📄 সৎকজের আদেশকারীর পাঁচটি গুণ থাকা আবশ্যক
হযরত সুফইয়ান সাওরী রহ. বলেন, যে ব্যক্তি সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে তার মধ্যে পাঁচটি গুণ থাকা আবশ্যক।
১. সে আল্লাহকে ভয় করবে।
২. সে যা বলবে তা নিজে আমল করবে।
৩. সে দয়ালু হবে।
৪. সে আলেম হবে।
৫. সে মানুষের সাথে কোমল আচরণ করবে।
ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করা ফরজ। তবে যখন আশঙ্কা হবে যে, এতে কোনো ফিতনা সৃষ্টি হবে এবং তার কোনো উপকার হবে না, তখন মুখ দিয়ে বলা থেকে বিরত থাকবে এবং অন্তর দিয়ে ঘৃণা করবে।
হযরত সুফইয়ান সাওরী রহ. বলেন, যে ব্যক্তি সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে তার মধ্যে পাঁচটি গুণ থাকা আবশ্যক।
১. সে আল্লাহকে ভয় করবে।
২. সে যা বলবে তা নিজে আমল করবে।
৩. সে দয়ালু হবে।
৪. সে আলেম হবে।
৫. সে মানুষের সাথে কোমল আচরণ করবে।
ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করা ফরজ। তবে যখন আশঙ্কা হবে যে, এতে কোনো ফিতনা সৃষ্টি হবে এবং তার কোনো উপকার হবে না, তখন মুখ দিয়ে বলা থেকে বিরত থাকবে এবং অন্তর দিয়ে ঘৃণা করবে।
ইমাম সমরকন্দী বলেন, সৎকাজের আদেশকারীর মাঝে পাঁচটি গুণ থাকা আবশ্যক।
১. الْعِلْمُ لِأَنَّ الْجَاهِلَ لَا يُحْسِنُ الْأَمْرَ بِالْمَعْرُوفِ অর্থাৎ ইলম বা জ্ঞান। কারণ, অজ্ঞ ব্যক্তি সঠিকভাবে, সঠিক পদ্ধতিতে সৎকাজের আদেশ করতে পারবে না।
২. أَنْ يَقْصِدَ بِهِ وَجْهَ اللَّهِ تَعَالَى وَإِعْزَازَ الدِّينِ অর্থাৎ, এই কাজের লক্ষ্য হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং দীনের সাহায্য।
৩. الشَّفَقَةُ عَلَى مَنْ يَأْمُرُ بِاللَّينِ وَالتَّوَدُّدِ وَلَا يَكُونُ فَظًّا غَلِيظًا অর্থাৎ, যাকে আদেশ করবে তার প্রতি সহমর্মী ও সদয় হওয়া। তার সাথে কোনো প্রকার রূঢ় আচরণ না করা। আল্লাহ তা'আলা হযরত মূসা আ. ও হারুন আ. কে ফেরাউনের নিকট পাঠানোর সময়ও এই আদেশ করেছিলেন— 'ফাক্বূলা লাহূ ক্বাওলাল লাইয়্যিনান' অর্থ: তোমরা তাকে নরম কথা বল, হয়ত সে উপদেশ গ্রহণ করবে কিংবা ভয় করবে।
৪. أَنْ يَكُونَ صَبُورًا رَحِيمًا অর্থাৎ, ধৈর্য ও সহনশীল হওয়া। লোকমানের কাহিনীতে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন— 'ওয়া'মুর বিল মা'রূফি ওয়ান্হা আনিল মুনকারি ওয়াস্বির আলা মা আসা-বাক ইন্ন যালিকা মিন আযমিল উমূরি' অর্থ: সৎ কাজের আদেশ কর, অসৎ কাজ থেকে নিষেধ কর, এরপর তোমাকে যা আক্রান্ত করবে তার জন্য ধৈর্যধারণ কর।
৫. أَنْ يَكُونَ عَامِلًا بِمَا يَأْمُرُ بِهِ অর্থাৎ, যে কাজের আদেশ করবে নিজেও তা আমল করা, যাতে লোক তার নিন্দা না করতে পারে এবং যাতে আল্লাহ তা'আলার এই ধমকির আওতায় না পড়ে— 'আতা'মুরু নান্-নাসা বিল বিররি ওয়া তানসাওনা আনফুসাকুম' অর্থ: তোমরা কি নিজেদেকে ভুলে থেকে মানুষকে নেক কাজের আদেশ করছ? অথচ তোমরা কিতাব পাঠ কর, তোমরা কি বুঝ না?
হযরত আনাস ইবনে মালেক রাযি. বর্ণনা করেন— রাসূল ইরশাদ করেন, মেরাজের রাতে আমি জাহান্নামে একদলকে দেখতে পেলাম আগুনের কাঁচি দিয়ে তাদের ঠোঁট কাটা হলো— আমি জিবরাঈল আ. কে জিজ্ঞেস করলাম এরা কারা? তিনি বললেন, এরা আপনার উম্মতের খতীবগণ, যারা অন্যদেরকে নেক কাজের আদেশ করত অথচ তারা নিজেরা আমল করতো না। অথচ তারা কিতাব পাঠ করত, তাদের কি কোনো বুঝ নেই? অর্থাৎ, তারা কিতাব পাঠ করত অথচ তদানুযায়ী আমল করত না।
হযরত কাতাদা রহ. বলেন, আমরা শুনেছি তাওরাতে এমনটি লেখা আছে, ইয়াব্না আদামা তাযকুরুনী ওয়া তানসানী ওয়া তাদ'উ ইলাইয়্যা ওয়া তাফিররু মিন্নী, ফাবাত্বিলু মা তাযহাবুন। হে আদম সন্তান! তোমরা লোকদেরকে আমার কথা স্মরণ করিয়ে দাও অথচ নিজে আমাকে ভুলে থাক। আমার দিকে মানুষকে আহ্বান কর, অথচ নিজেই আমার থেকে পালিয়ে যাও। তুমি যা করছ তা নিরর্থক。
হযরত আবূ মুআবিয়া আল-ফাযারী রহ. থেকে বর্ণিত— রাসূল ইরশাদ করেন, আজ তোমরা আল্লাহর বর্ণিত তরীকার উপর আছ। তিনি স্পষ্টভাবে তোমাদেরকে পথ বাতলে দিয়েছেন। যতদিন তোমাদের মাঝে দু'টি মাতলামী তথা জীবনের নেশা এবং অজ্ঞতার মাতলামী ছড়িয়ে না পড়ে, ততদিন তোমরা সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজ থেকে বারণ করবে এবং আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করতে থাকবে। কিন্তু এমন এক সময় আসবে যখন তোমাদের মাঝে দুনিয়ার মুহাব্বত ছড়িয়ে পড়বে। তখন তোমরা সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজের নিষেধ ছেড়ে দেবে এবং আল্লাহর রাস্তা ব্যতীত অন্য রাস্তায় জিহাদ করবে। সে দিন যারা প্রকাশ্যে বা গোপনে আল্লাহর কিতাব মেনে চলবে তারা প্রথম যুগের মুহাজির ও আনসারদের সমপরিমাণ মর্যাদা পাবে।
টিকাঃ
১৮৮. সূরা ত্বহা: আয়াত-৪৪
১৮৯. লুকমান: আয়াত-১৭
১৯০. সূরা বাকারা: আয়াত ৪৪
১৯১. সহীহ মুসলিম: হাদীস-১৭০৬; মুসনাদে আহমাদ: ২০/২২৩।
১৯২. মাজমাউয যাওয়ায়েদ : খণ্ড-৭, পৃষ্ঠা-২৭০, মুসনাদে বাযযার এর সূত্রে। হাদীসটি জয়ীফ।
📄 দীন রক্ষা করার লক্ষ্যে হিজরতের ফযীলত
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ حُبْشِيٍّ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: أَيُّ الْأَعْمَالِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: طُولُ الْقِيَامِ، قِيلَ: فَأَيُّ الصَّدَقَةِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: جُهْدُ الْمُقِلِّ، قِيلَ: فَأَيُّ الْهِجْرَةِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: مَنْ هَجَرَ مَا حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ، قِيلَ: فَأَيُّ الْجِهَادِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: مَنْ جَاهَدَ الْمُشْرِكِينَ بِمَالِهِ وَنَفْسِهِ. قِيلَ: فَأَيُّ الْقَتْلِ أَشْرَفُ؟ قَالَ: مَنْ أُهْرِيقَ دَمُهُ، وَعُقِرَ جَوَادُهُ.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে হুবশী রাযি. থেকে বর্ণিত। একদা রাসূল ﷺ কে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন আমল সর্বোত্তম? তিনি বললেন, লম্বা ক্বিয়াম। জিজ্ঞেস করা হলো, কোন সদকা উত্তম? তিনি বললেন, অভাবীর সদকা। জিজ্ঞেস করা হলো, কোন হিজরত উত্তম? তিনি বললেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়গুলো ত্যাগ করে। জিজ্ঞেস করা হলো, কোন জিহাদ উত্তম? তিনি বললেন, যে ব্যক্তি মাল ও জান দিয়ে জিহাদ করে। জিজ্ঞেস করা হলো, কোন মৃত্যু উত্তম? তিনি বললেন, যে ব্যক্তি এমনভাবে শহীদ হয় যে, তার রক্ত প্রবাহিত হয় এবং তার বাহনও মারা যায়। ১৩৬
টিকাঃ
১৩৬. সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-১৪৪৯; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-১৫৫৬৬; হাদীসটি সহীহ।
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ حُبْشِيٍّ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: أَيُّ الْأَعْمَالِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: طُولُ الْقِيَامِ، قِيلَ: فَأَيُّ الصَّدَقَةِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: جُهْدُ الْمُقِلِّ، قِيلَ: فَأَيُّ الْهِجْرَةِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: مَنْ هَجَرَ مَا حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ، قِيلَ: فَأَيُّ الْجِهَادِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: مَنْ جَاهَدَ الْمُشْرِكِينَ بِمَالِهِ وَنَفْسِهِ. قِيلَ: فَأَيُّ الْقَتْلِ أَشْرَفُ؟ قَالَ: مَنْ أُهْرِيقَ دَمُهُ، وَعُقِرَ جَوَادُهُ.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে হুবশী রাযি. থেকে বর্ণিত। একদা রাসূল ﷺ কে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন আমল সর্বোত্তম? তিনি বললেন, লম্বা ক্বিয়াম। জিজ্ঞেস করা হলো, কোন সদকা উত্তম? তিনি বললেন, অভাবীর সদকা। জিজ্ঞেস করা হলো, কোন হিজরত উত্তম? তিনি বললেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়গুলো ত্যাগ করে। জিজ্ঞেস করা হলো, কোন জিহাদ উত্তম? তিনি বললেন, যে ব্যক্তি মাল ও জান দিয়ে জিহাদ করে। জিজ্ঞেস করা হলো, কোন মৃত্যু উত্তম? তিনি বললেন, যে ব্যক্তি এমনভাবে শহীদ হয় যে, তার রক্ত প্রবাহিত হয় এবং তার বাহনও মারা যায়। ১৩৬
টিকাঃ
১৩৬. সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-১৪৪৯; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-১৫৫৬৬; হাদীসটি সহীহ।
হযরত হাসান বসরী রহ. বর্ণনা করেন, রাসূল ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি দীন রক্ষা করার জন্য এক ভূমি থেকে অন্য ভূমিতে হিজরত করে, যদিও তা এক বিঘতের পরিমাণ হয়, তার উপর জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে এবং সে হযরত ইবরাহীম আ. ও নবী মুহাম্মাদ-এর সঙ্গী হবে। অর্থাৎ, হযরত ইবরাহীম আ. দীন রক্ষার জন্য ইরান থেকে শামে হিজরত করেছিলেন। যেমন কুরআনে এসেছে— 'ওয়া ক্বালা ইন্নী মুহাজিরুন ইলা রব্বী ইন্নাহু হুয়াল আযীযুল হাকীম' অর্থ: তিনি বললেন, আমি আমার রবের নিকট হিজরত করব। নিশ্চয় তিনি পরাক্রমশীল এবং প্রজ্ঞাবান। অন্য আরেক আয়াতে এসেছে— 'ইন্নী যাহিবুন ইলা রব্বী সাইয়াহ্দীন' অর্থ : তিনি বললেন, আমি আমার রবের নিকট চলে যাব, তিনি আমাকে সঠিক পথ দেখাবেন। অনুরূপভাবে নবী করীমও দীন রক্ষার জন্য মক্কা ছেড়ে মদীনায় হিজরত করেছিলেন। সুতরাং কোনো ব্যক্তি যদি দীন রক্ষার জন্য দেশ ত্যাগ করে অন্য দেশে হিজরত করে, তাহলে সে হযরত ইবরাহীম ও নবী মুহাম্মদ এর আদর্শ অনুসরণ করল। ফলে আখেরাতে তাদের সঙ্গী হবে।
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন— 'ওয়ামাইঁ ইয়াখ্রুজ্ মিম বাইতিহী মুহাজিরান ইলাল্লাহি ওয়া রসূুলিহী ছুম্মা ইউদ্রিকহুল মাউতু ফাক্বাদ ওয়াক্বাআ আজরুহু আলাল্লাহি...' অর্থ: কেউ যদি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হিজরত করে (অর্থাৎ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আদেশ মান্য করার জন্য) তার ঘর থেকে বের হয় আর তাকে মৃত্যু আক্রান্ত করে, তাহলে তাকে প্রতিদান দেওয়া আল্লাহর কর্তব্য হয়ে যায়, নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়ালু।
টিকাঃ
১৯৩. আল-ফিরদাউস, দাইলামী : ৩/৫৩০; তাফসীরে ছালাবী: ৩/৩৭২, ৭/৩৮৮; তাখরীজু আহাদীসিল কাশ্শাফ, যাইলায়ী। হাদীসটি হাসান বসরী রহ. হতে মুরসাল সনদে বর্ণিত হয়েছে।
১৯৪. সূরা আনকাবুত : আয়াত নং-২৬
১৯৫. সূরা সাফ্ফাত: আয়াত নং-৯৯
১৯৬. সূরা নিসা: আয়াত-১০০
📄 জিহাদ, হজ্জ বা আল্লাহ তা'আলার আনুগত্যের জন্য বের হওয়া
فِي بَعْضِ الْأَخْبَارِ: مَنْ خَرَجَ حَاجًّا فَمَاتَ أَدْخَلَهُ اللَّهُ الْجَنَّةَ، وَمَنْ خَرَجَ مُعْتَمِرًا فَمَاتَ أَدْخَلَهُ اللَّهُ الْجَنَّةَ، وَمَنْ خَرَجَ غَازِيًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَمَاتَ أَدْخَلَهُ اللَّهُ الْجَنَّةَ، وَمَنْ خَرَجَ فِي طَاعَةِ اللَّهِ تَعَالَى فَمَاتَ أَدْخَلَهُ اللَّهُ الْجَنَّةَ، وَمَنْ خَرَجَ لِشَيْءٍ سِوَى ذَلِكَ فَلَا ضَمَانَ عَلَيْهِ.
কোনো কোনো রেওয়ায়াতে আছে, যে ব্যক্তি হজ্বের উদ্দেশ্যে বের হয়ে মারা যায়, আল্লাহ তাকে জান্নাত দান করবেন। যে ব্যক্তি উমরার উদ্দেশ্যে বের হয়ে মারা যায়, আল্লাহ তাকে জান্নাত দান করবেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের উদ্দেশ্যে বের হয়ে মারা যায়, আল্লাহ তাকে জান্নাত দান করবেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্যের জন্য বের হয়ে মারা যায়, আল্লাহ তাকে জান্নাত দান করবেন। আর যে ব্যক্তি এগুলো ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে বের হয় তার ব্যাপারে কোনো নিশ্চয়তা নেই।
فِي بَعْضِ الْأَخْبَارِ: مَنْ خَرَجَ حَاجًّا فَمَاتَ أَدْخَلَهُ اللَّهُ الْجَنَّةَ، وَمَنْ خَرَجَ مُعْتَمِرًا فَمَاتَ أَدْخَلَهُ اللَّهُ الْجَنَّةَ، وَمَنْ خَرَجَ غَازِيًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَمَاتَ أَدْخَلَهُ اللَّهُ الْجَنَّةَ، وَمَنْ خَرَجَ فِي طَاعَةِ اللَّهِ تَعَالَى فَمَاتَ أَدْخَلَهُ اللَّهُ الْجَنَّةَ، وَمَنْ خَرَجَ لِشَيْءٍ سِوَى ذَلِكَ فَلَا ضَمَانَ عَلَيْهِ.
কোনো কোনো রেওয়ায়াতে আছে, যে ব্যক্তি হজ্বের উদ্দেশ্যে বের হয়ে মারা যায়, আল্লাহ তাকে জান্নাত দান করবেন। যে ব্যক্তি উমরার উদ্দেশ্যে বের হয়ে মারা যায়, আল্লাহ তাকে জান্নাত দান করবেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের উদ্দেশ্যে বের হয়ে মারা যায়, আল্লাহ তাকে জান্নাত দান করবেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্যের জন্য বের হয়ে মারা যায়, আল্লাহ তাকে জান্নাত দান করবেন। আর যে ব্যক্তি এগুলো ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে বের হয় তার ব্যাপারে কোনো নিশ্চয়তা নেই।
রাসূল ইরশাদ করেন— আইয়্যুমা মুসলিমিন খারাজা মিম বাইতিহি মুহাজিরান ইলাল্লাহি তায়ালা ওয়া রসূুলিহি, ওয়া ওয়াদায়া রিজলাহু ফী গারিয রাকিবাতিহি ওয়ালাউ খুত্বওয়াতান ওয়াহিদাতান, ছুম্মা নাযালা বিহিল মাউতু আত্বাহুল্লাহু তায়ালা মিছলা উজূরিল মুহাজিরীন, ওয়া আইয়্যুমা মুসলিমিন ইয়াখ্রুজু মিম বাইতিহি ক্বসিদান ফী সাবীলিল্লাহি ফারাফাস্বাতহু দাব্বাতুহু ক্বাবলাল ক্বিতালি, আও লাদাগাতহু হাম্মাতুন আও মাতা কাইফামা মাতা, ফাহুয়া শাহীদুন, ওয়া আইয়্যুমা মুসলিমিন খারাজা মিম বাইতিহি ইলা বুয়ূাতিল্লাহিল হারামি ছুম্মা নাযালা বিহিল মাউতু ক্বাবলা বুলূগিহি আওজাবাল্লাহু তায়ালা লাহুল জান্নাতা।
যে কোনো মুসলমান আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য হিজরতের উদ্দেশ্যে তার ঘর থেকে বের হয় এবং সাওয়ারীর পিঠে পা রাখে, এক কদমও এগিয়ে যায় আর তার মৃত্যু হয়, তাহলে সে মুহাজিরদের সমপরিমাণ প্রতিদান পাবে। আর যে কোনো মুসলমান আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের উদ্দেশ্যে তার ঘর থেকে বের হয় অতঃপর যুদ্ধ আরম্ভ হওয়ার পূর্বেই তার সাওয়ারী তাকে ফেলে দেয়, কিংবা কোনো বিষাক্ত সাপ তাকে দংশন করে ফলে তার মৃত্যু হয় কিংবা অন্য কোনো কারণে তার মৃত্যু হয়, তাহলে সেও শহীদ হিসাবে গণ্য হবে। আর কোনো ব্যক্তি যদি হজ্ব পালনের উদ্দেশ্যে তার ঘর থেকে বের হয় এবং বাইতুল্লায় পৌঁছার পূর্বেই তার মৃত্যু হয়ে যায়, তাহলে আল্লাহ তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব করে দেন।
ইমাম সমরকন্দী রহ. বলেন, যে ব্যক্তি হিজরত করে না, কিন্তু অন্যের গুনাহ ও অন্যায় দেখে মন খারাপ হয় ও নিজ এলাকায় থেকে আল্লাহর ফরয বিধানগুলো আদায় করতে সামর্থ্যবান হয়, তাহলে হিজরত না-করাতে কোনো অসুবিধা নেই।
হযরত ইবনে মাসউদ রাযি. বলেন, তোমাদের কেউ যদি কোনো অন্যায় দেখে এবং সে তা প্রতিরোধ করার সামর্থ রাখে না, আর আল্লাহ তা'আলাও জানেন যে, সে এটা অপছন্দ করে। সে যেন তিন বার এই দোয়া পাঠ করে— اللَّهُمَّ إِنَّ هَذَا مُنْكَرُ ، فَلَا أَرْضَى بِهِ অর্থ: হে আল্লাহ এটি একটি অন্যায় কাজ, তুমি এর জন্য আমাকে পাকড়াও কর না। এই দোয়া করলে সে সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের থেকে নিষেধ করার সওয়াব পাবে।
হযরত আবু উমইয়া রহ. বলেন, আমি আবূ সা'লাবা আল-খুশানী রাযি. -কে নিম্নোক্ত আয়াত— 'ইয়া আইয়্যুহাল্লাযীনা আমানু আলাইকুম আন্ফুসাকুম' অর্থ: হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের নিয়েই থাক। সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমিও এ সম্পর্কে সবচেয়ে বিজ্ঞ ব্যক্তি অর্থাৎ, রাসূল কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি বলেছিলেন, হে আবূ সা'লাবা! তোমরা সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজ থেকে বারণ করতে থাক। যখন তুমি সবকিছুতে দুনিয়ার প্রাধান্য, লোভের আনুগত্য দেখতে পাবে, প্রতিটি ব্যক্তিকে আত্মমুগ্ধ দেখবে, তখন তুমি নিজেকে নিয়েই থাকবে এবং বুঝবে সামনে তোমাদের ধৈর্যের দিন আসছে। সে সময় যে ব্যক্তি তোমাদের আদর্শ আঁকড়ে ধরবে সে পঞ্চাশ জনের আমলের সওয়াব পাবে। এই শুনে সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসূল আমাদের পঞ্চাশ জনের আমলের সওয়াব নাকি তাদের পঞ্চাশ জনের, রাসূল ইরশাদ করলেন, তোমাদের পঞ্চাশ জনের সমপরিমাণ সওয়াব।
হযরত কায়েস ইবনে আবূ হাযিম রহ. বলেন, আমি হযরত আবূ বকর রাযি. কে বলতে শুনেছি, তোমরা এই আয়াত পড় কিন্তু তার সঠিক ব্যাখ্যা কর না— 'ইয়া আইয়্যুহাল্লাযীনা আমানু আলাইকুম আনফুসাকুম লা ইয়াদ্বুররুকুম মান দ্বাল্লা ইযাহ্ তাদাইতুম ইলাল্লাহি মারজিউকুম জামীয়ান ফায়ুনাব্বিউকুম বিমা কুনতুম তা'মালূন' অর্থ: হে মুমিনগণ তোমরা নিজেদের নিয়ে থাক, তোমরা নিজেরা যদি পথপ্রাপ্ত হও, তাহলে অন্যের পথভ্রষ্টতা তোমাদের কোন ক্ষতি করবে না। তোমরা সকলে আল্লাহর নিকট ফিরে যাবে। অথচ আমি রাসূল কে বলতে শুনেছি— 'মা মিন ক্বাওমিন ইউ'মালু ফীহিম বিল মাআছী, ওয়ালা ইউগাইয়্যিরুনাহা ইল্লা আউশাকা আইঁ ইয়াউম্মাহুমুল্লাহু তায়ালা বিইক্বাবিম মিনহু' যে কোনো জাতির মাঝে যদি গুনাহকর্ম হতে থাকে, আর তারা তা প্রতিরোধ না করে তাহলে হতে পারে আল্লাহর আযাব তাদের সবাই কে অচিরেই পাকড়াও করবে।
হযরত ইবনে মাসউদ রাযি. কে উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, এখনো সে সময় আসেনি। তবে যখন প্রবৃত্তির অনুসরণ এবং বিবাদ ছড়িয়ে পড়বে, তখন মুমিনের কর্তব্য হলো, শুধু নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত থাকা। এটাই এই আয়াতের ব্যাখ্যা।
টিকাঃ
১৯৭. সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-২৪৯৯; তবে ওপরোক্ত তিন শ্রেণীর ব্যাপারে সহীহ হাদীসে এসেছে, "তারা আল্লাহর জিম্মায় থাকে"।
১৯৮. সূরা মায়েদা: আয়াত-১০৫
১৯৯. সুনানে আবী দাউদ : হাদীস-৪৩৪১; সুনানে তিরমিযী : হাদীস-৩০৫৮; ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান গরীব বলেছেন।
২০০. সূরা মায়েদা: আয়াত নং-১০৫
২০১. সুনানে আবী দাউদ হাদীস-৪৩৩৮; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-৩০৫৭; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-০১। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।