📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 শিক্ষণীয় ঘটনা

📄 শিক্ষণীয় ঘটনা


رُوِيَ عَنْ مَالِكِ بْنِ دِينَارٍ، أَنَّهُ قَالَ : كُنْتُ شَابًّا مُسْتَهْتَرًا بِاللَّهْوِ وَاللَّعِبِ، فَاشْتَرَيْتُ جَارِيَةً فَتَسَرَّيْتُ بِهَا، فَوَلَدَتْ بِنْتًا، فَرُزِقْتُ حُبَّهَا، فَلَمَّا دَبَّتْ عَلَى الْأَرْضِ، وَأَخَذَتْ تَتَكَلَّمُ زَادَ حُبُّهَا عِنْدِي فَلَمْ أَزَلْ بِهَا أُقْبَلُهَا، وَأُحِبُّهَا حَتَّى بَلَغَتْ سَنَتَيْنِ وَمَاتَتْ، فَدَخَلَنِي مِنْ ذَلِكَ حُزْنٌ شَدِيدٌ لَمْ أَمْلِكْهُ، فَلَمَّا كَانَتْ لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ، وَكَانَتْ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ بِتْ وَأَنَا ثَمِلٌ مِنْ شُرْبِ الْخَمْرِ، وَلَمْ أُصَلِّ فِيهَا الْعِشَاءَ، فَرَأَيْتُ فِيمَا يَرَى النَّائِمُ، كَأَنَّ أَهْلَ الْقُبُورِ قَدْ خَرَجُوا مِنْ قُبُورِهِمْ، وَأَحَاطُوا بِي وَأَنَا بَيْنَهُمْ، ثُمَّ رَأَيْتُ تِنِّينًا أَسْوَدَ عَظِيمًا، قَدْ فَغَرَ فَاهُ وَأَسْرَعَ نَحْوِي لِيَبْتَلِعَنِي، فَفَرَرْتُ مِنْهُ هَارِبًا خَائِفًا فَزِعًا، فَمَرَرْتُ بِشَيْخٍ نَقِيِّ الثِّيَابِ، طَيِّبِ الرَّائِحَةِ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ، فَرَدَّ السَّلَامَ، فَقُلْتُ: أَيُّهَا الشَّيْخُ أَجِرْنِي مِنْ هَذَا التَّنِينِ. فَبَكَى الشَّيْخُ، وَقَالَ: أَنَا ضَعِيفٌ وَهُوَ أَقْوَى مِنِّي، لَا أَقْدِرُ عَلَيْهِ وَلَكِنْ مُرَّ وَأَسْرِعْ فَلَعَلَّ اللَّهَ أَنْ يُيَسِّرَ لَكَ مَا يُنْجِيكَ مِنْهُ، فَوَلَّيْتُ هَارِبًا فَصَعِدْتُ عَلَى شَفِيرِ جَهَنَّمَ، فَكَادَتِ الزَّبَانِيَةُ تَخْطَفُنِي، فَرَجَعْتُ هَارِبًا إِلَى خَلْفِي وَالتَّنِّينُ فِي أَثَرِي، حَتَّى وَصَلْتُ إِلَى الشَّيْخِ فَبَكَيْتُ بَيْنَ يَدَيْهِ وَقُلْتُ: يَا شَيْخُ سَأَلْتُكَ أَنْ تُجِيرَنِي فَلَمْ تُجِرْنِي. فَبَكَى الشَّيْخُ، وَقَالَ: أَنَا ضَعِيفٌ وَلَكِنْ سِرْ إِلَى هَذَا الْجَبَلِ فَإِنَّ فِيهِ وَدَائِعَ الْمُسْلِمِينَ، فَإِنْ كَانَ لَكَ فِيهِ وَدِيعَةً، فَسَتَنْصُرُكَ. فَنَظَرْتُ إِلَى جَبَلٍ مُسْتَدِيرٍ مِنْ فِضَّةٍ، فِيهِ كَوَا وَقُبَابٌ مِنْ جَوْهَرٍ مُكَلَّلَةٍ بِالدُّرِّ وَالْيَاقُوتِ، عَلَى كُلِّ بَابٍ وَقُبَّةٍ سِتْرٌ مِنْ حَرِيرٍ، فَلَمَّا نَظَرْتُ إِلَى الْجَبَلِ وَلَّيْتُ هَارِبًا نَحْوَهُ وَالتَّنِّينُ مِنْ وَرَائِي، حَتَّى إِذَا قَرُبْتُ مِنْهُ صَاحَ بَعْضُ الْمَلَائِكَةِ ارْفَعُوا السُّرُوجَ، وَافْتَحُوا الْأَبْوَابَ، وَأَشْرِفُوا فَلَعَلَّ لِهَذَا الْبَائِسِ فِيكُمْ وَدِيعَةً تُجِيرُهُ مِنْ عَدُوِّهِ. فَإِذَا السُّتُورُ قَدْ رُفِعَتْ وَالْأَبْوَابُ قَدْ فُتِحَتْ، فَأَشْرَفَ عَلَيَّ مِنَ الْقُبَابِ أَطْفَالٌ بِوُجُوهٍ كَالْأَقْمَارِ، وَقَرُبَ مِنِّي التَّنِّينُ فَتَحَيَّرْتُ فِي أَمْرِي، فَصَاحَ الْأَطْفَالُ: وَيْحَكُمْ أَشْرِفُوا كُلُّكُمْ، فَقَدْ قَرُبَ مِنْهُ عَدُوُّهُ. فَأَشْرَفُوا فَوْجًا بَعْدَ فَوْجٍ، فَإِذَا أَنَا بِابْنَتِي الَّتِي مَاتَتْ قَدْ أَشْرَفَتْ عَلَيَّ مَعَهُمْ، فَلَمَّا رَأَتْنِي بَكَتْ، وَقَالَتْ: أَبِي وَرَبِّ الْكَعْبَةِ. ثُمَّ وَثَبَتْ فِي كِفَّةٍ مِنْ نُورٍ كَالسَّهْمِ حَتَّى وَقَفَتْ بَيْنَ يَدَيَّ، فَمَدَّتْ يَدَهَا الْيُسْرَى إِلَى لِحْيَتِي، وَقَالَتْ بِالْيُمْنَى إِلَى التَّنِّينِ، فَوَلَّى التِّنِّينُ هَارِبًا، ثُمَّ أَجْلَسَتْنِي، وَقَعَدَتْ فِي حَجْرِي وَجَعَلَتْ تَمْسَحُ لِحْيَتِي بِيَدِهَا الْيُمْنَى، وَهِيَ تَقُولُ: {أَلَمْ يَأْنِ لِلَّذِينَ آمَنُوا أَنْ تَخْشَعَ قُلُوبُهُمْ لِذِكْرِ اللَّهِ} [الحديد: ١٦] فَبَكَيْتُ، وَقُلْتُ : يَا بُنَيَّةُ أَوَ تَعْرِفِينَ الْقُرْآنَ؟ قَالَتْ : يَا أَبَتِ نَحْنُ أَعْرَفُ بِهِ مِنْكُمْ. قُلْتُ: فَأَخْبِرِينِي عَنِ التَّنِينِ الَّذِي أَرَادَ أَنْ يَهْلِكَنِي، قَالَتْ: ذَلِكَ عَمَلُكَ السُّوءُ قَوَّيْتَهُ فَأَرَادَ أَنْ يُغْرِقَكَ فِي نَارِ جَهَنَّمَ. قُلْتُ: فَأَخْبِرِينِي عَنِ الشَّيْخِ الَّذِي مَرَرْتُ بِهِ فِي طَرِيقِي، قَالَتْ : يَا أَبَتِ ذَلِكَ عَمَلُكَ الصَّالِحُ أَضْعَفْتَهُ حَتَّى لَمْ يَكُنْ لَهُ طَاقَةٌ بِعَمَلِكَ السَّوءِ. قُلْتُ: يَا بُنَيَّةُ وَمَا تَصْنَعُونَ فِي هَذَا الْجَبَلِ؟ قَالَتْ: نَحْنُ أَطْفَالُ الْمُسْلِمِينَ قَدْ أَسْكَنَّا هَهُنَا إِلَى أَنْ تَقُومَ السَّاعَةُ، نَنْتَظِرُكُمْ تَقْدُمُونَ عَلَيْنَا فَنَشْفَعُ لَكُمْ. قَالَ مَالِكٌ: فَانْتَبَهْتُ مِنْ مَنَامِي فَزِعًا، ثُمَّ أَصْبَحْتُ، فَأَهْرَقْتُ مَا كَانَ عِنْدِي مِنَ الشَّرَابِ وَكَسَرْتُ آلَاتِي، وَتُبْتُ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى، وَهَذَا كَانَ سَبَبُ تَوْبَتِي.

মালেক ইবনে দীনার রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যুবক বয়সে খুব আমোদ-প্রমোদে মত্ত ছিলাম। একবার আমি একটি দাসী ক্রয় করে তার সাথে বসবাস শুরু করি। তার একটি মেয়ে সন্তান জন্ম নিল। আমি তাকে খুব ভালোবাসতে লাগলাম। সে যখন হাঁটা-চলা শুরু করল, কথা বলতে শিখল, তখন তার প্রতি আমার ভালোবাসা আরও বেড়ে গেল। আমি তাকে সবসময় আদর করতাম। তার বয়স যখন দুই বছর হলো, তখন সে মারা গেল। আমি খুব কষ্ট পেলাম এবং ভেঙ্গে পড়লাম। একদিন শাবানের পনেরো তারিখ শুক্রবার রাতে আমি মদ খেয়ে মাতাল হয়ে ইশার নামায না পড়েই ঘুমিয়ে গেলাম। আমি স্বপ্নে দেখলাম, কবরবাসীরা সবাই কবর থেকে বেরিয়ে এসে আমাকে ঘিরে ধরেছে। তারপর দেখলাম, বিশাল এক কালো সাপ মুখ হা করে আমাকে গিলে ফেলার জন্য দ্রুত ছুটে আসছে। আমি ভয়ে দৌড়ে পালাতে লাগলাম। পথে এক বৃদ্ধ লোকের সাথে দেখা হলো, তার কাপড়-চোপড় খুব পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ছিল এবং শরীর থেকে সুগন্ধি আসছিল। আমি তাকে সালাম দিলাম, সে সালামের উত্তর দিল। আমি বললাম, চাচা! আমাকে এই সাপটি থেকে বাঁচান। বৃদ্ধ লোকটি কেঁদে বলল, আমি দুর্বল, ও আমার চেয়ে অনেক শক্তিশালী। আমি ওর সাথে পারব না। তুমি দ্রুত এদিক দিয়ে চলে যাও। হয়তো আল্লাহ তোমাকে মুক্তির কোনো উপায় করে দিবেন। আমি তখন জাহান্নামের কিনারায় পৌঁছে গেলাম। জাহান্নামের প্রহরীরা আমাকে প্রায় ধরেই ফেলেছিল। আমি আবার পিছনের দিকে দৌড় দিলাম, সাপটিও আমার পিছু পিছু আসতে লাগল। আমি আবার ঐ বৃদ্ধের নিকট পৌঁছে কাঁদতে কাঁদতে বললাম, চাচা! আমি আপনার নিকট সাহায্য চেয়েছিলাম, কিন্তু আপনি আমাকে সাহায্য করেননি। বৃদ্ধ লোকটি কেঁদে বলল, আমি দুর্বল। তুমি বরং ঐ পাহাড়ে চলে যাও। সেখানে মুসলমানদের কিছু আমানত রাখা আছে। যদি তোমার কোনো আমানত সেখানে থাকে তবে তা তোমাকে সাহায্য করবে। আমি রূপার একটি গোলাকার পাহাড় দেখতে পেলাম, তাতে মুক্তা-খচিত গম্বুজ ছিল, যার প্রতিটিতে রেশমের পর্দা ঝুলানো ছিল। আমি সেদিকে দৌড় দিলাম। সাপটিও আমার পিছু পিছু আসতে লাগল। আমি যখন পাহাড়ের কাছে পৌঁছলাম, তখন কয়েকজন ফেরেশতা চিৎকার করে বলল, পর্দা উঠাও, দরজা খোল এবং দেখ এই বিপদগ্রস্ত লোকটির কোনো আমানত তোমাদের কাছে আছে কিনা যা তাকে তার শত্রু থেকে বাঁচাতে পারে। তখন পর্দা উঠানো হলো, দরজা খুলে দেওয়া হলো। গম্বুজ থেকে চাঁদের মতো চেহারার শিশুরা উঁকি দিতে লাগল। সাপটিও আমার কাছে চলে এল। আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেলাম। শিশুরা চিৎকার করে বলল, তোমাদের কী হলো! সবাই বেরিয়ে এসো, তার শত্রু তার কাছে চলে এসেছে। তখন তারা দলে দলে বেরিয়ে এলো। আমি আমার মৃত মেয়েটিকেও তাদের সাথে দেখতে পেলাম। সে আমাকে দেখে কেঁদে বলল, কাবার রবের কসম, ইনি আমার বাবা। সে নূরের তৈরি একটি সিংহাসনে বসে তীরের মতো আমার কাছে এসে দাঁড়াল। তারপর সে তার বাম হাত দিয়ে আমার দাড়ি ধরল এবং ডান হাত দিয়ে সাপটিকে ইশারা করল। সাপটি পালিয়ে গেল। তারপর সে আমাকে বসিয়ে আমার কোলে বসল এবং ডান হাত দিয়ে আমার দাড়ি মুছতে মুছতে বলল,
أَلَمْ يَأْنِ لِلَّذِينَ آمَنُوا أَن تَخْشَعَ قُلُوبُهُمْ لِذِكْرِ اللَّهِ

অর্থ: যারা ঈমান এনেছে তাদের জন্য কি সে সময় আসেনি যে, আল্লাহর স্মরণে তাদের অন্তর বিগলিত হবে? ১৪৯

আমি কেঁদে বললাম, বেটি! তুমিও কি কুরআন জান? সে বলল, বাবা! আমরা তোমাদের চেয়ে বেশি জানি। আমি বললাম, তাহলে আমাকে ঐ সাপের কথা বল, যে আমাকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল। সে বলল, ওটা তোমার বদ আমল। তুমি তাকে শক্তিশালী করেছ। তাই সে তোমাকে জাহান্নামে ডুবিয়ে দিতে চেয়েছিল। আমি বললাম, আর ঐ বৃদ্ধ লোকটি কে? সে বলল, বাবা! ওটা তোমার নেক আমল। তুমি তাকে এত দুর্বল করেছ যে, সে তোমার বদ আমলের সাথে পেরে উঠেনি। আমি বললাম, তোমরা এই পাহাড়ে কী কর? সে বলল, আমরা মুসলমানদের শিশু সন্তান। কিয়ামত পর্যন্ত আমাদেরকে এখানে রাখা হয়েছে। আমরা তোমাদের আগমনের অপেক্ষায় আছি, যাতে আমরা তোমাদের জন্য শাফাআত করতে পারি। মালেক রহ. বলেন, আমি ভয় পেয়ে ঘুম থেকে জেগে উঠলাম। সকালে আমি আমার কাছে থাকা সব মদ ফেলে দিলাম, বাদ্যযন্ত্র ভেঙ্গে ফেললাম এবং আল্লাহর কাছে তওবা করলাম। এটাই ছিল আমার তওবার কারণ।

ٹکا:
১৪৯. সূরা হাদীদ: আয়াত-১৬

হযরত যুহরী রহ. থেকে বর্ণিত। একদা হযরত উমর রাযি. কাঁদতে কাঁদতে রাসূল ﷺ-এর দরবারে উপস্থিত হলেন। রাসূল বললেন, উমর তুমি কাঁদছ কেন? তিনি বললেন, এক যুবক আমার দরজায় কাঁদছে আর সে কারণেই আমি কাঁদছি।

রাসূল বললেন, তাকে আমার নিকট নিয়ে এসো। যুবকটি কাঁদতে কাঁদতে দরবারে উপস্থিত হলো। রাসূল তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কাঁদছ কেন? সে বলল, আমার অসংখ্য গুনাহ আমাকে কাঁদায়। পরাক্রমশীল আল্লাহকে আমি ভয় পাচ্ছি। রাসূল বললেন, তুমি আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করেছ? সে বলল, না। তুমি কি কাউকে অন্যায়ভাবে হত্যা করেছ? সে বলল, না। রাসূল বললেন, তাহলে তোমার গুনাহ আল্লাহ মাফ করে দিবেন, যদিও তা সাত আসমান, জমিন ও এতে প্রস্থিত পর্বতরাজির সমপরিমাণ। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার গুনাহ সাত আসমান, সাত জমিন এবং এতে প্রস্থিত পর্বতরাজির থেকেও বেশি। রাসূল বললেন, তোমার গুনাহ বড় না আল্লাহর আরশ বড়? সে বলল, আমার গুনাহ বড়। রাসূল আবার বললেন, তোমার আল্লাহ (আল্লাহর ক্ষমা) বড় না তোমার গুনাহ বড়? সে বলল, আল্লাহ বড় ও মহান। অতঃপর রাসূল বললেন, কেবল বড় সত্তাই বড় গুনাহ ক্ষমা করে থাকেন।

এরপর রাসূল বললেন, তোমার গুনাহ সম্পর্কে আমাকে অবহিত কর। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার লজ্জা করছে। রাসূল বললেন, তোমার গুনাহের কথা বল। সে বলল, আমি কাফন চোর ছিলাম, সাত বছর ধরে আমি এই কাজ করছি। এর মধ্যে এক আনসারী যুবতী মারা গেল যথারীতি আমি তার কবর খুঁড়ে কাফন খুলে নিলাম। অনতিদূরে আসতেই শয়তান আমাকে প্ররোচিত করে। ফলে আমি ফিরে এসে উক্ত মৃত যুবতীর সাথে সহবাসে লিপ্ত হই। তারপর কিছু দূরে যেতে না যেতেই যুবতী দাঁড়িয়ে বলল, তোমার ধ্বংস হে যুবক! বিচার দিনে যিনি বিচার করবেন, তার থেকে কি তোমার একটু লজ্জাবোধ হয় না? যিনি জালেম থেকে মাজলুমের বদলা নিবেন? তুমি মৃতদের মজলিসে আমাকে নগ্ন করে গেলে, তারপর আমার আল্লাহর সামনে আমাকে নাপাক অবস্থায় দাঁড়াতে বাধ্য করলে?

এই ঘটনা শুনে রাসূল লাফিয়ে উঠে যুবকটিকে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়ে বললেন, বের হয়ে যা গুনাহগার কোথাকার! জাহান্নাম তোর জন্য অপেক্ষা করছে।

যুবকটি সেখান থেকে বের হয়ে গেল এবং অনবরত চল্লিশ রাত আল্লাহর নিকট তাওবা করল। চল্লিশ দিন পূর্ণ হলে সে আসমানের দিকে হাত তুলে দোয়া করল, হে মুহাম্মদ! আদম ও হাওয়া আ.-এর রব! যদি তুমি আমাকে ক্ষমা করে থাক, তাহলে মুহাম্মদ ও তার সাথীদেরকে জানিয়ে দাও। অন্যথায় আসমান থেকে এক খণ্ড আগুন পাঠিয়ে আমাকে জ্বালিয়ে দাও এবং আমাকে আখেরাতের আযাব থেকে মুক্তি দাও।

তখন হযরত জিবরাঈল আ. রাসূল ﷺ-এর নিকট এসে বললেন, হে মুহাম্মদ! আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক, আপনার রব! আপনাকে সালাম পাঠিয়েছেন। রাসূল বললেন, তিনি নিজে সালাম, সালাম তার কাছ থেকেই আসে এবং তার কাছে ফিরে যায়। জিবরাঈল বললেন, আল্লাহ তা'আলা জিজ্ঞেস করেছেন, আপনি কি সৃষ্টিকুলকে সৃষ্টি করেছেন? রাসূল বললেন, না, বরং তিনিই আমাকে এবং সৃষ্টিকুলকে সৃষ্টি করেছেন। জিবরাঈল বললেন, তিনি জিজ্ঞেস করেছেন, আপনি কি তাদের রিযিক দান করেন? রাসূল বললেন, না, বরং তিনিই আমাকে এবং সৃষ্টিকুলকে রিযিক দান করেন। জিবরাঈল আ. বললেন, আপনি কি তাদের তাওবা কবুল করেন, তাদের ক্ষমা করেন? রাসূল বললেন, না, বরং তিনিই আমাকে এবং তাদেরকে ক্ষমা করেন। জিবরাঈল বললেন, আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, আপনি আমার বান্দাকে ক্ষমা করে দিন। কারণ, আমি তাকে ক্ষমা করে দিয়েছি। তখন রাসূল সে যুবকটিকে ডেকে এনে তার তাওবা কবুলের সুসংবাদ দিলেন।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 সৎ ও শুদ্ধ তাওবা

📄 সৎ ও শুদ্ধ তাওবা


عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا تُوبُوا إِلَى اللَّهِ تَوْبَةً نَصُوحًا} [التحريم: 8] قَالَ: هُوَ النَّدَمُ بِالْقَلْبِ، وَالاسْتِغْفَارُ بِاللِّسَانِ، وَالْإِضْمَارُ أَنْ لَا يَعُودَ إِلَيْهِ أَبَدًا.

হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. الله তা'আলার বাণী- يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا تُوبُوا إِلَى اللَّهِ تَوْبَةً نَصُوحًا অর্থ: হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে তওবা কর, আন্তরিক তওবা। ১৫০ এর ব্যাখ্যায় বলেন, আন্তরিক তওবা হলো, অন্তরে অনুতপ্ত হওয়া, মুখে ক্ষমা চাওয়া এবং পুনরায় না করার দৃঢ় সংকল্প করা।

عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا تَابَ الْعَبْدُ مِنْ ذَنْبِهِ أَنْسَى اللَّهُ الْحَفَظَةَ ذَنْبَهُ، وَأَنْسَى ذَلِكَ جَوَارِحَهُ، وَمَعَالِمَهُ مِنَ الْأَرْضِ، حَتَّى يَلْقَى اللَّهَ وَلَيْسَ عَلَيْهِ شَاهِدٌ مِنَ اللَّهِ بِذَنْبٍ.

সাঈদ ইবনে যুবাইর রহ. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, বান্দা যখন তাওবা করে, তখন আল্লাহ তা'আলা তার আমল লেখক ফেরেশতাদেরকে তার গুনাহ ভুলিয়ে দেন, তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে ভুলিয়ে দেন এবং জমিনের চিহ্নগুলোকেও ভুলিয়ে দেন। যাতে সে যখন আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে তখন তার বিরুদ্ধে আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো সাক্ষী না থাকে। ১৫১

টিকাঃ
১৫০. সূরা তাহরীম: আয়াত-৮
১৫১. আল-মুজামুল কাবীর লিত্ ত্ববারানী: ২/১২৯; হাদীসটি জাল [সিলসিলাতুয যায়ীফাহ, আলবানী: ২১১৪]।

ইমাম সমরকন্দী রহ. বলেন, জ্ঞানীদের উচিত এ ঘটনা থেকে শিক্ষাগ্রহণ করা। জীবিত নারীর সাথে ব্যভিচার মৃত নারীর সাথে ব্যভিচার থেকে জঘন্য। সুতরাং এই গুনাহের সাথে জড়িতদের উচিত আল্লাহর নিকট প্রকৃত তাওবা করা। কারণ, উক্ত যুবক প্রকৃত মনে আল্লাহর নিকট তাওবা করেছে বলেই তিনি তাকে ক্ষমা করেছেন। গুনাহের পরিমাণ হিসাবে তাওবা হওয়া উচিত। হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, আল্লাহ তা'আলা বলেছেন— ‘ইয়া আইয়্যুহাল্লাযীনা আ-মানূ তূবূ ইলাল্লা-হি তাওবাতান নাসূহান’ অর্থ: হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর নিকট প্রকৃত তাওবা কর।

টিকাঃ
২২২. সূরা তাহরিম: আয়াত-৮

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 প্রকৃত তাওবার স্বরূপ

📄 প্রকৃত তাওবার স্বরূপ


عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ، أَنَّهُ قَالَ: التَّوْبَةُ النَّصُوحُ أَنْ تُبْغِضَ الذَّنْبَ، كَمَا أَحْبَبْتَهُ، وَتَسْتَغْفِرَ مِنْهُ إِذَا ذَكَرْتَهُ.

হযরত হাসান বসরী রহ. বলেন, তাওবাতুন নাসূহা বা আন্তরিক তাওবা হলো, গুনাহকে এমনভাবে ঘৃণা করা যেমনভাবে তাকে ভালোবাসতে এবং যখনই তার কথা মনে পড়বে তখনই ইস্তিগফার করা।

عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: مَا أَصَرَّ مَنِ اسْتَغْفَرَ، وَإِنْ عَادَ فِي الْيَوْمِ سَبْعِينَ مَرَّةً.

হযরত আবূ বকর সিদ্দীক রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি দিনে সত্তর বার ইস্তিগফার করে সে বারবার গুনাহকারী নয়। ১৫২

عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: لِلَّهُ أَفْرَحُ بِتَوْبَةِ عَبْدِهِ مِنْ أَحَدِكُمْ سَقَطَ عَلَى بَعِيرِهِ، وَقَدْ أَضَلَّهُ فِي أَرْضِ فَلَاةٍ.

হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, তোমাদের কেউ যদি মরুভূমিতে তার উট হারিয়ে ফেলার পর আবার খুঁজে পায় তাহলে সে যেমন খুশি হয়, আল্লাহ তা'আলা তার বান্দার তওবার কারণে তার চেয়েও বেশি খুশি হন। ১৫৩

টিকাঃ
১৫২. সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-১৫১৪; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-৩৫৫৯; হাদীসটির সনদ দুর্বল।
১৫৩. সহীহ বুখারী: হাদীস-৬৩০৯; সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৭৪৭।

প্রকৃত তাওবা হলো— ‘আত্তাওবাতুন নাসূহু আন্নদামু বিল ক্বালবি, ওয়াল ইস্তিগফারু বিল লিসানি, ওয়াল ইদ্বমারু আল্লা ইয়াউদা ইলাইহি’ অর্থাৎ মনে মনে অনুতপ্ত হওয়া, মুখে ইস্তিগফার করা, বাহ্যিকভাবে গুনাহের কাজটি বর্জন করা এবং উক্ত গুনাহ না করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করা।

রাসূল থেকে বর্ণিত— পাপে লিপ্ত থেকে মুখে তাওবাকারী আপন রবের সাথে উপহাসকারীর ন্যায়। হযরত রাবেয়া বসরী রহ. বলেন— আমাদের ইস্তেগফারের জন্য আরও ইস্তিগফার করা দরকার। অর্থাৎ, যখন মুখে মুখে ইসতেগফার করা হয় আর মনে মনে গুনাহে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা থাকে, তাহলে এটা মিথ্যাবাদীদের তাওবার মতো। এটা তাওবা হয়নি। বরং প্রকৃত তাওবা হলো, মুখে ক্ষমা প্রার্থনা করা, উক্ত গুনাহ ছেড়ে দেওয়া এবং মনে-মনে পুনরায় না করার দৃঢ় সংকল্প করা। এভাবে তাওবা করলে গুনাহ যত বড়ই হোক না কেন, আল্লাহ তা'আলা ক্ষমা করে দিবেন। কারণ, আল্লাহ তা'আলা তাঁর বান্দাদের প্রতি ক্ষমাশীল ও দয়ালু।

টিকাঃ
২২৩. কিতাবুত তাওবা, ইবনে আবিদ্দুনইয়া (৮৫)।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 গুনাহ দেখে আল্লাহ ক্রোধান্বিত হন না

📄 গুনাহ দেখে আল্লাহ ক্রোধান্বিত হন না


عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ : لَا يَغْضَبُ اللَّهُ تَعَالَى لِذُنُوبِكُمْ وَعِنْدَكُمْ مَا يُطْفِئُهَا قَالُوا : وَمَا هُوَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ؟ قَالَ: الاسْتِغْفَارُ.
হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তোমাদের গুনাহের জন্য রাগান্বিত হবেন না। কারণ, তোমাদের নিকট তো তা নিভিয়ে ফেলার মতো জিনিস রয়েছে। লোকেরা বলল, হে আমীরুল মুমিনীন! তা কী? তিনি বললেন, ইস্তিগফার।
عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: مَنْ أَحْدَثَ ذَنْبًا لَمْ يَكُنْ عَمِلَهُ قَبْلَ ذَلِكَ فَأَحْدَثَ عِنْدَ ذَلِكَ وُضُوءًا وَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ اسْتَغْفَرَ اللَّهَ مِنْ ذَلِكَ الذَّنْبِ الصَّغِيرِ أَوِ الْكَبِيرِ، غَفَرَ اللَّهُ لَهُ.

হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি পূর্বে করেনি এমন কোনো গুনাহ করে ফেলে, অতঃপর উযু করে দু'রাকাত নামায আদায় করে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন। সে গুনাহ ছোট হোক বা বড়। ১৫৪

টিকাঃ
১৫৪. আল-মুজামুল আওসাত: হাদীস-৪০১; ইমাম সুয়ূতী বলেন, এর সনদে অজ্ঞাত রাবী রয়েছে। [আয-যাইল আলাল লাআলী: ২/৭৮৮]

কথিত আছে যে, একবার বনী ইসরাইলের এক বাদশার নিকট জনৈক আবেদের খুব প্রশংসা করা হলে তিনি তাকে ডেকে পাঠালেন। বাদশাহ তার নিকট থেকে যাওয়ার জন্য তাকে অনেক অনুরোধ করলেন। দরবেশ তার দরজায় থেকে গেলেন। একদিন দরবেশ বললেন, বাদশাহ! আমার সাথে আপনি তো খুবই মধুর কথাই বলেন। কিন্তু কোনো দিন যদি আপনি আপনার অন্দরমহলে ঢুকে দেখেন যে, আমি আপনার দাসীদের সাথে ফুর্তি করছি তখন আপনি কী করবেন? বাদশাহ ভীষণ ক্রুদ্ধ হয়ে বললেন, আরে বদকার কোথাকার! তোর এত বড় দুঃসাহস!! আমার সাথে এই সব আজে-বাজে কথা বলছিস?

তখন দরবেশ বললেন, আমার এক দয়ালু মালিক আছেন, তিনি আমাকে দিনে সত্তর বার গুনাহ করতে দেখলেও রাগ করেন না, তার দুয়ার থেকে তাড়িয়ে দেন না, আমার খানাদানা বন্ধ করে দেন না। সুতরাং কিভাবে আমি তার দরবার ছেড়ে এমন একজনের দরবারে থাকব, যে অপরাধ করার সংকল্প শুনেই আমার উপর রেগে যাচ্ছে। আর অপরাধ করলে না জানি কী করবেন। একথা বলে দরবেশ সেখান থেকে উঠে এলেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px