📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ > 📄 লিপ্ত থাকা পরিহার করবে

📄 লিপ্ত থাকা পরিহার করবে


عَنِ الْحَسَنِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: التَّائِبُ مِنَ الذَّنْبِ كَمَنْ لَا ذَنْبَ لَهُ، وَإِذَا أَحَبَّ اللَّهُ عَبْدًا لَمْ يَضُرَّهُ ذَنْبُ. ثُمَّ تَلَا: إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ (البقرة : ۲۲۲) فَقِيلَ: وَمَا عَلَامَةُ التَّوْبَةِ؟ قَالَ: النَّدَامَةُ.

হযরত হাসান রহ. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, গুনাহ থেকে তাওবাকারী ব্যক্তি নিষ্পাপ ব্যক্তির মতো। আল্লাহ কোনো বান্দাকে ভালোবাসলে তার গুনাহ তার কোনো ক্ষতি করে না। অতঃপর রাসূল ﷺ এ আয়াত পাঠ করেন,
إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ

অর্থ: নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা তাওবাকারী ও পবিত্রতা অর্জনকারীদেরকে ভালোবাসেন। ১৪৩

তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, তাওবার আলামত কী? তিনি বললেন, অনুতপ্ত হওয়া। ১৪৪

عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ، قَالَ: اسْتِغْفَارُ بِلَا إِقْلَاعٍ تَوْبَةُ الْكَذَّابِينَ.

হাসান বসরী রহ. বলেন, গুনাহ না ছেড়ে তাওবা করা মিথ্যাবাদীদের কাজ।

টিকাঃ
১৪৩. সূরা বাকারা: আয়াত-২২২
১৪৪. মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-৪২৯৯; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-৪২৫০; মুসনাদে আবী ইয়ালা: হাদীস-৪৪১৪; হাদীসটি হাসান [আলবানী, সহীহুত তারগীব: ৩১৭১]।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ > 📄 তাওবাকারী নিষ্পাপের মতই

📄 তাওবাকারী নিষ্পাপের মতই


عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: التَّائِبُ مِنَ الذَّنْبِ كَمَنْ لَا ذَنْبَ لَهُ.

হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, গুনাহ থেকে তাওবাকারী ব্যক্তি নিষ্পাপ ব্যক্তির মতো।১৪৫

عَنْ قَتَادَةَ، فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: {وَهُوَ الَّذِي يَقْبَلُ التَّوْبَةَ عَنْ عِبَادِهِ} [الشورى: ٢٥] قَالَ: إِنَّ إِبْلِيسَ قَالَ : وَعِزَّتِكَ لَا أُفَارِقُ ابْنَ آدَمَ مَا دَامَ فِيهِ الرُّوحُ. فَقَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: وَعِزَّتِي وَجَلَالِي لَا أَحْجُبُ التَّوْبَةَ عَنْ عَبْدِي مَا لَمْ يُغَرْغِرُ بِنَفْسِهِ.

হযরত কাতাদা রহ. আল্লাহ তা'আলার বাণী وَهُوَ الَّذِي يَقْبَلُ التَّوْبَةَ عَنْ عِبَادِهِ অর্থ: তিনি তার বান্দাদের তাওবা কবুল করেন- এর ব্যাখ্যায় বলেন, ইবলীস বলেছিল, আপনার ইজ্জতের কসম, আদম সন্তানের দেহে রুহ থাকা পর্যন্ত আমি তাকে ছাড়ব না। আল্লাহ তা'আলা বলেছিলেন, আমার ইজ্জত ও জালালের কসম, রুহ কণ্ঠনালিতে আসার পূর্ব পর্যন্ত আমি আমার বান্দাদের তাওবার দরজা বন্ধ করব না।১৪৬

টিকাঃ
১৪৫. কানযুল উম্মাল: হাদীস-১০১৬৩; ইবনে আবিদ্দুনইয়া ফিল ইসতিগফার: হাদীস-১।
১৪৬. তাফসীরে ত্ববারী: ২১/৫২৭; মুসনাদে আহমাদ: ১১১৪৫; মুসনাদে আবী ইয়ালা: ১৪৩৫; হাদীসটি হাসান [শুয়াইব আরনাউত]।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ > 📄 তাওবার দরজা

📄 তাওবার দরজা


عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَسَّالٍ الْمُرَادِيِّ، أَنَّهُ قَالَ: قَالَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَتَعْلَمُونَ مَا بَابُ التَّوْبَةِ؟ قُلْنَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ. قَالَ: إِنَّ لِلتَّوْبَةِ بَابًا خَلَقَهُ اللَّهُ قِبَلَ الْمَغْرِبِ عَرْضُهُ مَسِيرَةَ سَبْعِينَ عَامًا لَا يُغْلَقُ ذَلِكَ الْبَابُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ قِبَلِ الْمَغْرِبِ، ثُمَّ قَرَأَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يَوْمَ يَأْتِي بَعْضُ آيَاتِ رَبِّكَ لَا يَنْفَعُ نَفْسًا إِيمَانُهَا.

হযরত সাফওয়ান ইবনে আসসাল রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ একদা আমাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কি জান তাওবার দরজা কী? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন, তাওবার একটি দরজা আছে। আল্লাহ তা পশ্চিম দিকে সৃষ্টি করেছেন। তার প্রস্থ সত্তর বছরের পথ। পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয় হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তা বন্ধ করা হবে না। এরপর রাসূল ﷺ এই আয়াত পাঠ করলেন, يَوْمَ يَأْتِي بَعْضُ آيَاتِ رَبِّكَ لَا يَنفَعُ نَفْسًا إِيمَانُهَا অর্থ: যেদিন আপনার রবের পক্ষ থেকে কোনো নিদর্শন আসবে তখন কোনো ব্যক্তির ঈমান কাজে আসবে না। ১৪৭ ১৪৮

টিকাঃ
১৪৭. সূরা আনআম: আয়াত-১৫৮
১৪৮. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-৩৫৩৫; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-১৮০৮০; হাদীসটি সহীহ।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ > 📄 আরেফের গুণসমূহ

📄 আরেফের গুণসমূহ


عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي نُعَيْمٍ، قَالَ: مَشَيْتُ أَنَا وَصَالِحُ بْنُ حَيَّانَ حَتَّى أَتَيْنَا أَبَا سَلَمَةَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، فَسَأَلْنَاهُ عَنِ الرَّجُلِ يُذْنِبُ الذَّنْبَ ثُمَّ يَتُوبُ. فَقَالَ لَنَا: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ الْعَبْدَ لَيُذْنِبُ الذَّنْبَ، فَيَكُونُ نُصْبَ عَيْنِهِ إِذَا ذَكَرَهُ اسْتَغْفَرَ مِنْهُ، حَتَّى يُدْخِلَهُ اللَّهُ بِهِ الْجَنَّةَ.

হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আবূ নুআইম রহ. বলেন, আমি ও সালেহ ইবনে হাইয়্যান আবূ সালামা ইবনে আব্দুর রহমান এর নিকট গেলাম। আমরা তাঁকে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম, যে গুনাহ করে তাওবা করে। তিনি বললেন, রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, কোনো বান্দা যখন গুনাহ করে তখন তা তার চোখের সামনে থাকে, যখনই তা তার মনে পড়ে তখনই সে তাওবা করে। পরিশেষে সে এ কারণে জান্নাতে প্রবেশ করে।
হযরত ইয়াহইয়া ইবনে মুআয আর-রাযী রহ. বলেন, আরেফ ব্যক্তি আল্লাহর কাছে তার তিনটি বিষয় চেয়ে নেয়। যথা- ১. হে আল্লাহ! যদি আমি আপনার আনুগত্য করি, তাহলে আমাকে এর বিনিময়ে আত্মতৃপ্তি দান করবেন না, বরং আরো বিনয়ী হওয়ার তাওফীক দান করুন। ২. যদি আমি আপনার নাফরমানী করি, তাহলে আমাকে ভয়ের পোশাক পরিয়ে দিন। ৩. আর যদি আপনি আমাকে কোনো কিছু দান করেন, তাহলে আমাকে অহংকারী বানাবেন না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00