📄 বৃদ্ধকে শাস্তি দিতে আল্লাহ লজ্জাবোধ করেন
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَسْتَحْيِي مِنْ ذِي الشَّيْبَةِ الْمُسْلِمِ أَنْ يُعَذِّبَهُ، ثُمَّ بَكَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقِيلَ لَهُ: مَا يُبْكِيكَ يَا رَسُولَ اللهِ؟ قَالَ: أَبْكِي مِمَّنْ يَسْتَحْيِي اللَّهُ مِنْهُمْ، وَهُمْ لَا يَسْتَحْيُونَ مِنْهُ.
হযরত আনাস ইবনে মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা'আলা কোনো মুসলিম বৃদ্ধকে শাস্তি দিতে লজ্জাবোধ করেন। এ কথা বলে রাসূল ﷺ কাঁদলেন। জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কাঁদছেন কেন? তিনি বললেন, তাদের জন্য কাঁদছি, যাদেরকে আল্লাহ শাস্তি দিতে লজ্জাবোধ করেন কিন্তু তারা আল্লাহকে ভয় করে না।১২৭
ٹکا:
১২৭. আল-মুজামুল আওসাত: হাদীস-৫৬৭৬; আল-আহাদিসুল মুখতারা, জিয়াউদ্দীন মাকদিসী: হাদীস-২৭৪৪; আল্লামা হাইসামী বলেন, হাদীসটির সনদ জয়ীফ। [মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ১০/৩০২]।
হযরত আহমদ ইবনে সেহল থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি স্বপ্নযোগে হযরত ইয়াহইয়া ইবনে আকসাম রহ. কে দেখতে পেয়ে জিজ্ঞেস করলাম, আপনার রব আপনার সাথে কেমন আচরণ করেছেন? তিনি বলেন, তিনি আমাকে ডেকে বললেন, হে অনিষ্টের বুড়া! তুমি তো যা করার করেছ। অর্থাৎ, অনেক কুকর্ম করেছ। আমি বললাম, হে রব! আমাকে তো তোমার ব্যাপারে এমন হাদীস বলা হয়নি। আল্লাহ বললেন, আমার সম্পর্কে কী বলা হয়েছে? আমি বললাম, আমার নিকট আব্দুর রাজ্জাক মামার থেকে, মামার যুহরী থেকে, যুহরী উরওয়া থেকে, উরওয়া আয়েশা থেকে, আয়েশা রাসূল থেকে, রাসূল জিবরাঈল থেকে, আর জিবরাঈল আপনার থেকে বলেছেন, কোনো ব্যক্তি যদি মুসলমান অবস্থায় বুড়ো হয় তাহলে আমি তাকে শাস্তি দিতে পারি না। আমি তাকে শাস্তি দিতে লজ্জা বোধ করি। আর আমি তো বুড়ো, আমাকে শাস্তি দিবেন? একথা শুনে আল্লাহ ইরশাদ করলেন, আব্দুর রাজ্জাক সত্য বলেছে, যুহরী সত্য বলেছেন, উরওয়া সত্য বলেছে, আয়েশা সত্য বলেছে, নবীও সত্য বলেছে, জিবরাঈলও সত্য বলেছে, আর আমি তো সত্যবাদীদের বড় সত্যবাদী। হে ইয়াহ্ইয়া! মুসলমান থাকা অবস্থায় কেউ যদি বুড়ো হয়, তাকে আমি শাস্তি দিতে পারি না। তাকে শাস্তি দিতে আমার লজ্জা হয়। হযরত ইয়াহ্ইয়া বলেন, তারপর আমার ডানপাশের ফেরেশতাদেরকে আদেশ করা হলো আমাকে জান্নাতে নিয়ে যাওয়ার জন্য।
হযরত উমর রাযি. থেকে বর্ণিত— একদা তিনি নবী কারীম ﷺ-এর নিকট গিয়ে দেখলেন, তিনি কাঁদছেন। উমর রাযি. বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কেন কাঁদছেন? তিনি ইরশাদ করলেন, জিবরাঈল আমার নিকট এসে বলল, আল্লাহ তা'আলা ইসলাম অবস্থায় বৃদ্ধ হওয়া ব্যক্তিকে শাস্তি দিতে লজ্জাবোধ করেন। কিন্তু সে বৃদ্ধই আল্লাহর নাফরমানী করতে লজ্জাবোধ করে না।
ইমাম সমরকন্দী রহ. বলেন, সুতরাং বৃদ্ধদের উচিত আল্লাহ এবং কিরামান কাতিবীন (আমলনামা লিপিবদ্ধকারী ফেরেশতা) কে লজ্জা করা এবং বেশি বেশি ইবাদত করা ও নাফরমানী থেকে বিরত থাকা। অনুরূপ যুবকদেরও উচিত ইবাদতে মগ্ন হওয়া, গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা। কারণ, কেউ জানে না তার মৃত্যু কখন এসে হানা দেয়। কেননা, যে যৌবনকাল আল্লাহর ইবাদতে কাটাবে, সে কিয়ামতের দিন আল্লাহর আরশের নিচে ছায়া পাবে।
টিকাঃ
১৬৯. আল্লামা আজলুনী রহ. বলেন, ইমাম সুয়ূতী তার জামে কাবীরে ইবনে নাজ্জার থেকে জয়ীফ সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। (কাশফুল খাফা: ৭৪২ নং হাদীসের আলোচনা দ্রষ্টব্য)।
১৭০. সহীহ বর্ণনায় এসেছে, মুসলিম অবস্থায় যারা বৃদ্ধ হয় তারা যেন তাদের সাদা চুল উপড়ে না ফেলে। কেননা সাদা চুল কিয়ামত দিবসে তার জন্য নুর হবে। (সুনানে আবী দাউদ হাদীস-৪২০২; মুসনাদে আহমাদ ১১/২৫৩)।
📄 আরশের নিচে ছায়া পাবে যারা
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: سَبْعَةٌ يُظِلُّهُمُ اللَّهُ تَعَالَى فِي ظِلِّهِ يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلُّهُ: إِمَامٌ عَادِلٌ، وَشَابٌ نَشَأَ فِي عِبَادَةِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ، وَرَجُلٌ قَلْبُهُ مُعَلَّقٌ بِالْمَسَاجِدِ إِذَا خَرَجَ مِنْهُ حَتَّى يَعُودَ إِلَيْهِ، وَرَجُلَانِ تَحَابَّا فِي اللهِ فَاجْتَمَعَا عَلَى ذَلِكَ، وَتَفَرَّقَا عَلَيْهِ، وَرَجُلٌ ذَكَرَ اللَّهَ خَالِيًا فَفَاضَتْ عَيْنَاهُ، وَرَجُلٌ دَعَتْهُ امْرَأَةً ذَاتُ حَسَبٍ وَجَمَالٍ، فَقَالَ: إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ، وَرَجُلٌ تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ فَأَخْفَاهَا حَتَّى لَا تَعْلَمَ شِمَالُهُ مَا تُنْفِقُ يَمِينُهُ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ তাঁর আরশের ছায়ায় স্থান দিবেন, যেদিন তাঁর ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না। তারা হলেন-
১. ন্যায়পরায়ণ শাসক।
২. যে যুবক আল্লাহর ইবাদতে বড় হয়েছে।
৩. যে ব্যক্তির অন্তর মসজিদের সাথে লেগে থাকে।
৪. যে দুই ব্যক্তি একে অপরকে আল্লাহর জন্য ভালোবাসে এবং আল্লাহর জন্যই পৃথক হয়।
৫. যে ব্যক্তি একান্তে আল্লাহকে স্মরণ করে চোখের পানি ফেলে।
৬. যাকে কোনো সুন্দরী ও সম্ভ্রান্ত বংশীয় নারী যিনার জন্য আহ্বান করলে সে বলে, আমি আল্লাহকে ভয় করি।
৭. যে ব্যক্তি এমনভাবে দান করে যে, তার ডান হাত কী দান করে বাম হাত তা জানে না।১২৮
ٹکا:
১২৮. সহীহ বুখারী: হাদীস-৬৬০; সহীহ মুসলিম: হাদীস-১০৩১।
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. বর্ণনা করেন, রাসূল ইরশাদ করেছেন, যে দিন আল্লাহর ছায়া ব্যতীত অন্য কোনো ছায়া থাকবে না, সে দিন আল্লাহ সাত ব্যক্তিকে তার আরশের নিচে ছায়া দিবেন।
১. ন্যায়পরায়ণ শাসক।
২. আল্লাহর ইবাদতে যৌবন অতিবাহিতকারী যুবক।
৩. যার অন্তর মসজিদের সাথে লেগে থাকে।
৪. সে দুই ব্যক্তি যারা আল্লাহর মহব্বতে পরস্পর মিলিত হয় ও বিভক্ত হয়।
৫. যে ব্যক্তি একাকী নির্জনে আল্লাহর স্মরণে অশ্রু ঝরায়।
৬. যে ব্যাক্তি গোপনে সদকা করে, এমনকি তার বাম হাত জানতে পারে না যে, তার ডান হাত কী করছে।
৭. সে ব্যক্তি যাকে রূপসী কোনো নারী অপকর্মের দিকে ডাকে, আর সে বলে, আমি আল্লাহকে ভয় করি।
টিকাঃ
১৭১. সহীহ বুখারী: হাদীস-৬৬০; সহীহ মুসলিম: হাদীস-১০৩১।