📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 ওয়াহশী রাযি.-এর ইসলাম গ্রহণ

📄 ওয়াহশী রাযি.-এর ইসলাম গ্রহণ


عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، أَنَّ وَحْشِيًّا قَاتِلَ حَمْزَةَ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ بَعَثَ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنِّي أُرِيدُ أَنْ أَسْلَمَ، وَقَدْ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {وَالَّذِينَ لَا يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهَا آخَرَ وَلَا يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ وَلَا يَزْنُونَ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ يَلْقَ أَثَامًا} [الفرقان: ٦٨] وَقَدْ عَمِلْتُ هَذِهِ الثَّلَاثَ كُلَّهَا، فَهَلْ لِي مِنْ تَوْبَةٍ؟ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى: {إِلَّا مَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا} إِلَى آخِرِ الْآيَةِ، فَقَالَ وَحْشِيٌّ : هَذَا شَرْطٌ شَدِيدٌ، لَا أَدْرِي لَعَلِّي لَا أَقْدِرُ عَلَيْهِ، فَنَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ: {إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدِ افْتَرَى إِثْمًا عَظِيمًا} [النساء: ٤٨] فَقَالَ وَحْشِيٌّ: هَذَا فِي الْمَشِيئَةِ، فَلَا أَدْرِي يُغْفَرُ لِي أَمْ لَا. فَنَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ: {قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ} [الزمر: ٥٣] فَقَالَ وَحْشِيٌّ: هَذَا أَجْوَدُ، ثُمَّ أَسْلَمَ.

হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত। হযরত হামযা রাযি.-এর হত্যাকারী ওয়াহশী রাসূল ﷺ-এর নিকট সংবাদ পাঠাল যে, সে ইসলাম গ্রহণ করতে চায়। কিন্তু আল্লাহ তা'আলা বলেছেন,
وَالَّذِينَ لَا يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ وَلَا يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ وَلَا يَزْنُونَ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ يَلْقَ أَثَامًا

অর্থ: আর যারা আল্লাহর সাথে অন্য কোনো উপাস্যের ইবাদত করে না, আল্লাহ যার হত্যা অবৈধ করেছেন সঙ্গত কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না। যারা এ কাজ করে তারা শাস্তির সম্মুখীন হবে।১৩৭
অথচ আমি এই তিনটি কাজই করেছি। আমার কি তাওবার কোনো সুযোগ আছে? তখন এই আয়াত নাযিল হলো,
إِلَّا مَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا

অর্থ: কিন্তু যারা তাওবা করে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে। ১৩৮
ওয়াহশী বলল, এটা তো খুবই কঠিন শর্ত। জানি না, আমি এ শর্ত পূরণ করতে পারব কি না। তখন এই আয়াত নাযিল হলো,
إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ

অর্থ: নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা তাঁর সাথে শরীক করার গুনাহ ক্ষমা করেন না। এ ছাড়া যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দেন। ১৩৯
ওয়াহশী বলল, এখানে তো আল্লাহর ইচ্ছার কথা বলা হয়েছে। আমি জানি না, আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করার ইচ্ছা করবেন কি না। তখন এই আয়াত নাযিল হলো,
قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ

অর্থ: বলুন, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের উপর যুলুম করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গুনাহ মাফ করেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। ১৪০
তখন ওয়াহশী বলল, এটা উত্তম। এরপর সে ইসলাম গ্রহণ করল। ১৪১

টিকাঃ
১৩৭. সূরা ফুরকান: আয়াত-৬৮
১৩৮. সূরা ফুরকান: আয়াত-৭০
১৩৯. সূরা নিসা: আয়াত-৪৮
১৪০. সূরা যুমার: আয়াত-৫৩
১৪১. আল-মুজামুল কাবীর: ১১/১৮০; কানযুল উম্মাল: হাদীস-১০১৭৩; হাদীসটির সনদ হাসান।

হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল ﷺ-এর চাচা হযরত হামজা রাযি.-এর হত্যাকারী ওয়াহ্শী মক্কা থেকে রাসূল ﷺ-কে লিখে পাঠালেন, আমি ইসলাম গ্রহণ করতে আগ্রহী, কিন্তু আপনার উপর নাযিল হওয়া কুরআনের এ আয়াত আমাকে ইসলাম গ্রহণ করা থেকে বাধা দিচ্ছে— ‘ওয়াল্লাযীনা লা ইয়াদঊনা মা’আল্লা-হি ইলা-হান আ-খরা ওয়ালা ইয়াক্বতুলূনান নাফ্সাল্লাতী হাররামাল্লা-হু ইল্লা বিলহাক্কি ওয়ালা ইয়াযনূন...’ অর্থ: যারা আল্লাহর সাথে অন্য কোনো ইলাহকে ডাকে না, অন্যায়ভাবে আল্লাহর হারাম করা জীবনকে খুন করে না এবং ব্যভিচার করে না, যে ব্যক্তি তা করে সে তার শাস্তি ভোগ করবে।

আমি তো এই তিনটি অপরাধই করেছি, আমার কি তাওবার কোনো সুযোগ আছে? তখন নিম্নোক্ত আয়াতটি নাযিল হয়— ‘ইল্লা মান তা-বা ওয়া আ-মানা ওয়া আমিলা আমালান স-লিহান ফাউলা-ইকা ইউবাদ্দিলুল্লা-হু সাইয়্যিআ-তিহিম হাসানা-ত...’ অর্থ: তবে যারা তাওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকাজ করে আল্লাহ তাদের গুনাহকে নেক আমলে পরিণত করে দিবেন।

তখন রাসূল ওয়াহশীর নিকট এ আয়াত লিখে পাঠালেন। ওয়াহশী পুনরায় পত্র পাঠালেন, এই আয়াতেও তো সৎকাজের শর্ত দেওয়া হয়েছে, আমি তো জানি না, আমি সৎকাজ করতে সক্ষম হব কিনা? তখন নিম্নোক্ত আয়াতটি নাযিল হলো— ‘ইন্নাল্লা-হা লা ইয়াগফিরু আইঁ ইউশ্রাকা বিহী ওয়া ইয়াগফিরু মা দূনা যা-লিকা লিমাইঁ ইয়াশা-উ...’ অর্থ: নিশ্চয় আল্লাহ তার সাথে শিরককে ক্ষমা করবেন না, তা ছাড়া (অন্যান্য গুনাহ) তিনি যাকে ইচ্ছে ক্ষমা করে দিবেন।

এটা লিখেও ওয়াহ্শির নিকট পাঠানো হলো। তিনি আবার পত্র দিলেন, এই আয়াতেও তো একটি শর্ত আছে, আমাকে ক্ষমা করার ইচ্ছা করা হবে কি না সেটা তো আমার জানা নেই। তখন নাযিল হলো নিম্নোক্ত আয়াতটি— ‘কুল ইয়া ইবা-দিয়াল্লাযীনা আস্রাফূ আলা আন্ফুসিহিম লা তাক্ব্নাত্বূ মির রহমাতিল্লাহি ইন্নাল্লা-হা ইয়াগফিরুয যুনূবা জামীআন...’ অর্থ: বলো, হে আমার বান্দারা, যারা নিজেদের উপর অবিচার করেছ! আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন, নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল ও দয়ালু।

অতঃপর ওয়াহ্শীর কাছে এই আয়াত লিখে পাঠানো হলো। সে দেখতে পেল এতে কোনো শর্ত দেওয়া হয়নি। সাথে সাথে সে মদীনায় এসে ইসলাম গ্রহণ করল।

টিকাঃ
২০৩. সূরা ফুরকান: আয়াত-৬৮
২০৪. সূরা ফুরকান: আয়াত-৭০
২০৫. সূরা নিসা: আয়াত-১১৬
২০৬. সূরা যুমার: আয়াত-৫৩
২০৭. তাফসীরে ইবনে কাসীর ৪/৬৩; আল্লামা হাইসামী রহ. বলেন, হাদীসটি ত্ববারানী বর্ণনা করেছেন। সনদে আবিন ইবনে সুলাইমান নামক একজন জয়ীফ রাবী থাকায় হাদীসটি জয়ীফ।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 তাওবার শেষ সময়

📄 তাওবার শেষ সময়


عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَقْبَلُ تَوْبَةَ الْعَبْدِ مَا لَمْ يُغَرْغِرْ

হযরত ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, রুহ কণ্ঠনালিতে পৌঁছার আগ পর্যন্ত আল্লাহ তা'আলা বান্দার তাওবা কবুল করেন। ১৪২

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: لَا يَتُوبُ الْعَبْدُ حَتَّى يَتُوبَ اللَّهُ عَلَيْهِ، وَلَا يَكُونُ الْعَبْدُ مُؤْمِنًا حَتَّى يُحِبَّهُ اللَّهُ، وَلَا يُحِبُّهُ اللَّهُ حَتَّى يَكُونَ الْعَبْدُ مُخْلِصًا فِي عَمَلِهِ وَفِي دُعَائِهِ، وَلَا يَكُونُ كَذَلِكَ حَتَّى يَكُونَ قَوْلُهُ وَفِعْلُهُ سَوَاءٌ، وَسِرُّهُ وَعَلَانِيَتُهُ سَوَاءٌ.

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা'আলা কোনো বান্দাকে তাওবার তাওফীক না দেওয়া পর্যন্ত সে তাওবা করতে পারে না। আল্লাহ তা'আলা কাউকে না ভালোবাসা পর্যন্ত সে মুমিন হতে পারে না। বান্দার আমল ও দোয়াতে ইখলাস না থাকা পর্যন্ত আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন না। আর ইখলাস তখনই অর্জিত হবে, যখন তার কথা ও কাজ, গোপন ও প্রকাশ্য এক হয়ে যাবে।

ٹکا:
১৪২. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-৩৫৩৭; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-৪২৫৩; হাদীসটি হাসান।

হযরত মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহমান সালামী তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি একদল সাহাবীর সাথে বসে ছিলাম। সে সময় একজন বললেন, আমি রাসূল ﷺ কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি মৃত্যুর অর্ধদিন পূর্বে তাওবা করবে আল্লাহ তার তাওবাও কবুল করবেন। তখন একজন জিজ্ঞেস করলেন, আপনি নিজে রাসূল ﷺ-এর থেকে শুনেছেন? তিনি বললেন হ্যাঁ। তখন আরেকজন সাহাবী বললেন, আমি রাসূল ﷺ কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি মৃত্যুর এক ঘণ্টা পূর্বে তাওবা করবে আল্লাহ তার তাওবা কবুল করবেন। এবং অন্যজন বললেন, আমি রাসূল ﷺ কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি মৃত্যুর গরগরা শুরু হওয়ার পূর্বে তাওবা করবে আল্লাহ তার তাওবা কবুল করবেন।

হযরত মুহাম্মাদ ইবনে মুতাররিফ বলেন, আল্লাহ তা'আলা বলেন, হায়রে আদমের সন্তান! যে গুনাহ করে আমার নিকট ক্ষমা চায়, আমি তাকে ক্ষমা করে দেই। সে পুনরায় গুনাহ করে এবং আবার ক্ষমা চায়, আমি আবার তাকে ক্ষমা করে দেই। হায়রে আদম সন্তান! সে না গুনাহ ছাড়ে, না আমার রহমত থেকে নিরাশ হয়! হে আমার ফেরেশতারা তোমরা সাক্ষী থাক আমি তাকে ক্ষমা করে দিলাম।

হযরত মুতআব বিন সামী রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাদের পূর্ববর্তী এক ব্যক্তি সর্বদা গুনাহ করতো। একদিন পথ চলতে চলতে সে তার অতীত নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ল। অতঃপর তিনবার ‘গুফরানাকা আল্লাহুম্মা’ অর্থ ‘হে আল্লাহ! আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’ পড়লো। ওই অবস্থাতেই তার মৃত্যু হলো এবং আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন।

হযরত মাকহুল রহ. থেকে বর্ণিত— তিনি বলেন, আমি শুনেছি, হযরত ইবরাহীম আ. কে ঊর্ধ্ব আকাশে নিয়ে যাওয়া হলো তিনি দেখলেন, এক ব্যক্তি যিনা করছে। তিনি তার উপর বদদোয়া করলে, আল্লাহ তাকে ধ্বংস করে দিলেন। তারপর তিনি আরেক ব্যক্তিকে দেখতে পেলেন চুরি করছে। তিনি তার জন্য বদদোয়া করলে আল্লাহ তাকেও ধ্বংস করে দিলেন। তখন আল্লাহ তা'আলা তাকে বললেন, ইবরাহীম! আমার বান্দাদের ছেড়ে দাও। কারণ, আমার বান্দাদের তিন অবস্থার কোনো একটি পাওয়া যাবেই। যথা—
১. وَبَيْنَ أَنْ يَتُوبَ فَأَتُوبَ عَلَيْهِ অর্থাৎ, হয় সে তাওবা করবে এবং আমি তাকে ক্ষমা করে দিব।
২. وَبَيْنَ أَنْ أَسْتَخْرِجَ لَهُ ذُرِّيَةً تَعْبُدُنِي অর্থাৎ, অথবা আমি তার ঔরসে এমন সন্তান জন্ম দেবে যারা আমার ইবাদত করবে।
৩. وَبَيْنَ أَنْ يَغْلِبَ عَلَيْهِ الشَّقَاءُ فَمِنْ وَرَائِهِ جَهَنَّمُ অর্থাৎ, কিংবা তার দুর্ভাগ্য অগ্রগামী হবে, ফলে সে জাহান্নামে যাবে।

ইমাম সমরকন্দী রহ. বলেন, এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, বান্দা যখনই আল্লাহর নিকট তাওবা করবে আল্লাহ তার তাওবা কবুল করেন। সুতরাং আল্লাহর রহমত থেকে কখনো নিরাশ হওয়া উচিত নয়। যেমন কুরআনে কারীমে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন— ‘ইন্নাহূ লা ইয়াইআসু মির রওহিল্লাহি ইল্লাল ক্বাওমুল কা-ফিরূন’ অর্থ: কাফের জাতি ছাড়া আল্লাহর রহমত থেকে কেউ নিরাশ হয় না।

টিকাঃ
২০৮. মুসনাদে আহমাদ: ২৪/২৫৬ (হাদীস- ৬৯২০,১৫৪৯৯); সুনানে তিরমিযী হাদীস-৩৫৩৭; ইমাম তিরমিযী ও শায়েখ শুয়াইব আরনাউত এই মর্মের হাদীসকে হাসান বলেছেন।
২০৯. সূরা ইউসুফ: আয়াত-৮৭

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 লিপ্ত থাকা পরিহার করবে

📄 লিপ্ত থাকা পরিহার করবে


عَنِ الْحَسَنِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: التَّائِبُ مِنَ الذَّنْبِ كَمَنْ لَا ذَنْبَ لَهُ، وَإِذَا أَحَبَّ اللَّهُ عَبْدًا لَمْ يَضُرَّهُ ذَنْبُ. ثُمَّ تَلَا: إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ (البقرة : ۲۲۲) فَقِيلَ: وَمَا عَلَامَةُ التَّوْبَةِ؟ قَالَ: النَّدَامَةُ.

হযরত হাসান রহ. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, গুনাহ থেকে তাওবাকারী ব্যক্তি নিষ্পাপ ব্যক্তির মতো। আল্লাহ কোনো বান্দাকে ভালোবাসলে তার গুনাহ তার কোনো ক্ষতি করে না। অতঃপর রাসূল ﷺ এ আয়াত পাঠ করেন,
إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ

অর্থ: নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা তাওবাকারী ও পবিত্রতা অর্জনকারীদেরকে ভালোবাসেন। ১৪৩

তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, তাওবার আলামত কী? তিনি বললেন, অনুতপ্ত হওয়া। ১৪৪

عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ، قَالَ: اسْتِغْفَارُ بِلَا إِقْلَاعٍ تَوْبَةُ الْكَذَّابِينَ.

হাসান বসরী রহ. বলেন, গুনাহ না ছেড়ে তাওবা করা মিথ্যাবাদীদের কাজ।

টিকাঃ
১৪৩. সূরা বাকারা: আয়াত-২২২
১৪৪. মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-৪২৯৯; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-৪২৫০; মুসনাদে আবী ইয়ালা: হাদীস-৪৪১৪; হাদীসটি হাসান [আলবানী, সহীহুত তারগীব: ৩১৭১]।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন— ‘ওয়াহুওয়াল্লাযী ইয়াক্ববালুত তাওবাতা আন ইবা-দিহী ওয়া ইয়া’ফূ আনিস সাইয়িআ-তি...’ অর্থ: তিনিই তার বান্দাদের তাওবা কবুল করেন এবং গুনাহসমূহ মাফ করে দেন।

সুতরাং জ্ঞানী ব্যক্তির কাজ হলো সর্বদা আল্লাহর নিকট তাওবা করা এবং পাপে সদালিপ্ত না থাকা। কারণ, যে ব্যক্তি গুনাহ করার পর তাওবা করে তাকে পাপে লিপ্ত বলা হবে না, যদিও সে এক দিনে সত্তর বার গুনাহ করে।

হযরত আবূ বকর রাযি. কর্তৃক রাসূল থেকে বর্ণিত আছে। রাসূল বলেছেন, যে ব্যক্তি তাওবা করে সে দিনে সত্তর বার গুনাহ করলেও, পাপে সদালিপ্ত নয়। নবী করীম থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি দিনে একশত বার আল্লাহর নিকট তাওবা করে থাকি।

হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল-এর কাছ থেকে যে হাদীসই শুনেছি, তাই আমার উপকারে এসেছে। আর আমার কাছে অন্য কেউ হাদীস বর্ণনা করলে আমি তাকে কসম দিয়ে বলতাম। সে কসম খেলে আমি তাকে বিশ্বাস করতাম। হযরত আবূ বকর রাযি. আমার নিকট বর্ণনা করেন, রাসূল ইরশাদ করেছেন, কোনো ব্যক্তি যদি গুনাহ করার পর ভালোভাবে উযূ করে দুই রাকাআত নামায পড়ে আল্লাহর নিকট ক্ষমা চায় নিশ্চয় আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিবেন।

অতঃপর তিনি নিম্নোক্ত আয়াতটি পাঠ করলেন— ‘ওয়ামাইঁ ইয়া’মাল সূআন আও ইয়াযলিম নাফসাহূ ছুম্মা ইয়াস্তাগফিরিল্লা-হা ইয়াজিদিলা-হা গাফূরার রহীমা’ অর্থ: যে ব্যক্তি মন্দ কাজ করবে কিংবা নিজের উপর অবিচার করবে সে আল্লাহকে ক্ষমাশীল ও দয়ালু পাবে। অন্য এক রেওয়াতে আছে এরপর তিনি এই আয়াতটি পাঠ করলেন— ‘ওয়াল্লাযীনা ইযা ফায়ালূ ফা-হিশাতান আও যলামূ আন্ফুসাহুম যাকারুল্লা-হা ফাস্তাগফারূ লিয়ুনূবিহিম...’ অর্থ: এবং যারা কোনো অশ্লীল কাজ করে অথবা নিজেদের উপর অবিচার করে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজেদের গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আল্লাহ ব্যতীত কে গুনাহ ক্ষমা করবে? এবং তারা যা করে ফেলে, জেনে শুনে তারই পুনরাবৃত্তি করে না। তাদের পুরষ্কার হলো, তাদের প্রতিপালকের ক্ষমা এবং জান্নাত, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত: সেখানে তারা স্থায়ী হবে এবং সৎকর্মশীলদের পুরষ্কার কত উত্তম।

টিকাঃ
২১০. সূরা শুরা: আয়াত-২৫
২১১. সুনানে আবি দাউদ: ২/৬২৫ হাদীস-১৫১৪; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-৩৫৫৯; শায়েখ শুয়াইব আরনাউত বলেন, হাদীসটিকে হাফেজ ইবনে কাসির, যাইলায়ী, ইবনে হাজার ও আইনী প্রমুখ হাসান বলেছেন।
২১২. সহীহ মুসলিম: হাদীস- ২৭০২: সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-১৫১৫।
২১৩. সুনানে তিরমিযী হাদীস-৪০৮,৩২৫১; সুনানে আবী দাউদ হাদীস-১৫২১; হাদীসটি সহীহ।
২১৪. সূরা নিসা: আয়াত-১১০
২১৫. সূরা আলে ইমারন ১৩৫-১৩৬

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 তাওবাকারী নিষ্পাপের মতই

📄 তাওবাকারী নিষ্পাপের মতই


عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: التَّائِبُ مِنَ الذَّنْبِ كَمَنْ لَا ذَنْبَ لَهُ.

হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, গুনাহ থেকে তাওবাকারী ব্যক্তি নিষ্পাপ ব্যক্তির মতো।১৪৫

عَنْ قَتَادَةَ، فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: {وَهُوَ الَّذِي يَقْبَلُ التَّوْبَةَ عَنْ عِبَادِهِ} [الشورى: ٢٥] قَالَ: إِنَّ إِبْلِيسَ قَالَ : وَعِزَّتِكَ لَا أُفَارِقُ ابْنَ آدَمَ مَا دَامَ فِيهِ الرُّوحُ. فَقَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: وَعِزَّتِي وَجَلَالِي لَا أَحْجُبُ التَّوْبَةَ عَنْ عَبْدِي مَا لَمْ يُغَرْغِرُ بِنَفْسِهِ.

হযরত কাতাদা রহ. আল্লাহ তা'আলার বাণী وَهُوَ الَّذِي يَقْبَلُ التَّوْبَةَ عَنْ عِبَادِهِ অর্থ: তিনি তার বান্দাদের তাওবা কবুল করেন- এর ব্যাখ্যায় বলেন, ইবলীস বলেছিল, আপনার ইজ্জতের কসম, আদম সন্তানের দেহে রুহ থাকা পর্যন্ত আমি তাকে ছাড়ব না। আল্লাহ তা'আলা বলেছিলেন, আমার ইজ্জত ও জালালের কসম, রুহ কণ্ঠনালিতে আসার পূর্ব পর্যন্ত আমি আমার বান্দাদের তাওবার দরজা বন্ধ করব না।১৪৬

টিকাঃ
১৪৫. কানযুল উম্মাল: হাদীস-১০১৬৩; ইবনে আবিদ্দুনইয়া ফিল ইসতিগফার: হাদীস-১।
১৪৬. তাফসীরে ত্ববারী: ২১/৫২৭; মুসনাদে আহমাদ: ১১১৪৫; মুসনাদে আবী ইয়ালা: ১৪৩৫; হাদীসটি হাসান [শুয়াইব আরনাউত]।

হযরত হাসান বসরী রহ. রাসূল থেকে বর্ণনা করেন। তিনি ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা'আলা যখন শয়তান কে জান্নাত থেকে বিতাড়িত করেন তখন সে বলল, আপনার মর্যাদা ও বড়ত্বের শপথ! যতদিন আদমের সন্তানদের দেহে রূহ থাকবে ততদিন আমি তাদের পিছু ছাড়বো না। তখন আল্লাহ তা'আলা বললেন, মৃত্যুর গরগরা শুরুর আগ পর্যন্ত আমি তাদের তাওবার দরজা বন্ধ করবো না।

হযরত আবূ উমামা আল-বাহেলী রাযি. থেকে বর্ণিত— রাসূল ইরশাদ করেন, ডান কাঁধের ফেরেশতা আমীন বা খবরদারী করে থাকেন বাম কাঁধের ফেরেশতার উপর। বান্দা ভালো কাজ করলে ডান কাঁধের ফেরেশতা তার সওয়াব দশগুন পরিমাণ লিখে রাখেন। আর যদি কোনো খারাপ কাজ করে এবং বাম কাঁধের ফেরেশতা লিপিবদ্ধ করে রাখতে চান, তখন ডান কাঁধের ফেরেশতা বলেন, একটু অপেক্ষা কর। আদেশ মত সে ছয় কিংবা সাত ঘণ্টা অপেক্ষা করে। এর মধ্যে যদি সে তাওবা করে তাহলে কিছুই লেখা হয় না। আর যদি তাওবা না করে, তাহলে একটি গুনাহই লেখা হয়।

ইমাম সমরকন্দী রহ. বলেন, এই হাদীসটি রাসূল এর অপর একটি হাদীস: ‘আত্তাইবু মিনায যাম্বি কামান লা যাম্বা লাহূ’ অর্থাৎ, “গুনাহ থেকে তাওবাকারী ব্যক্তি ওই ব্যক্তির ন্যায়, যার কোনো গুনাহ নেই” এর অনুরূপ অর্থবহ।

অপর একটি বর্ণনায় আছে— বান্দা যখন একটি গুনাহ করে তা আরেকটি গুনাহ করার আগ পর্যন্ত লেখা হয় না। আবার যখন আরেকটি গুনাহ করে তখনও লেখা হয় না। এভাবে যখন তার পাঁচটি গুনাহ জমা হয়ে যায় আর সে এর মধ্যে একটি নেকীর কাজ করে, তখন তার জান্য পাঁচটি সওয়াব লেখা হয় আর বাকী পাঁচটির পরিবর্তে উক্ত পাঁচটি গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। এটা দেখে শয়তান আফসোস করে বলে, আদমের সন্তানদের সাথে আমি কিভাবে বিজয়ী হবো! মাত্র একটি নেক আমলের মাধ্যমে সে আমার চেষ্টা সাধনা ব্যর্থ করে দেয়।

টিকাঃ
২১৬. মাজমাউয যাওয়ায়েদ-১০/২০৭ (হাদীস-১৭৫৭৩) আল্লামা হাইসামী বলেছেন, হাদীসটির সনদ সহীহ।
২১৭. হাদীসটিকে শায়েখ নাসির উদ্দীন আলবানী হাসান বলেছেন।
২১৮. সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-৪২৫০; আল্লামা যারকাশি, শায়েখ বিন বায, নাসির উদ্দীন আলবানী ও শায়েখ শুয়াইব আরনাউত প্রমুখ হাদীসটিকে সহীহ ও হাসান বলেছেন।
২১৯. হাদীসটির সনদ সম্পর্কে আমরা অবগত হইনি।

ফন্ট সাইজ
15px
17px