📄 তাওবার পদ্ধতি
عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ: خِيَارُكُمْ كُلُّ مُفَتَّنٍ تَوَّابٍ.
হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে ব্যক্তি, যে ভুল করে তওবা করে।
وَقَالَ أَبُو عِمْرَانَ الْجَوْنِيِّ: إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ اسْتَخْرَجَ ذُرِّيَّةَ آدَمَ مِنْ صُلْبِهِ أَمْثَالَ الدَّرِّ. فَقَالَ: مَنْ رَبُّكُمْ وَخَالِقُكُمْ؟ قَالُوا : أَنْتَ رَبُّنَا. فَأَخَذَ عَلَيْهِمْ بِذَلِكَ الْعَهْدَ وَالْمِيثَاقَ ثُمَّ قَالَ: يَا آدَمُ أَرَى مِنْهُمْ مُطِيعًا وَأَرَى مِنْهُمْ عَاصِيًا. قَالَ آدَمُ : يَا رَبِّ فَاجْعَلْهُمْ سَوَاءٌ. قَالَ: إِنِّي أُحِبُّ أَنْ أُشْكَرَ. قَالَ آدَمُ: يَا رَبِّ أَطَاعُوكَ. قَالَ: سَيَعْصُونَنِي. قَالَ : يَا رَبِّ إِذَا عَصَوْكَ، فَهَلْ تَقْبَلُ مِنْهُمْ؟ قَالَ: يَا آدَمُ إِنِّي أَفْرَحُ بِتَوْبَتِهِمْ، أَشَدُّ مِنْ فَرَحِهِمْ بِتَوْبَتِي لَهُمْ. يَا آدَمُ مَنْ تَابَ مِنْهُمْ فَلَمْ أَقْبَلْهُ فَلَيْسَ بِرَحِيمٍ.
আবূ ইমরান জাওনি রহ. বলেন, আল্লাহ তা'আলা আদম আ.-এর পিঠ থেকে তাঁর সন্তানদেরকে ছোট ছোট কণার আকারে বের করলেন। অতঃপর জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের রব ও স্রষ্টা কে? তারা বলল, আপনিই আমাদের রব। এভাবে তিনি তাদের থেকে প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করলেন। তারপর আল্লাহ আদম আ.-কে বললেন, এদের মধ্যে কিছু হবে আনুগত্যশীল আর কিছু হবে নাফরমান। আদম আ. বললেন, হে রব! সবাইকে সমান করে দিন। আল্লাহ তা'আলা বললেন, আমি পছন্দ করি যে, তারা আমার শোকর আদায় করবে। আদম আ. বললেন, রব! তারা কি আপনার আনুগত্য করবে? আল্লাহ বললেন, তারা আমার নাফরমানীও করবে। আদম আ. বললেন, হে রব! যখন তারা নাফরমানী করবে তখন আপনি কি তাদের তাওবা কবুল করবেন? আল্লাহ বললেন, হে আদম! আমি তাদের তওবায় তারা আমার তওবা কবুল করার চেয়েও বেশি খুশি হব। হে আদম! যদি কেউ তওবা করে আর আমি তা কবুল না করি তাহলে তো আমি আর দয়াময় থাকলাম না।
عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ: تَبْكِي السَّمَاءُ وَالْأَرْضُ مِنْ ثَلَاثَةِ: رَجُلٍ صَلَّى فِي فَلاةٍ مِنَ الْأَرْضِ لَا يَرَاهُ أَحَدٌ إِلَّا اللَّهُ تَعَالَى فَيَسْجُدُ، فَتَقُولُ الْأَرْضُ: يَا رَبِّ سَجَدَ عَلَيَّ عَبْدُكَ الْمُؤْمِنُ، وَرَجُلٌ قَامَ آخِرَ اللَّيْلِ لَا يَرَاهُ أَحَدٌ إِلَّا اللَّهُ تَعَالَى، فَيَدْعُو بِدَعَوَاتٍ، فَتَقُولُ السَّمَاءُ: يَا رَبِّ دَعَاكَ عَبْدُكَ الْمُؤْمِنُ. وَرَجُلٌ أَذْنَبَ ذَنْبًا لَا يَعْلَمُ بِهِ أَحَدٌ إِلَّا اللَّهُ تَعَالَى، فَنَدِمَ وَتَابَ فَتَبْكِي السَّمَاءُ وَالْأَرْضُ مِنْ ذَنْبِهِ.
হযরত সাঈদ ইবনে যুবাইর রাযি. বলেন, তিন ব্যক্তির জন্য আসমান ও জমিন কাঁদে-
১. যে ব্যক্তি নির্জন প্রান্তরে এমনভাবে নামায আদায় করে যে, আল্লাহ ছাড়া আর কেউ দেখে না। সে যখন সেজদা করে তখন জমিন বলে, হে আমার রব! আপনার মুমিন বান্দা আমার উপর সেজদা করেছে।
২. যে ব্যক্তি শেষরাতে উঠে এমনভাবে দোয়া করে যে, আল্লাহ ছাড়া আর কেউ দেখে না। তখন আসমান বলে, হে আমার রব! আপনার মুমিন বান্দা আপনার নিকট দোয়া করছে।
৩. যে ব্যক্তি এমন কোনো গুনাহ করেছে, যা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। অতঃপর সে অনুতপ্ত হয়ে তওবা করে। তখন আসমান ও জমিন তার গুনাহের জন্য কাঁদতে থাকে।
📄 তিনটি কাজে বিলম্ব করতে নেই
عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: يَا عَلِيُّ ثَلَاثٌ لَا تُؤَخِّرْهَا : الصَّلَاةُ إِذَا أَتَتْ، وَالْجِنَازَةُ إِذَا حَضَرَتْ، وَالْأَيِّمُ إِذَا وَجَدْتَ لَهَا كُفُؤًا.
হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, হে আলী! তিনটি কাজে দেরি করবে না-
১. নামাযের সময় হলে নামায আদায়ে।
২. জানাযা উপস্থিত হলে তা দাফন করতে।
৩. অবিবাহিতা মেয়ের জন্য উপযুক্ত পাত্র পেলে তাকে বিয়ে দিতে। ১৫৫
ٹکا:
১৫৫. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-১০৭৫; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-৮২৭। সনদ জয়ীফ।
📄 তাওবার পরিচয় ও আলামতসমূহ
ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, তাওবাতুন নাসূহা বা আন্তরিক তাওবার কয়েকটি আলামত আছে। যথা-
১. لَا يَجِدُ فِي قَلْبِهِ حَلَاوَةَ الْمَعْصِيَةِ، بَلْ يَجِدُ مَرَارَتَهَا অর্থাৎ, গুনাহের স্বাদ তার অন্তর থেকে দূর হয়ে যাবে, বরং তিক্ততা অনুভব হবে।
২. لَا يَنْزِعُ الْخَوْفَ مِنْ قَلْبِهِ أَحَدٌ অর্থাৎ, তার অন্তর থেকে ভয় দূর হবে না।
৩. لَا يَخْتَارُ أَصْحَابَ السُّوءِ، وَلَا يُجَالِسُهُمْ অর্থাৎ, অসৎ সঙ্গ গ্রহণ করবে না।
৪. لَا يُبَالِي بِالْقَلِيلِ مِنَ الرِّزْقِ، وَيَشْتَغِلُ بِالْفَرَائِضِ অর্থাৎ, অল্প রিযিকে তুষ্ট থাকবে এবং ফরজ আদায়ে ব্যস্ত থাকবে।
৫. يَشْتَغِلُ قَلْبُهُ بِأَمْرِ الْآخِرَةِ، وَلَا يَهْتَمُّ بِأَمْرِ الدُّنْيَا অর্থাৎ, আখেরাতের চিন্তায় মগ্ন থাকবে, দুনিয়ার ব্যাপারে অনাগ্রহী হবে।
৬. يُفَكِّرُ فِي ذُنُوبِهِ كَثِيرًا وَيَنْدَمُ عَلَيْهَا অর্থাৎ, নিজের গুনাহের কথা বেশি বেশি স্মরণ করবে এবং তার জন্য অনুতপ্ত হবে।
৭. يَحْفَظُ لِسَانَهُ، وَيَتَفَكَّرُ فِي نَفْسِهِ، وَيَطُولُ أَسَفَهُ وَحُزْنُهُ অর্থাৎ, নিজের জবানকে হেফাজত করবে, নিজের ব্যাপারে চিন্তা করবে এবং দুঃখ ও অনুতাপ দীর্ঘায়িত হবে।
عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّهُ سَأَلَ أُمَّ سَلَمَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، عَنْ أَكْثَرِ دُعَاءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَتْ: يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ. فَقَالَتْ: فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّكَ تُكْثِرُ مِنْ هَذَا الدُّعَاءِ. قَالَ: إِنَّهُ لَيْسَ آدَمِيٌّ إِلَّا وَقَلْبُهُ بَيْنَ إِصْبَعَيْنِ مِنْ أَصَابِعِ اللَّهِ، فَمَنْ شَاءَ أَقَامَ، وَمَنْ شَاءَ أَزَاغَ.
হযরত শাহর ইবনে হাওশাব রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি হযরত উম্মে সালামা রাযি. কে রাসূল ﷺ-এর অধিক পঠিত দোয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, তিনি এই দোয়াটি বেশি পড়তেন-
يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ
অর্থ: হে অন্তর পরিবর্তনকারী, আমার অন্তরকে আপনার দীনের উপর অটল রাখুন।
আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তো এই দোয়াটি বেশি পড়েন। তিনি বললেন, প্রত্যেক মানুষের অন্তরই আল্লাহর দু'আঙ্গুলের মাঝে থাকে, তিনি যাকে ইচ্ছা হেদায়েত দেন, আর যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন। ১৫৬
ٹکا:
১৫৬. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২১৪০; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-১২১২০; হাদীসটি সহীহ।
📄 মুমিনের গুনাহ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : لَوْ لَمْ تُذْنِبُوا، لَأَتَى اللَّهُ بِقَوْمٍ يُذْنِبُونَ، فَيَسْتَغْفِرُونَ، فَيَغْفِرُ لَهُمْ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, তোমরা যদি গুনাহ না কর, তাহলে আল্লাহ এমন এক জাতি সৃষ্টি করবেন যারা গুনাহ করবে এবং ক্ষমা চাইবে আর আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করবেন। ১৫৭
ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, এ হাদীস দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, গুনাহ করলে তাওবা করার প্রতি উৎসাহিত করা। এমন নয় যে, গুনাহ করা ভালো কাজ। আল্লাহ তা'আলা বান্দার তওবায় খুশি হন, কিন্তু গুনাহে খুশি হন না।
عَنْ سُلَيْمَانَ، قَالَ: مَرَّ إِبْلِيسُ بِإِبْرَاهِيمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ، وَهُوَ يُصَلِّي، فَأَرَادَ أَنْ يَعْرِضَ لَهُ فِي صَلَاتِهِ، فَقَرَأَ إِبْرَاهِيمُ: {رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا} [آل عمران: 8] الْآيَةَ. فَقَالَ إِبْلِيسُ : لَا أُكَلِّمُكَ أَبَدًا.
হযরত সুলাইমান রহ. বলেন, ইবলীস ইবরাহীম আ.-এর নামাযের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। সে তাঁর নামায নষ্ট করার ইচ্ছা করল। তিনি তখন এই আয়াত পাঠ করলেন-
رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا
অর্থ: হে আমাদের প্রতিপালক! সরল পথ প্রদর্শনের পর তুমি আমাদের অন্তরকে সত্যলঙ্ঘনে প্রবৃত্ত করিও না। ১৫৮
তখন ইবলীস বলল, আমি আর কখনো তোমার সাথে কথা বলব না।
ٹکا:
১৫৭. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৭৪৮; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-৮২৭৪।
১৫৮. সূরা আলে ইমরান: আয়াত-৮