📄 কিয়ামতের দিন মদ্যপের অবস্থা
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ : قَالَ عَبْدُ اللهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا : يُجَاءُ بِشَارِبِ الْخَمْرِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مُسْوَدًّا وَجْهُهُ، مُزْرَقَةً عَيْنَاهُ، مُدْلَعًا لِسَانُهُ عَلَى صَدْرِهِ يَسِيلُ لُعَابُهُ، يَسْتَقْدِرُهُ كُلُّ مَنْ يَرَاهُ مِنْ نَتَنِ رَائِحَتِهِ. لَا تُسَلِّمُوا عَلَى شَرَبَةِ الْخَمْرِ، وَلَا تَعُودُوهُمْ إِذَا مَرِضُوا، وَلَا تُصَلُّوا عَلَيْهِمْ إِذَا مَاتُوا.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, কিয়ামতের দিন মদ্যপকে নিয়ে আসা হবে। তখন তার মুখ হবে কালো, চোখ হবে নীল, তার জিহ্বা বেরিয়ে বুকের উপর ঝুলে থাকবে, তা থেকে লালা ঝরতে থাকবে, যে তাকে দেখবে সে তার দুর্গন্ধে কুঁকড়ে যাবে। তোমরা মদ্যপকে সালাম দেবে না, সে অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাবে না এবং সে মারা গেলে তার জানাযা নামায পড়তে যাবে না।
📄 সব ধরনের মদ হারাম
হযরত মাসরুক রহ. বলেন-
شَارِبُ الْخَمْرِ كَعَابِدِ الْوَثَنِ، وَشَارِبُ الْخَمْرِ كَعَابِدِ اللَّاتَ وَالْعُزَّى
মদ্যপ মূর্তিপূজক, লাত ও উজ্জার পূজাকারীর ন্যায়। হযরত কা'আব আল-আহবার বলেন-
لَأَنْ أَشْرَبَ قَدَحًا مِنْ نَارٍ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَشْرَبَ قَدَحًا مِنْ خَمْرٍ
এক পেয়ালা আগুন পান করা আমার কাছে এক পেয়ালা মদপান করার চেয়ে অনেক শ্রেয়।
عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ أَنَّهُ قَالَ : كُلُّ مُسْكِرٍ خَمْرٌ، وَكُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ، وَمَنْ شَرِبَ الْخَمْرَ فِي الدُّنْيَا فَمَاتَ وَهُৱ يُدْمِنُهَا وَلَمْ يَتُبْ لَمْ يَشْرَبُهَا فِي الْآخِرَةِ.
হযরত ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, নেশা সৃষ্টিকারী প্রতিটি জিনিস মদ হিসাবে গণ্য। যে কোনো নেশাকর বস্তুই হারাম। যে ব্যক্তি দুনিয়াতে মদপান করবে এবং মদপানের অভ্যাস নিয়েই তাওবা না করে মারা যাবে, সে আখেরাতের মদপান থেকে বঞ্চিত হবে।
ইমাম সমরকন্দী রহ. বলেন, হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, প্রত্যেক নেশা জাতীয় বস্তুই হারাম। চাই পাকানো হোক বা না হোক।
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ أَنَّهُ قَالَ : مَا أَسْكَرَ كَثِيرُهُ فَقَلِيلُهُ حَرَامٌ.
হযরত জাবের রাযি. বর্ণনা করেন, রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, যা বেশি পান করলে নেশা হয় তার অল্পও হারাম।
অন্য এক রেওয়ায়াতে আছে, যা এক ফরক অর্থাৎ, ষোল রেতেল পান করলে নেশা হয় তার এক ঢোক পান করাও হারাম।
ইমাম সমরকন্দী রহ. বলেন, পাকানো মদপানকারীর গুনাহ সাধারণ মদপানকারী থেকে বড়। কারণ, সাধারণ মদপানকারী গুনাহগার এবং ফাসেক। কিন্তু পাকানো মদ্যপের কাফের হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। যে ব্যক্তি সাধারণ মদপান করে সে জানে যে, সে মদপান করছে এবং সে স্বীকার করে যে, গুনাহ করছে। কিন্তু যে ব্যক্তি পাকানো মদপান করে সে তা হালাল মনে করে পান করে। সুতরাং কোনো হারাম জিনিসকে হালাল মনে করার ফলে সে কাফের হয়ে যাবে।
টিকাঃ
৩২৩. সহীহ বুখারী: হাদীস-৫৫৭৫; সহীহ মুসলিম: হাদীস-২০০৩; সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-৩৬৭৯; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-১৮৬১।
৩২৪. সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-৩৬৮১; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-১৮৬৫; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-৩৩৯৩; মুসনাদে আহমাদ ২৩/৫১। হাদীসটি সহীহ (শায়েখ শুয়াইব আরনাউত)।
৩২৫. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-১৮৬৬; সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-৩৬৮৭; মুসনাদে আহমাদ ৪০/৪৯২। হাদীসটি সহীহ।
📄 মদ সকল পাপের মূল
এক খুৎবায় হযরত উসমান ইবনে আফফান রাযি. বলেন-
“হে লোক সকল! তোমরা মদপান থেকে বেঁচে থাক। কারণ, তা যাবতীয় অনিষ্টের মূল। পূর্বের কোনো জাতির এক আবেদ ছিল। সে সর্বদা মসজিদে গিয়ে নামায পড়ত। একদা এক নষ্টা নারীর সাথে তার সাক্ষাত হলো। সে তার দাসীদের লাগিয়ে লোকটিকে তার ঘরে ঢুকিয়ে দরজা বন্ধ করে দিল। মহিলার কাছে একটি শিশু বাচ্চা ছিল এবং এক পেয়ালা মদ ছিল। সে লোকটিকে বলল, তুমি হয় এক পেয়ালা মদ পান করবে অথবা আমার সাথে সহবাস করবে অথবা এই শিশুটিকে হত্যা করবে। এর যে কোনো একটি করা ছাড়া তুমি এই ঘর থেকে বের হতে পারবে না। অন্যথায় আমি চিৎকার করে বলব, এই লোকটি কু-মতলব নিয়ে আমার ঘরে ঢুকেছে। এরপর কে তোমাকে সত্যায়ন করবে? একথা শুনে আবেদ দুর্বল হয়ে পড়লো এবং বলল, আমি যিনা করতে পারব না, অন্যায় কোনো প্রাণও হত্যা করতে পারব না। তবে মদ পান করতে রাজী। এরপর সে এক পেয়ালা মদ পান করল। অতঃপর সে বলল, আরেকটু দাও। এভাবে মদ পান করতে করতে এক সময় সে মাতাল হয়ে সে নারীর সাথে সহবাসও করল এবং শিশুটিকেও হত্যা করল।
এরপর উসমান রাযি. বলেন, অতএব, তোমরা মদপান থেকে বেঁচে থাক। কারণ, মদপান হলো, সমস্ত পাপের মূল। আল্লাহর কসম! কারো অন্তরে মদ ও ঈমান একত্র হয় না। তবে যদি হয় তাহলে এর যে কোনোটি অপরটিকে তাড়িয়ে দিবে।”
অর্থাৎ, মদ্যপ যখন মাতাল থাকে তখন কী বলে, সে সম্পর্কে তার হুঁশ থাকে না। অনেক সময় তার মুখে কুফরীর কথাও চলে আসে। এভাবে তার মুখ কুফরী কালেমা উচ্চারণে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে মৃত্যুর সময় হতে পারে কুফরী কালেমা উচ্চারণে তার মুখ কুফরী কালাম উচ্চারণ করে বসতে পারে। ফলে সে কাফের হয়ে মারা যাবে এবং জাহান্নামবাসী হবে।
টিকাঃ
৩২৬. সহীহ ইবনে হিব্বান : খণ্ড-১২, পৃষ্ঠা-১৬৯; সুনানে বাইহাকী : খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা-২২৮; সুনানে দারাকুতনী: ৪/২৪৭। হাফেজ ইবনে কাসির, শায়েখ শুয়াইব আরনাউত আলবানী প্রমুখ হাদীসটিকে মাওকুফ হিসেবে সহীহ বলেছেন। তবে মারফু হিসেবে হাদীসটি জয়ীফ।
📄 চার ব্যক্তি জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না
হযরত যাহ্হাক রহ. বলেন-
مَنْ مَاتَ وَهُوَ مُدْمِنُ خَمْرٍ بُعِثَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَهُوَ سَكْرَانُ
যে ব্যক্তি মদপানে অভ্যস্ত হয়ে মারা যাবে কিয়ামতের দিন তাকে মাতাল অবস্থায় পুনরুত্থিত করা হবে।
عَنْ قَتَادَةَ قَالَ: ذُكِرَ لَنَا أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ: أَرْبَعَةٌ لَا يَجِدُونَ رِيحَ الْجَنَّةِ، وَإِنَّ رِيحَهَا لَيُوجَدُ مِنْ مَسِيرَةِ خَمْسِ مِائَةِ عَامٍ الْبَخِيلُ وَالْمَنَّانُ وَمُدْمِنُ الْخَمْرِ وَالْعَاقُ لِوَالِدَيْهِ .
হযরত কাতাদা রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা শুনেছি, রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, জান্নাতের সুঘ্রাণ পাঁচশত বছরের পথের দূরত্ব থেকে পাওয়া গেলেও চার ব্যক্তি তার সুঘ্রাণ পাবে না। যথা- ১. কৃপণ। ২. অনুগ্রহ করে খোঁটাদানকারী। ৩. মদপানে আসক্ত ব্যক্তি। ৪. এবং পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান।
টিকাঃ
৩২৭. মুসতাদরাকে হাকেম ৪/১৪৬; মুসনাদে আহমাদ: ৪/৩৯৯; শায়েখ শুয়াইব আরনাউত বলেন, হাদীসটির বিভিন্ন শাওয়াহেদ বিদ্যমান থাকায় হাসান বলে গণ্য হয়।