📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 ইবলিসেরও নাজাতের আশা জাগবে

📄 ইবলিসেরও নাজাতের আশা জাগবে


عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ: يَرْحَمُ اللهُ الْخَلَائِقَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، حَتَّى يَتَطَاوَلَ إِبْلِيسُ رَجَاءَ رَحْمَتِهِ، وَكَثْرَةِ الشُّفَعَاءِ.

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা মাখলুকের প্রতি এমন রহমত করবেন যে, ইবলিসও তাঁর রহমতের আশায় এবং শাফাআতকারীদের আধিক্য দেখে মাথা উঁচু করবে। ১২৪

ٹکا:
১২৪. আল-মুজামুল কাবীর লিত্ ত্ববারানী: হাদীস-৯৫৯৩; আল্লামা হাইসামী বলেছেন, সনদে একজন জয়ীফ রাবী রয়েছেন। [মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ১০/৩৭৫]

ইবনে মাসউদ রাযি. বলেন, "কিয়ামতের দিন আল্লাহ মানুষের প্রতি এতো বেশি রহম করবেন যে, রহমতের আধিক্য দেখে এবং সুপারিশকারীদের সুপারিশের প্রবলতা দেখে শয়তান ইবলীসও আশায় মাথা তুলবে।"

অপর এক হাদীসে এসেছে, রাসূল ইরশাদ করেন— 'ইউনাদী মুনাদিন মিন তাহ্তিল আরশি ইয়াওমাল কিয়ামাতি ইয়া উম্মাতা মুহাম্মাদিন আম্মা মা কানা লী ক্বিবাল্লাকুম ফাক্বাদ ওয়াহাবতুহু লাকুম, ওয়া বাক্বিয়াতিত তাবিআতু, ফাতাওয়া হাবূহা ওয়াদখুলুল জান্নাতা বিরাহমাতী' অর্থ: কিয়ামতের দিন আরশের নিচ থেকে এক ঘোষক ঘোষণা করে বলবে হে মুহাম্মদের উম্মত! তোমাদেরকে দেওয়া আমার প্রতিশ্রুতি আমি পূর্ণ করেছি। তারপর কিছু অবশিষ্ট রয়ে গেছে, তা তোমরা নিজেরা পরস্পর বণ্টন করে নাও এবং আমার রহমতের দ্বারা জান্নাতে প্রবেশ কর।

টিকাঃ
১৬৬. আল-মু'জামুল কাবীর, তাবারানী, হাদীস-১০৫১৩। হাদীসটির সনদ যঈফ। (মাজমাউয যাওয়ায়েদ, হাদীস-১৮৫৩৫)
১৬৭. দাইলামী, মুসনাদুল ফিরদাউস: হাদীস-৮৮৭১।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 কখন ভয় উত্তম আর কখন আশা

📄 কখন ভয় উত্তম আর কখন আশা


ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, বান্দার জন্য সুস্থাবস্থায় আল্লাহর ভয় ও রহমতের আশা উভয়ই সমানভাবে রাখা উচিত। আর অসুস্থ অবস্থায় রহমতের আশা বেশি রাখা উচিত। কারণ, সুস্থাবস্থায় যদি সে আল্লাহর ভয় করে তাহলে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে পারবে। আর অসুস্থ অবস্থায় আল্লাহর রহমতের আশা করলে সে তাঁর প্রতি সুধারণা নিয়ে মৃত্যুবরণ করবে। রাসূল ﷺ বলেন- لَا يَمُوتَنَّ أَحَدُكُمْ إِلَّا وَهُوَ يُحْسِنُ بِاللَّهِ الظَّنَّ অর্থাৎ, আল্লাহর প্রতি সুধারণা ছাড়া যেন কেউ মৃত্যুবরণ না করে। ১২৫

عَنْ يَحْيَى بْنِ مُعَاذٍ الرَّازِيِّ رَحِمَهُ اللهُ، أَنَّهُ قَالَ: رَجَاءُ الْمُطِيعِينَ لِفَضْلِهِ أَكْثَرُ مِنْ رَجَائِهِمْ لِعَمَلِهِمْ، وَرَجَاءُ الْمُذْنِبِينَ لِعَفْوِهِ أَكْثَرُ مِنْ خَوْفِهِمْ لِذُنُوبِهِمْ.

হযরত ইয়াহইয়া ইবনে মুআয রাযী রহ. বলেন, নেককারগণ তাদের আমলের চেয়ে আল্লাহর রহমতের আশা বেশি করে। আর গুনাহগারগণ গুনাহের ভয়ের চেয়ে আল্লাহর ক্ষমার আশা বেশি করে।

ٹکا:
১২৫. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৮৭৭; সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-৩১১৩।

হযরত ফুযাইল ইবনে আয়ায রহ. বলতেন, মানুষ যতক্ষণ সুস্থ সবল থাকে ততক্ষণ তার জন্য ভয় উত্তম। যাতে সে বেশি বেশি ইবাদত করতে পারে এবং গুনাহাচার থেকে বেঁচে থাকতে পারে। আর মানুষ যখন অসুস্থ ও দুর্বল হয়ে পড়ে তখন আশা তার জন্য উত্তম হয়ে ওঠে।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 পাপীদের জন্য সুসংবাদ আর নেককারদের জন্য সতর্কবাণী

📄 পাপীদের জন্য সুসংবাদ আর নেককারদের জন্য সতর্কবাণী


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ: وَاللَّهِ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ مَا يَسُرُّنِي أَنِّي وَدِدْتُ أَنِّي لَمْ أُخْلَقْ، وَمَا لِيَ كَذَا وَكَذَا؟ قِيلَ: وَلِمَ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ: لِأَنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: إِنَّ لِلَّهِ مِائَةَ رَحْمَةً ادَّخَرَ لِأَوْلِيَائِهِ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ رَحْمَةً، وَأَرْسَلَ إِلَى أَهْلِ الدُّنْيَا رَحْمَةً وَاحِدَةً، فَأَنَا أَرْجُو أَنْ أَنَالَ مِنْ تِلْكَ الرَّحْمَةِ، وَلَكِنْ إِذَا ذَكَرْتُ مَا فِي جَهَنَّمَ مِنَ الْحَمِيمِ وَالصَّدِيدِ وَالزَّقُومِ وَالْغِسْلِينِ، وَالضَّرِيعِ وَالنَّارِ، قُلْتُ: يَا لَيْتَنِي لَمْ أُخْلَقْ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. বলেন, ওই সত্তার কসম যিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই, আমার যদি এই পরিমাণ সম্পদ থাকত তাহলে আমি সৃষ্টি না হওয়াটাকেই পছন্দ করতাম না। জিজ্ঞেস করা হলো, কেন হে আবূ হুরায়রা? তিনি বললেন, কারণ, আমি রাসূল ﷺ কে বলতে শুনেছি, আল্লাহর একশটি রহমত রয়েছে। যার মধ্য থেকে নিরানব্বইটি তিনি তাঁর ওলীদের জন্য রেখে দিয়েছেন। আর একটি মাত্র রহমত দুনিয়াবাসীর জন্য পাঠিয়েছেন। আমি সে রহমত পাওয়ার আশা রাখি। কিন্তু যখন জাহান্নামের উত্তপ্ত পানি, দুর্গন্ধযুক্ত পুঁজ, যাক্কুম, কাঁটাযুক্ত বৃক্ষ ও আগুনের কথা স্মরণ করি তখন বলি, হায়! যদি আমি সৃষ্টি না হতাম!

قَالَ: وَقَالَ بَعْضُ الْحُكَمَاءِ : يَا ابْنَ آدَمَ إِنْ كُنْتَ لَا تُطِيقُ حَرَّ الشَّمْسِ، فَكَيْفَ تُطِيقُ حَرَّ النَّارِ، وَإِنْ كُنْتَ تَرْجُو رَحْمَةَ اللَّهِ، فَلِمَ لَا تُطِيعُهُ، وَإِنْ كُنْتَ تَخَافُ عَذَابَهُ فَلِمَ لَا تَنْتَهِي عَنْ مَعْصِيَتِهِ؟.

জনৈক জ্ঞানী ব্যক্তি বলেন, হে আদম সন্তান! যদি তুমি সূর্যের তাপ সহ্য করতে না পারো তাহলে কীভাবে জাহান্নামের আগুন সহ্য করবে? আর যদি তুমি আল্লাহর রহমত কামনা কর, তাহলে কেন তাঁর আনুগত্য কর না? আর যদি তুমি তাঁর আযাবকে ভয় কর, তাহলে কেন তাঁর নাফরমানী থেকে বিরত থাক না?

ফকীহ সমরকন্দী রহ. ইবনে আবূ রওয়াদ তার পিতার কাছ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আল্লাহ তা'আলা তার নবী দাউদ আ.-এর কাছে এই মর্মে ওহী প্রেরণ করেন— অলি ইয়া দাউদু বাশশিরিল মুযনিবীনা ওয়া আনযিরিস সিদ্দীক্বীনা। ফাক্বালা: কাইফা উবাশশিরুল মুযনিবীনা ওয়া উনযিরুস সিদ্দীক্বীনা? ক্বালা: বাশশিরিল মুযনিবীনা বিআন্নী লা ইয়াতাআযযামুনী যামবুন আন আগফিরা, ওয়া আনযিরিস সিদ্দীক্বীনা আন লা ইউ'জাবূ বিআ'মালিহিম, ফাইন্নী লা আদয়াউ আদলী ওয়া হিসাবী আলা আহাদিন ইল্লা আহলাকতুহু।

অর্থ: হে দাউদ! তুমি গুনাহগারদেরকে সুসংবাদ দাও এবং সিদ্দীকদেরকে সতর্ক কর। আল্লাহর নবী দাউদ আ. আরজ করলেন, হে রব! গুনাহগারদের কী সুসংবাদ দিব আর সিদ্দীকদের কী ব্যাপারে সতর্ক করব? আল্লাহ ইরশাদ করলেন, গুনাহগারদের সুসংবাদ দাও যে, কোনো বান্দার গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া আমার নিকট কোনো ব্যাপার নয়। আর সিদ্দীকদের সতর্ক কর, তারা যেন স্বীয় আমল নিয়ে অহংকার না করে। কারণ, আমি যদি কারো সাথে ন্যায়বিচার করি এবং তার প্রকৃত হিসাব নিই তাহলে তার ধ্বংস অনিবার্য।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 শাসকরা কখন প্রজাদের উপর অত্যাচারী হয়ে ওঠে

📄 শাসকরা কখন প্রজাদের উপর অত্যাচারী হয়ে ওঠে


عَنْ مَالِكِ بْنِ دِينَارٍ، قَالَ: قَرَأْتُ فِي الزَّبُورِ أَنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَقُولُ: مَنْ عَصَانِي وَهُوَ يَعْرِفُنِي سَلَّطْتُ عَلَيْهِ مَنْ لَا يَعْرِفُنِي.

হযরত মালেক ইবনে দীনার রহ. বলেন, আমি যাবুর কিতাবে পড়েছি, আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি আমাকে চেনার পর আমার নাফরমানী করবে আমি তার উপর এমন কাউকে চাপিয়ে দিব যে আমাকে চেনে না। ১২৬

ٹکا:
১২৬. কানযুল উম্মাল: হাদীস-৭৬৪২; জামিউল আহাদীস, সুয়ূতী: ২/১৫৫।

আবু রাওয়াদ জনৈক আহলে কিতাবী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আল্লাহ তা'আলা বলেন, আমি আল্লাহ রাজন্যবর্গের রাজা। আমার নিয়ন্ত্রণে বাদশাহদের অন্তর। কোনো জাতির প্রতি যখন আমি সন্তুষ্ট হই তখন আমি রাজাদের মন তাদের জন্য রহমত স্বরূপ বানিয়ে দেই। আর কোনো জাতির প্রতি যখন আমি রুষ্ট হই তখন তাদের মন তাদের জন্য গজব বানিয়ে দেই। সুতরাং রাজাদের অভিসম্পাতে মেতে উঠো না। বরং আমার নিকট তওবা কর। আমি তাদের মন তোমাদের জন্য কোমল করে দেব।

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, কোন মুমিন যদি তা জানতে পারত যে, আল্লাহর নিকট কি পরিমাণ শাস্তি মজুদ আছে, তাহলে কখনো সে জান্নাতে প্রবেশের আশা পোষণ করতো না। আর কাফের যদি জানতে পারত আল্লাহর নিকট কি পরিমাণ রহমত রয়েছে, তাহলে সে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হতো না।

টিকাঃ
১৬৮. সহীহ বুখারী: হাদীস-৬৯৬৯; সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৭৫৫।

ফন্ট সাইজ
15px
17px