📄 আল্লাহর রহমত ব্যতীত শুধু আমলের বিনিময়ে কেউ নাজাত পাবে না
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : لَا يُدْخِلُ أَحَدًا مِنْكُمُ الْجَنَّةَ عَمَلُهُ. قَالُوا: وَلَا أَنْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: وَلَا أَنَا إِلَّا أَنْ يَتَغَمَّدَنِيَ اللَّهُ بِرَحْمَتِهِ، وَلَكِنْ سَدِّدُوا وَقَارِبُوا.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেন, তোমাদের কাউকে তার আমল জান্নাতে প্রবেশ করাতে পারবে না। সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনাকেও না? তিনি বললেন, আমাকেও না। তবে আল্লাহ যদি আমাকে তাঁর রহমত দিয়ে আবৃত করে নেন, তাহলে ভিন্ন কথা। তবে তোমরা ঠিকঠাক আমল কর এবং মধ্যমপন্থা অবলম্বন কর। ১২৩
ٹکا:
১২৩. সহীহ বুখারী: হাদীস-৬৪৬৩; সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৮১৬।
📄 ইবলিসেরও নাজাতের আশা জাগবে
عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ: يَرْحَمُ اللهُ الْخَلَائِقَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، حَتَّى يَتَطَاوَلَ إِبْلِيسُ رَجَاءَ رَحْمَتِهِ، وَكَثْرَةِ الشُّفَعَاءِ.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা মাখলুকের প্রতি এমন রহমত করবেন যে, ইবলিসও তাঁর রহমতের আশায় এবং শাফাআতকারীদের আধিক্য দেখে মাথা উঁচু করবে। ১২৪
ٹکا:
১২৪. আল-মুজামুল কাবীর লিত্ ত্ববারানী: হাদীস-৯৫৯৩; আল্লামা হাইসামী বলেছেন, সনদে একজন জয়ীফ রাবী রয়েছেন। [মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ১০/৩৭৫]
📄 কখন ভয় উত্তম আর কখন আশা
ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, বান্দার জন্য সুস্থাবস্থায় আল্লাহর ভয় ও রহমতের আশা উভয়ই সমানভাবে রাখা উচিত। আর অসুস্থ অবস্থায় রহমতের আশা বেশি রাখা উচিত। কারণ, সুস্থাবস্থায় যদি সে আল্লাহর ভয় করে তাহলে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে পারবে। আর অসুস্থ অবস্থায় আল্লাহর রহমতের আশা করলে সে তাঁর প্রতি সুধারণা নিয়ে মৃত্যুবরণ করবে। রাসূল ﷺ বলেন- لَا يَمُوتَنَّ أَحَدُكُمْ إِلَّا وَهُوَ يُحْسِنُ بِاللَّهِ الظَّنَّ অর্থাৎ, আল্লাহর প্রতি সুধারণা ছাড়া যেন কেউ মৃত্যুবরণ না করে। ১২৫
عَنْ يَحْيَى بْنِ مُعَاذٍ الرَّازِيِّ رَحِمَهُ اللهُ، أَنَّهُ قَالَ: رَجَاءُ الْمُطِيعِينَ لِفَضْلِهِ أَكْثَرُ مِنْ رَجَائِهِمْ لِعَمَلِهِمْ، وَرَجَاءُ الْمُذْنِبِينَ لِعَفْوِهِ أَكْثَرُ مِنْ خَوْفِهِمْ لِذُنُوبِهِمْ.
হযরত ইয়াহইয়া ইবনে মুআয রাযী রহ. বলেন, নেককারগণ তাদের আমলের চেয়ে আল্লাহর রহমতের আশা বেশি করে। আর গুনাহগারগণ গুনাহের ভয়ের চেয়ে আল্লাহর ক্ষমার আশা বেশি করে।
ٹکا:
১২৫. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৮৭৭; সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-৩১১৩।
📄 পাপীদের জন্য সুসংবাদ আর নেককারদের জন্য সতর্কবাণী
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ: وَاللَّهِ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ مَا يَسُرُّنِي أَنِّي وَدِدْتُ أَنِّي لَمْ أُخْلَقْ، وَمَا لِيَ كَذَا وَكَذَا؟ قِيلَ: وَلِمَ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ: لِأَنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: إِنَّ لِلَّهِ مِائَةَ رَحْمَةً ادَّخَرَ لِأَوْلِيَائِهِ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ رَحْمَةً، وَأَرْسَلَ إِلَى أَهْلِ الدُّنْيَا رَحْمَةً وَاحِدَةً، فَأَنَا أَرْجُو أَنْ أَنَالَ مِنْ تِلْكَ الرَّحْمَةِ، وَلَكِنْ إِذَا ذَكَرْتُ مَا فِي جَهَنَّمَ مِنَ الْحَمِيمِ وَالصَّدِيدِ وَالزَّقُومِ وَالْغِسْلِينِ، وَالضَّرِيعِ وَالنَّارِ، قُلْتُ: يَا لَيْتَنِي لَمْ أُخْلَقْ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. বলেন, ওই সত্তার কসম যিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই, আমার যদি এই পরিমাণ সম্পদ থাকত তাহলে আমি সৃষ্টি না হওয়াটাকেই পছন্দ করতাম না। জিজ্ঞেস করা হলো, কেন হে আবূ হুরায়রা? তিনি বললেন, কারণ, আমি রাসূল ﷺ কে বলতে শুনেছি, আল্লাহর একশটি রহমত রয়েছে। যার মধ্য থেকে নিরানব্বইটি তিনি তাঁর ওলীদের জন্য রেখে দিয়েছেন। আর একটি মাত্র রহমত দুনিয়াবাসীর জন্য পাঠিয়েছেন। আমি সে রহমত পাওয়ার আশা রাখি। কিন্তু যখন জাহান্নামের উত্তপ্ত পানি, দুর্গন্ধযুক্ত পুঁজ, যাক্কুম, কাঁটাযুক্ত বৃক্ষ ও আগুনের কথা স্মরণ করি তখন বলি, হায়! যদি আমি সৃষ্টি না হতাম!
قَالَ: وَقَالَ بَعْضُ الْحُكَمَاءِ : يَا ابْنَ آدَمَ إِنْ كُنْتَ لَا تُطِيقُ حَرَّ الشَّمْسِ، فَكَيْفَ تُطِيقُ حَرَّ النَّارِ، وَإِنْ كُنْتَ تَرْجُو رَحْمَةَ اللَّهِ، فَلِمَ لَا تُطِيعُهُ، وَإِنْ كُنْتَ تَخَافُ عَذَابَهُ فَلِمَ لَا تَنْتَهِي عَنْ مَعْصِيَتِهِ؟.
জনৈক জ্ঞানী ব্যক্তি বলেন, হে আদম সন্তান! যদি তুমি সূর্যের তাপ সহ্য করতে না পারো তাহলে কীভাবে জাহান্নামের আগুন সহ্য করবে? আর যদি তুমি আল্লাহর রহমত কামনা কর, তাহলে কেন তাঁর আনুগত্য কর না? আর যদি তুমি তাঁর আযাবকে ভয় কর, তাহলে কেন তাঁর নাফরমানী থেকে বিরত থাক না?