📄 আল্লাহর রহমতের শত ভাগ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : إِنَّ اللَّهَ خَلَقَ الرَّحْمَةَ يَوْمَ خَلَقَهَا مِائَةَ رَحْمَةٍ، كُلُّ رَحْمَةٍ مِنْهَا طِبَاقُ مَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ، فَجَعَلَ مِنْهَا رَحْمَةً وَاحِدَةً فِي الْأَرْضِ، فَبِهَا تَعْطِفُ الْوَالِدَةُ عَلَى وَلَدِهَا، وَالْوَحْشُ وَالطَّيْرُ بَعْضُهَا عَلَى بَعْضٍ وَبِهَا يَتَرَاحَمُ الْخَلْقُ، وَأَخَّرَ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ، فَإِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ أَكْمَلَهَا بِهَذِهِ الرَّحْمَةِ مِائَةً كَامِلَةٌ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা'আলা যেদিন রহমত সৃষ্টি করেছেন সেদিন একশটি রহমত সৃষ্টি করেছেন। প্রতিটি রহমত আসমান ও জমিনের দূরত্ব পরিমাণ। তার মধ্যে মাত্র একটি রহমত তিনি দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন। এর প্রভাবেই মা তার সন্তানকে স্নেহ করে, বনের পশু-পাখি একে অপরের প্রতি দয়া করে এবং সকল সৃষ্টি একে অপরের প্রতি মায়া-মমতা দেখায়। আর বাকি নিরানব্বইটি রহমত তিনি কিয়ামতের দিনের জন্য রেখে দিয়েছেন। কিয়ামতের দিন হলে এই একটি রহমত দিয়ে তা পূর্ণ একশ করবেন। ১১০
টিকাঃ
১১০. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৭৫৩; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-৭৬৬৪।
হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তা'আলা রহমতকে এক শত ভাগ করেছেন। তার নিরানব্বই ভাগ নিজের কাছে রেখে এক ভাগ দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন। সে এক ভাগের কারণেই সৃষ্টিকূল একে অপরের প্রতি দয়া করে থাকে। এমনকি ঘোড়া তার বাচ্চা থেকে পা সরিয়ে নেয়, আহত হবে এই আশংকায়।
হযরত হাসান রহ. থেকে বর্ণিত— রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা'আলার নিকট এক শত ভাগ রহমত রয়েছে। তার এক ভাগ দুনিয়াবাসীর উপর নাযিল করেছেন, যা তাদের বেষ্টন করে রেখেছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে। কিয়ামতের দিন আল্লাহ এই এক ভাগও উঠিয়ে নিবেন এবং নিরানব্বই ভাগের সাথে যুক্ত করে নিবেন। এভাবে তিনি রহম একশ ভাগ পূর্ণ করবেন তার বন্ধু ও অনুগতদের জন্য।
টিকাঃ
১৪৭. সহীহ বুখারী: হাদীস-৬০০০; সহীহ মুসলিম: হাদীস- ২৭৫২।
১১৩. মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-১০৬৭০; হাদীসটি আবু হুরাইরা রাযি. হতে সহীহ মুত্তাসিল সনদেও বর্ণিত হয়েছে।
📄 আল্লাহর রহমতের আলোচনার উদ্দেশ্য
عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ : لَوْ نَزَلَ مِنَ السَّمَاءِ صَاعِقَةً مَا أَصَابَتْ مُسْتَغْفِرًا.
হযরত উমর রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আসমান থেকে যদি কোনো বজ্রপাত হয় তবে তা ইস্তিগফারকারীর উপর পতিত হয় না।
عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : الْعَجَبُ مِمَّنْ يَهْلَكُ وَمَعَهُ النَّجَاةُ. قِيلَ: وَمَا هِيَ؟ قَالَ: التَّوْبَةُ، وَالاسْتِغْفَارُ.
হযরত আলী রাযি. বলেন, আশ্চর্য হয় ঐ ব্যক্তির জন্য যে নাজাতের উপায় থাকা সত্ত্বেও ধ্বংস হয়ে যায়। জিজ্ঞেস করা হলো, নাজাতের উপায় কী? তিনি বললেন, তওবা ও ইস্তিগফার।
ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, আল্লাহর রহমতের আলোচনার উদ্দেশ্য হলো, গুনাহগার বান্দাকে গুনাহ থেকে ফিরিয়ে আনা। সে যখন আল্লাহর রহমতের কথা শুনবে তখন তার মনে আশার সঞ্চার হবে। ফলে সে তওবা করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসবে। সে যেন এ কথা না বলে যে, আমি এত গুনাহ করেছি, আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করবেন না। এমন মনে করে সে আরো বেশি গুনাহে লিপ্ত হতে পারে। বরং তাকে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া যাবে না। আল্লাহ তা'আলা বলেন-
قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
অর্থ: হে আমার বান্দাগণ যারা নিজেদের উপর যুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। ১১১
ٹکا:
১১১. সূরা যুমার: আয়াত-৫৩
ইমাম সমরকন্দী রহ. বলেন, নবী করীম ﷺ মুমিনদের জন্য আল্লাহ তা'আলার এই রহমতের বর্ণনা দিয়েছেন, যাতে তার নেয়ামতের কথা স্মরণ করে আল্লাহর প্রশংসা করে এবং তার শুকরিয়া আদায় করে। কারণ, আল্লাহ তা'আলার রহমতের আশাবাদী হয়, তার জন্য নেক আমল অনেক সহজ হয়ে যায়। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন— إِنَّ رَحْمَةَ اللَّهِ قَرِيبٌ مِنَ الْمُحْسِنِينَ অর্থ: নিশ্চয় আল্লাহর রহমত সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী। আল্লাহ তা'আলা আরো ইরশাদ করেন— فَمَنْ كَانَ يَرْجُو لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا অর্থ: যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাতের প্রত্যাশা রাখে সে যেন নেক আমল করে এবং তার রবের ইবাদতে কাউকে শরীক না করে। অপর এক আয়াতে এসেছে وَرَحْمَتِي وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ অর্থ: আমার রহমত সমস্ত কিছুকে পরিবেষ্টন করে রেখেছে।
টিকাঃ
১৪৯. সূরা আল আরাফ: আয়াত-৫৬
১৫০. সূরা কাহ্ফ্ফ: আয়াত-১১০
১৫১. সূরা আল আরাফ: আয়াত-১৫৬
📄 যারা আল্লাহর রহমত পাবে না
عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ: خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ يَوْمٍ خُطْبَةً، وَعَلَيْهِ عِصَابَةٌ سَوْدَاءُ، فَقَالَ: يَا أَيُّهَا النَّاسُ أَيُّكُمْ يُحِبُّ أَنْ يَعْفُوَ اللَّهُ عَنْهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ؟ قُلْنَا كُلُّنَا نُحِبُّ ذَلِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ: فَإِنْ أَحْبَبْتُمْ أَنْ يَعْفُوَ اللَّهُ عَنْكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، فَاعْفُوا عِبَادَهُ أَلَا فَارْحَمُوا مَنْ فِي الْأَرْضِ يَرْحَمْكُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ أَلَا فَأَعْطُوا مِمَّا أَعْطَاكُمُ اللَّهُ تَعَالَى وَأَمْسِكُوا الْفَضْلَ، وَلَا تَجْهَدُوا أَنْفُسَكُمْ.
হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ একদা কালো পাগড়ী পরে আমাদের সামনে খুতবা দিলেন। তিনি বললেন, হে লোকসকল! তোমাদের কে চায় যে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিবেন? আমরা সবাই বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা সবাই তা চাই। রাসূল ﷺ বললেন, তোমরা যদি চাও কিয়ামতের দিন আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করে দিক, তাহলে তোমরা আল্লাহর বান্দাদের ক্ষমা করে দাও। দুনিয়াবাসীর প্রতি দয়া কর, তাহলে আসমানবাসী তোমাদের প্রতি দয়া করবেন। আল্লাহ তোমাদের যা দিয়েছেন তা থেকে দান কর। আর অতিরিক্ত অংশ নিজের কাছে রেখে দাও। তোমরা নিজেদেরকে কষ্টে ফেলো না।১১২
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: لَيْسَ شَيْءٌ أَحَبَّ إِلَى اللَّهِ مِنْ شَابٍ تَائِبٍ، وَلَيْسَ شَيْءٌ أَبْغَضَ إِلَى اللهِ مِنْ شَيْخٍ مُقِيمٍ عَلَى مَعَاصِيهِ.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, আল্লাহর নিকট তওবাকারী যুবকের চেয়ে প্রিয় আর কিছু নেই। আর বৃদ্ধ বয়সেও যে গুনাহে লিপ্ত থাকে তার চেয়ে অপ্রিয় আর কেউ নেই।১১৩
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: أَرْبَعَةٌ يُبْغِضُهُمُ اللَّهُ تَعَالَى: الْبَيَّاعُ الْحَلَّافُ، وَالْفَقِيرُ الْمُخْتَالُ، وَالشَّيْخُ الزَّانِي، وَالْإِمَامُ الْجَائِرُ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা'আলা চার ব্যক্তিকে ঘৃণা করেন-
১. বেশি কসমকারী ব্যবসায়ী।
২. অহংকারী গরীব।
৩. বৃদ্ধ যিনাকারী।
৪. অত্যাচারী শাসক।১১৪
ٹکا:
১১২. আল-মাকাসিদ আল-হাসানাহ, সাখাবী: হাদীস-১১৭; কাশফুল খাফা, আজলুনী: ১/৮৫।
১১৩. কানযুল উম্মাল: হাদীস-১০১৭৯; ইমাম সাখাবী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন [আল-মাকাসিদ: ৪৩৫]।
১১৪. সুনানে নাসায়ী: হাদীস-২৫৭৬; সহীহ ইবনে হিব্বান: হাদীস-৫৫৫৭; হাদীসটি সহীহ।
হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত— তিনি বলেন, যখন এই আয়াতটি নাযিল হয়— (وَرَحْمَتِي وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ) তখন অভিশপ্ত ইবলীসও বলতে লাগল, আমিও তো একটি কিছু। আল্লাহর রহমত যখন সমস্ত কিছুকে বেষ্টন করে রেখেছে তাহলে আমিও তার রহমতে বেষ্টিত। আর ইহুদী-নাসারারাও বলতে লাগল, আমরাও তো তাহলে তার রহমতের ভাগ পাব। কিন্তু তারপর যখন নাযিল হলো— فَسَأَكْتُبُهَا لِلَّذِينَ يَتَّقُونَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَالَّذِينَ هُمْ بِآيَاتِنَا يُؤْمِنُونَ অর্থ: যারা (শিরক থেকে) বেঁচে থাকবে এবং যাকাত আদায় করবে এবং যারা আমার আয়াতসমূহের উপর ঈমান রাখবে আমি এই রহমত শুধু তাদের জন্য নির্ধারণ করে রাখব। তখন ইবলীস হতাশ হয়ে পড়লো। কিন্তু ইহুদী-নাসারা বলল, আমরা শিরক পরিহার করি, যাকাত আদায় করি এবং আল্লাহর আয়াতসমূহের উপর ঈমান রাখি। সুতরাং আমরা আল্লাহর রহমত পাব। তখন নিম্নোক্ত আয়াতটি নাযিল হলো— الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الرَّسُولَ النَّبِيَّ الْأُمِّيَّ অর্থ: যারা উম্মী (নিরক্ষর) নবীর (মুহাম্মদ) প্রতি ঈমান এনে তাকে অনুসরণ করে।
এই আয়াত নাযিল হওয়ার পর ইহুদী-নাসারাও আল্লাহর রহমতের ব্যাপারে নিরাশ হয়ে পড়ল এবং আল্লাহর রহমত একান্তভাবে মুমিনদের জন্য থাকবে। সুতরাং প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য হলো, এই মহান নেয়ামতের জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা এবং তার কাছে তাওবা করা।
টিকাঃ
১৫২. সূরা আল-আরাফ: আয়াত-১৫৬
📄 রহমত লাভের দুআ
عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ أَحَبَّ أَنْ لَا يَقِفَ عَلَى مَسَاوِئِ عَمَلِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَأَنْ لَا تُنْشَرَ لَهُ دَوَاوِينُهُ فَلْيَقُلْ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاةٍ: اللَّهُمَّ إِنَّ ذُنُوبِي وَإِنْ كَثُرَتْ وَجَلَّتْ فَهِيَ صَغِيرَةٌ فِي جَنْبِ عَفْوِكَ، فَاغْفِرْ لِي ذُنُوبِي، وَعَلَى هَذَا فَإِنَّهُ لَا يُنْشَرُ لَهُ دِيوَانٌ، وَلَا يُوقَفُ عَلَى مَسَاوِئِ عَمَلِهِ.
হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন তার আমলের হিসাবের সম্মুখীন হতে চায় না এবং তার আমলনামা প্রকাশ হোক তা চায় না, সে যেন প্রত্যেক নামাযের পর এই দোয়া পাঠ করে-
اللَّهُمَّ إِنَّ ذُنُوبِي وَإِنْ كَثُرَتْ وَجَلَّتْ فَهِيَ صَغِيرَةٌ فِي جَنْبِ عَفْوِكَ، فَاغْفِرْ لِي ذُنُوبِي
অর্থ: হে আল্লাহ! আমার গুনাহ যদিও বেশি ও বড়, আপনার ক্ষমার তুলনায় তা খুবই নগণ্য। সুতরাং আমার গুনাহ ক্ষমা করে দিন। যে ব্যক্তি এই দোয়া পাঠ করবে, তার আমলনামা প্রকাশ করা হবে না এবং তাকে হিসাবের জন্য দাঁড় করানো হবে না। ১১৫
ٹکا:
১১৫. কানযুল উম্মাল: হাদীস-৫০০১; মাওযুআতে সাগানী: হাদীস-৬২।
ইয়াহইয়া ইবনে মুআয রাযি. থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলতেন, إِلَهِي قَدْ أَنْزَلْتَ إِلَيْنَا رَحْمَةً وَاحِدَةً، وَأَكْرَمْتَنَا بِتِلْكَ الرَّحْمَةِ، وَهِيَ الْإِسْلَامُ، فَإِذَا أَنْزَلْتَ عَلَيْنَا مِائَةَ رَحْمَةٍ فَكَيْفَ لَا نَرْجُو مَغْفِرَتَكَ. হে আল্লাহ! যখন আপনি আমাদের জন্য রহমতের এক ভাগ নাযিল করেছেন, আপনি আমাদের উপর এক শ' ভাগ রহমত নাযিল করবেন তখন কি আমরা আপনার মাগফেরাতের আশা করতে পারি না? তিনি আরো বলতেন— إِلَهِي إِنْ كَانَ ثَوَابُكَ لِلْمُطِيعِينَ، وَرَحْمَتُكَ لِلْمُذْنِبِينَ، فَإِنِّي وَإِنْ كُنْتُ لَسْتُ مُطِيعًا لَا أَرْجُو ثَوَابَكَ فَأَنَا مِنَ الْمُذْنِبِينَ، فَأَرْجُو رَحْمَتَكَ. হে আল্লাহ! যখন সওয়াব আপনার আনুগত্যশীলদের জন্য। আর রহমত গুনাহগার বান্দাদের জন্য। সুতরাং আমি আনুগত্যশীল বান্দা নই যে, সওয়াবের আশা রাখব। তবে আমি তো আপনার রহমতের আশা করতে পারি। কারণ, আমি আপনার গুনাহগার বান্দা। তিনি আরো বলতেন— إِلَهِي خَلَقْتَ الْجَنَّةَ وَجَعَلْتَهَا وَلِيمَةً لِأَوْلِيَائِكَ، وَآيَسْتَ الْكُفَّارَ مِنْهَا وَخَلَقْتَ مَلَائِكَتَكَ غَيْرَ مُحْتَاجِينَ إِلَيْهَا، وَأَنْتَ مُسْتَغْنِ عَنْهَا، فَإِنْ لَمْ تُعْطِنَا الْجَنَّةَ فَلِمَنْ تَكُونُ الْجَنَّةُ হে আল্লাহ! আপনি জান্নাত সৃষ্টি করেছেন এবং তা আপনার ওলীদের আতিথ্যের জন্য রেখে দিয়েছেন। জান্নাতের ব্যাপারে কাফেরদের হতাশ করে দিয়েছেন। আপনার ফেরেশতাদেরকে এমনভাবে সৃষ্টি করেছেন যে, তাদের জান্নাতের দরকার নেই। আপনি নিজেও তার থেকে অমুখাপেক্ষী। সুতরাং আপনি যদি আমাদেরকে জান্নাত দান না করেন, তাহলে কার জন্য এই জান্নাত?