📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 চড়া মূল্যে জাহান্নাম ক্রয়

📄 চড়া মূল্যে জাহান্নাম ক্রয়


قَالَ مَالِكٌ: ثُمَّ قُمْتُ مِنْ مَكَانِي، فَلَمَّا كَانَ مِنَ الْغَدِ، قَالَ لِي أَصْحَابِي: إِنَّكَ مَرِيضٌ فَلَوْ أَكَلْتَ شَيْئًا كَانَ أَصْلَحَ لِكَ، فَقُلْتُ لَهَا: اصْنَعِي لَنَا طَعَامًا، فَلَمَّا قَدَّمَتِ الطَّعَامَ قَالَ لِي أَصْحَابِي: كُلْ مَعَنَا. فَقُلْتُ: إِنِّي صَائِمٌ فَنَظَرَتْ إِلَيَّ، وَقَالَتْ لِي: سُبْحَانَ اللَّهِ مَا عَهِدْتُكَ كَذَّابًا. فَقُلْتُ: أَنَا لَسْتُ بِصَائِمٍ، قَالَتْ: فَصُمْ فَإِنَّ الصِّيَامَ سُنَّةٌ، قُلْتُ: سَأَصُومُ غَدًا. قَالَتْ: وَمَنْ لَكَ بِغَدٍ؟ لَعَلَّكَ لَا تُدْرِكُهُ، أَمَا سَمِعْتَ قَوْلَ الشَّاعِرِ:
يَا رَاقِدًا وَالْجَلِيلُ يَحْرُسُهُ ... مِنْ كُلِّ سُوءٍ يَكُونُ فِي الظُّلَمِ
كَيْفَ تَنَامُ الْعُيُونُ أَوْ تَهْدَأُ ... عَن طَالِبِ الْجَنَّاتِ أَوْ هَارِبِ مِنَ الضَّرَمِ
قَالَ مَالِكٌ : فَأَخَذَتِ الْقَصْعَةَ وَقَالَتْ لِي: سِرَاجُ الْبَيْتِ لَا يُوضَعُ تَحْتَ الْمِكْيَالِ. وَجَعَلَتْ تَعْمَلُ بِالنَّهَارِ وَتَصُومُ، وَتُصَلِّي بِاللَّيْلِ فَبَيْنَا أَنَا ذَاتَ لَيْلَةٍ نَائِمٌ إِذْ سَمِعْتُهَا تَقُولُ : يَا سَيِّدِي كَمْ تُحِبُّنِي؟ وَهَلْ رَضِيتَ عَنِّي. فَقُلْتُ لَهَا: نَعَمْ. وَاللَّهِ إِنِّي لَأُحِبُّكِ كُلَّ الْحُبِّ، وَقَدْ رَضِيتُ عَنْكِ كُلَّ الرِّضَا. فَرَفَعَتْ رَأْسَهَا إِلَى السَّمَاءِ وَقَالَتْ: يَا رَبِّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ سَيِّدِي قَدْ رَضِيَ عَنِّي فَاقْبِضْنِي إِلَيْكَ السَّاعَةَ، ثُمَّ سَجَدَتْ فَمَكَثَتْ سَاعَةً لَمْ تَرْفَعْ رَأْسَهَا، فَقُمْتُ إِلَيْهَا فَحَرَّكْتُهَا فَإِذَا هِيَ مَيِّتَةٌ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهَا.
মালেক রহ. বলেন, পরদিন আমার কিছু বন্ধু আমার নিকট আসলে আমার চেহারা দেখে বলল, আপনার কি শরীর খারাপ? যদি কিছু খান তাহলে ভালো লাগবে। আমি দাসীকে বললাম, আমাদের জন্য কিছু খাবার তৈরি কর। সে খাবার পরিবেশন করলে আমার বন্ধুরা বলল, আপনিও আমাদের সাথে খান। আমি বললাম, আমি রোযা রেখেছি। দাসী আমার দিকে তাকিয়ে বলল, সুবহানাল্লাহ! আপনি তো মিথ্যাবাদী ছিলেন না। আমি বললাম, আমি রোযা রাখিনি। সে বলল, রোযা রাখুন, রোযা রাখা তো সুন্নত। আমি বললাম, কাল থেকে রাখব। সে বলল, আপনি কি আগামীকাল পর্যন্ত বেঁচে থাকবেন? আপনি কি শুনেননি কবি কী বলেছেন,
يا رَاقِدًا وَالْجَلِيلُ يَحْرُسُهُ مِنْ كُلِّ سُوءٍ يَكُونُ فِي الظُّلَمِ
كَيْفَ تَنَامُ الْعُيُونُ أَوْ تَهْدَأُ عَنْ طَالِبِ الْجَنَّاتِ أَوْ هَارِبِ مِنَ الضَّرَمِ
অর্থ: হে নিদ্রামগ্ন! আল্লাহ তোমাকে সকল অনিষ্ট থেকে রক্ষা করুন। যে ব্যক্তি জান্নাতের প্রত্যাশী আর জাহান্নাম থেকে পলায়নকারী তার চোখ কীভাবে ঘুমায়?
মালেক রহ. বলেন, অতঃপর সে প্লেটটি উঠিয়ে নিয়ে বলল, ঘরের প্রদীপ কখনো পাত্রের নিচে রাখা হয় না। এরপর সে আগের মত দিনে কাজ করত আর রোযা রাখত, রাতে নামায পড়ত। এক রাতে আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। এমন সময় শুনতে পেলাম সে বলছে, হে আমার মনিব! আপনি কি আমাকে ভালোবাসেন? আপনি কি আমার উপর রাজি? আমি বললাম, হ্যাঁ, আল্লাহর কসম! আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি এবং তোমার প্রতি পূর্ণ সন্তুষ্ট। তখন সে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল, হে রব! আপনি যদি জানেন যে, আমার মনিব আমার প্রতি সন্তুষ্ট, তাহলে আমাকে আপনার নিকট উঠিয়ে নিন। এই বলে সে সেজদায় লুটিয়ে পড়ল। অনেকক্ষণ পর্যন্ত সেজদা থেকে না উঠায় আমি তার নিকট গিয়ে তাকে নাড়া দিলাম, দেখলাম সে মারা গেছে। আল্লাহ তার উপর রহম করুন।
عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَدْهَمَ رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى، أَنَّهُ سَمِعَ رَجُلًا يَقُولُ: مَا أَعَزَّ مِنَ الْوَرَعِ، فَقَالَ إِبْرَاهِيمُ: الْوَرِعُ أَعَزُّ مِنْهُ، وَمَا أَغْلَى مِنَ الْجَنَّةِ، قَالَ : طَالِبُهَا أَغْلَى مِنْهَا، وَمَا أَرْخَصَ النَّارَ. فَقَالَ: مَنِ اشْتَرَاهَا بِشَهْوَةِ سَاعَةٍ فَهُوَ أَرْخَصُ مِنْهَا.
ইবরাহীম ইবনে আদহাম রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেন, পরহেযগারী কত দামি! তখন ইবরাহীম রহ. বললেন, পরহেযগার এর চেয়েও দামি। জান্নাত কত দামি! জান্নাত তলবকারী তার চেয়েও দামি। জাহান্নাম কত সস্তা! তিনি বললেন, যে ব্যক্তি কিছুক্ষণের কামনার বিনিময়ে তা খরিদ করে নেয়, সে তার চেয়েও সস্তা।

কথিত আছে, অতীতের কোনো আসমানী কিতাব যা কোনো নবীর উপর নাযিল করা হয়েছিল। তাতে আছে— হে মানুষ তুমি জাহান্নাম ক্রয় করছ চড়ামূল্যে, কিন্তু অনেক সস্তা মূল্যেও জান্নাত ক্রয় করতে চাও না।

এর অর্থ হলো, মানুষ গুনাহাচারে পার্থিব জীবনে অঢেল ধন-সম্পদ ব্যয় করে থাকে, যার পরিণতিতে তাকে জাহান্নামে যেতে হবে। তার মানে চড়ামূল্যে সে জাহান্নাম ক্রয় করছে। কিন্তু সামান্য দান সদকা করেও সে জান্নাত ক্রয় করতে পারে। বরং এটা তার কাছে বোঝা মনে হয়।

হযরত ইবনে হাযেম রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যদি শর্ত দেওয়া হতো যে, জান্নাতে প্রবেশ করার জন্য পার্থিব সমস্ত বস্তু বর্জন করতে হবে তাহলে এটাও জান্নাতের নিআমতের তুলনায় মূল্য হিসাবে খুবই নগণ্য। অনুরূপ যদি দেওয়া হতো যে, জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য দুনিয়ার যাবতীয় কষ্ট সহ্য করতে হতো তাহলে এটাও তার তুলনায় সহজ শর্ত। অথচ আল্লাহ তোমাকে প্রিয় পার্থিব বস্তুগুলোর সামান্য ত্যাগ করে জান্নাত লাভের এবং দুনিয়ার সামান্য কষ্ট স্বীকার করে জাহান্নাম থেকে মুক্তির সুযোগ দিয়েছেন।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 জান্নাতের দেনমোহর

📄 জান্নাতের দেনমোহর


عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهَا، أَنَّهَا قَالَتْ : قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : خِطْبَةُ الْحُورِ الْعِينِ تَهَجَّدُ بِاللَّيْلِ وَصِيَامُ الْهَوَاجِرِ.
হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, হুরে ঈনের দেন মোহর হলো, রাতে তাহাজ্জুদ পড়া এবং দিনের বেলা রোযা রাখা। ১০৭

ٹکا:
১০৭. কানযুল উম্মাল: হাদীস-৪৪৩৮০; আল্লামা সুয়ূতী রহ. হাদীসটিকে জাল বলেছেন [জামিউল আহাদীস: ১২৮১৩]।

হযরত ইয়াহইয়া ইবনে মুআয রহ. বলেন, দুনিয়া বর্জন করা কঠিন, কিন্তু জান্নাত লাভ করা তার চেয়ে কঠিন। দুনিয়া ত্যাগ হলো, জান্নাতের দেনমোহর।

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ : مَنْ يَسْأَلُ اللهَ تَعَالَى الْجَنَّةَ ثَلَاثَ মَرَّاتٍ، قَالَتِ الْجَنَّةُ اللهُمَّ ادْخُلْهُ الْجَنَّةَ، وَمَنِ اسْتَجَارَ مِنَ النَّارِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ قَالَتِ النَّارُ اللَّهُمَّ أَجِرْهُ مِنَ النَّارِ

হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত রাসূল ইরশাদ করেন, কোনো ব্যক্তি আল্লাহর কাছে তিনবার জান্নাত প্রার্থনা করলে, জান্নাত বলতে থাকে, হে আল্লাহ! তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাও। আর কোনো ব্যক্তি তিনবার আল্লাহর কাছে জাহান্নাম থেকে পানাহ চাইলে জাহান্নাম বলতে থাকে— হে আল্লাহ! তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দাও।

টিকাঃ
১৪২. সুনানে তিরমিযী : হাদীস-২৫৭২; সুনানে নাসায়ী : হাদীস-৫৫২১; সুনানে ইবনে মাজাহ : হাদীস-৪৩৪০; মুসনাদে আহমাদ : হাদীস-১২১৭০; হাদীসটি সহীহ।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 জান্নাতের বাজার

📄 জান্নাতের বাজার


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: إِنَّ فِي الْجَنَّةِ سُوقًا يَأْتُونَهَا كُلَّ جُمُعَةٍ، فَتَهُبُّ عَلَيْهِمْ رِيحٌ مِنْ رِيَاحِ الشَّمَالِ فَتَحْثُو فِي وُجُوهِهِمْ وَثِيَابِهِمْ فَيَزْدَادُونَ حُسْنًا وَجَمَالًا، فَيَرْجِعُونَ إِلَى أَهْلِيهِمْ، فَيَقُولُونَ لَهُمْ : وَاللَّهِ لَقَدِ ازْدَدْتُمْ بَعْدَنَا حُسْنًا وَجَمَالًا، فَيَقُولُونَ: وَأَنْتُمْ وَاللَّهِ لَقَدِ ازْدَدْتُمْ بَعْدَنَا حُسْنًا وَجَمَالًا.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. বলেন, জান্নাতে একটি বাজার আছে। প্রতি শুক্রবার জান্নাতীগণ সেখানে যাবেন। সেখানে উত্তরের বাতাস তাদের শরীরে লাগবে। ফলে তাদের রূপ-সৌন্দর্য অনেক বেড়ে যাবে। তারা যখন তাদের পরিবারের নিকট ফিরে আসবে তখন তারা বলবে, আল্লাহর কসম! তোমাদের সৌন্দর্য অনেক বেড়ে গেছে। তারা বলবে, তোমরাও তো আমাদের অবর্তমানে অনেক সুন্দর হয়ে গেছো। ১০৮

টিকাঃ
১০৮. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৮৩৩; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-৭২৩১।

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ : إِنَّ فِي الْجَنَّةِ أَسْوَاقًا لَا شِرَاءَ فِيهَا وَلَا بَيْعَ، يَجْتَمِعُونَ فِيهَا حِلَقًا حِلَقًا، يَتَذَاكَرُونَ كَيْفَ كَانَتِ الدُّنْيَا، وَكَيْفَ كَانَتْ عِبَادَةُ الرَّبِّ وَكَيْفَ كَانَ فُقَرَاءُ أَهْلِ الدُّنْيَا وَأَغْنِيَاؤُهَا، وَكَيْفَ كَانَ الْمَوْتُ وَكَيْفَ صِرْنَا بَعْدَ طُولِ الْبِلَى إِلَى الْجَنَّةِ.

হযরত আনাস বিন মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত রাসূল ইরশাদ করেন, জান্নাতে কিছু বাজার থাকবে, তবে সেখানে কোনো বেচা-কেনা থাকবে না। জান্নাতবাসীগণ সেখানে সমবেত হয়ে জায়গায় জায়গায় গোল হয়ে বসে গল্প করবেন, দুনিয়াতে তারা কেমন ছিলেন, কিভাবে তাদের রবের ইবাদত করতেন, দুনিয়ার ধনী ও দরিদ্ররা কেমন ছিল, মৃত্যুর কথা স্মরণ করবেন এবং স্মরণ করবেন কিভাবে বিভিন্ন মসীবত অতিক্রম করে তারা জান্নাতে পৌঁছেছেন। ইত্যাদি নিয়ে তারা কথোপকথন করবেন।

টিকাঃ
১৪৩. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৫৪৯; প্রায় কাছাকাছি শব্দের হাদীসটিকে ইমাম তিরমিযী গরীব বলেছেন।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 সর্বশেষ জান্নাতবাসী

📄 সর্বশেষ জান্নাতবাসী


عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : لَأَعْلَمَنَّ آخِرَ أَهْلِ الْجَنَّةِ دُخُولًا الْجَنَّةَ، وَآخِرَ أَهْلِ النَّارِ خُرُوجًا مِنْهَا رَجُلٌ يُؤْتَى بِهِ، فَيُقَالُ: اعْرِضُوا عَلَيْهِ صِغَارَ ذُنُوبِهِ، وَارْفَعُوا عَنْهُ كِبَارَهَا. فَيُقَالُ لَهُ: عَمِلْتَ يَوْمَ كَذَا، وَكَذَا كَذَا وَكَذَا وَعَمِلْتَ يَوْمَ كَذَا وَكَذَا كَذَا وَكَذَا، فَيَقُولُ: نَعَمْ. وَيَخَافُ أَنْ يُعْرَضَ عَلَيْهِ كِبَارُهَا فَيُقَالُ لَهُ: إِنَّ لَكَ مَكَانَ كُلِّ سَيِّئَةٍ حَسَنَةً، فَيَقُولُ: رَبِّ لَقَدْ عَمِلْتُ أَشْيَاءَ لَا أَرَاهَا هَهُنَا، فَلَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ضَحِكَ حَتَّى بَدَتْ نَوَاجِذُهُ.

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, আমি জানি, সর্বশেষে কে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে এবং সর্বশেষে কে জান্নাতে প্রবেশ করবে। এক ব্যক্তিকে আনা হবে এবং বলা হবে, তার ছোট ছোট গুনাহগুলো পেশ কর আর বড়গুলো রেখে দাও। তখন তাকে বলা হবে, তুমি অমুক দিন এই কাজ করেছ? অমুক দিন এই কাজ করেছ? সে বলবে, হ্যাঁ। সে তার বড় গুনাহ পেশ করার ভয়ে থাকবে। তখন তাকে বলা হবে, তোমাকে প্রতিটি গুনাহের বিনিময়ে একটি করে নেকি দেওয়া হবে। সে তখন বলবে, হে আমার রব! আমি তো এমন আরো অনেক কিছু করেছি, যা এখানে দেখছি না। (রাবী বলেন) এ কথা বলে রাসূল ﷺ এমনভাবে হাসলেন যে, তার মাড়ির দাঁত পর্যন্ত দেখা গেল। ১০৯

ٹکا:
১০৯. সহীহ মুসলিম: হাদীস-১৯০; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৫৯৬।

عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ : يَرِدُ النَّاسُ جَمِيعًا الصِّرَاطَ، وَوُرُودُهُمْ قِيَামُهُمْ حَوْلَ النَّارِ، ثُمَّ يَمُرُّونَ عَلَى الصِّرَاطِ بِأَعْمَالِهِمْ, فَمِنْهُمْ مَنْ يَمُرُّ مِثْلَ الْبَرْقِ، وَمِنْهُمْ مَنْ يَمُرُّ كَأَجْوَدِ الْخَيْلِ، وَمِنْهُمْ مَنْ يَمُرُّ كَأَجْوَدِ الْإِبِلِ, وَمِنْهُمْ مَنْ يَمُرُّ كَعَدْوِ الرَّجُلِ, حَتَّى إِنَّ آخِرَهُمْ رَجُلٌ يَمُرُّ عَلَى مَوْضِعِ إِبْهَامَيْ قَدَمَيْهِ, ثُمَّ يَتَكَفَّأُ بِهِ الصِّرَاطُ, وَالصِّرَاطَ دَحْضُ مَزَلَّةٌ حَدُّهُ كَحَدَّ السَّيْفِ عَلَيْهِ حَسَكَ كَحَسَكِ الْقَتَادِ, عَلَى حَافَتَيْهِ مَلَائِকَةٌ مَعَهُمْ كَلَالِيبُ مِنْ نَارٍ يَخْتَطِفُونَ بِهَا النَّاسَ, وَالْمَلَائِكَةُ يَقُولُونَ : رَبِّ سَلَّمْ سَلَّمْ, فَيَمُرُّ رَجُلٌ وَهُوَ آخِرُ أَهْلِ الْجَنَّةِ دُخُولًا, فَإِذَا جَارَ الصَّرَاطُ رُفِعَ لَه بَابٌ مِنَ الْجَنَّةِ فَلَا يَرَى لَهُ فِي الْجَنَّةِ مَقْعَدًا, فَإِذَا نَظَرَ إِلَيْهَا قَالَ : رَبِّ أَنْزِلْنِي هَهُنَا, فَيَقُولُ لَهُ : فَلَعَلَّكَ إِنْ أَنْزَلْتُكَ হুনাক تَسْأَلُنِي غَيْرَهُ, فَيَقُولُ : لَا وَعِزَّتِكَ, فَيُنْزِلُهُ ثُمَّ يَرْفَعُ لَهُ فِي الْجَنَّةِ مَنَازِلَ, فَيَتَحَاقَّرُ إِلَيْهِ مَا أُعْطِيَ مِمَّا يَرَى, فَيَقُولُ : رَبِّ أَنْزِلْنِي هُنَاكَ, فَيَقُولُ: فَلَعَلَّكَ إِنْ أَنْزَلْتُكَ هَهُنَا أَنْ تَسْأَلَنِي غَيْرَهُ فَيَقُولُ: لَا وَعِزَّتِكَ فَيُنْزِلُهُ, ثُمَّ يَرْفَعُ لَهُ فِي الْجَنَّةِ حَتَّى الرَّابِعَةُ فَإِذَا كَانَتِ الرَّابِعَةُ رَفَعَ لَهُ فَيَتَحَاقَّرُ إِلَيْهِ كُلُّ شَيْءٍ أُعْطِيَ, فَيَسْكُتُ فَلَا يَسْأَلُ شَيْئًا, فَيَقُولُ لَهُ : إِلَّا تَسْأَلُ, فَيَقُولُ : سَأَلْتُ حَتَّى اسْتَحْيَيْتُ, فَيَقُولُ اللهُ تَعَالَى : لَكَ مِثْلُ الدُّنْيَا, وَعَشْرَةُ أَمْثَالِهَا فَهُذَا هُوَ أَوْضَعُ أَهْلِ الْجَنَّةِ مَنْزِلًا, قَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ مَسْعُودٍ : كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ لَا يَتَحَدَّثُ بِذلِكَ إِلَّا ضَحِكَ حَتَّى بَدَتْ نَوَاجِذُهُ।

এক হাদীসে এসেছে, 'আন্না নিসাআ আহলিদ দুনইয়া মান জুয়িলা মিনহুম ফিল জান্নাতি ইউফাদদালনা আলাল হুরিল ঈনি বিআ'মালিহিন্না ফিদ্দুনইয়া'

দুনিয়ার যে সকল নারীগণ জান্নাতে প্রবেশ করবেন, দুনিয়াতে তাদের আমলের কারণে তারা জান্নাতের ডাগরচোখ হুরদের থেকেও শ্রেষ্ঠ হবেন। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন, 'ইন্না আনশা'নাহুন্না ইনশা-আ ফাজাআলনাহুন্না আবকারান উরুবান আত্রাবান লিআসহাবিল ইয়ামীন' অর্থ: আমি তাদেরকে সৃষ্টি করেছি বিশেষরূপে, তাদের বানিয়েছি কুমারী, সোহানিণী ও সমবয়স্কা, ডানদিকের লোকদের জন্য।

টিকাঃ
১৪৪. সহীহ বুখারী: হাদীস-৭৪৩৭; সহীহ মুসলিম; হাদীস-১৮৭-১৮৮ (সামান্য শাব্দিক তারতম্যসহ বর্ণিত হয়েছে); মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-৩৭১৪।
১৪৫. মুজামুল কাবীর লিত-ত্ববারানী : হাদীস-৮৭০; একই মর্মের দীর্ঘ হাদীসটি উম্মে সালামা রাযি. থেকে বর্ণিত হয়েছে। কোনো কোনো ইমাম সনদে সুলাইমান ইবনে আবী কারীমা নামক জয়ীফ রাবী থাকার কারণে হাদীসটিকে জয়ীফ বলেছেন (মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ৭/১১৯)
১৪৬. সূরা ওয়াকিয়া: আয়াত-৩৫-৩৮

ফন্ট সাইজ
15px
17px