📄 গুনাহাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে না তোলার পরিণাম
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ: مَا مِنْ قَوْمٍ يُعْمَلُ فِيهِمْ بِمَعْصِيَةِ اللَّهِ وَهُمْ أَعَزُّ مِمَّنْ يَعْمَلُ بِهَا ثُمَّ لَمْ يُغَيِّرُوا مَا بِهِمْ إِلَّا أَصَابَهُمُ اللَّهُ تَعَالَى بِعُقُوبَةٍ مِنْ عِنْدِهِ، أَوْ بِأَيْدِي مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোনো সম্প্রদায়ের মাঝে যদি আল্লাহর নাফরমানী হয় এবং তা প্রতিরোধ করার মতো শক্তিশালী লোক থাকার পরও তারা তা প্রতিরোধ না করে, তাহলে আল্লাহ তাদেরকে নিজের পক্ষ থেকে কিংবা তাঁর বান্দাদের মাধ্যমে শাস্তি দেন।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ: مَا مِنْ قَوْمٍ يُعْمَلُ فِيهِمْ بِمَعْصِيَةِ اللَّهِ وَهُمْ أَعَزُّ مِمَّنْ يَعْمَلُ بِهَا ثُمَّ لَمْ يُغَيِّرُوا مَا بِهِمْ إِلَّا أَصَابَهُمُ اللَّهُ تَعَالَى بِعُقُوبَةٍ مِنْ عِنْدِهِ، أَوْ بِأَيْدِي مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোনো সম্প্রদায়ের মাঝে যদি আল্লাহর নাফরমানী হয় এবং তা প্রতিরোধ করার মতো শক্তিশালী লোক থাকার পরও তারা তা প্রতিরোধ না করে, তাহলে আল্লাহ তাদেরকে নিজের পক্ষ থেকে কিংবা তাঁর বান্দাদের মাধ্যমে শাস্তি দেন।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে জারির তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল বলেন, কোনো জাতির মাঝে যদি গুনাহগার ব্যক্তি অবাধে গুনাহ করে যায়, আর তাদের সামর্থ থাকা সত্ত্বেও বারণ না করে, তাহলে মৃত্যুর পূর্বে হলেও আল্লাহ তাদেরকে এর শাস্তি দিবেন।
ইমাম সমরকন্দী রহ. বলেন, রাসূল সক্ষমতার শর্ত জুড়ে দিয়েছেন অর্থাৎ, কোনো জনগোষ্ঠীতে যদি নেককারগণ তুলনামুলক শক্তিশালী হয়, আর সে সমাজে কেউ প্রকাশ্যে গুনাহ করে, তাহলে তাকে বাধা দেওয়া ওয়াজিব। কারণ, আল্লাহ তা'আলা এই বৈশিষ্ট্যের কারণেই এই উম্মতের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন— 'কুনতুম খাইরা উম্মাতিম উখরিজাত লিন-নাসি তা'মুরুনা বিল মা'রূফি ওয়া তানহাওনা আনিল মুনকারি ওয়া তু'মিনুনা বিল্লাহি...' অর্থ: তোমরা হলে সর্বোত্তম জাতি, তোমাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে মানুষের জন্য, তোমরা সৎকাজের আদেশ কর এবং অসৎকাজ থেকে বারণ কর এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখ। আহলে কিতাবরা যদি ঈমান আনত, তাহলে সেটাই হতো তাদের জন্য কল্যাণকর। তাদের মাঝে অনেক মুমিন রয়েছে, তবে তাদের অধিকাংশই গুনাহাচারী।
কোনো কোনো তাফসীরবিদের মতে এই আয়াতের অর্থ হলো, লওহে মাহফুজে লেখা আছে, এই উম্মত হলো, সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত এবং আল্লাহ তা'আলা তাদের সৃষ্টি করেছেন মানুষকে সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজ থেকে বারণ করার জন্য। আর সৎকাজ বলতে এমন কাজ বুঝানো হয়েছে, যা কুরআন ও যুক্তিসম্মত। আর যা কুরআন ও যুক্তিসম্মত নয়, তা অসৎকাজ হিসাবে বিবেচ্য।
অন্য এক আয়াতে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন— 'ওয়াল তাকুম মিনকুম উম্মাতুইঁ ইয়াদউনা ইলাল খাইরি ওয়া ইয়া'মুরুনা বিল মা'রূফি ওয়া ইয়ানহাওনা আনিল মুনকারি...' অর্থ: তোমাদের মধ্যে যেন এমন একটি দল থাকে যারা কল্যাণের প্রতি আহ্বান করে, সৎকাজের আদেশ করে এবং অসৎকাজ থেকে বারণ করে। তারাই হবে সফলকাম।
ফায়দা: আয়াতের শুরুতে আদেশসূচক যে লাম আনা হয়েছে, তদ্দ্বারা বুঝা যায় যে, তোমাদের একটি দল অবশ্যই সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে বারণ করবে। আর সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ বর্জন করার কারণে আল্লাহ তা'আলা পূর্ববর্তী জাতির নিন্দাবাদ করেছেন। আল্লাহ ইরশাদ করেন— 'কানূ লা ইয়াতানাহাওনা আন মুনকারিন ফায়ালূহু লাবি'সা মা কানূ ইয়াফআলুন' অর্থ: তারা যে অপকর্ম করেছে তারা তা থেকে বারণ করত না, তারা যা করত তা খুবই মন্দ।
অন্য আরেক আয়াতে এসেছে— 'লাউলা ইয়ানহাহুমুর রব্বানিয়্যূনা ওয়াল আহবারু আন ক্বাওলিহিমুল ইছমা ওয়া আক্লিহিমুস্ সুহতা লাবি'সা মা কানূ ইয়াসনাঊন' অর্থ: রাব্বানীগণ ও পণ্ডিতগণ কেন তাদেরকে গুনাহের কথা বলতে ও অবৈধ ভক্ষণে নিষেধ করে না? তারা যা করে নিশ্চয় তা নিকৃষ্ট। অর্থাৎ, আলেম এবং নেককারদের উচিত তাদেরকে মন্দ কাজ, মন্দ কথা ও হারাম হতে বারণ করা। আর সৎ কাজের আদেশকারীর উচিত গোপনে এ কাজ করা। কারণ, এটা অতি সুফলজনক।
হযরত আবুদ দারদা রাযি. বলেন, যে ব্যক্তি প্রকাশ্যে তার ভাইকে উপদেশ দেয় সে তাকে অপছন্দ করে। আর যে গোপনে উপদেশ দেয় সে তাকে অলঙ্কৃত করে। কিন্তু যদি গোপনে উপদেশ কাজ না হয়, তাহলে প্রকাশ্যে উপদেশ দিবে। প্রয়োজনে অন্যান্য নেককাররে সহায়তা নিবে, অন্যায় গুনাহ থেকে বিরত রাখার জন্য। কেননা, যদি এমনটি না করে, তাহলে অন্যথায় গুনাহগাররা সমাজ প্রভাবশালী হয়ে উঠবে এবং গুনাহচার গোটা সমাজে ছড়িয়ে পরবে। ফলে সকলেই ধ্বংস হয়ে যাবে।
টিকাঃ
১৭৮. মুসনাদে আহমাদ ৩১/৫৭১; সুনানে আবী দাউদ হাদীস-৪৩৩৯; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-৪০০৯। শায়েখ শুয়াইব আরনাউত সনদটিকে হাসান বলেছেন。
১৭৯. সূরা আলে ইমরান: আয়াত-১১০
১৮০. সূরা আলে ইমরান: আয়াত-১০৪
১৮১. সূরা মায়েদা: আয়াত-৭৯
১৮২. সূরা মায়েদা: আয়াত-৬৩
📄 দাওয়াত ও তাবলীগ ত্যাগ করার পরিণাম
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: كَانَ بَنُو إِسْرَائِيلَ زَمَنًا طَوِيلًا لَا يُوَاقِعُونَ الْمَعَاصِيَ، وَلَا يَعْمَلُونَ بِهَا، ثُمَّ ظَهَرَ فِيهِمْ مَنْ يَعْمَلُ بِالْمَعَاصِي، فَكَانُوا يُنْكِرُونَ عَلَيْهِمْ وَيُجَالِسُونَهُمْ وَيُؤَاكِلُونَهُمْ وَيُشَارِبُونَهُمْ، فَلَمَّا رَأَوُا أَنَّهُمْ لَا يَنْتَهُونَ سَكَتُوا عَنْهُمْ فَضَرَبَ اللَّهُ قُلُوبَ بَعْضِهِمْ بِبَعْضٍ، فَلَعَنَهُمْ عَلَى لِسَانِ دَاوُدَ وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ ذَلِكَ بِمَا عَصَوْا وَكَانُوا يَعْتَدُونَ.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, বনী ইসরাঈল দীর্ঘকাল গুনাহ করত না। তারপর তাদের মাঝে এমন লোকের আবির্ভাব হয়, যারা গুনাহ করতে থাকে। তখন লোকেরা তাদেরকে নিষেধ করত, কিন্তু তাদের সাথে উঠাবসা, খানাপিনা সবই ঠিক রাখত। তারা যখন দেখল যে, তারা গুনাহ থেকে বিরত থাকছে না, তখন তারাও চুপ হয়ে গেল। তখন আল্লাহ তাদের একজনের অন্তরকে অপরের অন্তরের সাথে মিলিয়ে দিলেন এবং দাউদ ও ঈসা আ.-এর যবানীতে তাদের প্রতি অভিশাপ দিলেন। তা এই কারণে যে, তারা অবাধ্য হয়েছিল এবং সীমালঙ্ঘন করত। ১৩৩
عَنْ حُذَيْفَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: قِيلَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَيُّ النَّاسِ شَرٌّ؟ قَالَ: الْعُلَمَاءُ إِذَا فَسَدُوا.
হযরত হুযায়ফা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ কে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন মানুষ সবচেয়ে নিকৃষ্ট? তিনি বললেন, আলেম সমাজ, যখন তারা নষ্ট হয়ে যায়।
عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَتَأْمُرُنَّ بِالْمَعْرُوفِ، وَلَتَنْهُنَّ عَنِ الْمُنْكَرِ أَوْ لَيَعُمَّنَّكُمُ اللَّهُ بِعَذَابٍ.
হযরত জারীর রাযি. বলেন, রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, তোমরা অবশ্যই সৎকাজের আদেশ করবে এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে। অন্যথায় আল্লাহ তোমাদের সকলকে আযাব দিয়ে ধ্বংস করে দিবেন।১৩৪
টিকাঃ
১৩৩. সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-৪৩৩৬; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-৩০৮৯; হাদীসটি হাসান গরীব।
১৩৪. মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-১৯২১৪; আল-মুজামুল কাবীর লিত্ ত্ববারানী: হাদীস-২৩০২; হাদীসটি সহীহ।
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: كَانَ بَنُو إِسْرَائِيلَ زَمَنًا طَوِيلًا لَا يُوَاقِعُونَ الْمَعَاصِيَ، وَلَا يَعْمَلُونَ بِهَا، ثُمَّ ظَهَرَ فِيهِمْ مَنْ يَعْمَلُ بِالْمَعَاصِي، فَكَانُوا يُنْكِرُونَ عَلَيْهِمْ وَيُجَالِسُونَهُمْ وَيُؤَاكِلُونَهُمْ وَيُشَارِبُونَهُمْ، فَلَمَّا رَأَوُا أَنَّهُمْ لَا يَنْتَهُونَ سَكَتُوا عَنْهُمْ فَضَرَبَ اللَّهُ قُلُوبَ بَعْضِهِمْ بِبَعْضٍ، فَلَعَنَهُمْ عَلَى لِسَانِ دَاوُدَ وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ ذَلِكَ بِمَا عَصَوْا وَكَانُوا يَعْتَدُونَ.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, বনী ইসরাঈল দীর্ঘকাল গুনাহ করত না। তারপর তাদের মাঝে এমন লোকের আবির্ভাব হয়, যারা গুনাহ করতে থাকে। তখন লোকেরা তাদেরকে নিষেধ করত, কিন্তু তাদের সাথে উঠাবসা, খানাপিনা সবই ঠিক রাখত। তারা যখন দেখল যে, তারা গুনাহ থেকে বিরত থাকছে না, তখন তারাও চুপ হয়ে গেল। তখন আল্লাহ তাদের একজনের অন্তরকে অপরের অন্তরের সাথে মিলিয়ে দিলেন এবং দাউদ ও ঈসা আ.-এর যবানীতে তাদের প্রতি অভিশাপ দিলেন। তা এই কারণে যে, তারা অবাধ্য হয়েছিল এবং সীমালঙ্ঘন করত। ১৩৩
عَنْ حُذَيْفَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: قِيلَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَيُّ النَّاسِ شَرٌّ؟ قَالَ: الْعُلَمَاءُ إِذَا فَسَدُوا.
হযরত হুযায়ফা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ কে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন মানুষ সবচেয়ে নিকৃষ্ট? তিনি বললেন, আলেম সমাজ, যখন তারা নষ্ট হয়ে যায়।
عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَتَأْمُرُنَّ بِالْمَعْرُوفِ، وَلَتَنْهُنَّ عَنِ الْمُنْكَرِ أَوْ لَيَعُمَّنَّكُمُ اللَّهُ بِعَذَابٍ.
হযরত জারীর রাযি. বলেন, রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, তোমরা অবশ্যই সৎকাজের আদেশ করবে এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে। অন্যথায় আল্লাহ তোমাদের সকলকে আযাব দিয়ে ধ্বংস করে দিবেন।১৩৪
টিকাঃ
১৩৩. সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-৪৩৩৬; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-৩০৮৯; হাদীসটি হাসান গরীব।
১৩৪. মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-১৯২১৪; আল-মুজামুল কাবীর লিত্ ত্ববারানী: হাদীস-২৩০২; হাদীসটি সহীহ।
নুমান ইবনে বাশির রাযি. থেকে বর্ণিত— তিনি বলেন, আমি রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছি, আল্লাহর হকের ব্যাপারে (অলস) তোষামোদকারী ব্যক্তি, আল্লাহর হক বিনষ্টকারী ব্যক্তি এবং আল্লাহর হকের ব্যাপারে যত্নবান ব্যক্তি, এই তিন জনের উদাহরণ ওই তিন ব্যক্তির ন্যায়, যারা সকলেই একটি জাহাজে আরোহণ করে। তারা তাদের অবস্থান এভাবে ভাগ করে নেয় যে, একজন নিচের অংশে, আরেকজন মাঝের অংশে এবং অপরজন উপরের অংশে থাকবে। এভাবেই তাদের সফর চলতে থাকে। হঠাৎ একদিন এক শরীক কুড়াল নিয়ে বের হয়ে আসে। সবাই বলে, তুমি কী করতে চাও? সে বলল, আমি আমার অংশের একস্থান ছিদ্র করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে নিবো, যাতে পানি নিষ্কাশন আমার জন্য সহজ হয়। এখন কেউ বলল, তাকে ছেড়ে দাও, নিজের অংশে যে যা ইচ্ছা করুক। কিন্তু অপর ব্যক্তি বলল, না তাকে ছিদ্র করতে দিও না। কারণ, এতে সে নিজেও মরবে আমাদেরকেও মারবে। সুতরাং তারা যদি তাকে এই কাজ থেকে বিরত রাখতে না পারে, তাহলে সে নিজেও মরবে এবং অপরজনও মরবে。
হযরত আবুদ দারদা রাযি. থেকে বর্ণিত— তিনি বলেন, তোমরা সৎ কাজের আদেশ কর এবং অসৎ কাজ থেকে বারণ কর। অন্যথায় আল্লাহ তোমাদের উপর এমন কোনো শাসক চাপিয়ে দিবেন, যে তোমাদের বড়দেরকে সম্মান করবে না, ছোটদের প্রতি দয়া করবে না। তখন তোমাদের নেককাররা দোয়া করলে তাদের দুআও কবুল হবে না। তারা সাহায্য চাইলে তাদের সাহায্যও করা হবে না। আল্লাহর নিকট তার ক্ষমা চাইলে তাদেরকে ক্ষমাও করা হবে না।
হযরত হুযায়ফা রাযি. বর্ণনা করেন, রাসূল ইরশাদ করেন, তোমরা সৎকাজের আদেশ কর এবং অসৎ কাজ হতে বারণ কর। অন্যথায় তোমাদের উপর আল্লাহর সমূহ আযাব পাঠানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তখন তোমরা তার কাছে দোয়া করলেও তিনি তোমাদের দোয়া কবুল করবেন না。
হযরত আলী রাযি. বর্ণনা করেন, রাসূল ইরশাদ করেন, আমার উম্মত যখন জালেমদের সামনে তুমি জালেম এই কথা বলার সৎ সাহস হারিয়ে ফেলবে তখন তাদের সঙ্গত্যাগ করে সরে পড়বে।
হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাযি. বর্ণনা করেন, রাসূল ইরশাদ করেন, তোমাদের কেউ যদি কোনো অন্যায় দেখতে পায়, তাহলে সে যেন হাত দিয়ে তা দমন করে। যদি তা না পারে তাহলে যেন মুখ দিয়ে এর প্রতিবাদ করে। তাও যদি না পারে, তাহলে যেন অন্তর দিয়ে ঘৃণা করে। আর এটাই হলো, ঈমানের দুর্বলতম স্তর।
এই হাদীসের ব্যাখ্যায় কেউ কেউ বলেন, হাত দিয়ে প্রতিরোধ হলো, শাসকশ্রেণীর কাজ। মুখে প্রতিবাদ করা আলেমদের কাজ। আর অন্তর দিয়ে ঘৃণা সাধারণ মানুষের কাজ। কিন্তু অপর আরেক দল আলেমের মতে, যার সামর্থ আছে তাকেই এই দায়িত্ব পালন করতে হবে।
টিকাঃ
১৮৩. সহীহ বুখারী: হাদীস-২৪৯৩; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২১৭৩।
১৮4. সুনানে তিরমিযী হাদীস-২১৬৯; মুসনাদে আহমদ: ৩৮/৩৩২। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন।
১৮৫. প্রাগুক্ত।
১৮৬. মুসনাদে আহমদ: ১১/৭৩; মুসনাদে বায্যার: হাদীস-৩৩০২। আল্লামা হাইসামী, ইমাম হাকেম ও যাহাবী সনদটিকে সহীহ বলেছেন। (মাজমা ৭/২৬২; মুসতাদরাকে হাকেম ৪/৯৬। তবে, শায়েখ শুয়াইব আরনাউত সনদটিকে জয়ীফ বলেছেন।
১৮৭. সহীহ মুসলিম: হাদীস-৪৯; সুনানে আবূ দাউদ: হাদীস-১১৪০; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২১৭২।
📄 দীনের শ্রেষ্ঠত্ব ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা সৎকাজের লক্ষ্য হওয়া চাই
عَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، سُئِلَ عَنِ الرَّجُلِ يُقَاتِلُ شَجَاعَةً، وَيُقَاتِلُ حَمِيَّةً، وَيُقَاتِلُ رِيَاءً، فَأَيُّ ذَلِكَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ؟ قَالَ: مَنْ قَاتَلَ لِتَكُونَ كَلِمَةُ اللَّهِ هِيَ الْعُلْيَا فَهُوَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ.
হযরত আবূ মূসা আশআরী রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ কে জিজ্ঞেস করা হলো, কোনো ব্যক্তি বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য, কোনো ব্যক্তি গোত্রীয় মর্যাদা রক্ষার জন্য এবং কোনো ব্যক্তি লোক দেখানোর জন্য যুদ্ধ করে। এর মধ্যে কোনটি আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ? রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর দীনকে বিজয়ী করার জন্য যুদ্ধ করে, সে-ই আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করে। ১৩৫
ٹکا:
১৩৫. সহীহ বুখারী: হাদীস-১২৩; সহীহ মুসলিম: হাদীস-১৯০৪।
عَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، سُئِلَ عَنِ الرَّجُلِ يُقَاتِلُ شَجَاعَةً، وَيُقَاتِلُ حَمِيَّةً، وَيُقَاتِلُ رِيَاءً، فَأَيُّ ذَلِكَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ؟ قَالَ: مَنْ قَاتَلَ لِتَكُونَ كَلِمَةُ اللَّهِ هِيَ الْعُلْيَا فَهُوَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ.
হযরত আবূ মূসা আশআরী রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ কে জিজ্ঞেস করা হলো, কোনো ব্যক্তি বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য, কোনো ব্যক্তি গোত্রীয় মর্যাদা রক্ষার জন্য এবং কোনো ব্যক্তি লোক দেখানোর জন্য যুদ্ধ করে। এর মধ্যে কোনটি আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ? রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর দীনকে বিজয়ী করার জন্য যুদ্ধ করে, সে-ই আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করে। ১৩৫
ٹکا:
১৩৫. সহীহ বুখারী: হাদীস-১২৩; সহীহ মুসলিম: হাদীস-১৯০৪।
ইমাম সমরকন্দী রহ. বলেন, যে ব্যক্তি মানুষকে সৎকাজের আদেশ করবে তার মনে রাখতে হবে, তার লক্ষ্য যেন হয় আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং দীনকে সাহায্য করা। তাতে যেন কোন ব্যক্তিগত স্বার্থ না থাকে। কারণ, এই কাজে তার লক্ষ্য যদি হয় আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং দীনের সাহায্য তাহলে আল্লাহ তাকে সাহায্য করবেন এবং তাকে তা আদায় করার তাওফীক দান করবেন। কিন্তু তাতে যদি কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ থাকে, তাহলে সে আল্লাহর সাহায্য থেকে বঞ্চিত হবে।
হযরত ইকরামা রহ. থকে বর্ণিত— এক ব্যক্তি একটি বৃক্ষের নিকট যাওয়ার সময় দেখতে পেল যে, তার পূজা করা হলো। তিনি অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে বললেন, আল্লাহর ইবাদত ছেড়ে একটি বৃক্ষের পূজা করা হলো। তিনি কুঠার হাতে নিয়ে বৃক্ষটি কেটে ফেলার জন্য গাধায় সওয়ার হয়ে বৃক্ষটির দিকে রওনা হলেন। পথিমধ্যে শয়তান মানুষের রূপ ধারণ করে তার সামনে এসে বলল, কোথায় যাচ্ছো তুমি? তিনি বললেন, দেখলাম আল্লাহকে ছেড়ে একটি বৃক্ষের পূজা করা হচ্ছে। আমি আল্লাহর নিকট শপথ করেছি, সে বৃক্ষটি কেটে ফেলব। শয়তান বলল, তোমার কী হলো যে, গাছ কাটতে যাবে? তারা যা ইচ্ছা করুক। আল্লাহই তাদের শাস্তি দিবেন। কিন্তু তিনি তা মানলেন না। এইভাবে তারা বিতর্ক ও হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ল। এইভাবে তিনবার বিতর্ক ও হাতাহাতি হওয়ার পর শয়তান পরাভূত হয়ে প্রস্তাব করল, ফিরে যাও, এর বিনিময়ে আমি তোমাকে প্রতিদিন চার দিরহাম করে দিব। প্রতিদিন তোমার বিছানা তুলে দেখবে, সেখানে চার দিরহাম রাখা আছে। তিনি বললেন, দেবে তো প্রতিদিন? শয়তান বলল, হ্যাঁ, প্রতিদিন চার দিরহাম করে দিব। তিনি বাড়ি ফিরে গেলেন। তারপর দুই দিন কি তিন দিন ঠিকই সকালে বিছানার কোণ তুলে নিচে চার দিরহাম পেলেন। কিন্তু এরপরের দিন সকালে দেখা গেল কোনো দীনার নেই। এর পরের দিনও পেলেন না। যখন তিনি নিশ্চিত হলেন আর দীনার পাওয়া যাবে না তখন তিনি আবার কুঠার হাতে নিয়ে গাধার পিঠে আরোহণ করে উক্ত বৃক্ষটি কাটার জন্য রওনা হলেন। রাস্তায় ইবলীস আবার মানুষের রূপ ধারণ করে তার সামনে হাজির হলো। বলল, কোথায় যাচ্ছ? তিনি বললেন, আল্লাহকে ছেড়ে একটি বৃক্ষের পূজা করা হলো, আমি সেটি কাটতে যাচ্ছি। তখন ইবলীস বলল, এখন তোমার এ কাজ করার সাধ্য নেই। প্রথমবার যখন কাটতে যাচ্ছিলে তখন তোমার সে যাত্রা ছিল আল্লাহর জন্য ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ। তখন আসমান-জমিনের সব ক্ষমতা এক হয়ে গেলেও তোমাকে থামাতে পারত না। কিন্তু এখন তুমি বের হয়েছ তোমার স্বার্থের জন্য। সুতরাং এখন তুমি যদি আর একটু অগ্রসর হও তাহলে আমরা তোমার গর্দান উড়িয়ে দিব। ফলে সে বৃক্ষটি না কেটেই বাড়ি ফিরে গেল।
📄 সৎকজের আদেশকারীর পাঁচটি গুণ থাকা আবশ্যক
হযরত সুফইয়ান সাওরী রহ. বলেন, যে ব্যক্তি সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে তার মধ্যে পাঁচটি গুণ থাকা আবশ্যক।
১. সে আল্লাহকে ভয় করবে।
২. সে যা বলবে তা নিজে আমল করবে।
৩. সে দয়ালু হবে।
৪. সে আলেম হবে।
৫. সে মানুষের সাথে কোমল আচরণ করবে।
ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করা ফরজ। তবে যখন আশঙ্কা হবে যে, এতে কোনো ফিতনা সৃষ্টি হবে এবং তার কোনো উপকার হবে না, তখন মুখ দিয়ে বলা থেকে বিরত থাকবে এবং অন্তর দিয়ে ঘৃণা করবে।
হযরত সুফইয়ান সাওরী রহ. বলেন, যে ব্যক্তি সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে তার মধ্যে পাঁচটি গুণ থাকা আবশ্যক।
১. সে আল্লাহকে ভয় করবে।
২. সে যা বলবে তা নিজে আমল করবে।
৩. সে দয়ালু হবে।
৪. সে আলেম হবে।
৫. সে মানুষের সাথে কোমল আচরণ করবে।
ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করা ফরজ। তবে যখন আশঙ্কা হবে যে, এতে কোনো ফিতনা সৃষ্টি হবে এবং তার কোনো উপকার হবে না, তখন মুখ দিয়ে বলা থেকে বিরত থাকবে এবং অন্তর দিয়ে ঘৃণা করবে।
ইমাম সমরকন্দী বলেন, সৎকাজের আদেশকারীর মাঝে পাঁচটি গুণ থাকা আবশ্যক।
১. الْعِلْمُ لِأَنَّ الْجَاهِلَ لَا يُحْسِنُ الْأَمْرَ بِالْمَعْرُوفِ অর্থাৎ ইলম বা জ্ঞান। কারণ, অজ্ঞ ব্যক্তি সঠিকভাবে, সঠিক পদ্ধতিতে সৎকাজের আদেশ করতে পারবে না।
২. أَنْ يَقْصِدَ بِهِ وَجْهَ اللَّهِ تَعَالَى وَإِعْزَازَ الدِّينِ অর্থাৎ, এই কাজের লক্ষ্য হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং দীনের সাহায্য।
৩. الشَّفَقَةُ عَلَى مَنْ يَأْمُرُ بِاللَّينِ وَالتَّوَدُّدِ وَلَا يَكُونُ فَظًّا غَلِيظًا অর্থাৎ, যাকে আদেশ করবে তার প্রতি সহমর্মী ও সদয় হওয়া। তার সাথে কোনো প্রকার রূঢ় আচরণ না করা। আল্লাহ তা'আলা হযরত মূসা আ. ও হারুন আ. কে ফেরাউনের নিকট পাঠানোর সময়ও এই আদেশ করেছিলেন— 'ফাক্বূলা লাহূ ক্বাওলাল লাইয়্যিনান' অর্থ: তোমরা তাকে নরম কথা বল, হয়ত সে উপদেশ গ্রহণ করবে কিংবা ভয় করবে।
৪. أَنْ يَكُونَ صَبُورًا رَحِيمًا অর্থাৎ, ধৈর্য ও সহনশীল হওয়া। লোকমানের কাহিনীতে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন— 'ওয়া'মুর বিল মা'রূফি ওয়ান্হা আনিল মুনকারি ওয়াস্বির আলা মা আসা-বাক ইন্ন যালিকা মিন আযমিল উমূরি' অর্থ: সৎ কাজের আদেশ কর, অসৎ কাজ থেকে নিষেধ কর, এরপর তোমাকে যা আক্রান্ত করবে তার জন্য ধৈর্যধারণ কর।
৫. أَنْ يَكُونَ عَامِلًا بِمَا يَأْمُرُ بِهِ অর্থাৎ, যে কাজের আদেশ করবে নিজেও তা আমল করা, যাতে লোক তার নিন্দা না করতে পারে এবং যাতে আল্লাহ তা'আলার এই ধমকির আওতায় না পড়ে— 'আতা'মুরু নান্-নাসা বিল বিররি ওয়া তানসাওনা আনফুসাকুম' অর্থ: তোমরা কি নিজেদেকে ভুলে থেকে মানুষকে নেক কাজের আদেশ করছ? অথচ তোমরা কিতাব পাঠ কর, তোমরা কি বুঝ না?
হযরত আনাস ইবনে মালেক রাযি. বর্ণনা করেন— রাসূল ইরশাদ করেন, মেরাজের রাতে আমি জাহান্নামে একদলকে দেখতে পেলাম আগুনের কাঁচি দিয়ে তাদের ঠোঁট কাটা হলো— আমি জিবরাঈল আ. কে জিজ্ঞেস করলাম এরা কারা? তিনি বললেন, এরা আপনার উম্মতের খতীবগণ, যারা অন্যদেরকে নেক কাজের আদেশ করত অথচ তারা নিজেরা আমল করতো না। অথচ তারা কিতাব পাঠ করত, তাদের কি কোনো বুঝ নেই? অর্থাৎ, তারা কিতাব পাঠ করত অথচ তদানুযায়ী আমল করত না।
হযরত কাতাদা রহ. বলেন, আমরা শুনেছি তাওরাতে এমনটি লেখা আছে, ইয়াব্না আদামা তাযকুরুনী ওয়া তানসানী ওয়া তাদ'উ ইলাইয়্যা ওয়া তাফিররু মিন্নী, ফাবাত্বিলু মা তাযহাবুন। হে আদম সন্তান! তোমরা লোকদেরকে আমার কথা স্মরণ করিয়ে দাও অথচ নিজে আমাকে ভুলে থাক। আমার দিকে মানুষকে আহ্বান কর, অথচ নিজেই আমার থেকে পালিয়ে যাও। তুমি যা করছ তা নিরর্থক。
হযরত আবূ মুআবিয়া আল-ফাযারী রহ. থেকে বর্ণিত— রাসূল ইরশাদ করেন, আজ তোমরা আল্লাহর বর্ণিত তরীকার উপর আছ। তিনি স্পষ্টভাবে তোমাদেরকে পথ বাতলে দিয়েছেন। যতদিন তোমাদের মাঝে দু'টি মাতলামী তথা জীবনের নেশা এবং অজ্ঞতার মাতলামী ছড়িয়ে না পড়ে, ততদিন তোমরা সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজ থেকে বারণ করবে এবং আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করতে থাকবে। কিন্তু এমন এক সময় আসবে যখন তোমাদের মাঝে দুনিয়ার মুহাব্বত ছড়িয়ে পড়বে। তখন তোমরা সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজের নিষেধ ছেড়ে দেবে এবং আল্লাহর রাস্তা ব্যতীত অন্য রাস্তায় জিহাদ করবে। সে দিন যারা প্রকাশ্যে বা গোপনে আল্লাহর কিতাব মেনে চলবে তারা প্রথম যুগের মুহাজির ও আনসারদের সমপরিমাণ মর্যাদা পাবে।
টিকাঃ
১৮৮. সূরা ত্বহা: আয়াত-৪৪
১৮৯. লুকমান: আয়াত-১৭
১৯০. সূরা বাকারা: আয়াত ৪৪
১৯১. সহীহ মুসলিম: হাদীস-১৭০৬; মুসনাদে আহমাদ: ২০/২২৩।
১৯২. মাজমাউয যাওয়ায়েদ : খণ্ড-৭, পৃষ্ঠা-২৭০, মুসনাদে বাযযার এর সূত্রে। হাদীসটি জয়ীফ।