📄 ওয়াহশী রাযি.-এর ইসলাম গ্রহণ
عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، أَنَّ وَحْشِيًّا قَاتِلَ حَمْزَةَ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ بَعَثَ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنِّي أُرِيدُ أَنْ أَسْلَمَ، وَقَدْ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {وَالَّذِينَ لَا يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهَا آخَرَ وَلَا يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ وَلَا يَزْنُونَ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ يَلْقَ أَثَامًا} [الفرقان: ٦٨] وَقَدْ عَمِلْتُ هَذِهِ الثَّلَاثَ كُلَّهَا، فَهَلْ لِي مِنْ تَوْبَةٍ؟ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى: {إِلَّا مَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا} إِلَى آخِرِ الْآيَةِ، فَقَالَ وَحْشِيٌّ : هَذَا شَرْطٌ شَدِيدٌ، لَا أَدْرِي لَعَلِّي لَا أَقْدِرُ عَلَيْهِ، فَنَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ: {إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدِ افْتَرَى إِثْمًا عَظِيمًا} [النساء: ٤٨] فَقَالَ وَحْشِيٌّ: هَذَا فِي الْمَشِيئَةِ، فَلَا أَدْرِي يُغْفَرُ لِي أَمْ لَا. فَنَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ: {قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ} [الزمر: ٥٣] فَقَالَ وَحْشِيٌّ: هَذَا أَجْوَدُ، ثُمَّ أَسْلَمَ.
হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত। হযরত হামযা রাযি.-এর হত্যাকারী ওয়াহশী রাসূল ﷺ-এর নিকট সংবাদ পাঠাল যে, সে ইসলাম গ্রহণ করতে চায়। কিন্তু আল্লাহ তা'আলা বলেছেন,
وَالَّذِينَ لَا يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ وَلَا يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ وَلَا يَزْنُونَ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ يَلْقَ أَثَامًا
অর্থ: আর যারা আল্লাহর সাথে অন্য কোনো উপাস্যের ইবাদত করে না, আল্লাহ যার হত্যা অবৈধ করেছেন সঙ্গত কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না। যারা এ কাজ করে তারা শাস্তির সম্মুখীন হবে।১৩৭
অথচ আমি এই তিনটি কাজই করেছি। আমার কি তাওবার কোনো সুযোগ আছে? তখন এই আয়াত নাযিল হলো,
إِلَّا مَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا
অর্থ: কিন্তু যারা তাওবা করে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে। ১৩৮
ওয়াহশী বলল, এটা তো খুবই কঠিন শর্ত। জানি না, আমি এ শর্ত পূরণ করতে পারব কি না। তখন এই আয়াত নাযিল হলো,
إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ
অর্থ: নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা তাঁর সাথে শরীক করার গুনাহ ক্ষমা করেন না। এ ছাড়া যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দেন। ১৩৯
ওয়াহশী বলল, এখানে তো আল্লাহর ইচ্ছার কথা বলা হয়েছে। আমি জানি না, আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করার ইচ্ছা করবেন কি না। তখন এই আয়াত নাযিল হলো,
قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
অর্থ: বলুন, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের উপর যুলুম করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গুনাহ মাফ করেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। ১৪০
তখন ওয়াহশী বলল, এটা উত্তম। এরপর সে ইসলাম গ্রহণ করল। ১৪১
টিকাঃ
১৩৭. সূরা ফুরকান: আয়াত-৬৮
১৩৮. সূরা ফুরকান: আয়াত-৭০
১৩৯. সূরা নিসা: আয়াত-৪৮
১৪০. সূরা যুমার: আয়াত-৫৩
১৪১. আল-মুজামুল কাবীর: ১১/১৮০; কানযুল উম্মাল: হাদীস-১০১৭৩; হাদীসটির সনদ হাসান।
📄 তাওবার শেষ সময়
عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَقْبَلُ تَوْبَةَ الْعَبْدِ مَا لَمْ يُغَرْغِرْ
হযরত ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, রুহ কণ্ঠনালিতে পৌঁছার আগ পর্যন্ত আল্লাহ তা'আলা বান্দার তাওবা কবুল করেন। ১৪২
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: لَا يَتُوبُ الْعَبْدُ حَتَّى يَتُوبَ اللَّهُ عَلَيْهِ، وَلَا يَكُونُ الْعَبْدُ مُؤْمِنًا حَتَّى يُحِبَّهُ اللَّهُ، وَلَا يُحِبُّهُ اللَّهُ حَتَّى يَكُونَ الْعَبْدُ مُخْلِصًا فِي عَمَلِهِ وَفِي دُعَائِهِ، وَلَا يَكُونُ كَذَلِكَ حَتَّى يَكُونَ قَوْلُهُ وَفِعْلُهُ سَوَاءٌ، وَسِرُّهُ وَعَلَانِيَتُهُ سَوَاءٌ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা'আলা কোনো বান্দাকে তাওবার তাওফীক না দেওয়া পর্যন্ত সে তাওবা করতে পারে না। আল্লাহ তা'আলা কাউকে না ভালোবাসা পর্যন্ত সে মুমিন হতে পারে না। বান্দার আমল ও দোয়াতে ইখলাস না থাকা পর্যন্ত আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন না। আর ইখলাস তখনই অর্জিত হবে, যখন তার কথা ও কাজ, গোপন ও প্রকাশ্য এক হয়ে যাবে।
ٹکا:
১৪২. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-৩৫৩৭; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-৪২৫৩; হাদীসটি হাসান।
📄 লিপ্ত থাকা পরিহার করবে
عَنِ الْحَسَنِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: التَّائِبُ مِنَ الذَّنْبِ كَمَنْ لَا ذَنْبَ لَهُ، وَإِذَا أَحَبَّ اللَّهُ عَبْدًا لَمْ يَضُرَّهُ ذَنْبُ. ثُمَّ تَلَا: إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ (البقرة : ۲۲۲) فَقِيلَ: وَمَا عَلَامَةُ التَّوْبَةِ؟ قَالَ: النَّدَامَةُ.
হযরত হাসান রহ. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, গুনাহ থেকে তাওবাকারী ব্যক্তি নিষ্পাপ ব্যক্তির মতো। আল্লাহ কোনো বান্দাকে ভালোবাসলে তার গুনাহ তার কোনো ক্ষতি করে না। অতঃপর রাসূল ﷺ এ আয়াত পাঠ করেন,
إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ
অর্থ: নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা তাওবাকারী ও পবিত্রতা অর্জনকারীদেরকে ভালোবাসেন। ১৪৩
তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, তাওবার আলামত কী? তিনি বললেন, অনুতপ্ত হওয়া। ১৪৪
عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ، قَالَ: اسْتِغْفَارُ بِلَا إِقْلَاعٍ تَوْبَةُ الْكَذَّابِينَ.
হাসান বসরী রহ. বলেন, গুনাহ না ছেড়ে তাওবা করা মিথ্যাবাদীদের কাজ।
টিকাঃ
১৪৩. সূরা বাকারা: আয়াত-২২২
১৪৪. মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-৪২৯৯; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-৪২৫০; মুসনাদে আবী ইয়ালা: হাদীস-৪৪১৪; হাদীসটি হাসান [আলবানী, সহীহুত তারগীব: ৩১৭১]।
📄 তাওবাকারী নিষ্পাপের মতই
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: التَّائِبُ مِنَ الذَّنْبِ كَمَنْ لَا ذَنْبَ لَهُ.
হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, গুনাহ থেকে তাওবাকারী ব্যক্তি নিষ্পাপ ব্যক্তির মতো।১৪৫
عَنْ قَتَادَةَ، فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: {وَهُوَ الَّذِي يَقْبَلُ التَّوْبَةَ عَنْ عِبَادِهِ} [الشورى: ٢٥] قَالَ: إِنَّ إِبْلِيسَ قَالَ : وَعِزَّتِكَ لَا أُفَارِقُ ابْنَ آدَمَ مَا دَامَ فِيهِ الرُّوحُ. فَقَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: وَعِزَّتِي وَجَلَالِي لَا أَحْجُبُ التَّوْبَةَ عَنْ عَبْدِي مَا لَمْ يُغَرْغِرُ بِنَفْسِهِ.
হযরত কাতাদা রহ. আল্লাহ তা'আলার বাণী وَهُوَ الَّذِي يَقْبَلُ التَّوْبَةَ عَنْ عِبَادِهِ অর্থ: তিনি তার বান্দাদের তাওবা কবুল করেন- এর ব্যাখ্যায় বলেন, ইবলীস বলেছিল, আপনার ইজ্জতের কসম, আদম সন্তানের দেহে রুহ থাকা পর্যন্ত আমি তাকে ছাড়ব না। আল্লাহ তা'আলা বলেছিলেন, আমার ইজ্জত ও জালালের কসম, রুহ কণ্ঠনালিতে আসার পূর্ব পর্যন্ত আমি আমার বান্দাদের তাওবার দরজা বন্ধ করব না।১৪৬
টিকাঃ
১৪৫. কানযুল উম্মাল: হাদীস-১০১৬৩; ইবনে আবিদ্দুনইয়া ফিল ইসতিগফার: হাদীস-১।
১৪৬. তাফসীরে ত্ববারী: ২১/৫২৭; মুসনাদে আহমাদ: ১১১৪৫; মুসনাদে আবী ইয়ালা: ১৪৩৫; হাদীসটি হাসান [শুয়াইব আরনাউত]।