📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 একটি শিক্ষণীয় ঘটনা

📄 একটি শিক্ষণীয় ঘটনা


رُوِيَ عَنْ مَالِكِ بْنِ دِينَارٍ، أَنَّهُ كَانَ يَتَمَنَّى فِي أَوَّلِ أَمْرِهِ أَنْ يَتَزَوَّجَ امْرَأَةً صَالِحَةً، وَيَأْكُلَ هُوَ وَهِيَ مِنْ كَسْبِ يَدَيْهَا، فَبَيْنَا هُوَ فِي سُوقِ الْبَصْرَةِ إِذْ هُوَ بِجَارِيَةٍ حَسْنَاءَ يُنَادِي عَلَيْهَا الدَّلَّالُ مَنْ يَشْتَرِي هَذِهِ الْجَارِيَةَ بِعُيُوبِهَا؟ فَقُلْتُ: وَمَا عَيْبُهَا؟ قَالَ: يُقَالُ إِنَّ بِهَا جُنُونًا، وَمَجْنُونٌ أَحْيَانًا وَيُفِيقُ أَحْيَانًا، فَقُلْتُ: بِكَمْ تُبَاعُ؟ قَالَ: بِعِشْرِينَ دِينَارًا. قَالَ مَالِكٌ: فَذَهَبْتُ إِلَى مَنْزِلِي وَأَخَذْتُ عِشْرِينَ دِينَارًا، وَاشْتَرَيْتُهَا، فَلَمَّا انْصَرَفْتُ بِهَا، وَدَخَلَتْ عَلَيَّ مَنْزِلِي، قَالَتْ لِي: سَيِّدِي أَنَا غَرِيبَةٌ. فَعَرِّفْنِي بِنَفْسِكَ وَبِمَنْ حَوْلَكَ مِنْ جِيرَانِكَ، وَعَرِّفْنِي مَا تَكْرَهُ مِنْ شَيْءٍ فَلَا آتِيهِ، وَمَا تُحِبُّ فَآتِيَهُ. فَقُلْتُ لَهَا: إِنَّ لَنَا رَبًّا قَدْ فَرَضَ عَلَيْنَا فِي كُلِّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ خَمْسَ صَلَوَاتٍ وَافْتَرَضَ عَلَيْنَا فِي السَّنَةِ صِيَامَ شَهْرٍ وَاحِدٍ، وَهُوَ رَمَضَانُ، فَقَالَتْ: يَا سَيِّدِي شَيْءٌ غَيْرُ هَذَا؟ قُلْتُ: نَعَمْ. وَهُوَ أَنَّ مَنْ صَلَّى فِي الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ اثْنَتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً بَنَى اللَّهُ لَهُ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ، وَمَنْ صَامَ الِاثْنَيْنِ وَالْخَمِيسَ بَنَى اللَّهُ لَهُ قَصْرًا فِي الْجَنَّةِ. قَالَتْ: يَا سَيِّدِي قَدِ اشْتَرَيْتَنِي لِلْخِدْمَةِ أَوِ الْعِبَادَةِ؟ قُلْتُ: بَلْ لِلْخِدْمَةِ. قَالَتْ: إِذَا خَفَّفْتَ عَنِّي الْخِدْمَةَ حَتَّى أَعْبُدَ اللَّهَ تَعَالَى، ثُمَّ قَامَتْ فَصَلَّتْ حَتَّى أَصْبَحْنَا، ثُمَّ أَصْبَحَتْ صَائِمَةً حَتَّى أَمْسَتْ، فَلَمَّا كَانَ اللَّيْلُ أَخَذَتْ مِثْلَ ذَلِكَ، وَكَانَتْ تُصَلِّي اللَّيْلَ وَتَصُومُ النَّهَارَ. قَالَ مَالِكٌ : فَكُنْتُ أَدْخُلُ وَأَخْرُجُ وَهِيَ فِي الصَّلَاةِ، وَأَدْخُلُ وَأَخْرُجُ وَهِيَ صَائِمَةٌ فَجَعَلْتُ أَنْظُرُ إِلَيْهَا لَيْلَةً وَقَدْ سَجَدَتْ فِي صَلَاتِهَا، وَهِيَ تَقُولُ: إِلَهِي بِحُبِّكَ لِي اغْفِرْ لِي ذَنْبِي. فَقُلْتُ لَهَا: لَا تَقُولِي بِحُبِّكَ لِي، وَلَكِنْ قُولِي: بِحُبِّي لَكِ. فَقَالَتْ: يَا سَيِّدِي لَوْلَا مَحَبَّتُهُ لِي مَا أَقَامَنِي، وَأَنَامَكَ، وَلَوْلَا مَحَبَّتُهُ لِي مَا فَتَحَ لِي بَابَ عِبَادَتِهِ وَأَغْلَقَهُ دُونَكَ.
মালেক ইবনে দীনার রহ. থেকে বর্ণিত। একদা তিনি এক নেককার স্ত্রী গ্রহণ করে উভয়ে মিলেমিশে সংসার করবেন বলে মনস্থ করলেন। তিনি বসরার বাজারে গিয়ে দেখলেন, একজন দাসী বিক্রেতা এক সুন্দরী দাসীর ব্যাপারে ঘোষণা দিয়ে বলছে, তার দোষসহ কে তাকে ক্রয় করবে? মালেক বিন দীনার জিজ্ঞেস করলেন, তার কী দোষ? বিক্রেতা বলল, সে নাকি মাঝে মাঝে পাগল হয়ে যায়। মালেক জিজ্ঞেস করলেন, তার দাম কত? সে বলল, বিশ দিনার। মালেক রহ. বিশ দিনার দিয়ে তাকে ক্রয় করে আনলেন। দাসীটি ঘরে প্রবেশ করে বলল, মনিব! আমি এখানে নতুন। আপনার সম্পর্কে বলুন, আপনার প্রতিবেশীদের সম্পর্কে বলুন, আপনার পছন্দ-অপছন্দের কথা বলুন। যাতে আমি সে অনুযায়ী চলতে পারি। মালেক রহ. বললেন, আমাদের এক রব আছেন যিনি আমাদের উপর দিনে-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয করেছেন, আর বছরে এক মাস রোযা ফরয করেছেন। দাসী বলল, এছাড়া আর কিছু? তিনি বললেন, হ্যাঁ, যে ব্যক্তি দিনে বারো রাকাত নামায আদায় করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন। আর যে ব্যক্তি সোম ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখবে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি প্রাসাদ নির্মাণ করবেন। দাসী বলল, মনিব! আপনি কি আমাকে খেদমতের জন্য ক্রয় করেছেন, নাকি ইবাদতের জন্য? তিনি বললেন, খেদমতের জন্য। দাসী বলল, তাহলে আপনি আমার থেকে হালকা খেদমত নিবেন, যেন আমি ভালোভাবে আল্লাহর ইবাদত করতে পারি। এই বলে সে নামাযে দাঁড়িয়ে গেল এবং সকাল পর্যন্ত নামায পড়তে লাগল। পরদিন সে রোযা রাখল। এভাবে সে দিনের বেলা রোযা রাখত আর রাতভর নামায পড়ত। মালেক রহ. বলেন, আমি যখনই ঘরে আসতাম, তাকে নামাযরত অবস্থায় দেখতাম। একদিন রাতে সে সেজদারত অবস্থায় দোয়া করছিল,
إِلَهِي بِحُبِّكَ لِي اغْفِرْ لِي ذَنْبِي
অর্থ: ইলাহী! আমার প্রতি আপনার ভালোবাসার ওসিলায় আমার গুনাহ ক্ষমা করে দিন। আমি তাকে বললাম, بِحُبِّكَ لِي বলো না বরং بِحُبِّي لَكَ বলো। দাসী বলল, মনিব! যদি আমার প্রতি তাঁর ভালোবাসা না থাকত তাহলে তিনি আমাকে ইবাদতের তাওফীক দিতেন না, আর আপনাকে ঘুম পাড়িয়ে রাখতেন না। আর আমার প্রতি তাঁর ভালোবাসা না থাকলে তিনি আমার জন্য ইবাদতের দুয়ার খুলে দিতেন না, আর আপনার জন্য বন্ধ রাখতেন না।

হযরত ইবরাহীম বিন আদহাম রহ. থেকে বর্ণিত আছে যে, একদা তিনি একটি হাম্মামে (গোসলখানায়) প্রবেশ করতে চাইলে মালিক তাকে বাধা দিয়ে বলল, বিনা পয়সায় প্রবেশ করা যাবে না। একথা শুনে তিনি কাঁদতে লাগলেন। বললেন, হায় আল্লাহ! বিনামূল্যে আমাকে শয়তানের ঘরে (বাথরুমে) প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। তাহলে বিনামূল্যে কিভাবে নবী, সিদ্দিকগণের স্থানে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে!

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 চড়া মূল্যে জাহান্নাম ক্রয়

📄 চড়া মূল্যে জাহান্নাম ক্রয়


قَالَ مَالِكٌ: ثُمَّ قُمْتُ مِنْ مَكَانِي، فَلَمَّا كَانَ مِنَ الْغَدِ، قَالَ لِي أَصْحَابِي: إِنَّكَ مَرِيضٌ فَلَوْ أَكَلْتَ شَيْئًا كَانَ أَصْلَحَ لِكَ، فَقُلْتُ لَهَا: اصْنَعِي لَنَا طَعَامًا، فَلَمَّا قَدَّمَتِ الطَّعَامَ قَالَ لِي أَصْحَابِي: كُلْ مَعَنَا. فَقُلْتُ: إِنِّي صَائِمٌ فَنَظَرَتْ إِلَيَّ، وَقَالَتْ لِي: سُبْحَانَ اللَّهِ مَا عَهِدْتُكَ كَذَّابًا. فَقُلْتُ: أَنَا لَسْتُ بِصَائِمٍ، قَالَتْ: فَصُمْ فَإِنَّ الصِّيَامَ سُنَّةٌ، قُلْتُ: سَأَصُومُ غَدًا. قَالَتْ: وَمَنْ لَكَ بِغَدٍ؟ لَعَلَّكَ لَا تُدْرِكُهُ، أَمَا سَمِعْتَ قَوْلَ الشَّاعِرِ:
يَا رَاقِدًا وَالْجَلِيلُ يَحْرُسُهُ ... مِنْ كُلِّ سُوءٍ يَكُونُ فِي الظُّلَمِ
كَيْفَ تَنَامُ الْعُيُونُ أَوْ تَهْدَأُ ... عَن طَالِبِ الْجَنَّاتِ أَوْ هَارِبِ مِنَ الضَّرَمِ
قَالَ مَالِكٌ : فَأَخَذَتِ الْقَصْعَةَ وَقَالَتْ لِي: سِرَاجُ الْبَيْتِ لَا يُوضَعُ تَحْتَ الْمِكْيَالِ. وَجَعَلَتْ تَعْمَلُ بِالنَّهَارِ وَتَصُومُ، وَتُصَلِّي بِاللَّيْلِ فَبَيْنَا أَنَا ذَاتَ لَيْلَةٍ نَائِمٌ إِذْ سَمِعْتُهَا تَقُولُ : يَا سَيِّدِي كَمْ تُحِبُّنِي؟ وَهَلْ رَضِيتَ عَنِّي. فَقُلْتُ لَهَا: نَعَمْ. وَاللَّهِ إِنِّي لَأُحِبُّكِ كُلَّ الْحُبِّ، وَقَدْ رَضِيتُ عَنْكِ كُلَّ الرِّضَا. فَرَفَعَتْ رَأْسَهَا إِلَى السَّمَاءِ وَقَالَتْ: يَا رَبِّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ سَيِّدِي قَدْ رَضِيَ عَنِّي فَاقْبِضْنِي إِلَيْكَ السَّاعَةَ، ثُمَّ سَجَدَتْ فَمَكَثَتْ سَاعَةً لَمْ تَرْفَعْ رَأْسَهَا، فَقُمْتُ إِلَيْهَا فَحَرَّكْتُهَا فَإِذَا هِيَ مَيِّتَةٌ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهَا.
মালেক রহ. বলেন, পরদিন আমার কিছু বন্ধু আমার নিকট আসলে আমার চেহারা দেখে বলল, আপনার কি শরীর খারাপ? যদি কিছু খান তাহলে ভালো লাগবে। আমি দাসীকে বললাম, আমাদের জন্য কিছু খাবার তৈরি কর। সে খাবার পরিবেশন করলে আমার বন্ধুরা বলল, আপনিও আমাদের সাথে খান। আমি বললাম, আমি রোযা রেখেছি। দাসী আমার দিকে তাকিয়ে বলল, সুবহানাল্লাহ! আপনি তো মিথ্যাবাদী ছিলেন না। আমি বললাম, আমি রোযা রাখিনি। সে বলল, রোযা রাখুন, রোযা রাখা তো সুন্নত। আমি বললাম, কাল থেকে রাখব। সে বলল, আপনি কি আগামীকাল পর্যন্ত বেঁচে থাকবেন? আপনি কি শুনেননি কবি কী বলেছেন,
يا رَاقِدًا وَالْجَلِيلُ يَحْرُسُهُ مِنْ كُلِّ سُوءٍ يَكُونُ فِي الظُّلَمِ
كَيْفَ تَنَامُ الْعُيُونُ أَوْ تَهْدَأُ عَنْ طَالِبِ الْجَنَّاتِ أَوْ هَارِبِ مِنَ الضَّرَمِ
অর্থ: হে নিদ্রামগ্ন! আল্লাহ তোমাকে সকল অনিষ্ট থেকে রক্ষা করুন। যে ব্যক্তি জান্নাতের প্রত্যাশী আর জাহান্নাম থেকে পলায়নকারী তার চোখ কীভাবে ঘুমায়?
মালেক রহ. বলেন, অতঃপর সে প্লেটটি উঠিয়ে নিয়ে বলল, ঘরের প্রদীপ কখনো পাত্রের নিচে রাখা হয় না। এরপর সে আগের মত দিনে কাজ করত আর রোযা রাখত, রাতে নামায পড়ত। এক রাতে আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। এমন সময় শুনতে পেলাম সে বলছে, হে আমার মনিব! আপনি কি আমাকে ভালোবাসেন? আপনি কি আমার উপর রাজি? আমি বললাম, হ্যাঁ, আল্লাহর কসম! আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি এবং তোমার প্রতি পূর্ণ সন্তুষ্ট। তখন সে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল, হে রব! আপনি যদি জানেন যে, আমার মনিব আমার প্রতি সন্তুষ্ট, তাহলে আমাকে আপনার নিকট উঠিয়ে নিন। এই বলে সে সেজদায় লুটিয়ে পড়ল। অনেকক্ষণ পর্যন্ত সেজদা থেকে না উঠায় আমি তার নিকট গিয়ে তাকে নাড়া দিলাম, দেখলাম সে মারা গেছে। আল্লাহ তার উপর রহম করুন।
عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَدْهَمَ رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى، أَنَّهُ سَمِعَ رَجُلًا يَقُولُ: مَا أَعَزَّ مِنَ الْوَرَعِ، فَقَالَ إِبْرَاهِيمُ: الْوَرِعُ أَعَزُّ مِنْهُ، وَمَا أَغْلَى مِنَ الْجَنَّةِ، قَالَ : طَالِبُهَا أَغْلَى مِنْهَا، وَمَا أَرْخَصَ النَّارَ. فَقَالَ: مَنِ اشْتَرَاهَا بِشَهْوَةِ سَاعَةٍ فَهُوَ أَرْخَصُ مِنْهَا.
ইবরাহীম ইবনে আদহাম রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেন, পরহেযগারী কত দামি! তখন ইবরাহীম রহ. বললেন, পরহেযগার এর চেয়েও দামি। জান্নাত কত দামি! জান্নাত তলবকারী তার চেয়েও দামি। জাহান্নাম কত সস্তা! তিনি বললেন, যে ব্যক্তি কিছুক্ষণের কামনার বিনিময়ে তা খরিদ করে নেয়, সে তার চেয়েও সস্তা।

কথিত আছে, অতীতের কোনো আসমানী কিতাব যা কোনো নবীর উপর নাযিল করা হয়েছিল। তাতে আছে— হে মানুষ তুমি জাহান্নাম ক্রয় করছ চড়ামূল্যে, কিন্তু অনেক সস্তা মূল্যেও জান্নাত ক্রয় করতে চাও না।

এর অর্থ হলো, মানুষ গুনাহাচারে পার্থিব জীবনে অঢেল ধন-সম্পদ ব্যয় করে থাকে, যার পরিণতিতে তাকে জাহান্নামে যেতে হবে। তার মানে চড়ামূল্যে সে জাহান্নাম ক্রয় করছে। কিন্তু সামান্য দান সদকা করেও সে জান্নাত ক্রয় করতে পারে। বরং এটা তার কাছে বোঝা মনে হয়।

হযরত ইবনে হাযেম রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যদি শর্ত দেওয়া হতো যে, জান্নাতে প্রবেশ করার জন্য পার্থিব সমস্ত বস্তু বর্জন করতে হবে তাহলে এটাও জান্নাতের নিআমতের তুলনায় মূল্য হিসাবে খুবই নগণ্য। অনুরূপ যদি দেওয়া হতো যে, জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য দুনিয়ার যাবতীয় কষ্ট সহ্য করতে হতো তাহলে এটাও তার তুলনায় সহজ শর্ত। অথচ আল্লাহ তোমাকে প্রিয় পার্থিব বস্তুগুলোর সামান্য ত্যাগ করে জান্নাত লাভের এবং দুনিয়ার সামান্য কষ্ট স্বীকার করে জাহান্নাম থেকে মুক্তির সুযোগ দিয়েছেন।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 জান্নাতের দেনমোহর

📄 জান্নাতের দেনমোহর


عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهَا، أَنَّهَا قَالَتْ : قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : خِطْبَةُ الْحُورِ الْعِينِ تَهَجَّدُ بِاللَّيْلِ وَصِيَامُ الْهَوَاجِرِ.
হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, হুরে ঈনের দেন মোহর হলো, রাতে তাহাজ্জুদ পড়া এবং দিনের বেলা রোযা রাখা। ১০৭

ٹکا:
১০৭. কানযুল উম্মাল: হাদীস-৪৪৩৮০; আল্লামা সুয়ূতী রহ. হাদীসটিকে জাল বলেছেন [জামিউল আহাদীস: ১২৮১৩]।

হযরত ইয়াহইয়া ইবনে মুআয রহ. বলেন, দুনিয়া বর্জন করা কঠিন, কিন্তু জান্নাত লাভ করা তার চেয়ে কঠিন। দুনিয়া ত্যাগ হলো, জান্নাতের দেনমোহর।

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ : مَنْ يَسْأَلُ اللهَ تَعَالَى الْجَنَّةَ ثَلَاثَ মَرَّاتٍ، قَالَتِ الْجَنَّةُ اللهُمَّ ادْخُلْهُ الْجَنَّةَ، وَمَنِ اسْتَجَارَ مِنَ النَّارِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ قَالَتِ النَّارُ اللَّهُمَّ أَجِرْهُ مِنَ النَّارِ

হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত রাসূল ইরশাদ করেন, কোনো ব্যক্তি আল্লাহর কাছে তিনবার জান্নাত প্রার্থনা করলে, জান্নাত বলতে থাকে, হে আল্লাহ! তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাও। আর কোনো ব্যক্তি তিনবার আল্লাহর কাছে জাহান্নাম থেকে পানাহ চাইলে জাহান্নাম বলতে থাকে— হে আল্লাহ! তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দাও।

টিকাঃ
১৪২. সুনানে তিরমিযী : হাদীস-২৫৭২; সুনানে নাসায়ী : হাদীস-৫৫২১; সুনানে ইবনে মাজাহ : হাদীস-৪৩৪০; মুসনাদে আহমাদ : হাদীস-১২১৭০; হাদীসটি সহীহ।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 জান্নাতের বাজার

📄 জান্নাতের বাজার


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: إِنَّ فِي الْجَنَّةِ سُوقًا يَأْتُونَهَا كُلَّ جُمُعَةٍ، فَتَهُبُّ عَلَيْهِمْ رِيحٌ مِنْ رِيَاحِ الشَّمَالِ فَتَحْثُو فِي وُجُوهِهِمْ وَثِيَابِهِمْ فَيَزْدَادُونَ حُسْنًا وَجَمَالًا، فَيَرْجِعُونَ إِلَى أَهْلِيهِمْ، فَيَقُولُونَ لَهُمْ : وَاللَّهِ لَقَدِ ازْدَدْتُمْ بَعْدَنَا حُسْنًا وَجَمَالًا، فَيَقُولُونَ: وَأَنْتُمْ وَاللَّهِ لَقَدِ ازْدَدْتُمْ بَعْدَنَا حُسْنًا وَجَمَالًا.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. বলেন, জান্নাতে একটি বাজার আছে। প্রতি শুক্রবার জান্নাতীগণ সেখানে যাবেন। সেখানে উত্তরের বাতাস তাদের শরীরে লাগবে। ফলে তাদের রূপ-সৌন্দর্য অনেক বেড়ে যাবে। তারা যখন তাদের পরিবারের নিকট ফিরে আসবে তখন তারা বলবে, আল্লাহর কসম! তোমাদের সৌন্দর্য অনেক বেড়ে গেছে। তারা বলবে, তোমরাও তো আমাদের অবর্তমানে অনেক সুন্দর হয়ে গেছো। ১০৮

টিকাঃ
১০৮. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৮৩৩; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-৭২৩১।

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ : إِنَّ فِي الْجَنَّةِ أَسْوَاقًا لَا شِرَاءَ فِيهَا وَلَا بَيْعَ، يَجْتَمِعُونَ فِيهَا حِلَقًا حِلَقًا، يَتَذَاكَرُونَ كَيْفَ كَانَتِ الدُّنْيَا، وَكَيْفَ كَانَتْ عِبَادَةُ الرَّبِّ وَكَيْفَ كَانَ فُقَرَاءُ أَهْلِ الدُّنْيَا وَأَغْنِيَاؤُهَا، وَكَيْفَ كَانَ الْمَوْتُ وَكَيْفَ صِرْنَا بَعْدَ طُولِ الْبِلَى إِلَى الْجَنَّةِ.

হযরত আনাস বিন মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত রাসূল ইরশাদ করেন, জান্নাতে কিছু বাজার থাকবে, তবে সেখানে কোনো বেচা-কেনা থাকবে না। জান্নাতবাসীগণ সেখানে সমবেত হয়ে জায়গায় জায়গায় গোল হয়ে বসে গল্প করবেন, দুনিয়াতে তারা কেমন ছিলেন, কিভাবে তাদের রবের ইবাদত করতেন, দুনিয়ার ধনী ও দরিদ্ররা কেমন ছিল, মৃত্যুর কথা স্মরণ করবেন এবং স্মরণ করবেন কিভাবে বিভিন্ন মসীবত অতিক্রম করে তারা জান্নাতে পৌঁছেছেন। ইত্যাদি নিয়ে তারা কথোপকথন করবেন।

টিকাঃ
১৪৩. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৫৪৯; প্রায় কাছাকাছি শব্দের হাদীসটিকে ইমাম তিরমিযী গরীব বলেছেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px