📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 পিতা-মাতার প্রাপ্য দশটি হক

📄 পিতা-মাতার প্রাপ্য দশটি হক


ইসলামে সন্তানের ওপর পিতা-মাতার অসংখ্য অধিকার রয়েছে। আলেমগণ কুরআন ও হাদিসের আলোকে এই হক বা অধিকারগুলোকে বিভিন্নভাবে আলোচনা করেছেন। এর মধ্যে কিছু হক তাদের জীবদ্দশায় এবং কিছু হক তাদের মৃত্যুর পর পালনীয়। এখানে পিতা-মাতার ১৪টি হকের একটি তালিকা উল্লেখ করা হলো, যা দুটি ভাগে বিভক্ত: [4, 7, 18]

**জীবিত অবস্থায় পালনীয় ৭টি হক:**

1. **শ্রদ্ধা ও সম্মান করা:** সর্বদা তাদের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করা এবং তাদের মর্যাদা রক্ষা করা। [7, 18]
2. **মনে-প্রাণে ভালোবাসা:** তাদের প্রতি আন্তরিক ভালোবাসা পোষণ করা। [7, 18]
3. **আনুগত্য করা:** আল্লাহর নাফরমানি হয় না, এমন সকল বিষয়ে তাদের আদেশ-নিষেধ মেনে চলা। [7, 16, 18]
4. **সেবা-যত্ন করা:** তাদের সেবা করা এবং প্রয়োজন পূরণে সচেষ্ট থাকা। [4, 7]
5. **প্রয়োজন পূরণ করা:** তাদের আর্থিক বা অন্যান্য প্রয়োজন পূরণে এগিয়ে আসা। [7, 18]
6. **সুখ ও শান্তিতে রাখার চেষ্টা করা:** তাদের আরাম-আয়েশের প্রতি খেয়াল রাখা এবং তাদের সুখী করার জন্য সাধ্যমতো চেষ্টা করা। [7, 18]
7. **সাক্ষাৎ ও দেখাশোনা করা:** নিয়মিত তাদের সাথে দেখা করা এবং তাদের খোঁজ-খবর রাখা। [7, 18]

**মৃত্যুর পর পালনীয় ৭টি হক:**

1. **মাগফেরাতের জন্য দোয়া করা:** তাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। [4, 7]
2. **সওয়াব পৌঁছানো (ঈসালে সওয়াব):** তাদের পক্ষ থেকে দান-সদকা করা এবং অন্যান্য নেক আমলের মাধ্যমে তাদের কাছে সওয়াব পৌঁছানো। [7]
3. **তাদের বন্ধু-বান্ধবদের সম্মান করা:** পিতা-মাতার বন্ধুদের সম্মান ও মর্যাদা দেওয়া। [4, 7]
4. **তাদের আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের সাহায্য করা:** পিতা-মাতার আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের প্রয়োজনে সাহায্য-সহযোগিতা করা। [4, 7]
5. **ঋণ ও আমানত পরিশোধ করা:** তাদের কোনো ঋণ বা আমানত থাকলে তা পরিশোধ করা। [7]
6. **শরিয়তসম্মত ওসিয়ত পূর্ণ করা:** তারা কোনো বৈধ ওসিয়ত করে গেলে তা পূরণ করা। [4, 7]
7. **কবর জিয়ারত করা:** সাধ্যমতো তাদের কবর জিয়ারত করতে যাওয়া এবং তাদের জন্য দোয়া করা। [7, 18]

বলা হয়, সন্তানের উপর পিতা-মাতার দশটি হক রয়েছে । যথা—
১. ‘ইযা ইতাজ্জা ইলাত ত্বয়া-মি আত্য়ামাহু’ অর্থাৎ, তাদের কারো খাবারের প্রয়োজন হলে তাদের খাবারের ব্যবস্থা করা ।
২. ‘ইযা ইতাজ্জা ইলাল কুসওয়াতি কাসাহু’ অর্থাৎ, বস্ত্রের প্রয়োজন হলে তাদের বস্ত্রের ব্যবস্থা করা । দুনিয়াতে তাদের সাথে ভালো আচরণ কর, আল্লাহ তা'আলার এই বাণীটি রাসূল ﷺ এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, তাদের সাথে ভালো আচরণ অর্থ হলো, তারা ক্ষুধার্ত হলে আহার দান করা, বস্ত্রহীন হলে বস্ত্র দান করা ।
৩. ‘ইযা ইতাজ্জা আহাদুহুমা ইলা খিদমাতিহি খাদামাহু’ অর্থাৎ, তাদের কারো সেবার দরকার হলে সেবা করা ।
৪. ‘ইযা দাআ-হু আজা-বাহু ওয়া হাজ্বারাহু’ অর্থাৎ, তারা ডাকলে তৎক্ষণাৎ ডাকে সাড়া দেওয়া এবং উপস্থিত হওয়া ।
৫. ‘ইযা আমারা-হু বিআজরিন আত্বয়া-আহু...’ অর্থাৎ, আল্লাহ নাফরমানী বা গীবত ছাড়া অন্য কিছুর আদেশ করলে তা পালন করা ।
৬. ‘আইঁ ইয়াতাকাল্লামা মাআহু বিল্লাইয়্যিনি...’ অর্থাৎ, তাদের সাথে কোমল ভাষায় কথা বলা, কঠিন কোনো শব্দ উচ্চারণ না করা ।
৭. ‘আল্লা ইয়াদউয়াহু বিইসমিহি’ অর্থাৎ, তাদের নাম ধরে না ডাকা ।
৮. ‘আইঁ ইয়াম্শী খালফাহু’ অর্থাৎ, তাদের পিছনে হাঁটা, সামনে না হাঁটা ।
৯. ‘আইঁ ইয়ারদ্বা লাহূ মা ইয়ারদ্বা লিনাফ্সিহি...’ অর্থাৎ, নিজের জন্য যা কামনা কর তাদের জন্যও তা কামনা করা । নিজের জন্য যা অপছন্দ কর তাদের জন্যও তাই অপছন্দ করা ।
১০. ‘আইঁ ইয়াদউয়া লাহূ বিল মাগফিরাতি...’ অর্থাৎ, যখনই নিজের জন্য দোয়া করবে তখন তাদের মাগফেরাতের দোয়া করা । কুরআনে হযরত নূহ আ.-এর দোয়া এভাবে বর্ণিত হয়েছে— ‘রব্বিগ্ ফিরলী ওয়ালি ওয়া-লিদাইয়্যা’ অর্থ: হে আল্লাহ আমাকে এবং আমার পিতা-মাতাকে ক্ষমা করুন । ইব্রাহীম আ.-এর দোয়া সম্পর্কে এসেছে— ‘রব্বানাগ ফিরলী ওয়ালি ওয়া-লিদাইয়্যা ওয়ালিল মু'মিনীনা ইয়াওমা ইয়াক্বূমুল হিসা-ব’ অর্থ: হে রব! হিসাবের দিনে আমাকে আমার পিতা-মাতাকে এবং মুমিনদেরকে ক্ষমা করুন ।

টিকাঃ
২৮২. সূরা নুহ: আয়াত-২৮
২৮৩. সূরা ইবরাহীম: আয়াত-৪১-৪১

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 পিতা-মাতার জন্য দোয়া ও সদকা করা

📄 পিতা-মাতার জন্য দোয়া ও সদকা করা


পিতা-মাতার মৃত্যুর পর সন্তানের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না, বরং তা নতুন আঙ্গিকে শুরু হয়। মৃত পিতা-মাতার জন্য দোয়া ও সদকা করা সন্তানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য।

**দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা:**
সন্তানের উচিত পিতা-মাতার জন্য সর্বদা আল্লাহর কাছে দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করা। সন্তানের দোয়া আল্লাহ কবুল করেন এবং এর মাধ্যমে মৃত মা-বাবার মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা পিতা-মাতার জন্য দোয়া করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং শিখিয়ে দিয়েছেন:

**رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا**

**উচ্চারণ:** *রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বাইয়ানি সাগিরা।*
**অর্থ:** হে আমার রব! তুমি তাদের প্রতি দয়া করো, যেভাবে শৈশবে তারা আমাকে দয়াবশে প্রতিপালন করেছিলেন। (সূরা বনি ইসরাইল: ২৪) [17, 34]

হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, 'আল্লাহ তাআলা জান্নাতে নেক বান্দার মর্যাদা উন্নত করেন। তখন সে বলে, হে রব! আমার এই মর্যাদা কীভাবে হলো? আল্লাহ বলেন, তোমার জন্য তোমার সন্তানের ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে।' (মুসনাদে আহমাদ: ১০৬১৮) [17]

**সদকা করা:**
সন্তানের পক্ষ থেকে পিতা-মাতার জন্য সদকা করা একটি অত্যন্ত উত্তম আমল। এই সদকার সওয়াব সরাসরি মৃত মা-বাবার আমলনামায় পৌঁছে যায়।

হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নবী করিম (ﷺ)-কে বললেন, 'আমার মায়ের আকস্মিক মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু আমার বিশ্বাস, তিনি মৃত্যুর আগে কথা বলতে সক্ষম হলে কিছু সদকা করে যেতেন। এখন আমি তার পক্ষ থেকে সদকা করলে তিনি কি এর সওয়াব পাবেন?' তিনি বললেন, 'হ্যাঁ।' (বুখারি: ১৩৮৮) [17]

এই হাদিস থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে, মৃত পিতা-মাতার পক্ষ থেকে দান-সদকা করলে তা তাদের কাছে পৌঁছায় এবং তাদের গুনাহ মাফের কারণ হতে পারে। এই দানকে 'সদকায়ে জারিয়া' বা প্রবহমান দান বলা হয়, যা তাদের জন্য পরকালে নাজাতের ওসিলা হতে পারে। [15, 28]

জনৈক সাহাবী রাযি. থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন— ‘তারকুদ্দুআ-ই লিল ওয়া-লিদাইনি ইউদ্বয়্যিকুল আইশা আলাল ওয়ালাদি’ অর্থাৎ, পিতা-মাতার জন্য দোয়া না করলে সন্তানের জীবিকাকে সংকীর্ণ করে দেওয়া হয় ।

ফকীহ রহ. বলেন, তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, পিতা-মাতার কেউ যদি অসন্তুষ্ট হয়ে ইন্তেকাল করে, তাহলে মৃত্যুর পরও কি তাদের সন্তুষ্ট করা সম্ভব? তিনি বললেন, অবশ্যই । মৃত্যুর পর তিন উপায়ে তাদের সন্তুষ্ট করা সম্ভব । যথা— ১. ‘আইঁ ইয়াকূনাল ওয়ালাদু স-লিহান ফী নাফসিহি’ অর্থাৎ, সন্তান নিজে সৎ হয়ে যাওয়া । কারণ, সন্তান নেককার ও সৎ হওয়া পিতা-মাতার সবচেয়ে বড় নিআমত । ২. ‘আইঁ ইয়াস্বিলা ক্বরা-বাতা হুমা ওয়া আসদ্বিকা-আহুমা’ অর্থাৎ, পিতা-মাতার স্বজন ও বন্ধুদের সাথে ভালো সম্পর্ক রাখা । ৩. ‘আইঁ ইয়াস্তাগফিরা লাহূমা ওয়া ইয়াদউয়া লাহূমা ওয়া ইয়াতাসাদ্দাক্বা আন্হুমা’ অর্থাৎ, তাদের মাগফিরাতের দোয়া করা এবং তাদের নামে সদকা করা ।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 মৃত্যুর পরও যে আমল অব্যাহত থাকে

📄 মৃত্যুর পরও যে আমল অব্যাহত থাকে


মানুষের মৃত্যুর সাথে সাথে তার জাগতিক সকল কর্মকাণ্ডের সমাপ্তি ঘটে এবং আমলের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু এমন কিছু বিশেষ আমল রয়েছে, যার সওয়াব মৃত্যুর পরেও জারি থাকে। এই ধরনের আমলকে ইসলামী পরিভাষায় 'সদকায়ে জারিয়া' বা প্রবহমান দান বলা হয়।

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:
"যখন কোনো মানুষ মৃত্যুবরণ করে, তখন তার সকল আমল বন্ধ হয়ে যায়, কিন্তু তিনটি আমল ছাড়া:
১. **সদকায়ে জারিয়া** (এমন দান যার উপকারিতা চলমান থাকে)।
২. **এমন জ্ঞান যা দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়।**
৩. **এমন নেক সন্তান যে তার (পিতা-মাতার) জন্য দোয়া করে।**"
(সহীহ মুসলিম, হাদিস: ১৬৩১) [1, 6, 11]

এই হাদিসের আলোকে আলেমরা মৃত্যুর পরও সওয়াব জারি থাকে এমন কয়েকটি আমলের তালিকা করেছেন:

1. **সদকায়ে জারিয়া:** এর মধ্যে রয়েছে মসজিদ-মাদ্রাসা নির্মাণ, রাস্তা বা সেতু তৈরি করা, হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা, পানির জন্য কূপ বা নলকূপ স্থাপন করা, বৃক্ষরোপণ করা ইত্যাদি। যতদিন পর্যন্ত মানুষ বা সৃষ্টিজীব এসব থেকে উপকৃত হতে থাকবে, ততদিন পর্যন্ত মৃত ব্যক্তি এর সওয়াব পেতে থাকবেন। [1, 4, 7]

2. **উপকারী জ্ঞান প্রচার:** এমন জ্ঞান যা মানুষ শিখিয়ে যায় অথবা বই আকারে রেখে যায়। যেমন—কুরআন-হাদিস শিক্ষা দেওয়া, ধর্মীয় বা কল্যাণকর বই রচনা করা ও বিতরণ করা। যতদিন মানুষ সেই জ্ঞান দ্বারা উপকৃত হবে, ততদিন ওই ব্যক্তির আমলনামায় সওয়াব যুক্ত হতে থাকবে। [5, 9, 11]

3. **সৎ সন্তানের দোয়া:** নেক সন্তান রেখে যাওয়া, যারা পিতা-মাতার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ও দোয়া করতে থাকে। সন্তানের দোয়ার কারণে আল্লাহ মৃত পিতা-মাতার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন। [5, 6, 11]

এছাড়াও হাদিসে আরও কিছু আমলের কথা উল্লেখ রয়েছে, যেমন—কুরআন শরিফ বিতরণ করা, মুসাফিরদের জন্য সরাইখানা নির্মাণ করা, নদী বা খাল খনন করা এবং ইসলামী রাষ্ট্রের সীমান্ত পাহারা দেওয়া। [5, 8, 9] এই আমলগুলো নিশ্চিত করে যে, একজন ব্যক্তি পৃথিবী থেকে চলে যাওয়ার পরেও তার ভালো কাজের প্রতিদান পেতে থাকে।

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত— রাসূল ইরশাদ করেন, মানুষ যখন মৃত্যুবরণ করে তখন তিনটি আমল ছাড়া তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায় । ১. সদকায়ে জারিয়া । ২. তার রেখে যাওয়া ইলম, যার দ্বারা মানুষ উপকৃত হয় । ৩. নেক সন্তান, যে তার মাগফেরাতের দোয়া করে ।

নবী করীম ইরশাদ করেন— ‘লা তাক্বত্বয়া' মান কানা ইয়াস্বিলু আবা-কা...’ যে তোমার পিতার সাথে যারা ভালো সম্পর্ক রাখে, তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন কর না । কারণ, তোমার ভালোবাসা তোমার পিতার ভালোবাসার অনুরূপই ।

বনী সালামার জনৈক ব্যক্তি রাসূল-এর নিকট এসে বলল— ‘ইন্না আবাইয়্যা ক্বাদ মা-তা- ফাহাল বাক্বিয়া মিন বিররিহিমা আলাইয়্যা শাইয়্যুন?’ হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা-মাতা মারা গেছেন, তাদের সাথে সদাচারণ করার কোনো পথ আছে? রাসূল বললেন— ‘নাআম, আল ইস্তিগফারু লাহূমা ওয়া ইন্ফাযু আহদিহিমা ওয়া ইকরা-মু সাদ্বীক্বিহিমা ওয়া স্বিলাতুর রহিমি’ হ্যাঁ, আছে । তাদের জন্য মাগফেরাতের দোয়া করা, তাদের করে যাওয়া ওয়াদাগুলো পূর্ণ করা, তাদের বন্ধু বান্ধবদের সম্মান করা, তাদের সাথে সম্পর্কিত আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা ।

টিকাঃ
২৮৪. সহীহ মুসলিম: হাদীস-১৬৩১; সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-২৮৮; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-১৩৭৬ ।
২৮৫. আল আদাবুল মুফরাদ হাদীস-৪০, শুআবুল ঈমান লি-বাইহাকী ৬/২০০ ।
২৮৬. সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-৫১৪২; সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস-৩৬৬৪; মুসনাদে আহমাদ: ২৫/৪৫৭ । শায়েখ শুয়াইব আরনাউত বলেছেন, হাদীসটির সনদ জয়ীফ ।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 পিতার উপর সন্তানের হক

📄 পিতার উপর সন্তানের হক


ইসলামে যেমন সন্তানের ওপর পিতা-মাতার হক রয়েছে, তেমনিভাবে পিতা-মাতার ওপরও সন্তানের অনেক গুরুত্বপূর্ণ হক বা অধিকার রয়েছে। এই দায়িত্বগুলো যথাযথভাবে পালন করা পিতা-মাতার জন্য অপরিহার্য এবং এর জন্য আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।

সন্তানের প্রতি পিতার প্রধান দায়িত্বগুলো হলো:

1. **জন্মের পর করণীয়:** সন্তান জন্মের পর তার ডান কানে আজান ও বাম কানে ইকামত দেওয়া। এটি সন্তানের কানে পৌঁছানো প্রথম তাওহিদের বাণী। [13]

2. **সুন্দর ইসলামি নাম রাখা:** সন্তানের একটি অর্থবহ ও সুন্দর ইসলামি নাম রাখা পিতার অন্যতম দায়িত্ব। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, "তোমাদের নামসমূহের মধ্যে আল্লাহর নিকট সবচেয়ে উত্তম নাম হলো আবদুল্লাহ ও আবদুর রহমান।" (সহীহ মুসলিম) [2, 13, 31]

3. **আকিকা করা:** সন্তান জন্মের সপ্তম দিনে তার পক্ষ থেকে আকিকা করা সুন্নত। ছেলের জন্য দুটি এবং মেয়ের জন্য একটি ছাগল বা ভেড়া জবাই করা মুস্তাহাব। [13, 31]

4. **দ্বীনি শিক্ষা ও উত্তম প্রতিপালন:** সন্তানকে সর্বপ্রথম তাওহিদ ও ইসলামের মৌলিক বিষয়াবলী শিক্ষা দেওয়া। [21] তাকে আদব-কায়দা, শিষ্টাচার এবং নৈতিকতা শিক্ষা দেওয়া পিতার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। রাসূল (ﷺ) বলেন, "পিতা তার সন্তানকে যা কিছু দান করে, তার মধ্যে সর্বোত্তম হলো উত্তম শিক্ষা ও আদব।" (তিরমিজি) [2]

5. **ভরণপোষণ:** সন্তানের জন্য হালাল ও উত্তম রিজিকের ব্যবস্থা করা পিতার ওপর ফরজ। এর মধ্যে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদাগুলো অন্তর্ভুক্ত। [2]

6. **সন্তানদের মধ্যে সমতা বজায় রাখা:** সব সন্তানের মধ্যে ভালোবাসা, সম্পদ বণ্টন এবং আচরণের ক্ষেত্রে সমতা ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা আবশ্যক। কাউকে অন্যের ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত নয়। [13]

7. **উপযুক্ত বয়সে বিবাহ দেওয়া:** সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক ও সামর্থ্যবান হলে তার বিবাহের ব্যবস্থা করা পিতার দায়িত্ব। এটি সন্তানকে গুনাহ থেকে বাঁচানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। [2]

পিতা যদি এই দায়িত্বগুলো পালনে অবহেলা করেন, তবে তাকে কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট জিজ্ঞাসিত হতে হবে। [18]

হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত । রাসূল ইরশাদ করেন, পিতার উপর সন্তানের তিনটি হক রয়েছে । যথা—
১. জন্মের পর সন্তানের একটি সুন্দর নাম রাখা ।
২. বুদ্ধিমান হওয়ার পর তাকে কুরআন শিক্ষা দেওয়া ।
৩. প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পর তাকে বিয়ে দেওয়া ।

টিকাঃ
২৮৭. শায়েখ নাসির উদ্দীন আলবানী রহ. হাদীসটিকে জয়ীফ বলেছেন । (জয়ীফুল জামে হাদীস-২৭৩৪ ।

ফন্ট সাইজ
15px
17px