📄 মৃত্যুর সময় ভয় ও আশা
عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ عَلَى شَابٍ وَهُوَ فِي الْمَوْتِ، فَقَالَ: كَيْفَ تَجِدُكَ؟ قَالَ: وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أَرْجُو اللَّهَ وَإِنِّي أَخَافُ ذُنُوبِي، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَا يَجْتَمِعَانِ فِي قَلْبِ عَبْدٍ فِي مِثْلِ هَذَا الْمَوْطِنِ إِلَّا أَعْطَاهُ اللَّهُ مَا يَرْجُو وَآمَنَهُ مِمَّا يَخَافُ.
হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত। একদা রাসূল ﷺ এক মুমূর্ষু যুবকের নিকট গেলেন। তাকে জিজ্ঞেস করলেন, এখন কেমন লাগছে? সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আল্লাহর রহমতের আশা করছি এবং আমার গুনাহের কারণে ভয়ও পাচ্ছি। রাসূল ﷺ ইরশাদ করলেন, এমন মুহূর্তে যে ব্যক্তির অন্তরে এ দুটি জিনিস একত্রিত হবে আল্লাহ তাকে তার আশানুরূপ দান করবেন এবং তার ভয় থেকে তাকে নিরাপত্তা দিবেন।১২২
টিকাঃ
১২২. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-৯৮৩; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-৪২৬১; হাদীসটি হাসান।
হযরত হাসান রহ. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, মৃত্যুর সময় কোনো ব্যক্তি যদি ভয় ও আশার সমন্বয় ঘটাতে পারে, তাহলে আল্লাহ তাকে যে আশা করেছে তাই দান করবেন এবং যার আশঙ্কা করেছে তা দূর করে দিবেন。
টিকাঃ
১৬৩. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-৯৮৩; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-৪২৬১। হাদীসটি হাসান।
📄 আল্লাহর রহমত ব্যতীত শুধু আমলের বিনিময়ে কেউ নাজাত পাবে না
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : لَا يُدْخِلُ أَحَدًا مِنْكُمُ الْجَنَّةَ عَمَلُهُ. قَالُوا: وَلَا أَنْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: وَلَا أَنَا إِلَّا أَنْ يَتَغَمَّدَنِيَ اللَّهُ بِرَحْمَتِهِ، وَلَكِنْ سَدِّدُوا وَقَارِبُوا.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেন, তোমাদের কাউকে তার আমল জান্নাতে প্রবেশ করাতে পারবে না। সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনাকেও না? তিনি বললেন, আমাকেও না। তবে আল্লাহ যদি আমাকে তাঁর রহমত দিয়ে আবৃত করে নেন, তাহলে ভিন্ন কথা। তবে তোমরা ঠিকঠাক আমল কর এবং মধ্যমপন্থা অবলম্বন কর। ১২৩
ٹکا:
১২৩. সহীহ বুখারী: হাদীস-৬৪৬৩; সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৮১৬।
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, কোনো ব্যক্তিই তার আমলের বিনিময়ে নাজাত পেতে পারবে না। সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনিও না? রাসূল ইরশাদ করলেন, আমিও না, যদি না আল্লাহ আমাকে তার রহমত দ্বারা পরিবেষ্টিত করেন। সুতরাং তোমরা পরস্পর ঘনিষ্ট হয়ে যাও। সকাল সন্ধ্যা এবং অন্ধকার রাতের একাংশে ইবাদতে মগ্ন থাক। তাহলেই তোমরা লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে。
হযরত আনাস ইবনে মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত— রাসূল ইরশাদ করেন, তোমরা সহজতা অবলম্বন কর, কঠিন হয়ো না। সু-সংবাদ দাও, ভীতি প্রদর্শন কর না。
টিকাঃ
১৬৪. সহীহ বুখারী: হাদীস-৬৪৬৩; সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৮১৬।
১৬৫. সহীহ বুখারী: হাদীস-৬৯; সহীহ মুসলিম: হাদীস-১৭৩৪।
📄 ইবলিসেরও নাজাতের আশা জাগবে
عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ: يَرْحَمُ اللهُ الْخَلَائِقَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، حَتَّى يَتَطَاوَلَ إِبْلِيسُ رَجَاءَ رَحْمَتِهِ، وَكَثْرَةِ الشُّفَعَاءِ.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা মাখলুকের প্রতি এমন রহমত করবেন যে, ইবলিসও তাঁর রহমতের আশায় এবং শাফাআতকারীদের আধিক্য দেখে মাথা উঁচু করবে। ১২৪
ٹکا:
১২৪. আল-মুজামুল কাবীর লিত্ ত্ববারানী: হাদীস-৯৫৯৩; আল্লামা হাইসামী বলেছেন, সনদে একজন জয়ীফ রাবী রয়েছেন। [মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ১০/৩৭৫]
ইবনে মাসউদ রাযি. বলেন, "কিয়ামতের দিন আল্লাহ মানুষের প্রতি এতো বেশি রহম করবেন যে, রহমতের আধিক্য দেখে এবং সুপারিশকারীদের সুপারিশের প্রবলতা দেখে শয়তান ইবলীসও আশায় মাথা তুলবে।"
অপর এক হাদীসে এসেছে, রাসূল ইরশাদ করেন— 'ইউনাদী মুনাদিন মিন তাহ্তিল আরশি ইয়াওমাল কিয়ামাতি ইয়া উম্মাতা মুহাম্মাদিন আম্মা মা কানা লী ক্বিবাল্লাকুম ফাক্বাদ ওয়াহাবতুহু লাকুম, ওয়া বাক্বিয়াতিত তাবিআতু, ফাতাওয়া হাবূহা ওয়াদখুলুল জান্নাতা বিরাহমাতী' অর্থ: কিয়ামতের দিন আরশের নিচ থেকে এক ঘোষক ঘোষণা করে বলবে হে মুহাম্মদের উম্মত! তোমাদেরকে দেওয়া আমার প্রতিশ্রুতি আমি পূর্ণ করেছি। তারপর কিছু অবশিষ্ট রয়ে গেছে, তা তোমরা নিজেরা পরস্পর বণ্টন করে নাও এবং আমার রহমতের দ্বারা জান্নাতে প্রবেশ কর।
টিকাঃ
১৬৬. আল-মু'জামুল কাবীর, তাবারানী, হাদীস-১০৫১৩। হাদীসটির সনদ যঈফ। (মাজমাউয যাওয়ায়েদ, হাদীস-১৮৫৩৫)
১৬৭. দাইলামী, মুসনাদুল ফিরদাউস: হাদীস-৮৮৭১।
📄 কখন ভয় উত্তম আর কখন আশা
ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, বান্দার জন্য সুস্থাবস্থায় আল্লাহর ভয় ও রহমতের আশা উভয়ই সমানভাবে রাখা উচিত। আর অসুস্থ অবস্থায় রহমতের আশা বেশি রাখা উচিত। কারণ, সুস্থাবস্থায় যদি সে আল্লাহর ভয় করে তাহলে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে পারবে। আর অসুস্থ অবস্থায় আল্লাহর রহমতের আশা করলে সে তাঁর প্রতি সুধারণা নিয়ে মৃত্যুবরণ করবে। রাসূল ﷺ বলেন- لَا يَمُوتَنَّ أَحَدُكُمْ إِلَّا وَهُوَ يُحْسِنُ بِاللَّهِ الظَّنَّ অর্থাৎ, আল্লাহর প্রতি সুধারণা ছাড়া যেন কেউ মৃত্যুবরণ না করে। ১২৫
عَنْ يَحْيَى بْنِ مُعَاذٍ الرَّازِيِّ رَحِمَهُ اللهُ، أَنَّهُ قَالَ: رَجَاءُ الْمُطِيعِينَ لِفَضْلِهِ أَكْثَرُ مِنْ رَجَائِهِمْ لِعَمَلِهِمْ، وَرَجَاءُ الْمُذْنِبِينَ لِعَفْوِهِ أَكْثَرُ مِنْ خَوْفِهِمْ لِذُنُوبِهِمْ.
হযরত ইয়াহইয়া ইবনে মুআয রাযী রহ. বলেন, নেককারগণ তাদের আমলের চেয়ে আল্লাহর রহমতের আশা বেশি করে। আর গুনাহগারগণ গুনাহের ভয়ের চেয়ে আল্লাহর ক্ষমার আশা বেশি করে।
ٹکا:
১২৫. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৮৭৭; সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-৩১১৩।
হযরত ফুযাইল ইবনে আয়ায রহ. বলতেন, মানুষ যতক্ষণ সুস্থ সবল থাকে ততক্ষণ তার জন্য ভয় উত্তম। যাতে সে বেশি বেশি ইবাদত করতে পারে এবং গুনাহাচার থেকে বেঁচে থাকতে পারে। আর মানুষ যখন অসুস্থ ও দুর্বল হয়ে পড়ে তখন আশা তার জন্য উত্তম হয়ে ওঠে।