِجَمِيعِ مَا أُنْزِلَ عَلَىٰ أَنْبِيَائِهِ. وَلَا يَسْتَحِلُّ ٱلْخَمْرَ إِلَّا كَافِرٌ وَمَنِ ٱسْتَحَلَّ ٱلْخَمْرَ فَأَنَا مِنْهُ بَرِيءٌ فِي ٱلدُّنْيَا وَٱلْآخِرَةِ.
হযরত আয়েশা রাযি. বর্ণনা করেন, রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি মদ্যপকে এক লোকমা আহার দান করবে, আল্লাহ তার গায়ে একটি সাপ ও একটি বিচ্ছু লেলিয়ে দিবেন, যে ব্যক্তি মদ্যপের কোনো প্রয়োজন পূরণ করল, সে যেন ইসলামকে ধ্বংস করল, যে ব্যক্তি মদ্যপকে ঋণ দিলো, সে যেন মুমিনকে হত্যা করায় সহায়তা করল, যে ব্যক্তি তার সাথে উঠা বসা করে, কিয়ামতের দিন তাকে আল্লাহ তা'আলা অন্ধ অবস্থায় উঠাবেন। আর এ ব্যাপারে কোনো ওযর কবুল করা হবে না।
📄 মদ্যপের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা
যে মদপান করে তার কাছে তোমাদের মেয়েদের বিয়ে দেবে না, সে অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাবে না, সে সাক্ষ্য দিলে সাক্ষ্য গ্রহণ করবে না। সে সত্তার কসম, যিনি আমাকে নবী বানিয়ে পাঠিয়েছেন, মদ্যপকে তওরাত, ইঞ্জিল, যাবুর ও কুরআনে অভিশাপ দেওয়া হয়েছে। যে মদপান করে, সে সমস্ত নবীদের উপর যা নাযিল হয়েছে তা অস্বীকার করে। কাফের ব্যতীত কেউ মদকে হালাল মনে করতে পারে না। যে ব্যক্তি মদকে হালাল মনে করবে দুনিয়াতে ও আখেরাতে আমি তার থেকে মুক্ত।
📄 মদ্যপ কিয়ামতের দিন পিপাসিত থাকবে
হযরত আতা ইবনে ইয়াসার রহ. থেকে বর্ণিত- এক ব্যক্তি হযরত কা'ব আল-আহবারকে জিজ্ঞেস করল, তাওরাতে কি মদ্যপকে হারাম করা হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ এই আয়াতটি তাওরাতেও ছিল। তাতে আরো ছিল, আমি সত্য নাযিল করেছি তা দ্বারা বাতিলকে অপসারিত করার জন্য এবং খেল-তামাশা, ঢোল-তবলা বাঁশি এবং মদকে বাতিল করার জন্য। ধ্বংস মদ্যপের জন্য। আল্লাহ তার ইজ্জত ও জালালের কসম খেয়ে বলেন, যে ব্যক্তি এই বিধানকে অমান্য করে দুনিয়াতে মদপান করবে, আমি তাকে আখেরাতে পিপাসার্ত রাখব। আর যে ব্যক্তি এই বিধান মেনে মদপান বর্জন করবে, পরকালে আমি তাকে জান্নাতের সুপেয় শরাব পান করাব।
📄 মদপানের দশটি মন্দ স্বভাবের জন্ম হয়
ইমাম সমরকন্দী রহ. বলেন, তোমরা মদ পান থেকে বিরত থাক। কারণ, মদপানের কারণে মানুষের মধ্যে দশটি মন্দ স্বভাব জন্ম নেয়। যথা-
১. মদপানের ফলে মানুষ পাগল হয়ে যায়, বাচ্চাদের নিকট হাসি-তামাশা এবং জ্ঞানীদের নিকট তিরষ্কারের পাত্র হয়ে যায়। নেশাগ্রস্ত মানুষের কোনো হিতাহিত জ্ঞান থাকে না। যেমন ইবনে আবু দারদা থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, আমি বাগদাদের সড়কে এক মাতালকে দেখছি নিজের গায়ের উপর পেশাব করে মলছে আর এই দোয়া পাঠ করছে, اللهم اجعلني من التوابين واجعلني من المتطهرين (অর্থ: হে আল্লাহ! আমাকে তাওবাকারী ও পবিত্র বানিয়ে দাও)। কথিত আছে এক মদ্যপ রাস্তায় বমি করল। আর কুকুর তার মুখ ও দাড়ি লেহন করলে, সে বলছে, হে উস্তাদজী! আল্লাহ আপনাকে বরকত দান করুন। অতঃপর কুকুরটি তার চেহারায় পেশাব করে দেয় আর সে মাতাল অবস্থায় বলতে থাকে, আহ কি গরম! আল্লাহ আপনাকে বরকত দান করুন।
২. মদপান মস্তিষ্কবিকৃতি ঘটায় এবং সম্পদ নষ্ট করে। হযরত উমর রাযি. বলেন, মদপান সম্পর্কে আপনি তো আপনার মত আমাদের জানিয়েছেন যে, এই অভ্যাসের ফলে মস্তিষ্কবিকৃতি হয় এবং সম্পদ নষ্ট হয়।
৩. এর ফলে ভাই, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের মাঝে শত্রুতা সৃষ্টি হয়। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন- إِنَّمَا يُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَنْ يُوقِعَ بَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ فِي الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ (অর্থ: শয়তান মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের পরস্পরের মাঝে শত্রুতা ও বিদ্বেষ ছড়াতে চায়)।
৪. মদপান মানুষকে আল্লাহর যিকির ও সালাত থেকে বিরত রাখে। যেমন আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন- وَيَصُدَّكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَعَنِ الصَّلَاةِ فَهَلْ أَنْتُمْ مُنْتَهُونَ (অর্থ: তা তোমাদেরকে আল্লাহর যিকির এবং সালাত থেকে বিরত রাখে, তোমরা কি তা থেকে বিরত হবে না?) এই আয়াত নাযিল হলে হযরত উমর রাযি. বলতে লাগলেন- হে রব! আমরা বিরত হলাম।
৫. মদপান মানুষকে যিনা ব্যভিচারের দিকে নিয়ে যায়। কারণ, মদপান করে নেশাগ্রস্ত হয়ে স্ত্রীকে তালাক দিয়ে ফেলে。
৬. মদপান যাবতীয় অপকর্মের চাবি। কারণ, মদপানের ফলে মানুষ বে-পরোয়াভাবে যাবতীয় পাপে জড়িয়ে যায়।
৭. এ ধরনের ব্যক্তি তার সাথে থাকা ফেরেশতাদেরকে কষ্ট দেয়। কারণ, মদ পান করে সে গুনাহগারের মজলিসে উপস্থিত হতে এবং দুর্গন্ধ সহ্য করতে বাধ্য করে। অথচ যাকে কষ্ট দেওয়া উচিত ছিল না, তাকে কষ্ট দেয়。
৮. এর ফলে মদ্যপ নিজের উপর আশি দোররা ওয়াজিব করে। দুনিয়াতে সে এই শাস্তি থেকে বেঁচে গেলেও আখেরাতের দিন তাকে আগুনের চাবুক দিয়ে তার বাবা মা আত্মীয়স্বজন সবার সামনে আশিটি আঘাত করা হবে।
৯. এর ফলে তার জন্য আসমানের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। কারণ, মদপান করলে চল্লিশ দিন তার কোনো ইবাদত বা দোয়া আসমানে উঠানো হয় না।
১০. মদপান করে মদ্যপ নিজেকে কুফরীর মত বিপদের মুখে ঠেলে দেয়। এ তো হলো দুনিয়াবী তুচ্ছ শাস্তি। আখেরাতে তো তার জন্য আরো কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। সুতরাং বিবেকবান ব্যক্তি সামান্য উপভোগের জন্য চিরস্থায়ী আনন্দ ছাড়তে পারে না。
টিকাঃ
৩২৮. সূরা মায়েদা: আয়াত-৯১
৩২৯. সূরা মায়েদা: আয়াত-৯১