📄 জনৈক গুনাহগারের ক্ষমা লাভ
عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: كَانَ فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ شَابٌّ قَدْ عَبَدَ اللَّهَ عِشْرِينَ سَنَةً، ثُمَّ عَصَاهُ عِشْرِينَ سَنَةً، ثُمَّ نَظَرَ فِي الْمِرْآةِ يَوْمًا فَرَأَى الشَّيْبَ فِي لِحْيَتِهِ، فَسَاءَهُ ذَلِكَ، فَقَالَ: إِلَهِي أَطَعْتُكَ عِشْرِينَ سَنَةً، وَعَصَيْتُكَ عِشْرِينَ سَنَةً، فَإِنْ رَجَعْتُ إِلَيْكَ أَتَقَبَّلُنِي؟ فَسَمِعَ صَوْتًا مِنْ خَلْفِهِ يَقُولُ: أَحْبَبْتَنَا فَأَحْبَبْنَاكَ، وَتَرَكْتَنَا فَتَرَكْنَاكَ، وَعَصَيْتَنَا فَأَمْهَلْنَاكَ، وَإِنْ رَجَعْتَ إِلَيْنَا قَبِلْنَاكَ.
হযরত উমর রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেন, বনী ইসরাঈলে এক যুবক ছিল, যে বিশ বছর আল্লাহর ইবাদত করেছে, তারপর বিশ বছর নাফরমানী করেছে। এরপর একদিন সে আয়নায় নিজের দাড়িতে সাদা চুল দেখে লজ্জিত হলো এবং বলল, হে আল্লাহ! আমি বিশ বছর আপনার ইবাদত করেছি আর বিশ বছর নাফরমানী করেছি। এখন যদি আমি আপনার নিকট ফিরে আসি আপনি কি আমাকে গ্রহণ করবেন? তখন সে অদৃশ্য থেকে আওয়াজ শুনতে পেল, তুমি আমাকে ভালোবেসেছিলে, আমিও তোমাকে ভালোবেসেছিলাম। তুমি আমাকে ছেড়ে দিয়েছিলে, আমিও তোমাকে ছেড়ে দিয়েছিলাম। তুমি আমার নাফরমানী করেছ, আমি তোমাকে অবকাশ দিয়েছি। আর তুমি যদি আমার দিকে ফিরে আস আমি তোমাকে গ্রহণ করব।
📄 আল্লাহর বান্দারা তার রহমত থেকে নিরাশ হতে পারে না
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، قَالَ: مَا أَدْرِي أَيُّ الرَّجُلَيْنِ أَعْظَمُ عِنْدَ اللَّهِ جُرْمًا: رَجُلٌ قَنَطَ عِبَادَ اللَّهِ مِنْ رَحْمَتِهِ، أَوْ رَجُلٌ آمَنَ عِبَادَ اللَّهِ مِنْ مَكْرِهِ.
হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জানি না কোন ব্যক্তি আল্লাহর নিকট বেশি অপরাধী, যে ব্যক্তি মানুষকে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ করে, নাকি যে ব্যক্তি মানুষকে আল্লাহর পাকড়াও থেকে নির্ভয় করে দেয়।
ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, আল্লাহর রহমতের ব্যাপারে কাউকে নিরাশ করাও যেমন উচিত নয়, তেমনি তাঁর পাকড়াও থেকেও নির্ভয় করে দেওয়া উচিত নয়। বরং উভয়টার মাঝে ভারসাম্য বজায় রাখা উচিত। যাতে মানুষ না নিরাশ হয়ে যায়, আর না নির্ভয় হয়ে আমল ছেড়ে দেয়।
📄 শত ব্যক্তির খুনীর জান্নাত লাভ
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: كَانَ فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ رَجُلٌ قَتَلَ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ إِنْسَانًا، ثُمَّ خَرَجَ يَسْأَلُ، فَأَتَى رَاهِبًا فَسَأَلَهُ فَقَالَ لَهُ: هَلْ مِنْ تَوْبَةٍ؟ قَالَ: لَا، فَقَتَلَهُ، فَجَعَلَ يَسْأَلُ، فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ: ائْتِ قَرْيَةَ كَذَا وَكَذَا، فَأَدْرَكَهُ الْمَوْتُ، فَنَأَى بِصَدْرِهِ نَحْوَهَا، فَاخْتَصَمَتْ فِيهِ مَلَائِكَةُ الرَّحْمَةِ وَمَلَائِكَةُ الْعَذَابِ، فَأَوْحَى اللَّهُ إِلَى هَذِهِ أَنْ تَقَرَّبِي، وَأَوْحَى اللَّهُ إِلَى هَذِهِ أَنْ تَبَاعَدِي، وَقَالَ: قِيسُوا مَا بَيْنَهُمَا، فَوُجِدَ إِلَى هَذِهِ أَقْرَبَ بِشِبْرٍ، فَغُفِرَ لَهُ.
হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেন, বনী ইসরাঈলের এক ব্যক্তি নিরানব্বই জনকে হত্যা করে। তারপর সে মানুষের নিকট জানতে চায়, তার তওবা কবুল হবে কিনা? সে এক পাদ্রীর নিকট গিয়ে জানতে চাইল। পাদ্রী বলল, তোমার জন্য তওবার কোনো সুযোগ নেই। সে পাদ্রীকেও হত্যা করে ফেলল। এরপর সে অন্য এক লোকের নিকট গিয়ে জানতে চাইল। লোকটি তাকে বলল, তুমি অমুক গ্রামে চলে যাও। সেখানে গেলে তুমি মুক্তি পেতে পার। লোকটি সেই গ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলো। পথিমধ্যে তার মৃত্যু উপস্থিত হলে, সে বুক দিয়ে ঐ গ্রামের দিকে এগিয়ে গেল। তখন রহমতের ফেরেশতা ও আযাবের ফেরেশতার মাঝে বিতর্ক শুরু হলো। রহমতের ফেরেশতারা বলল, লোকটি তাওবা করার জন্য এসেছে, সুতরাং আমরা তাকে নিয়ে যাবো। আর আযাবের ফেরেশতারা বলল, সে তো এখনো ভালো কোনো আমল করেনি, আমরা তাকে নিয়ে যাবো। তখন আল্লাহ তা'আলা যে গ্রামে যাচ্ছিল সে গ্রামকে কাছে চলে আসতে আর যে গ্রাম থেকে বের হয়েছে তাকে দূরে সরে যেতে বললেন এবং ফেরেশতাদেরকে বললেন, তোমরা উভয় গ্রামের দূরত্ব মেপে দেখ, সে কোন গ্রামের বেশি নিকটবর্তী। তারা মেপে দেখল, লোকটি এক বিঘত পরিমাণ সামনের গ্রামের নিকটবর্তী হয়েছে। ফলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন। ১১৬
টিকাঃ
১১৬. সহীহ বুখারী: হাদীস-৩৪৭০; সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৭৬৬।
📄 চারটি ও চারটি আয়াত
عَنْ يَحْيَى بْنِ مُعَاذٍ الرَّازِيِّ رَحِمَهُ اللَّهُ أَنَّهُ قَالَ : لَا أَخَافُ مِمَّا مَضَى، وَلَا أُبَالِي بِمَا بَقِيَ، فَإِنَّ عَفْوَكَ يَا إِلَهِي يَشْمَلُ مَا قَدْ مَضَى، وَلُطْفَكَ يَشْمَلُ مَا قَدْ بَقِيَ، يَا مَنْ أَعْطَانِي الْإِسْلَامَ مِنْ غَيْرِ أَنْ أَسْأَلَكَ فَلَا تَحْرِمْنِي الْجَنَّةَ وَأَنَا أَسْأَلُكَ، يَا مَنْ إِذَا ذَكَرْتُهُ هَشَّ لِذِكْرِهِ فُؤَادِي، وَلَوْلَا سَتْرُهُ عَلَيَّ لَافْتَضَحْتُ عِنْدَ قُعُودِي، كَيْفَ لَا أَرْجُو الْفَوْزَ غَدًا وَقَدْ هَدَيْتَنِي لِلتَّوْحِيدِ وَالْإِفْرَادِ، فَاعْصِمْنِي مِنَ الْمُخَالَفَاتِ، وَسَدِّدْنِي بِالْإِصَابَاتِ، وَارْزُقْنِي مُنَاجَاةَ الْخَائِفِينَ وَصِدْقَ الْمُوقِنِينَ، وَيَقِينَ الْمُتَوَكَّلِينَ، وَتَوَكَّلَ الْعَابِدِينَ.
হযরত ইয়াহইয়া ইবনে মুআয রাযী রহ. বলেন, আমার অতীত নিয়ে আমি চিন্তিত নই, আর ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বিগ্ন নই। কারণ, হে আমার ইলাহ! আপনার ক্ষমা আমার অতীতকে শামিল করে, আর আপনার لطف (অনুগ্রহ) আমার ভবিষ্যৎকে শামিল করে। হে আল্লাহ! না চাইতেই আপনি আমাকে ইসলাম দান করেছেন, এখন আমি আপনার নিকট জান্নাত চাই, আমাকে তা থেকে বঞ্চিত করবেন না। হে আল্লাহ! আমি যখনই আপনাকে স্মরণ করি, আমার অন্তর প্রফুল্ল হয়ে ওঠে। আপনার পর্দা যদি আমাকে আবৃত না করত, তাহলে বসে থাকা অবস্থাতেই আমি লাঞ্ছিত হতাম। আগামীকাল আমার মুক্তির আশা আমি কেন করব না, যেখানে আপনিই আমাকে তাওহীদের হিদায়াত দিয়েছেন? হে আল্লাহ! আমাকে আপনার নাফরমানী থেকে বাঁচিয়ে রাখুন, সঠিক পথের উপর অবিচল রাখুন, আমাকে আপনার ভয়ে ভীতদের মত আপনার সাথে কথোপকথনের তাওফীক দিন, বিশ্বাসীদের সত্যবাদিতা দান করুন, তাওয়াক্কুলকারীদের একীন ও আবেদগণের তাওয়াক্কুল দান করুন।
ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, আমি আমার উস্তাদকে বলতে শুনেছি, আমি কুরআনের চারটি আয়াত পেয়েছি, যেখানে চারটি করে জিনিস রয়েছে। যে ব্যক্তি এই আয়াত চারটি পাঠ করবে আল্লাহ তাকে ওই আটটি জিনিস দান করবেন।
প্রথম আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেন- مَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهُ حَيَاةً طَيِّبَةً وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَجْرَهُمْ بِأَحْسَنِ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ (النحل: ٩٧)
অর্থাৎ, পুরুষ বা নারী যে কেউ ঈমান অবস্থায় নেক আমল করবে, আমি তাকে পবিত্র জীবন দান করব এবং তারা যা করত তার উত্তম প্রতিদান দিব। ১১৭
এ আয়াতে পবিত্র জীবন ও উত্তম প্রতিদান লাভের জন্য দু'টি শর্ত দেওয়া হয়েছে। যথা- নেক আমল ও ঈমান। যে ব্যক্তি এ দু'টি শর্ত পূরণ করবে আল্লাহ তাকে পবিত্র জীবন ও উত্তম প্রতিদান দিবেন।
দ্বিতীয় আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেন- وَأَوْفُوا بِعَهْدِي أُوفِ بِعَهْدِكُمْ وَإِيَّايَ فَارْهَبُونِ (البقرة: ٤٠)
অর্থ: তোমরা আমার সাথে কৃত অঙ্গিকার পূর্ণ কর, আমিও তোমাদের সাথে কৃত অঙ্গিকার পূর্ণ করব এবং আমাকেই ভয় কর। ১১৮
এ আয়াতে অঙ্গিকার পূর্ণ করা ও ভয় করা এই দুটি কাজের জন্য আল্লাহ তা'আলা অঙ্গিকার পূর্ণ করা ও ভালোবাসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তৃতীয় আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেন- فَإِمَّا يَأْتِيَنَّكُمْ مِنِّي هُدًى فَمَنْ تَبِعَ هُدَايَ فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ (البقرة: ٣٨)
অর্থ: যখন তোমাদের নিকট আমার পক্ষ থেকে হেদায়াত পৌঁছাবে তখন যারা আমার হেদায়াত অনুসরণ করবে তাদের কোনো ভয় ও চিন্তা থাকবে না। ১১৯
এ আয়াতে হেদায়াতের অনুসরণের বিনিময়ে ভয় ও চিন্তা থেকে মুক্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
চতুর্থ আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেন- وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِي سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ (غافر : ٦٠)
অর্থ: তোমাদের রব বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিব। নিশ্চয় যারা আমার ইবাদত থেকে বিমুখ, তারা লাঞ্ছিত অবস্থায় জাহান্নামে প্রবেশ করবে। ১২০
টিকাঃ
১১৭. সূরা নাহল: আয়াত-৯৭
১১৮. সূরা বাকারা: আয়াত-৪০
১১৯. সূরা বাকারা: আয়াত-৩৮
১২০. সূরা গাফের: আয়াত-৬০