📄 তাওবার পদ্ধতি
عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ: خِيَارُكُمْ كُلُّ مُفَتَّنٍ تَوَّابٍ.
হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে ব্যক্তি, যে ভুল করে তওবা করে।
وَقَالَ أَبُو عِمْرَانَ الْجَوْنِيِّ: إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ اسْتَخْرَجَ ذُرِّيَّةَ آدَمَ مِنْ صُلْبِهِ أَمْثَالَ الدَّرِّ. فَقَالَ: مَنْ رَبُّكُمْ وَخَالِقُكُمْ؟ قَالُوا : أَنْتَ رَبُّنَا. فَأَخَذَ عَلَيْهِمْ بِذَلِكَ الْعَهْدَ وَالْمِيثَاقَ ثُمَّ قَالَ: يَا آدَمُ أَرَى مِنْهُمْ مُطِيعًا وَأَرَى مِنْهُمْ عَاصِيًا. قَالَ آدَمُ : يَا رَبِّ فَاجْعَلْهُمْ سَوَاءٌ. قَالَ: إِنِّي أُحِبُّ أَنْ أُشْكَرَ. قَالَ آدَمُ: يَا رَبِّ أَطَاعُوكَ. قَالَ: سَيَعْصُونَنِي. قَالَ : يَا رَبِّ إِذَا عَصَوْكَ، فَهَلْ تَقْبَلُ مِنْهُمْ؟ قَالَ: يَا آدَمُ إِنِّي أَفْرَحُ بِتَوْبَتِهِمْ، أَشَدُّ مِنْ فَرَحِهِمْ بِتَوْبَتِي لَهُمْ. يَا آدَمُ مَنْ تَابَ مِنْهُمْ فَلَمْ أَقْبَلْهُ فَلَيْسَ بِرَحِيمٍ.
আবূ ইমরান জাওনি রহ. বলেন, আল্লাহ তা'আলা আদম আ.-এর পিঠ থেকে তাঁর সন্তানদেরকে ছোট ছোট কণার আকারে বের করলেন। অতঃপর জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের রব ও স্রষ্টা কে? তারা বলল, আপনিই আমাদের রব। এভাবে তিনি তাদের থেকে প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করলেন। তারপর আল্লাহ আদম আ.-কে বললেন, এদের মধ্যে কিছু হবে আনুগত্যশীল আর কিছু হবে নাফরমান। আদম আ. বললেন, হে রব! সবাইকে সমান করে দিন। আল্লাহ তা'আলা বললেন, আমি পছন্দ করি যে, তারা আমার শোকর আদায় করবে। আদম আ. বললেন, রব! তারা কি আপনার আনুগত্য করবে? আল্লাহ বললেন, তারা আমার নাফরমানীও করবে। আদম আ. বললেন, হে রব! যখন তারা নাফরমানী করবে তখন আপনি কি তাদের তাওবা কবুল করবেন? আল্লাহ বললেন, হে আদম! আমি তাদের তওবায় তারা আমার তওবা কবুল করার চেয়েও বেশি খুশি হব। হে আদম! যদি কেউ তওবা করে আর আমি তা কবুল না করি তাহলে তো আমি আর দয়াময় থাকলাম না।
عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ: تَبْكِي السَّمَاءُ وَالْأَرْضُ مِنْ ثَلَاثَةِ: رَجُلٍ صَلَّى فِي فَلاةٍ مِنَ الْأَرْضِ لَا يَرَاهُ أَحَدٌ إِلَّا اللَّهُ تَعَالَى فَيَسْجُدُ، فَتَقُولُ الْأَرْضُ: يَا رَبِّ سَجَدَ عَلَيَّ عَبْدُكَ الْمُؤْمِنُ، وَرَجُلٌ قَامَ آخِرَ اللَّيْلِ لَا يَرَاهُ أَحَدٌ إِلَّا اللَّهُ تَعَالَى، فَيَدْعُو بِدَعَوَاتٍ، فَتَقُولُ السَّمَاءُ: يَا رَبِّ دَعَاكَ عَبْدُكَ الْمُؤْمِنُ. وَرَجُلٌ أَذْنَبَ ذَنْبًا لَا يَعْلَمُ بِهِ أَحَدٌ إِلَّا اللَّهُ تَعَالَى، فَنَدِمَ وَتَابَ فَتَبْكِي السَّمَاءُ وَالْأَرْضُ مِنْ ذَنْبِهِ.
হযরত সাঈদ ইবনে যুবাইর রাযি. বলেন, তিন ব্যক্তির জন্য আসমান ও জমিন কাঁদে-
১. যে ব্যক্তি নির্জন প্রান্তরে এমনভাবে নামায আদায় করে যে, আল্লাহ ছাড়া আর কেউ দেখে না। সে যখন সেজদা করে তখন জমিন বলে, হে আমার রব! আপনার মুমিন বান্দা আমার উপর সেজদা করেছে।
২. যে ব্যক্তি শেষরাতে উঠে এমনভাবে দোয়া করে যে, আল্লাহ ছাড়া আর কেউ দেখে না। তখন আসমান বলে, হে আমার রব! আপনার মুমিন বান্দা আপনার নিকট দোয়া করছে।
৩. যে ব্যক্তি এমন কোনো গুনাহ করেছে, যা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। অতঃপর সে অনুতপ্ত হয়ে তওবা করে। তখন আসমান ও জমিন তার গুনাহের জন্য কাঁদতে থাকে।
ইমাম সমরকন্দী রহ. বলেন, গুনাহ দুই প্রকার। যথা—
১. সে গুনাহ, যার সম্পর্ক বান্দা ও তার রবের সাথে। কেউ যদি এমন গুনাহ করে, যার সম্পর্ক তার ও তার রবের সাথে, তাহলে তার প্রতিকার হলো, মুখে তাওবা করা, মনে অনুতপ্ত হওয়া এবং উক্ত গুনাহ পুনরায় না করার সংকল্প করা। কেউ যদি অনুরূপ আমল করে তাহলে স্থান ত্যাগ করার পূর্বেই আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিবেন। তবে কেউ যদি কোনো ফরয বিধান ত্যাগ করে, তাহলে তা আদায় করে তাওবা করার আগ পর্যন্ত তার তাওবা কবুল হবে না।
২. দ্বিতীয় প্রকার গুনাহের সম্পর্ক মানুষের সাথে। এই গুনাহের জন্য তাওবা করে লাভ নেই। যতক্ষণ না উক্ত ব্যক্তি তার উপর সন্তুষ্ট হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন না。
জনৈক তাবেঈ রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন— নিশ্চয় পাপী গুনাহ করে অনুতপ্ত হতে থাকে, আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাইতে থাকে। এভাবে এক সময় সে জান্নাতে পৌঁছে যায়। তখন শয়তান বলে, হায়! তাকে পাপে না জড়ালেই তো ভালো ছিল।
📄 তিনটি কাজে বিলম্ব করতে নেই
عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: يَا عَلِيُّ ثَلَاثٌ لَا تُؤَخِّرْهَا : الصَّلَاةُ إِذَا أَتَتْ، وَالْجِنَازَةُ إِذَا حَضَرَتْ، وَالْأَيِّمُ إِذَا وَجَدْتَ لَهَا كُفُؤًا.
হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, হে আলী! তিনটি কাজে দেরি করবে না-
১. নামাযের সময় হলে নামায আদায়ে।
২. জানাযা উপস্থিত হলে তা দাফন করতে।
৩. অবিবাহিতা মেয়ের জন্য উপযুক্ত পাত্র পেলে তাকে বিয়ে দিতে। ১৫৫
ٹکا:
১৫৫. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-১০৭৫; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-৮২৭। সনদ জয়ীফ।
হযরত আবূ বকর আল-ওয়াসেতী রহ. বলেন— ‘আত্তায়ান্নী ফী কূল্লি শাইয়্যিন হাসানুন ইল্লা ফী ছালাছি খিদ্বলিন: ইনদা ওয়াক্বতিস সালাতি, ওয়া ইনদা দাফনিল মাইয়্যিতি ওয়াত্তাওবাতি আনিল মায়সিয়াতি’ অর্থ: তিনটি বিষয় ছাড়া সর্ব ক্ষেত্রে ধীরস্থিরতা প্রশংসনীয়। ১. নামাযের সময়। ২. মৃতের দাফন। ৩. নাফরমানী হয়ে গেলে তাওবা করা।
📄 তাওবার পরিচয় ও আলামতসমূহ
ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, তাওবাতুন নাসূহা বা আন্তরিক তাওবার কয়েকটি আলামত আছে। যথা-
১. لَا يَجِدُ فِي قَلْبِهِ حَلَاوَةَ الْمَعْصِيَةِ، بَلْ يَجِدُ مَرَارَتَهَا অর্থাৎ, গুনাহের স্বাদ তার অন্তর থেকে দূর হয়ে যাবে, বরং তিক্ততা অনুভব হবে।
২. لَا يَنْزِعُ الْخَوْفَ مِنْ قَلْبِهِ أَحَدٌ অর্থাৎ, তার অন্তর থেকে ভয় দূর হবে না।
৩. لَا يَخْتَارُ أَصْحَابَ السُّوءِ، وَلَا يُجَالِسُهُمْ অর্থাৎ, অসৎ সঙ্গ গ্রহণ করবে না।
৪. لَا يُبَالِي بِالْقَلِيلِ مِنَ الرِّزْقِ، وَيَشْتَغِلُ بِالْفَرَائِضِ অর্থাৎ, অল্প রিযিকে তুষ্ট থাকবে এবং ফরজ আদায়ে ব্যস্ত থাকবে।
৫. يَشْتَغِلُ قَلْبُهُ بِأَمْرِ الْآخِرَةِ، وَلَا يَهْتَمُّ بِأَمْرِ الدُّنْيَا অর্থাৎ, আখেরাতের চিন্তায় মগ্ন থাকবে, দুনিয়ার ব্যাপারে অনাগ্রহী হবে।
৬. يُفَكِّرُ فِي ذُنُوبِهِ كَثِيرًا وَيَنْدَمُ عَلَيْهَا অর্থাৎ, নিজের গুনাহের কথা বেশি বেশি স্মরণ করবে এবং তার জন্য অনুতপ্ত হবে।
৭. يَحْفَظُ لِسَانَهُ، وَيَتَفَكَّرُ فِي نَفْسِهِ، وَيَطُولُ أَسَفَهُ وَحُزْنُهُ অর্থাৎ, নিজের জবানকে হেফাজত করবে, নিজের ব্যাপারে চিন্তা করবে এবং দুঃখ ও অনুতাপ দীর্ঘায়িত হবে।
عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّهُ سَأَلَ أُمَّ سَلَمَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، عَنْ أَكْثَرِ دُعَاءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَتْ: يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ. فَقَالَتْ: فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّكَ تُكْثِرُ مِنْ هَذَا الدُّعَاءِ. قَالَ: إِنَّهُ لَيْسَ آدَمِيٌّ إِلَّا وَقَلْبُهُ بَيْنَ إِصْبَعَيْنِ مِنْ أَصَابِعِ اللَّهِ، فَمَنْ شَاءَ أَقَامَ، وَمَنْ شَاءَ أَزَاغَ.
হযরত শাহর ইবনে হাওশাব রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি হযরত উম্মে সালামা রাযি. কে রাসূল ﷺ-এর অধিক পঠিত দোয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, তিনি এই দোয়াটি বেশি পড়তেন-
يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ
অর্থ: হে অন্তর পরিবর্তনকারী, আমার অন্তরকে আপনার দীনের উপর অটল রাখুন।
আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তো এই দোয়াটি বেশি পড়েন। তিনি বললেন, প্রত্যেক মানুষের অন্তরই আল্লাহর দু'আঙ্গুলের মাঝে থাকে, তিনি যাকে ইচ্ছা হেদায়েত দেন, আর যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন। ১৫৬
ٹکا:
১৫৬. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২১৪০; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-১২১২০; হাদীসটি সহীহ।
জনৈক আরেফ বলেন, তাওবার আলামত চারটি। যথা—
• ‘আইঁ ইউমসিকা লিসানাহু মিনাল ফুদূলি ওয়াল গীবাতী ওয়াল কাযিবি..’ অর্থাৎ, নিজের মুখকে অনর্থক কথা, গীবত এবং মিথ্যাচার থেকে বিরত রাখা।
• ‘আল্লা ইয়ারা লিআহাদিন ফী ক্বালবিহি হাসাদান ওয়ালা আদাওয়াতান..’ অর্থাৎ, মনে কারো প্রতি হিংসা বা বিদ্বেষ বোধ না রাখা।
• ‘আইঁ ইউফারি ক্বা আসহাহাবাস সূ-ই..’ অর্থাৎ, মন্দ সঙ্গীদের সঙ্গ ত্যাগ করা।
• ‘আইঁ ইয়াকূনা মুসতা’ইদ্দান লিল মাওতি না-দিমান মুস্তাগফিরান লিমা সালাফা মিন যুনূবিহি মুজতাহিদান আলা ত্বয়াতি রব্বিহি’ অর্থাৎ, অতীত গুনাহের জন্য অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং মৃত্যুর জন্য সদা প্রস্তুত থাকা。
জনৈক বিদ্বান ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করা হলো, তাওবাকারীর তাওবা কবুল হওয়ার কোনো আলামত আছে কি যার মাধ্যমে চেনা যাবে যে, তার তাওবা কবুল হয়েছে? তিনি বললেন হ্যাঁ, তাওবা কবুল এর আলামত চারটি। যথা—
• ‘আইঁ ইয়ানক্বত্বিয়া আন আসহা-বিস সূ-ই ওয়া ইউরিয়াহুম হাইবাতান মিন নাফসিহি, ওয়া ইউখা-লিতাস সলিহীন..’ অর্থাৎ, মন্দ সঙ্গীদের সঙ্গ ত্যাগ করে ভালোসঙ্গীদের সঙ্গ গ্রহণ করা।
• ‘আইঁ ইয়াকূনা মুনক্বত্বিয়ান আন কূল্লি যাম্বিন ওয়া মুক্ববিলান আলা জামীয়িত ত্বয়া-তি..’ অর্থাৎ, যাবতীয় নাফরমানী থেকে মুক্ত হয়ে ইবাদতে মনোযোগী হওয়া।
• ‘আইঁ ইয়াযহাবা ফারাজুদ্দুনইয়া কূল্লিহা মিন ক্বালবিহি, ওয়া ইয়ারা হুযনাল আ-খিরাতি কূল্লিহা দা-ইমান ফী ক্বালবিহি..’ অর্থাৎ, মন থেকে দুনিয়ার যাবতীয় আনন্দ দূর করে, সেখানে আখেরাতের চিন্তার বাসা বাঁধা।
• ‘আইঁ ইয়ারা নাফসাহু ফা-রিগান আম্মা দ্বয়ামিনাল্লা-হু তায়ালা লাহূ মিনার রিযক্বি মুশতাদ্বিলান বিমা উমিরা বিহী’ অর্থাৎ, রিযিক ইত্যাদি যার দায়িত্ব আল্লাহ নিয়েছেন, সেগুলোর ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে আল্লাহর আদিষ্ট বিধান পালনে ব্রতী হওয়া।
কারো মধ্যে যদি এই চারটি আলামত দেখা যায়, তাহলে বুঝতে হবে, সে ওই ব্যক্তিদের অন্তুর্ভুক্ত যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেছেন— ‘ইন্নাল্লা-হা ইউহিব্বুত তাউওয়া-বীনা ওয়া ইউহিব্বুল মুতাত্বোহহিরীন’ অর্থ: নিশ্চয় আল্লাহ তাওবাকারী এবং পবিত্রদেরকে পছন্দ করেন। এই ব্যক্তির ক্ষেত্রে মানুষের কর্তব্য হলো, তার সাথে চারটি আচরণ করা। ১. তাকে পছন্দ করা। কারণ, আল্লাহ স্বয়ং তাকে পছন্দ করেন। ২. তার জন্য দোয়া করা, যেন আল্লাহ তাকে তাওবার উপর অটল রাখেন। ৩. তার অতীতের গুনাহ স্মরণ করে তাকে নিন্দা না করা। ৪. তার সাথে উঠাবসা করা, তাকে সাহায্য-সহযোগিতা করা। অনুরূপ ব্যক্তিকে আল্লাহ চারটি সম্মান দ্বারা ভূষিত করেন। যথা— ১. তাকে গুনাহ থেকে এমন নিষ্পাপ করে দেন যেন সে গুনাহই করেনি। ২. আল্লাহ তাকে পছন্দ করেন। ৩. শয়তানকে তার উপর কর্তৃত্ব দেন না ও তাকে শয়তানের চক্রান্ত থেকে হেফাজত করেন। ৪. দুনিয়া ত্যাগের পূর্বেই তিনি তাকে কিয়ামতের ভয়াবহতা থেকে নিরাপত্তা দান করেন। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন— ‘তাতানামযযালু আলাইহিমুল মালা-ইকাতু আল্লা তাক্বাফূ ওয়ালা তাহ্যানূ ওয়া আবশিরূ বিল জান্নাতিল্লাতী কুনতুম তূয়াদূন’ অর্থ : তাদের উপর ফেরেশতারা নাযিল হয়ে বলবেন, তোমরা ভয় পেয়ো না, দুঃখ কর না। বরং তোমাদেরকে যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতো তার সুসংবাদ গ্রহণ কর।
হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত— তিনি বলেন, তাওবাকারীরা জান্নাতে প্রবেশ করার পর বলাবলি করবে, আমাদের রব তো বলেছিলেন, জান্নাতে যাওয়ার পূর্বে আমাদেরকে জাহান্নামের উপর দিয়ে নিবেন! তখন তাদের বলা হবে, তোমরা যখন জাহান্নাম অতিক্রম করছিলে, তখন তাকে নিস্তেজ করে দেওয়া হয়েছিল।
টিকাঃ
২২৪. সূরা বাকারা: আয়াত-২২২
২২৫. সূরা হা-মীম: আয়াত-৩০
📄 মুমিনের গুনাহ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : لَوْ لَمْ تُذْنِبُوا، لَأَتَى اللَّهُ بِقَوْمٍ يُذْنِبُونَ، فَيَسْتَغْفِرُونَ، فَيَغْفِرُ لَهُمْ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, তোমরা যদি গুনাহ না কর, তাহলে আল্লাহ এমন এক জাতি সৃষ্টি করবেন যারা গুনাহ করবে এবং ক্ষমা চাইবে আর আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করবেন। ১৫৭
ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, এ হাদীস দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, গুনাহ করলে তাওবা করার প্রতি উৎসাহিত করা। এমন নয় যে, গুনাহ করা ভালো কাজ। আল্লাহ তা'আলা বান্দার তওবায় খুশি হন, কিন্তু গুনাহে খুশি হন না।
عَنْ سُلَيْمَانَ، قَالَ: مَرَّ إِبْلِيسُ بِإِبْرَاهِيمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ، وَهُوَ يُصَلِّي، فَأَرَادَ أَنْ يَعْرِضَ لَهُ فِي صَلَاتِهِ، فَقَرَأَ إِبْرَاهِيمُ: {رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا} [آل عمران: 8] الْآيَةَ. فَقَالَ إِبْلِيسُ : لَا أُكَلِّمُكَ أَبَدًا.
হযরত সুলাইমান রহ. বলেন, ইবলীস ইবরাহীম আ.-এর নামাযের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। সে তাঁর নামায নষ্ট করার ইচ্ছা করল। তিনি তখন এই আয়াত পাঠ করলেন-
رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا
অর্থ: হে আমাদের প্রতিপালক! সরল পথ প্রদর্শনের পর তুমি আমাদের অন্তরকে সত্যলঙ্ঘনে প্রবৃত্ত করিও না। ১৫৮
তখন ইবলীস বলল, আমি আর কখনো তোমার সাথে কথা বলব না।
ٹکا:
১৫৭. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৭৪৮; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-৮২৭৪।
১৫৮. সূরা আলে ইমরান: আয়াত-৮
হযরত হাসান রহ. থেকে বর্ণিত— একদা রাসূল এক ব্যভিচারিণীকে পাথর নিক্ষেপ করে তার জানাজার নামাযের ইমামতি করলেন। সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! তাকে পাথর মেরে মারলেন আবার তার জন্য নামায পড়লেন? রাসূল ইরশাদ করলেন, সে এমন তাওবা করছে যে, সে যদি এরূপ গুনাহ সত্তর বারও করত, তাহলেও আল্লাহ তার তাওবা কবুল করতেন। অর্থাৎ, তার তাওবা ছিল প্রকৃত তাওবা। আর তাওবা যদি প্রকৃত হয়, তাহলে গুনাহ যত বড়ই হোক আল্লাহ তা ক্ষমা করে দিবেন। রাসূল বলেন— যে ব্যক্তি মুমিনের কোনো গুনাহের নিন্দা করে তাকে লজ্জা দেয়, সে উক্ত গুনাহকারীরূপে গণ্য হয়। তাকে সে পাপে লিপ্ত করা আল্লাহর কর্তব্য হয়ে যায়। কেউ যদি কোনো মুমিনকে কোনো অপরাধের জন্য নিন্দা করে তাহলে মৃত্যুর পূর্বে হলেও সে উক্ত পাপে লিপ্ত হবে এবং এটা তার লজ্জার কারণ হবে।
ইমাম সমরকন্দী রহ. বলেন, মুমিন কখনই ইচ্ছা করে গুনাহ করতে পারে না। কারণ, আল্লাহ তা'আলা মুমিনের হৃদয়ে গুনাহের ঘৃণা ছড়িয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন— ‘ওয়া কাররাহা ইলাইকুমুল কুফরা ওয়াল ফুসূক্বা ওয়াল ইসইয়ান’ অর্থ: তিনি তোমাদের নিকট কুফুর, গুনাহাচার ও নাফরমানি অপছন্দনীয় করে দিয়েছেন। সুতরাং মুমিন স্বেচ্ছায়, সজ্ঞানে গুনাহ করতে পারে না। সে গুনাহ করে অসতর্কতাবশত। অতএব, তাওবা করার পর মুমিনকে কোনোভাবেই সে গুনাহের জন্য লজ্জা দেওয়া যাবে না।
হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুমিন যখন তাওবা করে এবং আল্লাহ তার তাওবা কবুল করেন, তখন তিনি আমলনামা লিপিবদ্ধকারী ফেরেশতাদেরকে তার গুনাহের কথা ভুলিয়ে দেন। তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে ভুলিয়ে দেন, দুনিয়াতে অবস্থানের স্থানকে ভুলিয়ে দেন এবং কিয়ামতের দিন সে যে স্থানে দাঁড়াবে তাকেও সে গুনাহের কথা ভুলিয়ে দিবেন। ফলে সৃষ্টির কোনো কিছুই তার বিরুদ্ধে উক্ত গুনাহের সাক্ষি থাকবে না।
হযরত আলী ইবনে আবু তালিব রাযি. থেকে বর্ণিত— রাসূল ইরশাদ করেন, আল্লাহ পৃথিবী সৃষ্টির চার হাজার বছর পূর্ব থেকেই আরশের চারপার্শ্বে লেখা ছিল— ‘ওয়া ইন্নী লা গাফফারুল লিমান তাবা ওয়া আ-মানা ওয়া আমিলা স-লিহান ছুম্মাহ তাদা’ অর্থ: নিশ্চয় যে আমার তাওবা করে, ঈমান আনে এবং হেদায়াতপ্রাপ্ত হয়ে সৎকর্ম করে আমি তার জন্য ক্ষমাশীল।
টিকাঃ
২২৬. সুনানে আবী দাউদ : হাদীস-৪৪৪০; সুনানে তিরমিযী : হাদীস-১৪৩৫। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন。
২২৭. আহমদ ইবনে হাম্বল রহ. বলেছেন, এখানে গুনাহ বলতে সেই গুনাহ উদ্দেশ্য যা থেকে তাওবা করা হয়েছে। অর্থাৎ তাওবা করার পর কাউকে তার গুনাহ উল্লেখ করে লজ্জিত বা তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা যাবে না।
২২৮. সনদে মুহাম্মদ ইবনে হাসান আল-হামদানী নামক অত্যন্ত আপত্তিকর রাবী রয়েছে। কোনো কোনো ইমাম হাদীসটিকে জালও বলেছেন। (আল-মাওযুয়াত লি- ইবনেল জাওযী: ৩/২৭৯)।
২২৯. সূরা হুজুরাত: আয়াত-৭
২৩০. হাফেজ সুয়ূতী, মুনযিরী ও শায়েখ নাসির উদ্দীন আলবানী প্রমুখ হাদীসটিকে জয়ীফ বলেছেন। (জয়ীফুল জামে': হাদীস-৪২১)
২৩১. সূরা ত্বহা: আয়াত-৮২। মুসনাদুল ফিরদাউস, দাইলামী হাদীস নং ৬৩৭৮।