📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 মুমিনের গুনাহ

📄 মুমিনের গুনাহ


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : لَوْ لَمْ تُذْنِبُوا، لَأَتَى اللَّهُ بِقَوْمٍ يُذْنِبُونَ، فَيَسْتَغْفِرُونَ، فَيَغْفِرُ لَهُمْ.

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, তোমরা যদি গুনাহ না কর, তাহলে আল্লাহ এমন এক জাতি সৃষ্টি করবেন যারা গুনাহ করবে এবং ক্ষমা চাইবে আর আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করবেন। ১৫৭
ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, এ হাদীস দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, গুনাহ করলে তাওবা করার প্রতি উৎসাহিত করা। এমন নয় যে, গুনাহ করা ভালো কাজ। আল্লাহ তা'আলা বান্দার তওবায় খুশি হন, কিন্তু গুনাহে খুশি হন না।

عَنْ سُلَيْمَانَ، قَالَ: مَرَّ إِبْلِيسُ بِإِبْرَاهِيمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ، وَهُوَ يُصَلِّي، فَأَرَادَ أَنْ يَعْرِضَ لَهُ فِي صَلَاتِهِ، فَقَرَأَ إِبْرَاهِيمُ: {رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا} [آل عمران: 8] الْآيَةَ. فَقَالَ إِبْلِيسُ : لَا أُكَلِّمُكَ أَبَدًا.

হযরত সুলাইমান রহ. বলেন, ইবলীস ইবরাহীম আ.-এর নামাযের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। সে তাঁর নামায নষ্ট করার ইচ্ছা করল। তিনি তখন এই আয়াত পাঠ করলেন-
رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا
অর্থ: হে আমাদের প্রতিপালক! সরল পথ প্রদর্শনের পর তুমি আমাদের অন্তরকে সত্যলঙ্ঘনে প্রবৃত্ত করিও না। ১৫৮

তখন ইবলীস বলল, আমি আর কখনো তোমার সাথে কথা বলব না।

ٹکا:
১৫৭. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৭৪৮; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-৮২৭৪।
১৫৮. সূরা আলে ইমরান: আয়াত-৮

হযরত হাসান রহ. থেকে বর্ণিত— একদা রাসূল এক ব্যভিচারিণীকে পাথর নিক্ষেপ করে তার জানাজার নামাযের ইমামতি করলেন। সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! তাকে পাথর মেরে মারলেন আবার তার জন্য নামায পড়লেন? রাসূল ইরশাদ করলেন, সে এমন তাওবা করছে যে, সে যদি এরূপ গুনাহ সত্তর বারও করত, তাহলেও আল্লাহ তার তাওবা কবুল করতেন। অর্থাৎ, তার তাওবা ছিল প্রকৃত তাওবা। আর তাওবা যদি প্রকৃত হয়, তাহলে গুনাহ যত বড়ই হোক আল্লাহ তা ক্ষমা করে দিবেন। রাসূল বলেন— যে ব্যক্তি মুমিনের কোনো গুনাহের নিন্দা করে তাকে লজ্জা দেয়, সে উক্ত গুনাহকারীরূপে গণ্য হয়। তাকে সে পাপে লিপ্ত করা আল্লাহর কর্তব্য হয়ে যায়। কেউ যদি কোনো মুমিনকে কোনো অপরাধের জন্য নিন্দা করে তাহলে মৃত্যুর পূর্বে হলেও সে উক্ত পাপে লিপ্ত হবে এবং এটা তার লজ্জার কারণ হবে।

ইমাম সমরকন্দী রহ. বলেন, মুমিন কখনই ইচ্ছা করে গুনাহ করতে পারে না। কারণ, আল্লাহ তা'আলা মুমিনের হৃদয়ে গুনাহের ঘৃণা ছড়িয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন— ‘ওয়া কাররাহা ইলাইকুমুল কুফরা ওয়াল ফুসূক্বা ওয়াল ইসইয়ান’ অর্থ: তিনি তোমাদের নিকট কুফুর, গুনাহাচার ও নাফরমানি অপছন্দনীয় করে দিয়েছেন। সুতরাং মুমিন স্বেচ্ছায়, সজ্ঞানে গুনাহ করতে পারে না। সে গুনাহ করে অসতর্কতাবশত। অতএব, তাওবা করার পর মুমিনকে কোনোভাবেই সে গুনাহের জন্য লজ্জা দেওয়া যাবে না।

হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুমিন যখন তাওবা করে এবং আল্লাহ তার তাওবা কবুল করেন, তখন তিনি আমলনামা লিপিবদ্ধকারী ফেরেশতাদেরকে তার গুনাহের কথা ভুলিয়ে দেন। তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে ভুলিয়ে দেন, দুনিয়াতে অবস্থানের স্থানকে ভুলিয়ে দেন এবং কিয়ামতের দিন সে যে স্থানে দাঁড়াবে তাকেও সে গুনাহের কথা ভুলিয়ে দিবেন। ফলে সৃষ্টির কোনো কিছুই তার বিরুদ্ধে উক্ত গুনাহের সাক্ষি থাকবে না।

হযরত আলী ইবনে আবু তালিব রাযি. থেকে বর্ণিত— রাসূল ইরশাদ করেন, আল্লাহ পৃথিবী সৃষ্টির চার হাজার বছর পূর্ব থেকেই আরশের চারপার্শ্বে লেখা ছিল— ‘ওয়া ইন্নী লা গাফফারুল লিমান তাবা ওয়া আ-মানা ওয়া আমিলা স-লিহান ছুম্মাহ তাদা’ অর্থ: নিশ্চয় যে আমার তাওবা করে, ঈমান আনে এবং হেদায়াতপ্রাপ্ত হয়ে সৎকর্ম করে আমি তার জন্য ক্ষমাশীল।

টিকাঃ
২২৬. সুনানে আবী দাউদ : হাদীস-৪৪৪০; সুনানে তিরমিযী : হাদীস-১৪৩৫। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন。
২২৭. আহমদ ইবনে হাম্বল রহ. বলেছেন, এখানে গুনাহ বলতে সেই গুনাহ উদ্দেশ্য যা থেকে তাওবা করা হয়েছে। অর্থাৎ তাওবা করার পর কাউকে তার গুনাহ উল্লেখ করে লজ্জিত বা তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা যাবে না।
২২৮. সনদে মুহাম্মদ ইবনে হাসান আল-হামদানী নামক অত্যন্ত আপত্তিকর রাবী রয়েছে। কোনো কোনো ইমাম হাদীসটিকে জালও বলেছেন। (আল-মাওযুয়াত লি- ইবনেল জাওযী: ৩/২৭৯)।
২২৯. সূরা হুজুরাত: আয়াত-৭
২৩০. হাফেজ সুয়ূতী, মুনযিরী ও শায়েখ নাসির উদ্দীন আলবানী প্রমুখ হাদীসটিকে জয়ীফ বলেছেন। (জয়ীফুল জামে': হাদীস-৪২১)
২৩১. সূরা ত্বহা: আয়াত-৮২। মুসনাদুল ফিরদাউস, দাইলামী হাদীস নং ৬৩৭৮।

ফন্ট সাইজ
15px
17px