📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 সৎ ও শুদ্ধ তাওবা

📄 সৎ ও শুদ্ধ তাওবা


عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا تُوبُوا إِلَى اللَّهِ تَوْبَةً نَصُوحًا} [التحريم: 8] قَالَ: هُوَ النَّدَمُ بِالْقَلْبِ، وَالاسْتِغْفَارُ بِاللِّسَانِ، وَالْإِضْمَارُ أَنْ لَا يَعُودَ إِلَيْهِ أَبَدًا.

হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. الله তা'আলার বাণী- يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا تُوبُوا إِلَى اللَّهِ تَوْبَةً نَصُوحًا অর্থ: হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে তওবা কর, আন্তরিক তওবা। ১৫০ এর ব্যাখ্যায় বলেন, আন্তরিক তওবা হলো, অন্তরে অনুতপ্ত হওয়া, মুখে ক্ষমা চাওয়া এবং পুনরায় না করার দৃঢ় সংকল্প করা।

عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا تَابَ الْعَبْدُ مِنْ ذَنْبِهِ أَنْسَى اللَّهُ الْحَفَظَةَ ذَنْبَهُ، وَأَنْسَى ذَلِكَ جَوَارِحَهُ، وَمَعَالِمَهُ مِنَ الْأَرْضِ، حَتَّى يَلْقَى اللَّهَ وَلَيْسَ عَلَيْهِ شَاهِدٌ مِنَ اللَّهِ بِذَنْبٍ.

সাঈদ ইবনে যুবাইর রহ. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, বান্দা যখন তাওবা করে, তখন আল্লাহ তা'আলা তার আমল লেখক ফেরেশতাদেরকে তার গুনাহ ভুলিয়ে দেন, তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে ভুলিয়ে দেন এবং জমিনের চিহ্নগুলোকেও ভুলিয়ে দেন। যাতে সে যখন আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে তখন তার বিরুদ্ধে আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো সাক্ষী না থাকে। ১৫১

টিকাঃ
১৫০. সূরা তাহরীম: আয়াত-৮
১৫১. আল-মুজামুল কাবীর লিত্ ত্ববারানী: ২/১২৯; হাদীসটি জাল [সিলসিলাতুয যায়ীফাহ, আলবানী: ২১১৪]।

ইমাম সমরকন্দী রহ. বলেন, জ্ঞানীদের উচিত এ ঘটনা থেকে শিক্ষাগ্রহণ করা। জীবিত নারীর সাথে ব্যভিচার মৃত নারীর সাথে ব্যভিচার থেকে জঘন্য। সুতরাং এই গুনাহের সাথে জড়িতদের উচিত আল্লাহর নিকট প্রকৃত তাওবা করা। কারণ, উক্ত যুবক প্রকৃত মনে আল্লাহর নিকট তাওবা করেছে বলেই তিনি তাকে ক্ষমা করেছেন। গুনাহের পরিমাণ হিসাবে তাওবা হওয়া উচিত। হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, আল্লাহ তা'আলা বলেছেন— ‘ইয়া আইয়্যুহাল্লাযীনা আ-মানূ তূবূ ইলাল্লা-হি তাওবাতান নাসূহান’ অর্থ: হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর নিকট প্রকৃত তাওবা কর।

টিকাঃ
২২২. সূরা তাহরিম: আয়াত-৮

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 প্রকৃত তাওবার স্বরূপ

📄 প্রকৃত তাওবার স্বরূপ


عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ، أَنَّهُ قَالَ: التَّوْبَةُ النَّصُوحُ أَنْ تُبْغِضَ الذَّنْبَ، كَمَا أَحْبَبْتَهُ، وَتَسْتَغْفِرَ مِنْهُ إِذَا ذَكَرْتَهُ.

হযরত হাসান বসরী রহ. বলেন, তাওবাতুন নাসূহা বা আন্তরিক তাওবা হলো, গুনাহকে এমনভাবে ঘৃণা করা যেমনভাবে তাকে ভালোবাসতে এবং যখনই তার কথা মনে পড়বে তখনই ইস্তিগফার করা।

عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: مَا أَصَرَّ مَنِ اسْتَغْفَرَ، وَإِنْ عَادَ فِي الْيَوْمِ سَبْعِينَ مَرَّةً.

হযরত আবূ বকর সিদ্দীক রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি দিনে সত্তর বার ইস্তিগফার করে সে বারবার গুনাহকারী নয়। ১৫২

عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: لِلَّهُ أَفْرَحُ بِتَوْبَةِ عَبْدِهِ مِنْ أَحَدِكُمْ سَقَطَ عَلَى بَعِيرِهِ، وَقَدْ أَضَلَّهُ فِي أَرْضِ فَلَاةٍ.

হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, তোমাদের কেউ যদি মরুভূমিতে তার উট হারিয়ে ফেলার পর আবার খুঁজে পায় তাহলে সে যেমন খুশি হয়, আল্লাহ তা'আলা তার বান্দার তওবার কারণে তার চেয়েও বেশি খুশি হন। ১৫৩

টিকাঃ
১৫২. সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-১৫১৪; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-৩৫৫৯; হাদীসটির সনদ দুর্বল।
১৫৩. সহীহ বুখারী: হাদীস-৬৩০৯; সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৭৪৭।

প্রকৃত তাওবা হলো— ‘আত্তাওবাতুন নাসূহু আন্নদামু বিল ক্বালবি, ওয়াল ইস্তিগফারু বিল লিসানি, ওয়াল ইদ্বমারু আল্লা ইয়াউদা ইলাইহি’ অর্থাৎ মনে মনে অনুতপ্ত হওয়া, মুখে ইস্তিগফার করা, বাহ্যিকভাবে গুনাহের কাজটি বর্জন করা এবং উক্ত গুনাহ না করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করা।

রাসূল থেকে বর্ণিত— পাপে লিপ্ত থেকে মুখে তাওবাকারী আপন রবের সাথে উপহাসকারীর ন্যায়। হযরত রাবেয়া বসরী রহ. বলেন— আমাদের ইস্তেগফারের জন্য আরও ইস্তিগফার করা দরকার। অর্থাৎ, যখন মুখে মুখে ইসতেগফার করা হয় আর মনে মনে গুনাহে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা থাকে, তাহলে এটা মিথ্যাবাদীদের তাওবার মতো। এটা তাওবা হয়নি। বরং প্রকৃত তাওবা হলো, মুখে ক্ষমা প্রার্থনা করা, উক্ত গুনাহ ছেড়ে দেওয়া এবং মনে-মনে পুনরায় না করার দৃঢ় সংকল্প করা। এভাবে তাওবা করলে গুনাহ যত বড়ই হোক না কেন, আল্লাহ তা'আলা ক্ষমা করে দিবেন। কারণ, আল্লাহ তা'আলা তাঁর বান্দাদের প্রতি ক্ষমাশীল ও দয়ালু।

টিকাঃ
২২৩. কিতাবুত তাওবা, ইবনে আবিদ্দুনইয়া (৮৫)।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 গুনাহ দেখে আল্লাহ ক্রোধান্বিত হন না

📄 গুনাহ দেখে আল্লাহ ক্রোধান্বিত হন না


عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ : لَا يَغْضَبُ اللَّهُ تَعَالَى لِذُنُوبِكُمْ وَعِنْدَكُمْ مَا يُطْفِئُهَا قَالُوا : وَمَا هُوَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ؟ قَالَ: الاسْتِغْفَارُ.
হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তোমাদের গুনাহের জন্য রাগান্বিত হবেন না। কারণ, তোমাদের নিকট তো তা নিভিয়ে ফেলার মতো জিনিস রয়েছে। লোকেরা বলল, হে আমীরুল মুমিনীন! তা কী? তিনি বললেন, ইস্তিগফার।
عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: مَنْ أَحْدَثَ ذَنْبًا لَمْ يَكُنْ عَمِلَهُ قَبْلَ ذَلِكَ فَأَحْدَثَ عِنْدَ ذَلِكَ وُضُوءًا وَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ اسْتَغْفَرَ اللَّهَ مِنْ ذَلِكَ الذَّنْبِ الصَّغِيرِ أَوِ الْكَبِيرِ، غَفَرَ اللَّهُ لَهُ.

হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি পূর্বে করেনি এমন কোনো গুনাহ করে ফেলে, অতঃপর উযু করে দু'রাকাত নামায আদায় করে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন। সে গুনাহ ছোট হোক বা বড়। ১৫৪

টিকাঃ
১৫৪. আল-মুজামুল আওসাত: হাদীস-৪০১; ইমাম সুয়ূতী বলেন, এর সনদে অজ্ঞাত রাবী রয়েছে। [আয-যাইল আলাল লাআলী: ২/৭৮৮]

কথিত আছে যে, একবার বনী ইসরাইলের এক বাদশার নিকট জনৈক আবেদের খুব প্রশংসা করা হলে তিনি তাকে ডেকে পাঠালেন। বাদশাহ তার নিকট থেকে যাওয়ার জন্য তাকে অনেক অনুরোধ করলেন। দরবেশ তার দরজায় থেকে গেলেন। একদিন দরবেশ বললেন, বাদশাহ! আমার সাথে আপনি তো খুবই মধুর কথাই বলেন। কিন্তু কোনো দিন যদি আপনি আপনার অন্দরমহলে ঢুকে দেখেন যে, আমি আপনার দাসীদের সাথে ফুর্তি করছি তখন আপনি কী করবেন? বাদশাহ ভীষণ ক্রুদ্ধ হয়ে বললেন, আরে বদকার কোথাকার! তোর এত বড় দুঃসাহস!! আমার সাথে এই সব আজে-বাজে কথা বলছিস?

তখন দরবেশ বললেন, আমার এক দয়ালু মালিক আছেন, তিনি আমাকে দিনে সত্তর বার গুনাহ করতে দেখলেও রাগ করেন না, তার দুয়ার থেকে তাড়িয়ে দেন না, আমার খানাদানা বন্ধ করে দেন না। সুতরাং কিভাবে আমি তার দরবার ছেড়ে এমন একজনের দরবারে থাকব, যে অপরাধ করার সংকল্প শুনেই আমার উপর রেগে যাচ্ছে। আর অপরাধ করলে না জানি কী করবেন। একথা বলে দরবেশ সেখান থেকে উঠে এলেন।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 তাওবার পদ্ধতি

📄 তাওবার পদ্ধতি


عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ: خِيَارُكُمْ كُلُّ مُفَتَّنٍ تَوَّابٍ.

হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে ব্যক্তি, যে ভুল করে তওবা করে।

وَقَالَ أَبُو عِمْرَانَ الْجَوْنِيِّ: إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ اسْتَخْرَجَ ذُرِّيَّةَ آدَمَ مِنْ صُلْبِهِ أَمْثَالَ الدَّرِّ. فَقَالَ: مَنْ رَبُّكُمْ وَخَالِقُكُمْ؟ قَالُوا : أَنْتَ رَبُّنَا. فَأَخَذَ عَلَيْهِمْ بِذَلِكَ الْعَهْدَ وَالْمِيثَاقَ ثُمَّ قَالَ: يَا آدَمُ أَرَى مِنْهُمْ مُطِيعًا وَأَرَى مِنْهُمْ عَاصِيًا. قَالَ آدَمُ : يَا رَبِّ فَاجْعَلْهُمْ سَوَاءٌ. قَالَ: إِنِّي أُحِبُّ أَنْ أُشْكَرَ. قَالَ آدَمُ: يَا رَبِّ أَطَاعُوكَ. قَالَ: سَيَعْصُونَنِي. قَالَ : يَا رَبِّ إِذَا عَصَوْكَ، فَهَلْ تَقْبَلُ مِنْهُمْ؟ قَالَ: يَا آدَمُ إِنِّي أَفْرَحُ بِتَوْبَتِهِمْ، أَشَدُّ مِنْ فَرَحِهِمْ بِتَوْبَتِي لَهُمْ. يَا آدَمُ مَنْ تَابَ مِنْهُمْ فَلَمْ أَقْبَلْهُ فَلَيْسَ بِرَحِيمٍ.

আবূ ইমরান জাওনি রহ. বলেন, আল্লাহ তা'আলা আদম আ.-এর পিঠ থেকে তাঁর সন্তানদেরকে ছোট ছোট কণার আকারে বের করলেন। অতঃপর জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের রব ও স্রষ্টা কে? তারা বলল, আপনিই আমাদের রব। এভাবে তিনি তাদের থেকে প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করলেন। তারপর আল্লাহ আদম আ.-কে বললেন, এদের মধ্যে কিছু হবে আনুগত্যশীল আর কিছু হবে নাফরমান। আদম আ. বললেন, হে রব! সবাইকে সমান করে দিন। আল্লাহ তা'আলা বললেন, আমি পছন্দ করি যে, তারা আমার শোকর আদায় করবে। আদম আ. বললেন, রব! তারা কি আপনার আনুগত্য করবে? আল্লাহ বললেন, তারা আমার নাফরমানীও করবে। আদম আ. বললেন, হে রব! যখন তারা নাফরমানী করবে তখন আপনি কি তাদের তাওবা কবুল করবেন? আল্লাহ বললেন, হে আদম! আমি তাদের তওবায় তারা আমার তওবা কবুল করার চেয়েও বেশি খুশি হব। হে আদম! যদি কেউ তওবা করে আর আমি তা কবুল না করি তাহলে তো আমি আর দয়াময় থাকলাম না।

عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ: تَبْكِي السَّمَاءُ وَالْأَرْضُ مِنْ ثَلَاثَةِ: رَجُلٍ صَلَّى فِي فَلاةٍ مِنَ الْأَرْضِ لَا يَرَاهُ أَحَدٌ إِلَّا اللَّهُ تَعَالَى فَيَسْجُدُ، فَتَقُولُ الْأَرْضُ: يَا رَبِّ سَجَدَ عَلَيَّ عَبْدُكَ الْمُؤْمِنُ، وَرَجُلٌ قَامَ آخِرَ اللَّيْلِ لَا يَرَاهُ أَحَدٌ إِلَّا اللَّهُ تَعَالَى، فَيَدْعُو بِدَعَوَاتٍ، فَتَقُولُ السَّمَاءُ: يَا رَبِّ دَعَاكَ عَبْدُكَ الْمُؤْمِنُ. وَرَجُلٌ أَذْنَبَ ذَنْبًا لَا يَعْلَمُ بِهِ أَحَدٌ إِلَّا اللَّهُ تَعَالَى، فَنَدِمَ وَتَابَ فَتَبْكِي السَّمَاءُ وَالْأَرْضُ مِنْ ذَنْبِهِ.

হযরত সাঈদ ইবনে যুবাইর রাযি. বলেন, তিন ব্যক্তির জন্য আসমান ও জমিন কাঁদে-
১. যে ব্যক্তি নির্জন প্রান্তরে এমনভাবে নামায আদায় করে যে, আল্লাহ ছাড়া আর কেউ দেখে না। সে যখন সেজদা করে তখন জমিন বলে, হে আমার রব! আপনার মুমিন বান্দা আমার উপর সেজদা করেছে।
২. যে ব্যক্তি শেষরাতে উঠে এমনভাবে দোয়া করে যে, আল্লাহ ছাড়া আর কেউ দেখে না। তখন আসমান বলে, হে আমার রব! আপনার মুমিন বান্দা আপনার নিকট দোয়া করছে।
৩. যে ব্যক্তি এমন কোনো গুনাহ করেছে, যা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। অতঃপর সে অনুতপ্ত হয়ে তওবা করে। তখন আসমান ও জমিন তার গুনাহের জন্য কাঁদতে থাকে।

ইমাম সমরকন্দী রহ. বলেন, গুনাহ দুই প্রকার। যথা—
১. সে গুনাহ, যার সম্পর্ক বান্দা ও তার রবের সাথে। কেউ যদি এমন গুনাহ করে, যার সম্পর্ক তার ও তার রবের সাথে, তাহলে তার প্রতিকার হলো, মুখে তাওবা করা, মনে অনুতপ্ত হওয়া এবং উক্ত গুনাহ পুনরায় না করার সংকল্প করা। কেউ যদি অনুরূপ আমল করে তাহলে স্থান ত্যাগ করার পূর্বেই আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিবেন। তবে কেউ যদি কোনো ফরয বিধান ত্যাগ করে, তাহলে তা আদায় করে তাওবা করার আগ পর্যন্ত তার তাওবা কবুল হবে না।
২. দ্বিতীয় প্রকার গুনাহের সম্পর্ক মানুষের সাথে। এই গুনাহের জন্য তাওবা করে লাভ নেই। যতক্ষণ না উক্ত ব্যক্তি তার উপর সন্তুষ্ট হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন না。

জনৈক তাবেঈ রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন— নিশ্চয় পাপী গুনাহ করে অনুতপ্ত হতে থাকে, আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাইতে থাকে। এভাবে এক সময় সে জান্নাতে পৌঁছে যায়। তখন শয়তান বলে, হায়! তাকে পাপে না জড়ালেই তো ভালো ছিল।

ফন্ট সাইজ
15px
17px