📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 পিতার উপর সন্তানের হক

📄 পিতার উপর সন্তানের হক


ইসলামে যেমন সন্তানের ওপর পিতা-মাতার হক রয়েছে, তেমনিভাবে পিতা-মাতার ওপরও সন্তানের অনেক গুরুত্বপূর্ণ হক বা অধিকার রয়েছে। এই দায়িত্বগুলো যথাযথভাবে পালন করা পিতা-মাতার জন্য অপরিহার্য এবং এর জন্য আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।

সন্তানের প্রতি পিতার প্রধান দায়িত্বগুলো হলো:

1. **জন্মের পর করণীয়:** সন্তান জন্মের পর তার ডান কানে আজান ও বাম কানে ইকামত দেওয়া। এটি সন্তানের কানে পৌঁছানো প্রথম তাওহিদের বাণী। [13]

2. **সুন্দর ইসলামি নাম রাখা:** সন্তানের একটি অর্থবহ ও সুন্দর ইসলামি নাম রাখা পিতার অন্যতম দায়িত্ব। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, "তোমাদের নামসমূহের মধ্যে আল্লাহর নিকট সবচেয়ে উত্তম নাম হলো আবদুল্লাহ ও আবদুর রহমান।" (সহীহ মুসলিম) [2, 13, 31]

3. **আকিকা করা:** সন্তান জন্মের সপ্তম দিনে তার পক্ষ থেকে আকিকা করা সুন্নত। ছেলের জন্য দুটি এবং মেয়ের জন্য একটি ছাগল বা ভেড়া জবাই করা মুস্তাহাব। [13, 31]

4. **দ্বীনি শিক্ষা ও উত্তম প্রতিপালন:** সন্তানকে সর্বপ্রথম তাওহিদ ও ইসলামের মৌলিক বিষয়াবলী শিক্ষা দেওয়া। [21] তাকে আদব-কায়দা, শিষ্টাচার এবং নৈতিকতা শিক্ষা দেওয়া পিতার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। রাসূল (ﷺ) বলেন, "পিতা তার সন্তানকে যা কিছু দান করে, তার মধ্যে সর্বোত্তম হলো উত্তম শিক্ষা ও আদব।" (তিরমিজি) [2]

5. **ভরণপোষণ:** সন্তানের জন্য হালাল ও উত্তম রিজিকের ব্যবস্থা করা পিতার ওপর ফরজ। এর মধ্যে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদাগুলো অন্তর্ভুক্ত। [2]

6. **সন্তানদের মধ্যে সমতা বজায় রাখা:** সব সন্তানের মধ্যে ভালোবাসা, সম্পদ বণ্টন এবং আচরণের ক্ষেত্রে সমতা ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা আবশ্যক। কাউকে অন্যের ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত নয়। [13]

7. **উপযুক্ত বয়সে বিবাহ দেওয়া:** সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক ও সামর্থ্যবান হলে তার বিবাহের ব্যবস্থা করা পিতার দায়িত্ব। এটি সন্তানকে গুনাহ থেকে বাঁচানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। [2]

পিতা যদি এই দায়িত্বগুলো পালনে অবহেলা করেন, তবে তাকে কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট জিজ্ঞাসিত হতে হবে। [18]

হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত । রাসূল ইরশাদ করেন, পিতার উপর সন্তানের তিনটি হক রয়েছে । যথা—
১. জন্মের পর সন্তানের একটি সুন্দর নাম রাখা ।
২. বুদ্ধিমান হওয়ার পর তাকে কুরআন শিক্ষা দেওয়া ।
৩. প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পর তাকে বিয়ে দেওয়া ।

টিকাঃ
২৮৭. শায়েখ নাসির উদ্দীন আলবানী রহ. হাদীসটিকে জয়ীফ বলেছেন । (জয়ীফুল জামে হাদীস-২৭৩৪ ।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়ার ঘটনা-১

📄 পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়ার ঘটনা-১


ইসলামের ইতিহাসে পিতা-মাতার অবাধ্যতার পরিণতি সম্পর্কে অনেক শিক্ষণীয় ঘটনা বর্ণিত আছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো জুরাইজ নামক একজন আবিদের ঘটনা, যিনি আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকায় মায়ের ডাকে সাড়া দেননি।

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, "দোলনায় থাকা অবস্থায় কেবল তিনজন শিশু কথা বলেছে। তাদের একজন হলো জুরাইজের ঘটনা সংশ্লিষ্ট শিশু।"

জুরাইজ বনি ইসরাইলের একজন আবিদ বা ইবাদতকারী ছিলেন। তিনি ইবাদতের জন্য একটি গির্জা বা উপাসনালয় তৈরি করে সেখানে সার্বক্ষণিক আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন থাকতেন। একদিন তিনি নামাজরত অবস্থায় ছিলেন, এমন সময় তাঁর মা এসে তাঁকে ডাকলেন, "হে জুরাইজ!" জুরাইজ মনে মনে বললেন, "হে আমার রব! আমার মা এবং আমার নামাজ, আমি কোনটিকে প্রাধান্য দেব?" তিনি নামাজের প্রতিই মনোযোগ দিলেন এবং মায়ের ডাকে সাড়া দিলেন না। তাঁর মা ফিরে গেলেন।

পরের দিন তাঁর মা আবার এসে ডাকলেন, "হে জুরাইজ!" জুরাইজ আবারও নামাজের মধ্যে থাকায় দ্বিধায় পড়ে গেলেন এবং নামাজ চালিয়ে গেলেন। তাঁর মা এবারও ফিরে গেলেন।

তৃতীয় দিনে তাঁর মা আবার এসে ডাকলেন। জুরাইজ আবারও নামাজে মগ্ন থাকায় সাড়া দিলেন না। তখন তাঁর মা হতাশ হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে বদ-দোয়া করে বললেন, "হে আল্লাহ! তুমি তাকে কোনো ব্যভিচারিণী নারীর মুখ না দেখিয়ে মৃত্যু দিয়ো না।"

পরবর্তীতে বনি ইসরাইলের লোকেরা জুরাইজের ইবাদত নিয়ে আলোচনা করত। সেই সময় এক রূপসী ব্যভিচারিণী নারী ঘোষণা দিল যে, সে চাইলে জুরাইজকে ফিতনায় ফেলতে পারে। সে জুরাইজের কাছে গিয়ে তাকে খারাপ কাজের প্রস্তাব দেয়, কিন্তু জুরাইজ তা প্রত্যাখ্যান করেন। ব্যর্থ হয়ে সেই নারী এক রাখালের সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হয় এবং গর্ভবতী হয়।

সন্তান প্রসবের পর তাকে যখন সন্তানের পিতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, তখন সে মিথ্যা করে বলে যে, এই সন্তান জুরাইজের। এই কথা শুনে এলাকার লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে জুরাইজের উপাসনালয় ভেঙে দেয়, তাকে মারধর করে এবং অপমান করে।

জুরাইজ তখন ওযু করে দুই রাকাত নামাজ আদায় করেন এবং নবজাতক শিশুটির কাছে গিয়ে তার পেটে খোঁচা দিয়ে জিজ্ঞেস করেন, "হে শিশু, তোমার পিতা কে?" শিশুটি অলৌকিকভাবে কথা বলে ওঠে এবং উত্তর দেয়, "আমার পিতা অমুক রাখাল।"

এই ঘটনা দেখে লোকেরা বিস্মিত হয় এবং তাদের ভুল বুঝতে পারে। তারা জুরাইজের কাছে ক্ষমা চায় এবং তাঁর উপাসনালয়টি সোনা-রূপা দিয়ে নতুন করে তৈরি করে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু জুরাইজ আগের মতোই মাটি দিয়ে তা পুনর্নির্মাণের অনুরোধ জানান।

এই ঘটনাটি মায়ের দোয়ার প্রভাব এবং পিতা-মাতার ডাকে সাড়া দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে। নফল ইবাদতেরত অবস্থায়ও মায়ের ডাকে সাড়া না দেওয়ায় জুরাইজকে এমন কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়েছিল, যদিও শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা তাঁকে নির্দোষ প্রমাণ করেন। (সহীহ বুখারি: ৩৪৩৬, সহীহ মুসলিম: ২৫৫০)

হযরত উমর রাযি. থেকে বর্ণিত— এক ব্যক্তি তার ছেলেকে নিয়ে তার নিকট উপস্থিত হয়ে বলল, আমার এই ছেলে আমার নাফরমানি করে । উমর রাযি. ছেলেকে লক্ষ্য করে বললেন, পিতার হকের ব্যাপারে তুমি আল্লাহকে ভয় কর না? সন্তানের উপর পিতার এই এই হক রয়েছে এবং পিতার উপরও সন্তানের এই এই হক রয়েছে । ছেলেটি বলল, পিতার উপর কি সন্তানের কোনো হক নেই? তিনি বললেন, হ্যাঁ । পিতার উপর সন্তানের হক হলো, যে কোনো নারীকে বিয়ে করে তার মা না বানানো, জন্মের পর তার সুন্দর নাম রাখা এবং তাকে কুরআন শিক্ষা দেওয়া । তখন ছেলেটি বলল, আল্লাহর কসম, তিনি এর কোনোটিই করেননি । তিনি আমার মাতা নির্বাচনে সতর্কতা অবলম্বন করেননি । চার শত দিরহাম দ্বারা ক্রয়কৃত এক সিন্ধী দাসীকে আমার মা বানিয়েছেন । আমার সুন্দর কোনো নাম রাখেননি, আমার নাম রেখেছেন 'জুউল' এবং আমাকে কুরআনের একটি আয়াতও শিক্ষা দেননি । তখন উমর রাযি. বললেন, তুমি অভিযোগ করছ যে, তোমার ছেলে তোমার হক আদায় করে না? অথচ সে তোমাকে বঞ্চিত করার পূর্বে তুমিই তো তাকে তার হক থেকে বঞ্চিত করেছো । এবার চলে যাও ।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়ার ঘটনা-২

📄 পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়ার ঘটনা-২


হযরত আলকামার ঘটনাটি মায়ের অসন্তুষ্টির ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে একটি প্রসিদ্ধ ও মর্মস্পর্শী দৃষ্টান্ত। হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে আলকামা নামে একজন যুবক সাহাবী ছিলেন, যিনি অত্যন্ত ইবাদতগুজার, দানশীল ও পরহেজগার হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

যখন তাঁর মৃত্যু ঘনিয়ে আসে, তখন তাঁর জিহ্বা কালেমা "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" পাঠ করতে অক্ষম হয়ে পড়ে। তাঁর স্ত্রী চিন্তিত হয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে খবর পাঠান। রাসূল (ﷺ) হযরত আলী, সালমান ফারসী এবং বেলাল (রা.)-কে তাঁর অবস্থা দেখতে পাঠান। তাঁরা গিয়ে দেখেন যে, আলকামা সত্যিই কালেমা পাঠ করতে পারছেন না।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সংবাদ পেয়ে জানতে চাইলেন যে, আলকামার পিতা-মাতা জীবিত আছেন কি না। জানানো হলো যে, তাঁর পিতা মৃত্যুবরণ করেছেন কিন্তু তাঁর মা জীবিত আছেন। রাসূল (ﷺ) আলকামার মাকে ডেকে পাঠালেন।

বৃদ্ধা মা লাঠিতে ভর দিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে উপস্থিত হলে তিনি আলকামার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করেন। মা বলেন, "ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার ছেলে অনেক ভালো, সে বেশি বেশি নফল নামাজ পড়ে, রোজা রাখে এবং প্রচুর দান-সদকা করে।" রাসূল (ﷺ) জিজ্ঞাসা করেন, "তাহলে আপনার সাথে তার সম্পর্ক কেমন?" উত্তরে মা বলেন, "ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি তার প্রতি অসন্তুষ্ট।" কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, "সে তার স্ত্রীকে আমার ওপর প্রাধান্য দিত এবং আমার অবাধ্যতা করত।" [22, 30]

এই কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, "মায়ের অসন্তুষ্টিই আলকামার জিহ্বাকে কালেমা পাঠ থেকে বিরত রেখেছে।" এরপর তিনি বেলাল (রা.)-কে নির্দেশ দিলেন, "অনেকগুলো কাঠ সংগ্রহ করে আগুন জ্বালাও। আমি আলকামাকে আগুনে পুড়িয়ে ফেলব।" [30]

এ কথা শুনে মায়ের মাতৃত্বের আবেগ জেগে ওঠে। তিনি চিৎকার করে বলে ওঠেন, "ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার চোখের সামনে আমার কলিজার টুকরাকে আগুনে পোড়ানো হবে, এটা আমি সহ্য করতে পারব না।" তখন রাসূল (ﷺ) বললেন, "হে আলকামার মা! আল্লাহর আযাব তো দুনিয়ার আগুনের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন। যদি আপনি চান আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন, তবে আপনি তার ওপর সন্তুষ্ট হয়ে যান। আপনার সন্তুষ্টি ছাড়া তার কোনো নামাজ, রোজা বা দান-সদকা কবুল হবে না।"

একথা শোনার পর মা সঙ্গে সঙ্গে বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! আমি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতা এবং উপস্থিত সকল মুসলমানকে সাক্ষী রেখে বলছি, আমি আমার পুত্র আলকামার প্রতি সন্তুষ্ট।" [30]

রাসূল (ﷺ) বেলাল (রা.)-কে বললেন, "যাও, দেখো আলকামার অবস্থা কী? সে কি এখন কালেমা পড়তে পারছে?" বেলাল (রা.) গিয়ে দেখেন, ঘরের ভেতর থেকে আলকামা উচ্চস্বরে কালেমা শাহাদাত পাঠ করছেন। এর কিছুক্ষণ পরই তিনি ইন্তেকাল করেন।

এই ঘটনাটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, পিতা-মাতার সন্তুষ্টি ছাড়া কোনো ইবাদতই আল্লাহর কাছে কবুল হয় না এবং তাদের অসন্তুষ্টি দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জাহানেই ধ্বংসের কারণ হতে পারে।

ইমাম সমরকন্দী রহ. বলেন, আমার বাবার মুখে শুনেছি, সমরকন্দের বিশিষ্ট আলেম হযরত আবূ হাফস বাইকান্দীর নিকট একদা এক ব্যক্তি এসে অভিযোগ করল, আমার ছেলে আমাকে প্রহার করে আহত করে ফেলেছে । একথা শুনে তিনি আশ্চর্য হয়ে বললেন, সুবহানাল্লাহ! ছেলে বাবাকে প্রহার করেছে? সে বলল, হ্যাঁ, সে আমাকে প্রহার করে আহত করে ফেলেছে । তখন তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি তাকে ইলম ও আদব শিক্ষা দিয়েছ? সে বলল, না । তাকে কুরআন শিক্ষা দিয়েছ? সে বলল, না । তিনি জিজ্ঞেস করলেন, সে কী কাজ করে । সে বলল, কৃষিকাজ । তিনি বললেন, জানো, কী জন্যে সে তোমাকে প্রহার করেছে? সে বলল, না । তিনি বললেন, হতে পারে সে যখন সকালে গাধায় চড়ে ক্ষেতে বেরিয়েছিল, তার সামনে ছিল ষাঁড়ের পাল, পিছনে কুকুরের দল । আর কুরআন তো সে জানত না তাই গাধার পিঠে সে গান গাই ছিল । তখন তুমি তার সামনে পড়লে, গরু মনে করে সে তোমাকে প্রহার করেছে । আল্লাহর শুকর আদায় কর যে, সে তোমার মাথা ফাটিয়ে দেয়নি ।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়ার একটি ঘটনা-৩

📄 পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়ার একটি ঘটনা-৩


পিতা-মাতার অবাধ্যতার শাস্তি যে কেবল পরকালেই নয়, বরং দুনিয়াতেও হতে পারে, সে বিষয়ে একটি ভয়ংকর ঘটনা বর্ণনা করেছেন সাহাবী হযরত শাহর ইবনে হাওশাব (রা.)।

তিনি বর্ণনা করেন যে, আসরের নামাজের পর তিনি এমন একজন ব্যক্তিকে দেখতে পান যার মাথাটি ছিল গাধার মতো এবং শরীর ছিল মানুষের মতো। ওই অদ্ভুত আকৃতির ব্যক্তিটি কবর থেকে বের হয়ে তিনবার গাধার মতো বিকট স্বরে চিৎকার করে এবং এরপর আবার কবরে অদৃশ্য হয়ে যায়। [32]

এই আশ্চর্যজনক ও ভীতিপ্রদ দৃশ্য দেখে তিনি এর কারণ অনুসন্ধান করতে আগ্রহী হন। তিনি ওই ব্যক্তির মায়ের কাছে গিয়ে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন। উত্তরে তার মা জানান যে, তার ছেলে জীবিত অবস্থায় মদপান করত। যখন তার মা তাকে মদপান করতে নিষেধ করতেন, তখন সে বলত, "আপনি তো গাধার মতো চিৎকার করেন।" [32]

ছেলের এই অবাধ্য আচরণ এবং মাকে অপমান করার কারণেই মৃত্যুর পর তার আকৃতি এমন বিকৃত হয়ে গেছে এবং সে প্রতিদিন কবর থেকে উঠে গাধার মতো চিৎকার করে।

এই ঘটনাটি অত্যন্ত কঠোরভাবে সতর্ক করে যে, পিতা-মাতার সাথে, বিশেষ করে মায়ের সাথে অসম্মানজনক আচরণ এবং তাদের মনে কষ্ট দেওয়ার পরিণতি কত ভয়াবহ হতে পারে। তাদের প্রতি অবাধ্যতা শুধু ইবাদত কবুল না হওয়ার কারণই নয়, বরং তা দুনিয়া ও আখিরাতে আল্লাহর কঠিন শাস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

হযরত সাবেত বুনানী রহ. বলেন, বর্ণিত আছে, এক ব্যক্তি কোথাও তার পিতাকে প্রহার করছিল, লোকজন তা দেখে ছুটে এল । তখন পিতা বললেন, তাকে ছেড়ে দাও । কারণ, আমিও এই স্থানে আমার পিতাকে প্রহার করেছিলাম । তার বদলা হিসাবে এখন আমার ছেলে সে স্থানেই আমাকে প্রহার করছে । তার কোনো দোষ নেই ।

জনৈক আরেফ বলেন— যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতার অবাধ্য হবে, তার সন্তানের কাছ থেকে সে আনন্দদায়ক কিছু পাবে না । কোনো কাজ শুরু করার সময় তার সাথে পরামর্শ করবে না । তার প্রয়োজন কখনো পূর্ণ করবে না । আর যে ব্যক্তি তার পরিবারের সাথে ভালো আচরণ করবে না, তার জীবনে কোনো সুখ থাকে না ।

ফন্ট সাইজ
15px
17px