📄 যারা আল্লাহর রহমত পাবে না
عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ: خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ يَوْمٍ خُطْبَةً، وَعَلَيْهِ عِصَابَةٌ سَوْدَاءُ، فَقَالَ: يَا أَيُّهَا النَّاسُ أَيُّكُمْ يُحِبُّ أَنْ يَعْفُوَ اللَّهُ عَنْهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ؟ قُلْنَا كُلُّنَا نُحِبُّ ذَلِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ: فَإِنْ أَحْبَبْتُمْ أَنْ يَعْفُوَ اللَّهُ عَنْكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، فَاعْفُوا عِبَادَهُ أَلَا فَارْحَمُوا مَنْ فِي الْأَرْضِ يَرْحَمْكُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ أَلَا فَأَعْطُوا مِمَّا أَعْطَاكُمُ اللَّهُ تَعَالَى وَأَمْسِكُوا الْفَضْلَ، وَلَا تَجْهَدُوا أَنْفُسَكُمْ.
হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ একদা কালো পাগড়ী পরে আমাদের সামনে খুতবা দিলেন। তিনি বললেন, হে লোকসকল! তোমাদের কে চায় যে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিবেন? আমরা সবাই বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা সবাই তা চাই। রাসূল ﷺ বললেন, তোমরা যদি চাও কিয়ামতের দিন আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করে দিক, তাহলে তোমরা আল্লাহর বান্দাদের ক্ষমা করে দাও। দুনিয়াবাসীর প্রতি দয়া কর, তাহলে আসমানবাসী তোমাদের প্রতি দয়া করবেন। আল্লাহ তোমাদের যা দিয়েছেন তা থেকে দান কর। আর অতিরিক্ত অংশ নিজের কাছে রেখে দাও। তোমরা নিজেদেরকে কষ্টে ফেলো না।১১২
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: لَيْسَ شَيْءٌ أَحَبَّ إِلَى اللَّهِ مِنْ شَابٍ تَائِبٍ، وَلَيْسَ شَيْءٌ أَبْغَضَ إِلَى اللهِ مِنْ شَيْخٍ مُقِيمٍ عَلَى مَعَاصِيهِ.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, আল্লাহর নিকট তওবাকারী যুবকের চেয়ে প্রিয় আর কিছু নেই। আর বৃদ্ধ বয়সেও যে গুনাহে লিপ্ত থাকে তার চেয়ে অপ্রিয় আর কেউ নেই।১১৩
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: أَرْبَعَةٌ يُبْغِضُهُمُ اللَّهُ تَعَالَى: الْبَيَّاعُ الْحَلَّافُ، وَالْفَقِيرُ الْمُخْتَالُ، وَالشَّيْخُ الزَّانِي، وَالْإِمَامُ الْجَائِرُ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা'আলা চার ব্যক্তিকে ঘৃণা করেন-
১. বেশি কসমকারী ব্যবসায়ী।
২. অহংকারী গরীব।
৩. বৃদ্ধ যিনাকারী।
৪. অত্যাচারী শাসক।১১৪
ٹکا:
১১২. আল-মাকাসিদ আল-হাসানাহ, সাখাবী: হাদীস-১১৭; কাশফুল খাফা, আজলুনী: ১/৮৫।
১১৩. কানযুল উম্মাল: হাদীস-১০১৭৯; ইমাম সাখাবী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন [আল-মাকাসিদ: ৪৩৫]।
১১৪. সুনানে নাসায়ী: হাদীস-২৫৭৬; সহীহ ইবনে হিব্বান: হাদীস-৫৫৫৭; হাদীসটি সহীহ।
হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত— তিনি বলেন, যখন এই আয়াতটি নাযিল হয়— (وَرَحْمَتِي وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ) তখন অভিশপ্ত ইবলীসও বলতে লাগল, আমিও তো একটি কিছু। আল্লাহর রহমত যখন সমস্ত কিছুকে বেষ্টন করে রেখেছে তাহলে আমিও তার রহমতে বেষ্টিত। আর ইহুদী-নাসারারাও বলতে লাগল, আমরাও তো তাহলে তার রহমতের ভাগ পাব। কিন্তু তারপর যখন নাযিল হলো— فَسَأَكْتُبُهَا لِلَّذِينَ يَتَّقُونَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَالَّذِينَ هُمْ بِآيَاتِنَا يُؤْمِنُونَ অর্থ: যারা (শিরক থেকে) বেঁচে থাকবে এবং যাকাত আদায় করবে এবং যারা আমার আয়াতসমূহের উপর ঈমান রাখবে আমি এই রহমত শুধু তাদের জন্য নির্ধারণ করে রাখব। তখন ইবলীস হতাশ হয়ে পড়লো। কিন্তু ইহুদী-নাসারা বলল, আমরা শিরক পরিহার করি, যাকাত আদায় করি এবং আল্লাহর আয়াতসমূহের উপর ঈমান রাখি। সুতরাং আমরা আল্লাহর রহমত পাব। তখন নিম্নোক্ত আয়াতটি নাযিল হলো— الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الرَّسُولَ النَّبِيَّ الْأُمِّيَّ অর্থ: যারা উম্মী (নিরক্ষর) নবীর (মুহাম্মদ) প্রতি ঈমান এনে তাকে অনুসরণ করে।
এই আয়াত নাযিল হওয়ার পর ইহুদী-নাসারাও আল্লাহর রহমতের ব্যাপারে নিরাশ হয়ে পড়ল এবং আল্লাহর রহমত একান্তভাবে মুমিনদের জন্য থাকবে। সুতরাং প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য হলো, এই মহান নেয়ামতের জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা এবং তার কাছে তাওবা করা।
টিকাঃ
১৫২. সূরা আল-আরাফ: আয়াত-১৫৬
📄 রহমত লাভের দুআ
عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ أَحَبَّ أَنْ لَا يَقِفَ عَلَى مَسَاوِئِ عَمَلِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَأَنْ لَا تُنْشَرَ لَهُ دَوَاوِينُهُ فَلْيَقُلْ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاةٍ: اللَّهُمَّ إِنَّ ذُنُوبِي وَإِنْ كَثُرَتْ وَجَلَّتْ فَهِيَ صَغِيرَةٌ فِي جَنْبِ عَفْوِكَ، فَاغْفِرْ لِي ذُنُوبِي، وَعَلَى هَذَا فَإِنَّهُ لَا يُنْشَرُ لَهُ دِيوَانٌ، وَلَا يُوقَفُ عَلَى مَسَاوِئِ عَمَلِهِ.
হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন তার আমলের হিসাবের সম্মুখীন হতে চায় না এবং তার আমলনামা প্রকাশ হোক তা চায় না, সে যেন প্রত্যেক নামাযের পর এই দোয়া পাঠ করে-
اللَّهُمَّ إِنَّ ذُنُوبِي وَإِنْ كَثُرَتْ وَجَلَّتْ فَهِيَ صَغِيرَةٌ فِي جَنْبِ عَفْوِكَ، فَاغْفِرْ لِي ذُنُوبِي
অর্থ: হে আল্লাহ! আমার গুনাহ যদিও বেশি ও বড়, আপনার ক্ষমার তুলনায় তা খুবই নগণ্য। সুতরাং আমার গুনাহ ক্ষমা করে দিন। যে ব্যক্তি এই দোয়া পাঠ করবে, তার আমলনামা প্রকাশ করা হবে না এবং তাকে হিসাবের জন্য দাঁড় করানো হবে না। ১১৫
ٹکا:
১১৫. কানযুল উম্মাল: হাদীস-৫০০১; মাওযুআতে সাগানী: হাদীস-৬২।
ইয়াহইয়া ইবনে মুআয রাযি. থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলতেন, إِلَهِي قَدْ أَنْزَلْتَ إِلَيْنَا رَحْمَةً وَاحِدَةً، وَأَكْرَمْتَنَا بِتِلْكَ الرَّحْمَةِ، وَهِيَ الْإِسْلَامُ، فَإِذَا أَنْزَلْتَ عَلَيْنَا مِائَةَ رَحْمَةٍ فَكَيْفَ لَا نَرْجُو مَغْفِرَتَكَ. হে আল্লাহ! যখন আপনি আমাদের জন্য রহমতের এক ভাগ নাযিল করেছেন, আপনি আমাদের উপর এক শ' ভাগ রহমত নাযিল করবেন তখন কি আমরা আপনার মাগফেরাতের আশা করতে পারি না? তিনি আরো বলতেন— إِلَهِي إِنْ كَانَ ثَوَابُكَ لِلْمُطِيعِينَ، وَرَحْمَتُكَ لِلْمُذْنِبِينَ، فَإِنِّي وَإِنْ كُنْتُ لَسْتُ مُطِيعًا لَا أَرْجُو ثَوَابَكَ فَأَنَا مِنَ الْمُذْنِبِينَ، فَأَرْجُو رَحْمَتَكَ. হে আল্লাহ! যখন সওয়াব আপনার আনুগত্যশীলদের জন্য। আর রহমত গুনাহগার বান্দাদের জন্য। সুতরাং আমি আনুগত্যশীল বান্দা নই যে, সওয়াবের আশা রাখব। তবে আমি তো আপনার রহমতের আশা করতে পারি। কারণ, আমি আপনার গুনাহগার বান্দা। তিনি আরো বলতেন— إِلَهِي خَلَقْتَ الْجَنَّةَ وَجَعَلْتَهَا وَلِيمَةً لِأَوْلِيَائِكَ، وَآيَسْتَ الْكُفَّارَ مِنْهَا وَخَلَقْتَ مَلَائِكَتَكَ غَيْرَ مُحْتَاجِينَ إِلَيْهَا، وَأَنْتَ مُسْتَغْنِ عَنْهَا، فَإِنْ لَمْ تُعْطِنَا الْجَنَّةَ فَلِمَنْ تَكُونُ الْجَنَّةُ হে আল্লাহ! আপনি জান্নাত সৃষ্টি করেছেন এবং তা আপনার ওলীদের আতিথ্যের জন্য রেখে দিয়েছেন। জান্নাতের ব্যাপারে কাফেরদের হতাশ করে দিয়েছেন। আপনার ফেরেশতাদেরকে এমনভাবে সৃষ্টি করেছেন যে, তাদের জান্নাতের দরকার নেই। আপনি নিজেও তার থেকে অমুখাপেক্ষী। সুতরাং আপনি যদি আমাদেরকে জান্নাত দান না করেন, তাহলে কার জন্য এই জান্নাত?
📄 জনৈক গুনাহগারের ক্ষমা লাভ
عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: كَانَ فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ شَابٌّ قَدْ عَبَدَ اللَّهَ عِشْرِينَ سَنَةً، ثُمَّ عَصَاهُ عِشْرِينَ سَنَةً، ثُمَّ نَظَرَ فِي الْمِرْآةِ يَوْمًا فَرَأَى الشَّيْبَ فِي لِحْيَتِهِ، فَسَاءَهُ ذَلِكَ، فَقَالَ: إِلَهِي أَطَعْتُكَ عِشْرِينَ سَنَةً، وَعَصَيْتُكَ عِشْرِينَ سَنَةً، فَإِنْ رَجَعْتُ إِلَيْكَ أَتَقَبَّلُنِي؟ فَسَمِعَ صَوْتًا مِنْ خَلْفِهِ يَقُولُ: أَحْبَبْتَنَا فَأَحْبَبْنَاكَ، وَتَرَكْتَنَا فَتَرَكْنَاكَ، وَعَصَيْتَنَا فَأَمْهَلْنَاكَ، وَإِنْ رَجَعْتَ إِلَيْنَا قَبِلْنَاكَ.
হযরত উমর রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেন, বনী ইসরাঈলে এক যুবক ছিল, যে বিশ বছর আল্লাহর ইবাদত করেছে, তারপর বিশ বছর নাফরমানী করেছে। এরপর একদিন সে আয়নায় নিজের দাড়িতে সাদা চুল দেখে লজ্জিত হলো এবং বলল, হে আল্লাহ! আমি বিশ বছর আপনার ইবাদত করেছি আর বিশ বছর নাফরমানী করেছি। এখন যদি আমি আপনার নিকট ফিরে আসি আপনি কি আমাকে গ্রহণ করবেন? তখন সে অদৃশ্য থেকে আওয়াজ শুনতে পেল, তুমি আমাকে ভালোবেসেছিলে, আমিও তোমাকে ভালোবেসেছিলাম। তুমি আমাকে ছেড়ে দিয়েছিলে, আমিও তোমাকে ছেড়ে দিয়েছিলাম। তুমি আমার নাফরমানী করেছ, আমি তোমাকে অবকাশ দিয়েছি। আর তুমি যদি আমার দিকে ফিরে আস আমি তোমাকে গ্রহণ করব।
হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত— রাসূল ইরশাদ করেন, এমন এক ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করেছে, যে আল্লাহ তা'আলার তাওহীদের (একত্ববাদের) উপর ঈমান আনা ছাড়া আর কখনো কোনো ভালো কাজ করে নাই। তার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলে সে তার পরিজনদের বলল, আমার মৃত্যুর পর তোমরা আমাকে পুড়িয়ে ভস্ম করে ছাই করে ফেলবে। তারপর অর্ধেক ছাই জলে এবং বাকী অর্ধেক ছাই স্থলে ছড়িয়ে দিবে। তার মৃত্যু হলে পরিবারের লোকেরা তাই করল। আল্লাহ তা'আলার আদেশে জল ও স্থলের সমস্ত ছাইগুলো একত্রিত করা হলো। আল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কেন এমন করেছো? সে বলল, তোমার ভয়ে হে আল্লাহ! এই কথা শুনে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন।
টিকাঃ
১৫৩. সহীহ বুখারী: হাদীস-৩৪৭৮; সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৭৫৭; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস- ১১০৯৬।
📄 আল্লাহর বান্দারা তার রহমত থেকে নিরাশ হতে পারে না
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، قَالَ: مَا أَدْرِي أَيُّ الرَّجُلَيْنِ أَعْظَمُ عِنْدَ اللَّهِ جُرْمًا: رَجُلٌ قَنَطَ عِبَادَ اللَّهِ مِنْ رَحْمَتِهِ، أَوْ رَجُلٌ آمَنَ عِبَادَ اللَّهِ مِنْ مَكْرِهِ.
হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জানি না কোন ব্যক্তি আল্লাহর নিকট বেশি অপরাধী, যে ব্যক্তি মানুষকে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ করে, নাকি যে ব্যক্তি মানুষকে আল্লাহর পাকড়াও থেকে নির্ভয় করে দেয়।
ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, আল্লাহর রহমতের ব্যাপারে কাউকে নিরাশ করাও যেমন উচিত নয়, তেমনি তাঁর পাকড়াও থেকেও নির্ভয় করে দেওয়া উচিত নয়। বরং উভয়টার মাঝে ভারসাম্য বজায় রাখা উচিত। যাতে মানুষ না নিরাশ হয়ে যায়, আর না নির্ভয় হয়ে আমল ছেড়ে দেয়।
হযরত আতা রহ. থেকে বর্ণিত— তিনি বলেন, জনৈক সাহাবী বলেন, একদা রাসূল আমাদের নিকট এসে দেখলেন, আমরা হাসা-হাসি করছি। তিনি ইরশাদ করলেন, তোমরা হাসছ, অথচ জাহান্নাম তোমাদের পিছনেই রয়েছে? আল্লাহর কসম! তোমরা হাসা-হাসি কর এটা আমার পছন্দনীয় না। এরপর তিনি চলে গেলেন। আমাদের উপর যেন পাহাড় ভেঙ্গে পড়লো এমন স্তব্ধ হয়ে গেলাম। কিছুক্ষণ পর তিনি পুনরায় আমাদের নিকট ফিরে এলেন। ইরশাদ করলেন, জিবরাঈল আ. আমার নিকট বললেন, আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, আমার বান্দারা আমার রহমত থেকে নিরাশ হয় না। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন— نَبِّئُ عِبَادِي أَنِّي أَنَا الْغَفُورُ الرَّحِيمُ وَأَنَّ عَذَابِي هُوَ الْعَذَابُ الْأَلِيمُ অর্থ: আমার বান্দাদের বলে দাও : আমি ক্ষমাশীল এবং দয়ালু এবং আমার আযাবই হলো, প্রকৃত যন্ত্রণাকর আযাব।