📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ > 📄 রহমত লাভের দুআ

📄 রহমত লাভের দুআ


عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ أَحَبَّ أَنْ لَا يَقِفَ عَلَى مَسَاوِئِ عَمَلِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَأَنْ لَا تُنْشَرَ لَهُ دَوَاوِينُهُ فَلْيَقُلْ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاةٍ: اللَّهُمَّ إِنَّ ذُنُوبِي وَإِنْ كَثُرَتْ وَجَلَّتْ فَهِيَ صَغِيرَةٌ فِي جَنْبِ عَفْوِكَ، فَاغْفِرْ لِي ذُنُوبِي، وَعَلَى هَذَا فَإِنَّهُ لَا يُنْشَرُ لَهُ دِيوَانٌ، وَلَا يُوقَفُ عَلَى مَسَاوِئِ عَمَلِهِ.

হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন তার আমলের হিসাবের সম্মুখীন হতে চায় না এবং তার আমলনামা প্রকাশ হোক তা চায় না, সে যেন প্রত্যেক নামাযের পর এই দোয়া পাঠ করে-
اللَّهُمَّ إِنَّ ذُنُوبِي وَإِنْ كَثُرَتْ وَجَلَّتْ فَهِيَ صَغِيرَةٌ فِي جَنْبِ عَفْوِكَ، فَاغْفِرْ لِي ذُنُوبِي
অর্থ: হে আল্লাহ! আমার গুনাহ যদিও বেশি ও বড়, আপনার ক্ষমার তুলনায় তা খুবই নগণ্য। সুতরাং আমার গুনাহ ক্ষমা করে দিন। যে ব্যক্তি এই দোয়া পাঠ করবে, তার আমলনামা প্রকাশ করা হবে না এবং তাকে হিসাবের জন্য দাঁড় করানো হবে না। ১১৫

ٹکا:
১১৫. কানযুল উম্মাল: হাদীস-৫০০১; মাওযুআতে সাগানী: হাদীস-৬২।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ > 📄 জনৈক গুনাহগারের ক্ষমা লাভ

📄 জনৈক গুনাহগারের ক্ষমা লাভ


عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: كَانَ فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ شَابٌّ قَدْ عَبَدَ اللَّهَ عِشْرِينَ سَنَةً، ثُمَّ عَصَاهُ عِشْرِينَ سَنَةً، ثُمَّ نَظَرَ فِي الْمِرْآةِ يَوْمًا فَرَأَى الشَّيْبَ فِي لِحْيَتِهِ، فَسَاءَهُ ذَلِكَ، فَقَالَ: إِلَهِي أَطَعْتُكَ عِشْرِينَ سَنَةً، وَعَصَيْتُكَ عِشْرِينَ سَنَةً، فَإِنْ رَجَعْتُ إِلَيْكَ أَتَقَبَّلُنِي؟ فَسَمِعَ صَوْتًا مِنْ خَلْفِهِ يَقُولُ: أَحْبَبْتَنَا فَأَحْبَبْنَاكَ، وَتَرَكْتَنَا فَتَرَكْنَاكَ، وَعَصَيْتَنَا فَأَمْهَلْنَاكَ، وَإِنْ رَجَعْتَ إِلَيْنَا قَبِلْنَاكَ.

হযরত উমর রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেন, বনী ইসরাঈলে এক যুবক ছিল, যে বিশ বছর আল্লাহর ইবাদত করেছে, তারপর বিশ বছর নাফরমানী করেছে। এরপর একদিন সে আয়নায় নিজের দাড়িতে সাদা চুল দেখে লজ্জিত হলো এবং বলল, হে আল্লাহ! আমি বিশ বছর আপনার ইবাদত করেছি আর বিশ বছর নাফরমানী করেছি। এখন যদি আমি আপনার নিকট ফিরে আসি আপনি কি আমাকে গ্রহণ করবেন? তখন সে অদৃশ্য থেকে আওয়াজ শুনতে পেল, তুমি আমাকে ভালোবেসেছিলে, আমিও তোমাকে ভালোবেসেছিলাম। তুমি আমাকে ছেড়ে দিয়েছিলে, আমিও তোমাকে ছেড়ে দিয়েছিলাম। তুমি আমার নাফরমানী করেছ, আমি তোমাকে অবকাশ দিয়েছি। আর তুমি যদি আমার দিকে ফিরে আস আমি তোমাকে গ্রহণ করব।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ > 📄 আল্লাহর বান্দারা তার রহমত থেকে নিরাশ হতে পারে না

📄 আল্লাহর বান্দারা তার রহমত থেকে নিরাশ হতে পারে না


عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، قَالَ: مَا أَدْرِي أَيُّ الرَّجُلَيْنِ أَعْظَمُ عِنْدَ اللَّهِ جُرْمًا: رَجُلٌ قَنَطَ عِبَادَ اللَّهِ مِنْ رَحْمَتِهِ، أَوْ رَجُلٌ آمَنَ عِبَادَ اللَّهِ مِنْ مَكْرِهِ.

হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জানি না কোন ব্যক্তি আল্লাহর নিকট বেশি অপরাধী, যে ব্যক্তি মানুষকে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ করে, নাকি যে ব্যক্তি মানুষকে আল্লাহর পাকড়াও থেকে নির্ভয় করে দেয়।
ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, আল্লাহর রহমতের ব্যাপারে কাউকে নিরাশ করাও যেমন উচিত নয়, তেমনি তাঁর পাকড়াও থেকেও নির্ভয় করে দেওয়া উচিত নয়। বরং উভয়টার মাঝে ভারসাম্য বজায় রাখা উচিত। যাতে মানুষ না নিরাশ হয়ে যায়, আর না নির্ভয় হয়ে আমল ছেড়ে দেয়।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ > 📄 শত ব্যক্তির খুনীর জান্নাত লাভ

📄 শত ব্যক্তির খুনীর জান্নাত লাভ


عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: كَانَ فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ رَجُلٌ قَتَلَ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ إِنْسَانًا، ثُمَّ خَرَجَ يَسْأَلُ، فَأَتَى رَاهِبًا فَسَأَلَهُ فَقَالَ لَهُ: هَلْ مِنْ تَوْبَةٍ؟ قَالَ: لَا، فَقَتَلَهُ، فَجَعَلَ يَسْأَلُ، فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ: ائْتِ قَرْيَةَ كَذَا وَكَذَا، فَأَدْرَكَهُ الْمَوْتُ، فَنَأَى بِصَدْرِهِ نَحْوَهَا، فَاخْتَصَمَتْ فِيهِ مَلَائِكَةُ الرَّحْمَةِ وَمَلَائِكَةُ الْعَذَابِ، فَأَوْحَى اللَّهُ إِلَى هَذِهِ أَنْ تَقَرَّبِي، وَأَوْحَى اللَّهُ إِلَى هَذِهِ أَنْ تَبَاعَدِي، وَقَالَ: قِيسُوا مَا بَيْنَهُمَا، فَوُجِدَ إِلَى هَذِهِ أَقْرَبَ بِشِبْرٍ، فَغُفِرَ لَهُ.

হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেন, বনী ইসরাঈলের এক ব্যক্তি নিরানব্বই জনকে হত্যা করে। তারপর সে মানুষের নিকট জানতে চায়, তার তওবা কবুল হবে কিনা? সে এক পাদ্রীর নিকট গিয়ে জানতে চাইল। পাদ্রী বলল, তোমার জন্য তওবার কোনো সুযোগ নেই। সে পাদ্রীকেও হত্যা করে ফেলল। এরপর সে অন্য এক লোকের নিকট গিয়ে জানতে চাইল। লোকটি তাকে বলল, তুমি অমুক গ্রামে চলে যাও। সেখানে গেলে তুমি মুক্তি পেতে পার। লোকটি সেই গ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলো। পথিমধ্যে তার মৃত্যু উপস্থিত হলে, সে বুক দিয়ে ঐ গ্রামের দিকে এগিয়ে গেল। তখন রহমতের ফেরেশতা ও আযাবের ফেরেশতার মাঝে বিতর্ক শুরু হলো। রহমতের ফেরেশতারা বলল, লোকটি তাওবা করার জন্য এসেছে, সুতরাং আমরা তাকে নিয়ে যাবো। আর আযাবের ফেরেশতারা বলল, সে তো এখনো ভালো কোনো আমল করেনি, আমরা তাকে নিয়ে যাবো। তখন আল্লাহ তা'আলা যে গ্রামে যাচ্ছিল সে গ্রামকে কাছে চলে আসতে আর যে গ্রাম থেকে বের হয়েছে তাকে দূরে সরে যেতে বললেন এবং ফেরেশতাদেরকে বললেন, তোমরা উভয় গ্রামের দূরত্ব মেপে দেখ, সে কোন গ্রামের বেশি নিকটবর্তী। তারা মেপে দেখল, লোকটি এক বিঘত পরিমাণ সামনের গ্রামের নিকটবর্তী হয়েছে। ফলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন। ১১৬

টিকাঃ
১১৬. সহীহ বুখারী: হাদীস-৩৪৭০; সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৭৬৬।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00