📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 তাওবাকারী নিষ্পাপের মতই

📄 তাওবাকারী নিষ্পাপের মতই


عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: التَّائِبُ مِنَ الذَّنْبِ كَمَنْ لَا ذَنْبَ لَهُ.

হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, গুনাহ থেকে তাওবাকারী ব্যক্তি নিষ্পাপ ব্যক্তির মতো।১৪৫

عَنْ قَتَادَةَ، فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: {وَهُوَ الَّذِي يَقْبَلُ التَّوْبَةَ عَنْ عِبَادِهِ} [الشورى: ٢٥] قَالَ: إِنَّ إِبْلِيسَ قَالَ : وَعِزَّتِكَ لَا أُفَارِقُ ابْنَ آدَمَ مَا دَامَ فِيهِ الرُّوحُ. فَقَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: وَعِزَّتِي وَجَلَالِي لَا أَحْجُبُ التَّوْبَةَ عَنْ عَبْدِي مَا لَمْ يُغَرْغِرُ بِنَفْسِهِ.

হযরত কাতাদা রহ. আল্লাহ তা'আলার বাণী وَهُوَ الَّذِي يَقْبَلُ التَّوْبَةَ عَنْ عِبَادِهِ অর্থ: তিনি তার বান্দাদের তাওবা কবুল করেন- এর ব্যাখ্যায় বলেন, ইবলীস বলেছিল, আপনার ইজ্জতের কসম, আদম সন্তানের দেহে রুহ থাকা পর্যন্ত আমি তাকে ছাড়ব না। আল্লাহ তা'আলা বলেছিলেন, আমার ইজ্জত ও জালালের কসম, রুহ কণ্ঠনালিতে আসার পূর্ব পর্যন্ত আমি আমার বান্দাদের তাওবার দরজা বন্ধ করব না।১৪৬

টিকাঃ
১৪৫. কানযুল উম্মাল: হাদীস-১০১৬৩; ইবনে আবিদ্দুনইয়া ফিল ইসতিগফার: হাদীস-১।
১৪৬. তাফসীরে ত্ববারী: ২১/৫২৭; মুসনাদে আহমাদ: ১১১৪৫; মুসনাদে আবী ইয়ালা: ১৪৩৫; হাদীসটি হাসান [শুয়াইব আরনাউত]।

হযরত হাসান বসরী রহ. রাসূল থেকে বর্ণনা করেন। তিনি ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা'আলা যখন শয়তান কে জান্নাত থেকে বিতাড়িত করেন তখন সে বলল, আপনার মর্যাদা ও বড়ত্বের শপথ! যতদিন আদমের সন্তানদের দেহে রূহ থাকবে ততদিন আমি তাদের পিছু ছাড়বো না। তখন আল্লাহ তা'আলা বললেন, মৃত্যুর গরগরা শুরুর আগ পর্যন্ত আমি তাদের তাওবার দরজা বন্ধ করবো না।

হযরত আবূ উমামা আল-বাহেলী রাযি. থেকে বর্ণিত— রাসূল ইরশাদ করেন, ডান কাঁধের ফেরেশতা আমীন বা খবরদারী করে থাকেন বাম কাঁধের ফেরেশতার উপর। বান্দা ভালো কাজ করলে ডান কাঁধের ফেরেশতা তার সওয়াব দশগুন পরিমাণ লিখে রাখেন। আর যদি কোনো খারাপ কাজ করে এবং বাম কাঁধের ফেরেশতা লিপিবদ্ধ করে রাখতে চান, তখন ডান কাঁধের ফেরেশতা বলেন, একটু অপেক্ষা কর। আদেশ মত সে ছয় কিংবা সাত ঘণ্টা অপেক্ষা করে। এর মধ্যে যদি সে তাওবা করে তাহলে কিছুই লেখা হয় না। আর যদি তাওবা না করে, তাহলে একটি গুনাহই লেখা হয়।

ইমাম সমরকন্দী রহ. বলেন, এই হাদীসটি রাসূল এর অপর একটি হাদীস: ‘আত্তাইবু মিনায যাম্বি কামান লা যাম্বা লাহূ’ অর্থাৎ, “গুনাহ থেকে তাওবাকারী ব্যক্তি ওই ব্যক্তির ন্যায়, যার কোনো গুনাহ নেই” এর অনুরূপ অর্থবহ।

অপর একটি বর্ণনায় আছে— বান্দা যখন একটি গুনাহ করে তা আরেকটি গুনাহ করার আগ পর্যন্ত লেখা হয় না। আবার যখন আরেকটি গুনাহ করে তখনও লেখা হয় না। এভাবে যখন তার পাঁচটি গুনাহ জমা হয়ে যায় আর সে এর মধ্যে একটি নেকীর কাজ করে, তখন তার জান্য পাঁচটি সওয়াব লেখা হয় আর বাকী পাঁচটির পরিবর্তে উক্ত পাঁচটি গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। এটা দেখে শয়তান আফসোস করে বলে, আদমের সন্তানদের সাথে আমি কিভাবে বিজয়ী হবো! মাত্র একটি নেক আমলের মাধ্যমে সে আমার চেষ্টা সাধনা ব্যর্থ করে দেয়।

টিকাঃ
২১৬. মাজমাউয যাওয়ায়েদ-১০/২০৭ (হাদীস-১৭৫৭৩) আল্লামা হাইসামী বলেছেন, হাদীসটির সনদ সহীহ।
২১৭. হাদীসটিকে শায়েখ নাসির উদ্দীন আলবানী হাসান বলেছেন।
২১৮. সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-৪২৫০; আল্লামা যারকাশি, শায়েখ বিন বায, নাসির উদ্দীন আলবানী ও শায়েখ শুয়াইব আরনাউত প্রমুখ হাদীসটিকে সহীহ ও হাসান বলেছেন।
২১৯. হাদীসটির সনদ সম্পর্কে আমরা অবগত হইনি।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 তাওবার দরজা

📄 তাওবার দরজা


عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَسَّالٍ الْمُرَادِيِّ، أَنَّهُ قَالَ: قَالَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَتَعْلَمُونَ مَا بَابُ التَّوْبَةِ؟ قُلْنَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ. قَالَ: إِنَّ لِلتَّوْبَةِ بَابًا خَلَقَهُ اللَّهُ قِبَلَ الْمَغْرِبِ عَرْضُهُ مَسِيرَةَ سَبْعِينَ عَامًا لَا يُغْلَقُ ذَلِكَ الْبَابُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ قِبَلِ الْمَغْرِبِ، ثُمَّ قَرَأَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يَوْمَ يَأْتِي بَعْضُ آيَاتِ رَبِّكَ لَا يَنْفَعُ نَفْسًا إِيمَانُهَا.

হযরত সাফওয়ান ইবনে আসসাল রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ একদা আমাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কি জান তাওবার দরজা কী? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন, তাওবার একটি দরজা আছে। আল্লাহ তা পশ্চিম দিকে সৃষ্টি করেছেন। তার প্রস্থ সত্তর বছরের পথ। পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয় হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তা বন্ধ করা হবে না। এরপর রাসূল ﷺ এই আয়াত পাঠ করলেন, يَوْمَ يَأْتِي بَعْضُ آيَاتِ رَبِّكَ لَا يَنفَعُ نَفْسًا إِيمَانُهَا অর্থ: যেদিন আপনার রবের পক্ষ থেকে কোনো নিদর্শন আসবে তখন কোনো ব্যক্তির ঈমান কাজে আসবে না। ১৪৭ ১৪৮

টিকাঃ
১৪৭. সূরা আনআম: আয়াত-১৫৮
১৪৮. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-৩৫৩৫; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-১৮০৮০; হাদীসটি সহীহ।

হযরত সাফওয়ান বিন আস্সাল মুরাদী রাযি. থেকে বর্ণিত— রাসূল ইরশাদ করেন, পশ্চিম দিকে একটি দরজা রয়েছে, যার প্রস্থ সত্তর বছরের কিংবা চল্লিশ বছরের দূরত্ব পরিমাণ। তা সর্বদা খোলা থাকে, পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদয় হওয়ার আগ পর্যন্ত তা বন্ধ হবে না। এই দরজা টি আল্লাহ তাওবার জন্য বানিয়েছেন।

হযরত সাঈদ ইবনে মুসায়্যিব রহ. থেকে বর্ণিত। আল্লাহ তা'আলা বলেন— ‘ফাইন্নাহূ কা-না লিলআউয়্যা-বীনা গাফূরা’ অর্থ: নিশ্চয় তিনি বারংবার ফিরে আসা ব্যক্তিদের জন্য ক্ষমাশীল। এর অর্থ হলো, বান্দা গুনাহ করবে তারপর আল্লাহর নিকট তাওবা করবে। আর তিনি তাকে ক্ষমা করবেন। আবার গুনাহ করবে তারপর তাওবা করবে। আর তিনি তাকে আবারও ক্ষমা করবেন।

হযরত হাসান বসরী রহ. কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, বান্দা গুনাহ করবে, তাওবা করবে, গুনাহ করবে তাওবা করবে এভাবে কতদূর চলতে থাকবে? তিনি বললেন, আমি ঠিক জানি না। তবে এটাই মুমিনের স্বভাব।

টিকাঃ
২২০. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-৩৫৩৬; মুসনাদে আহমাদ ৩০/১১ (১৮০৯১); ইমাম তিরমিযী ও শায়েখ শুয়াইব আরনাউত হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
২২১. সুরা ইসরা: আয়াত-২৫

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 আরেফের গুণসমূহ

📄 আরেফের গুণসমূহ


عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي نُعَيْمٍ، قَالَ: مَشَيْتُ أَنَا وَصَالِحُ بْنُ حَيَّانَ حَتَّى أَتَيْنَا أَبَا سَلَمَةَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، فَسَأَلْنَاهُ عَنِ الرَّجُلِ يُذْنِبُ الذَّنْبَ ثُمَّ يَتُوبُ. فَقَالَ لَنَا: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ الْعَبْدَ لَيُذْنِبُ الذَّنْبَ، فَيَكُونُ نُصْبَ عَيْنِهِ إِذَا ذَكَرَهُ اسْتَغْفَرَ مِنْهُ، حَتَّى يُدْخِلَهُ اللَّهُ بِهِ الْجَنَّةَ.

হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আবূ নুআইম রহ. বলেন, আমি ও সালেহ ইবনে হাইয়্যান আবূ সালামা ইবনে আব্দুর রহমান এর নিকট গেলাম। আমরা তাঁকে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম, যে গুনাহ করে তাওবা করে। তিনি বললেন, রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, কোনো বান্দা যখন গুনাহ করে তখন তা তার চোখের সামনে থাকে, যখনই তা তার মনে পড়ে তখনই সে তাওবা করে। পরিশেষে সে এ কারণে জান্নাতে প্রবেশ করে।
হযরত ইয়াহইয়া ইবনে মুআয আর-রাযী রহ. বলেন, আরেফ ব্যক্তি আল্লাহর কাছে তার তিনটি বিষয় চেয়ে নেয়। যথা- ১. হে আল্লাহ! যদি আমি আপনার আনুগত্য করি, তাহলে আমাকে এর বিনিময়ে আত্মতৃপ্তি দান করবেন না, বরং আরো বিনয়ী হওয়ার তাওফীক দান করুন। ২. যদি আমি আপনার নাফরমানী করি, তাহলে আমাকে ভয়ের পোশাক পরিয়ে দিন। ৩. আর যদি আপনি আমাকে কোনো কিছু দান করেন, তাহলে আমাকে অহংকারী বানাবেন না।

জনৈক আরেফ বিল্লাহ বলেন, আরেফের স্বভাব ছয়টি। যথা—
১. إِذَا ذَكَرَ اللَّهَ افْتَخَرَ অর্থাৎ, যখন আল্লাহর কথা স্মরণ করে গর্ববোধ হয়।
২. وَإِذَا ذَكَرَ نَفْسَهُ احْتَقَرَ অর্থাৎ, নিজের কথা মনে হলে খুব তুচ্ছ বোধ করে।
৩. وَإِذَا نَظَرَ فِي آيَاتِ اللَّهِ اعْتَبَرَ অর্থাৎ, যখন আল্লাহর নিদর্শনাবলির দিকে চোখ পড়ে শিক্ষাগ্রহণ করে।
৪. وَإِذَا هَمَّ بِمَعْصِيَةٍ أَوْ شَهْوَةِ انْزَجَرَ অর্থাৎ, মনে কোনো গুনাহের চিন্তা বা কাম জাগ্রত হলে তা থেকে বিরত থাকে।
৫. وَإِذَا ذَكَرَ عَفْوَ اللَّهِ اسْتَبْشَرَ অর্থাৎ, আল্লাহর ক্ষমার কথা স্মরণ করা হলে আনন্দিত হয়।
৬. وَإِذَا ذَكَرَ ذُنُوبَهُ اسْتَغْفَرَ অর্থাৎ, নিজের গুনাহের কথা স্মরণ হলে তাওবা করে।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 শিক্ষণীয় ঘটনা

📄 শিক্ষণীয় ঘটনা


رُوِيَ عَنْ مَالِكِ بْنِ دِينَارٍ، أَنَّهُ قَالَ : كُنْتُ شَابًّا مُسْتَهْتَرًا بِاللَّهْوِ وَاللَّعِبِ، فَاشْتَرَيْتُ جَارِيَةً فَتَسَرَّيْتُ بِهَا، فَوَلَدَتْ بِنْتًا، فَرُزِقْتُ حُبَّهَا، فَلَمَّا دَبَّتْ عَلَى الْأَرْضِ، وَأَخَذَتْ تَتَكَلَّمُ زَادَ حُبُّهَا عِنْدِي فَلَمْ أَزَلْ بِهَا أُقْبَلُهَا، وَأُحِبُّهَا حَتَّى بَلَغَتْ سَنَتَيْنِ وَمَاتَتْ، فَدَخَلَنِي مِنْ ذَلِكَ حُزْنٌ شَدِيدٌ لَمْ أَمْلِكْهُ، فَلَمَّا كَانَتْ لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ، وَكَانَتْ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ بِتْ وَأَنَا ثَمِلٌ مِنْ شُرْبِ الْخَمْرِ، وَلَمْ أُصَلِّ فِيهَا الْعِشَاءَ، فَرَأَيْتُ فِيمَا يَرَى النَّائِمُ، كَأَنَّ أَهْلَ الْقُبُورِ قَدْ خَرَجُوا مِنْ قُبُورِهِمْ، وَأَحَاطُوا بِي وَأَنَا بَيْنَهُمْ، ثُمَّ رَأَيْتُ تِنِّينًا أَسْوَدَ عَظِيمًا، قَدْ فَغَرَ فَاهُ وَأَسْرَعَ نَحْوِي لِيَبْتَلِعَنِي، فَفَرَرْتُ مِنْهُ هَارِبًا خَائِفًا فَزِعًا، فَمَرَرْتُ بِشَيْخٍ نَقِيِّ الثِّيَابِ، طَيِّبِ الرَّائِحَةِ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ، فَرَدَّ السَّلَامَ، فَقُلْتُ: أَيُّهَا الشَّيْخُ أَجِرْنِي مِنْ هَذَا التَّنِينِ. فَبَكَى الشَّيْخُ، وَقَالَ: أَنَا ضَعِيفٌ وَهُوَ أَقْوَى مِنِّي، لَا أَقْدِرُ عَلَيْهِ وَلَكِنْ مُرَّ وَأَسْرِعْ فَلَعَلَّ اللَّهَ أَنْ يُيَسِّرَ لَكَ مَا يُنْجِيكَ مِنْهُ، فَوَلَّيْتُ هَارِبًا فَصَعِدْتُ عَلَى شَفِيرِ جَهَنَّمَ، فَكَادَتِ الزَّبَانِيَةُ تَخْطَفُنِي، فَرَجَعْتُ هَارِبًا إِلَى خَلْفِي وَالتَّنِّينُ فِي أَثَرِي، حَتَّى وَصَلْتُ إِلَى الشَّيْخِ فَبَكَيْتُ بَيْنَ يَدَيْهِ وَقُلْتُ: يَا شَيْخُ سَأَلْتُكَ أَنْ تُجِيرَنِي فَلَمْ تُجِرْنِي. فَبَكَى الشَّيْخُ، وَقَالَ: أَنَا ضَعِيفٌ وَلَكِنْ سِرْ إِلَى هَذَا الْجَبَلِ فَإِنَّ فِيهِ وَدَائِعَ الْمُسْلِمِينَ، فَإِنْ كَانَ لَكَ فِيهِ وَدِيعَةً، فَسَتَنْصُرُكَ. فَنَظَرْتُ إِلَى جَبَلٍ مُسْتَدِيرٍ مِنْ فِضَّةٍ، فِيهِ كَوَا وَقُبَابٌ مِنْ جَوْهَرٍ مُكَلَّلَةٍ بِالدُّرِّ وَالْيَاقُوتِ، عَلَى كُلِّ بَابٍ وَقُبَّةٍ سِتْرٌ مِنْ حَرِيرٍ، فَلَمَّا نَظَرْتُ إِلَى الْجَبَلِ وَلَّيْتُ هَارِبًا نَحْوَهُ وَالتَّنِّينُ مِنْ وَرَائِي، حَتَّى إِذَا قَرُبْتُ مِنْهُ صَاحَ بَعْضُ الْمَلَائِكَةِ ارْفَعُوا السُّرُوجَ، وَافْتَحُوا الْأَبْوَابَ، وَأَشْرِفُوا فَلَعَلَّ لِهَذَا الْبَائِسِ فِيكُمْ وَدِيعَةً تُجِيرُهُ مِنْ عَدُوِّهِ. فَإِذَا السُّتُورُ قَدْ رُفِعَتْ وَالْأَبْوَابُ قَدْ فُتِحَتْ، فَأَشْرَفَ عَلَيَّ مِنَ الْقُبَابِ أَطْفَالٌ بِوُجُوهٍ كَالْأَقْمَارِ، وَقَرُبَ مِنِّي التَّنِّينُ فَتَحَيَّرْتُ فِي أَمْرِي، فَصَاحَ الْأَطْفَالُ: وَيْحَكُمْ أَشْرِفُوا كُلُّكُمْ، فَقَدْ قَرُبَ مِنْهُ عَدُوُّهُ. فَأَشْرَفُوا فَوْجًا بَعْدَ فَوْجٍ، فَإِذَا أَنَا بِابْنَتِي الَّتِي مَاتَتْ قَدْ أَشْرَفَتْ عَلَيَّ مَعَهُمْ، فَلَمَّا رَأَتْنِي بَكَتْ، وَقَالَتْ: أَبِي وَرَبِّ الْكَعْبَةِ. ثُمَّ وَثَبَتْ فِي كِفَّةٍ مِنْ نُورٍ كَالسَّهْمِ حَتَّى وَقَفَتْ بَيْنَ يَدَيَّ، فَمَدَّتْ يَدَهَا الْيُسْرَى إِلَى لِحْيَتِي، وَقَالَتْ بِالْيُمْنَى إِلَى التَّنِّينِ، فَوَلَّى التِّنِّينُ هَارِبًا، ثُمَّ أَجْلَسَتْنِي، وَقَعَدَتْ فِي حَجْرِي وَجَعَلَتْ تَمْسَحُ لِحْيَتِي بِيَدِهَا الْيُمْنَى، وَهِيَ تَقُولُ: {أَلَمْ يَأْنِ لِلَّذِينَ آمَنُوا أَنْ تَخْشَعَ قُلُوبُهُمْ لِذِكْرِ اللَّهِ} [الحديد: ١٦] فَبَكَيْتُ، وَقُلْتُ : يَا بُنَيَّةُ أَوَ تَعْرِفِينَ الْقُرْآنَ؟ قَالَتْ : يَا أَبَتِ نَحْنُ أَعْرَفُ بِهِ مِنْكُمْ. قُلْتُ: فَأَخْبِرِينِي عَنِ التَّنِينِ الَّذِي أَرَادَ أَنْ يَهْلِكَنِي، قَالَتْ: ذَلِكَ عَمَلُكَ السُّوءُ قَوَّيْتَهُ فَأَرَادَ أَنْ يُغْرِقَكَ فِي نَارِ جَهَنَّمَ. قُلْتُ: فَأَخْبِرِينِي عَنِ الشَّيْخِ الَّذِي مَرَرْتُ بِهِ فِي طَرِيقِي، قَالَتْ : يَا أَبَتِ ذَلِكَ عَمَلُكَ الصَّالِحُ أَضْعَفْتَهُ حَتَّى لَمْ يَكُنْ لَهُ طَاقَةٌ بِعَمَلِكَ السَّوءِ. قُلْتُ: يَا بُنَيَّةُ وَمَا تَصْنَعُونَ فِي هَذَا الْجَبَلِ؟ قَالَتْ: نَحْنُ أَطْفَالُ الْمُسْلِمِينَ قَدْ أَسْكَنَّا هَهُنَا إِلَى أَنْ تَقُومَ السَّاعَةُ، نَنْتَظِرُكُمْ تَقْدُمُونَ عَلَيْنَا فَنَشْفَعُ لَكُمْ. قَالَ مَالِكٌ: فَانْتَبَهْتُ مِنْ مَنَامِي فَزِعًا، ثُمَّ أَصْبَحْتُ، فَأَهْرَقْتُ مَا كَانَ عِنْدِي مِنَ الشَّرَابِ وَكَسَرْتُ آلَاتِي، وَتُبْتُ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى، وَهَذَا كَانَ سَبَبُ تَوْبَتِي.

মালেক ইবনে দীনার রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যুবক বয়সে খুব আমোদ-প্রমোদে মত্ত ছিলাম। একবার আমি একটি দাসী ক্রয় করে তার সাথে বসবাস শুরু করি। তার একটি মেয়ে সন্তান জন্ম নিল। আমি তাকে খুব ভালোবাসতে লাগলাম। সে যখন হাঁটা-চলা শুরু করল, কথা বলতে শিখল, তখন তার প্রতি আমার ভালোবাসা আরও বেড়ে গেল। আমি তাকে সবসময় আদর করতাম। তার বয়স যখন দুই বছর হলো, তখন সে মারা গেল। আমি খুব কষ্ট পেলাম এবং ভেঙ্গে পড়লাম। একদিন শাবানের পনেরো তারিখ শুক্রবার রাতে আমি মদ খেয়ে মাতাল হয়ে ইশার নামায না পড়েই ঘুমিয়ে গেলাম। আমি স্বপ্নে দেখলাম, কবরবাসীরা সবাই কবর থেকে বেরিয়ে এসে আমাকে ঘিরে ধরেছে। তারপর দেখলাম, বিশাল এক কালো সাপ মুখ হা করে আমাকে গিলে ফেলার জন্য দ্রুত ছুটে আসছে। আমি ভয়ে দৌড়ে পালাতে লাগলাম। পথে এক বৃদ্ধ লোকের সাথে দেখা হলো, তার কাপড়-চোপড় খুব পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ছিল এবং শরীর থেকে সুগন্ধি আসছিল। আমি তাকে সালাম দিলাম, সে সালামের উত্তর দিল। আমি বললাম, চাচা! আমাকে এই সাপটি থেকে বাঁচান। বৃদ্ধ লোকটি কেঁদে বলল, আমি দুর্বল, ও আমার চেয়ে অনেক শক্তিশালী। আমি ওর সাথে পারব না। তুমি দ্রুত এদিক দিয়ে চলে যাও। হয়তো আল্লাহ তোমাকে মুক্তির কোনো উপায় করে দিবেন। আমি তখন জাহান্নামের কিনারায় পৌঁছে গেলাম। জাহান্নামের প্রহরীরা আমাকে প্রায় ধরেই ফেলেছিল। আমি আবার পিছনের দিকে দৌড় দিলাম, সাপটিও আমার পিছু পিছু আসতে লাগল। আমি আবার ঐ বৃদ্ধের নিকট পৌঁছে কাঁদতে কাঁদতে বললাম, চাচা! আমি আপনার নিকট সাহায্য চেয়েছিলাম, কিন্তু আপনি আমাকে সাহায্য করেননি। বৃদ্ধ লোকটি কেঁদে বলল, আমি দুর্বল। তুমি বরং ঐ পাহাড়ে চলে যাও। সেখানে মুসলমানদের কিছু আমানত রাখা আছে। যদি তোমার কোনো আমানত সেখানে থাকে তবে তা তোমাকে সাহায্য করবে। আমি রূপার একটি গোলাকার পাহাড় দেখতে পেলাম, তাতে মুক্তা-খচিত গম্বুজ ছিল, যার প্রতিটিতে রেশমের পর্দা ঝুলানো ছিল। আমি সেদিকে দৌড় দিলাম। সাপটিও আমার পিছু পিছু আসতে লাগল। আমি যখন পাহাড়ের কাছে পৌঁছলাম, তখন কয়েকজন ফেরেশতা চিৎকার করে বলল, পর্দা উঠাও, দরজা খোল এবং দেখ এই বিপদগ্রস্ত লোকটির কোনো আমানত তোমাদের কাছে আছে কিনা যা তাকে তার শত্রু থেকে বাঁচাতে পারে। তখন পর্দা উঠানো হলো, দরজা খুলে দেওয়া হলো। গম্বুজ থেকে চাঁদের মতো চেহারার শিশুরা উঁকি দিতে লাগল। সাপটিও আমার কাছে চলে এল। আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেলাম। শিশুরা চিৎকার করে বলল, তোমাদের কী হলো! সবাই বেরিয়ে এসো, তার শত্রু তার কাছে চলে এসেছে। তখন তারা দলে দলে বেরিয়ে এলো। আমি আমার মৃত মেয়েটিকেও তাদের সাথে দেখতে পেলাম। সে আমাকে দেখে কেঁদে বলল, কাবার রবের কসম, ইনি আমার বাবা। সে নূরের তৈরি একটি সিংহাসনে বসে তীরের মতো আমার কাছে এসে দাঁড়াল। তারপর সে তার বাম হাত দিয়ে আমার দাড়ি ধরল এবং ডান হাত দিয়ে সাপটিকে ইশারা করল। সাপটি পালিয়ে গেল। তারপর সে আমাকে বসিয়ে আমার কোলে বসল এবং ডান হাত দিয়ে আমার দাড়ি মুছতে মুছতে বলল,
أَلَمْ يَأْنِ لِلَّذِينَ آمَنُوا أَن تَخْشَعَ قُلُوبُهُمْ لِذِكْرِ اللَّهِ

অর্থ: যারা ঈমান এনেছে তাদের জন্য কি সে সময় আসেনি যে, আল্লাহর স্মরণে তাদের অন্তর বিগলিত হবে? ১৪৯

আমি কেঁদে বললাম, বেটি! তুমিও কি কুরআন জান? সে বলল, বাবা! আমরা তোমাদের চেয়ে বেশি জানি। আমি বললাম, তাহলে আমাকে ঐ সাপের কথা বল, যে আমাকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল। সে বলল, ওটা তোমার বদ আমল। তুমি তাকে শক্তিশালী করেছ। তাই সে তোমাকে জাহান্নামে ডুবিয়ে দিতে চেয়েছিল। আমি বললাম, আর ঐ বৃদ্ধ লোকটি কে? সে বলল, বাবা! ওটা তোমার নেক আমল। তুমি তাকে এত দুর্বল করেছ যে, সে তোমার বদ আমলের সাথে পেরে উঠেনি। আমি বললাম, তোমরা এই পাহাড়ে কী কর? সে বলল, আমরা মুসলমানদের শিশু সন্তান। কিয়ামত পর্যন্ত আমাদেরকে এখানে রাখা হয়েছে। আমরা তোমাদের আগমনের অপেক্ষায় আছি, যাতে আমরা তোমাদের জন্য শাফাআত করতে পারি। মালেক রহ. বলেন, আমি ভয় পেয়ে ঘুম থেকে জেগে উঠলাম। সকালে আমি আমার কাছে থাকা সব মদ ফেলে দিলাম, বাদ্যযন্ত্র ভেঙ্গে ফেললাম এবং আল্লাহর কাছে তওবা করলাম। এটাই ছিল আমার তওবার কারণ।

ٹکا:
১৪৯. সূরা হাদীদ: আয়াত-১৬

হযরত যুহরী রহ. থেকে বর্ণিত। একদা হযরত উমর রাযি. কাঁদতে কাঁদতে রাসূল ﷺ-এর দরবারে উপস্থিত হলেন। রাসূল বললেন, উমর তুমি কাঁদছ কেন? তিনি বললেন, এক যুবক আমার দরজায় কাঁদছে আর সে কারণেই আমি কাঁদছি।

রাসূল বললেন, তাকে আমার নিকট নিয়ে এসো। যুবকটি কাঁদতে কাঁদতে দরবারে উপস্থিত হলো। রাসূল তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কাঁদছ কেন? সে বলল, আমার অসংখ্য গুনাহ আমাকে কাঁদায়। পরাক্রমশীল আল্লাহকে আমি ভয় পাচ্ছি। রাসূল বললেন, তুমি আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করেছ? সে বলল, না। তুমি কি কাউকে অন্যায়ভাবে হত্যা করেছ? সে বলল, না। রাসূল বললেন, তাহলে তোমার গুনাহ আল্লাহ মাফ করে দিবেন, যদিও তা সাত আসমান, জমিন ও এতে প্রস্থিত পর্বতরাজির সমপরিমাণ। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার গুনাহ সাত আসমান, সাত জমিন এবং এতে প্রস্থিত পর্বতরাজির থেকেও বেশি। রাসূল বললেন, তোমার গুনাহ বড় না আল্লাহর আরশ বড়? সে বলল, আমার গুনাহ বড়। রাসূল আবার বললেন, তোমার আল্লাহ (আল্লাহর ক্ষমা) বড় না তোমার গুনাহ বড়? সে বলল, আল্লাহ বড় ও মহান। অতঃপর রাসূল বললেন, কেবল বড় সত্তাই বড় গুনাহ ক্ষমা করে থাকেন।

এরপর রাসূল বললেন, তোমার গুনাহ সম্পর্কে আমাকে অবহিত কর। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার লজ্জা করছে। রাসূল বললেন, তোমার গুনাহের কথা বল। সে বলল, আমি কাফন চোর ছিলাম, সাত বছর ধরে আমি এই কাজ করছি। এর মধ্যে এক আনসারী যুবতী মারা গেল যথারীতি আমি তার কবর খুঁড়ে কাফন খুলে নিলাম। অনতিদূরে আসতেই শয়তান আমাকে প্ররোচিত করে। ফলে আমি ফিরে এসে উক্ত মৃত যুবতীর সাথে সহবাসে লিপ্ত হই। তারপর কিছু দূরে যেতে না যেতেই যুবতী দাঁড়িয়ে বলল, তোমার ধ্বংস হে যুবক! বিচার দিনে যিনি বিচার করবেন, তার থেকে কি তোমার একটু লজ্জাবোধ হয় না? যিনি জালেম থেকে মাজলুমের বদলা নিবেন? তুমি মৃতদের মজলিসে আমাকে নগ্ন করে গেলে, তারপর আমার আল্লাহর সামনে আমাকে নাপাক অবস্থায় দাঁড়াতে বাধ্য করলে?

এই ঘটনা শুনে রাসূল লাফিয়ে উঠে যুবকটিকে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়ে বললেন, বের হয়ে যা গুনাহগার কোথাকার! জাহান্নাম তোর জন্য অপেক্ষা করছে।

যুবকটি সেখান থেকে বের হয়ে গেল এবং অনবরত চল্লিশ রাত আল্লাহর নিকট তাওবা করল। চল্লিশ দিন পূর্ণ হলে সে আসমানের দিকে হাত তুলে দোয়া করল, হে মুহাম্মদ! আদম ও হাওয়া আ.-এর রব! যদি তুমি আমাকে ক্ষমা করে থাক, তাহলে মুহাম্মদ ও তার সাথীদেরকে জানিয়ে দাও। অন্যথায় আসমান থেকে এক খণ্ড আগুন পাঠিয়ে আমাকে জ্বালিয়ে দাও এবং আমাকে আখেরাতের আযাব থেকে মুক্তি দাও।

তখন হযরত জিবরাঈল আ. রাসূল ﷺ-এর নিকট এসে বললেন, হে মুহাম্মদ! আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক, আপনার রব! আপনাকে সালাম পাঠিয়েছেন। রাসূল বললেন, তিনি নিজে সালাম, সালাম তার কাছ থেকেই আসে এবং তার কাছে ফিরে যায়। জিবরাঈল বললেন, আল্লাহ তা'আলা জিজ্ঞেস করেছেন, আপনি কি সৃষ্টিকুলকে সৃষ্টি করেছেন? রাসূল বললেন, না, বরং তিনিই আমাকে এবং সৃষ্টিকুলকে সৃষ্টি করেছেন। জিবরাঈল বললেন, তিনি জিজ্ঞেস করেছেন, আপনি কি তাদের রিযিক দান করেন? রাসূল বললেন, না, বরং তিনিই আমাকে এবং সৃষ্টিকুলকে রিযিক দান করেন। জিবরাঈল আ. বললেন, আপনি কি তাদের তাওবা কবুল করেন, তাদের ক্ষমা করেন? রাসূল বললেন, না, বরং তিনিই আমাকে এবং তাদেরকে ক্ষমা করেন। জিবরাঈল বললেন, আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, আপনি আমার বান্দাকে ক্ষমা করে দিন। কারণ, আমি তাকে ক্ষমা করে দিয়েছি। তখন রাসূল সে যুবকটিকে ডেকে এনে তার তাওবা কবুলের সুসংবাদ দিলেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px