📄 কে আখেরাতের প্রশান্তি ও সচ্ছলতা পাবে?
عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: مَنْ أَصْبَحَ وَهَمُّهُ الْآخِرَةُ جَمَعَ اللَّهُ شَمْلَهُ، وَجَعَلَ غِنَاهُ فِي قَلْبِهِ، وَأَتَتْهُ الدُّنْيَا وَهِيَ رَاغِمَةٌ، وَمَنْ أَصْبَحَ وَهَمُّهُ الدُّنْيَا، شَتَّتَ اللَّهُ شَمْلَهُ، وَجَعَلَ فَقْرَهُ بَيْنَ عَيْنَيْهِ، وَلَمْ يَأْتِهِ مِنَ الدُّنْيَا إِلَّا مَا قُدِّرَ لَهُ
হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি পরকালকে জীবনের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে গ্রহণ করে, আল্লাহ তার সকল কাজকে গুছিয়ে দেন, তার অন্তরে সচ্ছলতা দান করেন এবং দুনিয়া তার কাছে অপদস্ত হয়ে আসে। আর যে ব্যক্তি দুনিয়াকে তার মূল উদ্দেশ্য বানায়, আল্লাহ তা'আলা তার কাজগুলোকে এলোমেলো করে দেন, তার চোখে-মুখে দারিদ্রতা লেপটে দেন, আর সে দুনিয়া থেকে ততটুকুই পায় যতটুকু তার জন্য নির্ধারিত ছিল। ১০৬
টিকাঃ
১০৬. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৪৬৫; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-৪১; হাদীসটি সহীহ।
📄 জনৈক সাধকের ঘটনা
عَنْ أَبِي سُلَيْمَانَ الدَّارَانِيِّ، قَالَ : بِتُّ لَيْلَةً فِي مِحْرَابِي، فَكَانَ قَلْبِي قَاسِيًا فَلَمْ أَجِدْ لِلْعِبَادَةِ لَذَّةً، وَلَا لِلْمُنَاجَاةِ حَلَاوَةً، فَخَرَجْتُ مِنَ الْمِحْرَابِ فَجَلَسْتُ خَلْفَ الْبَابِ، فَإِذَا بِرَجُلٍ فِي الْمِحْرَابِ يَدْعُو، وَهُوَ يَقُولُ: أَيْ رَبِّ كَمْ أَعْصِيكَ فَتُمْهِلُنِي، وَكَمْ أَسْتُرُكَ فَتَعْفُو عَنِّي، وَكَمْ مِنْ عَبْدٍ دَعَاكَ فَلَمْ تُجِبْهُ، وَدَعَوْتُكَ فَأَجَبْتَنِي، فَقُلْتُ لَهُ : مَنْ أَنْتَ رَحِمَكَ اللهُ؟ قَالَ : أَنَا رَجُلٌ أَسِيرٌ، حَبَسَنِي عَدُوٌّ. فَقُلْتُ لَهُ : وَمَنْ عَدُوُّكَ؟ قَالَ: إِبْلِيسُ. قُلْتُ: وَمَا هَذِهِ الْقُيُودُ الَّتِي أَرَاهَا عَلَيْكَ؟ قَالَ : طُولُ الْأَمَلِ، وَحُبُّ الدُّنْيَا. فَقُلْتُ: وَأَيْنَ تُرِيدُ؟ قَالَ: أُرِيدُ الْجَنَّةَ. قُلْتُ : وَالطَّرِيقُ بَعِيدٌ. قَالَ: وَالسَّفَرُ قَرِيبٌ. قُلْتُ: وَمَا زَادُكَ؟ قَالَ: التَّوَكُّلُ عَلَى اللَّهِ تَعَالَى، وَحُسْنُ الظَّنِّ بِاللَّهِ تَعَالَى. قُلْتُ لَهُ: فَبِمَ تَسْتَعِينُ عَلَى ذَلِكَ؟ قَالَ : بِخِدْمَةِ الْفُقَرَاءِ، وَحُبِّ الصَّالِحِينَ.
হযরত আবূ সুলাইমান দারানী রহ. বলেন, এক রাতে আমি আমার ইবাদতখানায় বসে ইবাদত করতে লাগলাম। কিন্তু অন্তর কঠিন হওয়ায় ইবাদতে কোনো স্বাদ পেলাম না। তখন আমি ইবাদতখানা থেকে বেরিয়ে দরজার পেছনে গিয়ে বসলাম। দেখলাম একজন লোক ইবাদতখানায় বসে দোয়া করছে,
أَيْ رَبِّ كَمْ أَعْصِيكَ فَتُمْهِلُنِي، وَكَمْ أَسْتُرُكَ فَتَعْفُو عَنِّي، وَكَمْ مِنْ عَبْدٍ دَعَاكَ فَلَمْ تُجِبْهُ، وَدَعَوْتُكَ فَأَجَبْتَنِي،
অর্থ: হে আমার রব! আমি কতবার আপনার নাফরমানী করেছি, কিন্তু আপনি আমাকে অবকাশ দিয়েছেন। কতবার আমি আপনার সামনে দাঁড়িয়েছি, আর আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। কত বান্দা আপনাকে ডেকেছে, আপনি তাদের ডাকে সাড়া দেননি। আর আমি যখনই আপনাকে ডেকেছি আপনি সাড়া দিয়েছেন। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, কে আপনি? সে বলল, আমি একজন বন্দী, শত্রু আমাকে বন্দী করে রেখেছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আপনার শত্রু কে? সে বলল, ইবলিস। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আপনার পায়ে যে বেড়ি দেখছি এগুলো কিসের? সে বলল, এগুলো লম্বা আশা আর দুনিয়ার ভালোবাসার বেড়ি। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কোথায় যেতে চান? সে বলল, জান্নাতে। আমি বললাম, পথ তো অনেক দূরের। সে বলল, যাত্রা তো সন্নিকটে। আমি বললাম, আপনার পাথেয় কী? সে বলল, আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল এবং তাঁর প্রতি সুধারণা। আমি বললাম, এ ব্যাপারে আপনি কার সাহায্য নিচ্ছেন? সে বলল, দরিদ্রদের সেবা ও সৎকর্মশীলদের ভালোবাসা।
📄 একটি শিক্ষণীয় ঘটনা
رُوِيَ عَنْ مَالِكِ بْنِ دِينَارٍ، أَنَّهُ كَانَ يَتَمَنَّى فِي أَوَّلِ أَمْرِهِ أَنْ يَتَزَوَّجَ امْرَأَةً صَالِحَةً، وَيَأْكُلَ هُوَ وَهِيَ مِنْ كَسْبِ يَدَيْهَا، فَبَيْنَا هُوَ فِي سُوقِ الْبَصْرَةِ إِذْ هُوَ بِجَارِيَةٍ حَسْنَاءَ يُنَادِي عَلَيْهَا الدَّلَّالُ مَنْ يَشْتَرِي هَذِهِ الْجَارِيَةَ بِعُيُوبِهَا؟ فَقُلْتُ: وَمَا عَيْبُهَا؟ قَالَ: يُقَالُ إِنَّ بِهَا جُنُونًا، وَمَجْنُونٌ أَحْيَانًا وَيُفِيقُ أَحْيَانًا، فَقُلْتُ: بِكَمْ تُبَاعُ؟ قَالَ: بِعِشْرِينَ دِينَارًا. قَالَ مَالِكٌ: فَذَهَبْتُ إِلَى مَنْزِلِي وَأَخَذْتُ عِشْرِينَ دِينَارًا، وَاشْتَرَيْتُهَا، فَلَمَّا انْصَرَفْتُ بِهَا، وَدَخَلَتْ عَلَيَّ مَنْزِلِي، قَالَتْ لِي: سَيِّدِي أَنَا غَرِيبَةٌ. فَعَرِّفْنِي بِنَفْسِكَ وَبِمَنْ حَوْلَكَ مِنْ جِيرَانِكَ، وَعَرِّفْنِي مَا تَكْرَهُ مِنْ شَيْءٍ فَلَا آتِيهِ، وَمَا تُحِبُّ فَآتِيَهُ. فَقُلْتُ لَهَا: إِنَّ لَنَا رَبًّا قَدْ فَرَضَ عَلَيْنَا فِي كُلِّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ خَمْسَ صَلَوَاتٍ وَافْتَرَضَ عَلَيْنَا فِي السَّنَةِ صِيَامَ شَهْرٍ وَاحِدٍ، وَهُوَ رَمَضَانُ، فَقَالَتْ: يَا سَيِّدِي شَيْءٌ غَيْرُ هَذَا؟ قُلْتُ: نَعَمْ. وَهُوَ أَنَّ مَنْ صَلَّى فِي الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ اثْنَتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً بَنَى اللَّهُ لَهُ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ، وَمَنْ صَامَ الِاثْنَيْنِ وَالْخَمِيسَ بَنَى اللَّهُ لَهُ قَصْرًا فِي الْجَنَّةِ. قَالَتْ: يَا سَيِّدِي قَدِ اشْتَرَيْتَنِي لِلْخِدْمَةِ أَوِ الْعِبَادَةِ؟ قُلْتُ: بَلْ لِلْخِدْمَةِ. قَالَتْ: إِذَا خَفَّفْتَ عَنِّي الْخِدْمَةَ حَتَّى أَعْبُدَ اللَّهَ تَعَالَى، ثُمَّ قَامَتْ فَصَلَّتْ حَتَّى أَصْبَحْنَا، ثُمَّ أَصْبَحَتْ صَائِمَةً حَتَّى أَمْسَتْ، فَلَمَّا كَانَ اللَّيْلُ أَخَذَتْ مِثْلَ ذَلِكَ، وَكَانَتْ تُصَلِّي اللَّيْلَ وَتَصُومُ النَّهَارَ. قَالَ مَالِكٌ : فَكُنْتُ أَدْخُلُ وَأَخْرُجُ وَهِيَ فِي الصَّلَاةِ، وَأَدْخُلُ وَأَخْرُجُ وَهِيَ صَائِمَةٌ فَجَعَلْتُ أَنْظُرُ إِلَيْهَا لَيْلَةً وَقَدْ سَجَدَتْ فِي صَلَاتِهَا، وَهِيَ تَقُولُ: إِلَهِي بِحُبِّكَ لِي اغْفِرْ لِي ذَنْبِي. فَقُلْتُ لَهَا: لَا تَقُولِي بِحُبِّكَ لِي، وَلَكِنْ قُولِي: بِحُبِّي لَكِ. فَقَالَتْ: يَا سَيِّدِي لَوْلَا مَحَبَّتُهُ لِي مَا أَقَامَنِي، وَأَنَامَكَ، وَلَوْلَا مَحَبَّتُهُ لِي مَا فَتَحَ لِي بَابَ عِبَادَتِهِ وَأَغْلَقَهُ دُونَكَ.
মালেক ইবনে দীনার রহ. থেকে বর্ণিত। একদা তিনি এক নেককার স্ত্রী গ্রহণ করে উভয়ে মিলেমিশে সংসার করবেন বলে মনস্থ করলেন। তিনি বসরার বাজারে গিয়ে দেখলেন, একজন দাসী বিক্রেতা এক সুন্দরী দাসীর ব্যাপারে ঘোষণা দিয়ে বলছে, তার দোষসহ কে তাকে ক্রয় করবে? মালেক বিন দীনার জিজ্ঞেস করলেন, তার কী দোষ? বিক্রেতা বলল, সে নাকি মাঝে মাঝে পাগল হয়ে যায়। মালেক জিজ্ঞেস করলেন, তার দাম কত? সে বলল, বিশ দিনার। মালেক রহ. বিশ দিনার দিয়ে তাকে ক্রয় করে আনলেন। দাসীটি ঘরে প্রবেশ করে বলল, মনিব! আমি এখানে নতুন। আপনার সম্পর্কে বলুন, আপনার প্রতিবেশীদের সম্পর্কে বলুন, আপনার পছন্দ-অপছন্দের কথা বলুন। যাতে আমি সে অনুযায়ী চলতে পারি। মালেক রহ. বললেন, আমাদের এক রব আছেন যিনি আমাদের উপর দিনে-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয করেছেন, আর বছরে এক মাস রোযা ফরয করেছেন। দাসী বলল, এছাড়া আর কিছু? তিনি বললেন, হ্যাঁ, যে ব্যক্তি দিনে বারো রাকাত নামায আদায় করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন। আর যে ব্যক্তি সোম ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখবে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি প্রাসাদ নির্মাণ করবেন। দাসী বলল, মনিব! আপনি কি আমাকে খেদমতের জন্য ক্রয় করেছেন, নাকি ইবাদতের জন্য? তিনি বললেন, খেদমতের জন্য। দাসী বলল, তাহলে আপনি আমার থেকে হালকা খেদমত নিবেন, যেন আমি ভালোভাবে আল্লাহর ইবাদত করতে পারি। এই বলে সে নামাযে দাঁড়িয়ে গেল এবং সকাল পর্যন্ত নামায পড়তে লাগল। পরদিন সে রোযা রাখল। এভাবে সে দিনের বেলা রোযা রাখত আর রাতভর নামায পড়ত। মালেক রহ. বলেন, আমি যখনই ঘরে আসতাম, তাকে নামাযরত অবস্থায় দেখতাম। একদিন রাতে সে সেজদারত অবস্থায় দোয়া করছিল,
إِلَهِي بِحُبِّكَ لِي اغْفِرْ لِي ذَنْبِي
অর্থ: ইলাহী! আমার প্রতি আপনার ভালোবাসার ওসিলায় আমার গুনাহ ক্ষমা করে দিন। আমি তাকে বললাম, بِحُبِّكَ لِي বলো না বরং بِحُبِّي لَكَ বলো। দাসী বলল, মনিব! যদি আমার প্রতি তাঁর ভালোবাসা না থাকত তাহলে তিনি আমাকে ইবাদতের তাওফীক দিতেন না, আর আপনাকে ঘুম পাড়িয়ে রাখতেন না। আর আমার প্রতি তাঁর ভালোবাসা না থাকলে তিনি আমার জন্য ইবাদতের দুয়ার খুলে দিতেন না, আর আপনার জন্য বন্ধ রাখতেন না।
📄 চড়া মূল্যে জাহান্নাম ক্রয়
قَالَ مَالِكٌ: ثُمَّ قُمْتُ مِنْ مَكَانِي، فَلَمَّا كَانَ مِنَ الْغَدِ، قَالَ لِي أَصْحَابِي: إِنَّكَ مَرِيضٌ فَلَوْ أَكَلْتَ شَيْئًا كَانَ أَصْلَحَ لِكَ، فَقُلْتُ لَهَا: اصْنَعِي لَنَا طَعَامًا، فَلَمَّا قَدَّمَتِ الطَّعَامَ قَالَ لِي أَصْحَابِي: كُلْ مَعَنَا. فَقُلْتُ: إِنِّي صَائِمٌ فَنَظَرَتْ إِلَيَّ، وَقَالَتْ لِي: سُبْحَانَ اللَّهِ مَا عَهِدْتُكَ كَذَّابًا. فَقُلْتُ: أَنَا لَسْتُ بِصَائِمٍ، قَالَتْ: فَصُمْ فَإِنَّ الصِّيَامَ سُنَّةٌ، قُلْتُ: سَأَصُومُ غَدًا. قَالَتْ: وَمَنْ لَكَ بِغَدٍ؟ لَعَلَّكَ لَا تُدْرِكُهُ، أَمَا سَمِعْتَ قَوْلَ الشَّاعِرِ:
يَا رَاقِدًا وَالْجَلِيلُ يَحْرُسُهُ ... مِنْ كُلِّ سُوءٍ يَكُونُ فِي الظُّلَمِ
كَيْفَ تَنَامُ الْعُيُونُ أَوْ تَهْدَأُ ... عَن طَالِبِ الْجَنَّاتِ أَوْ هَارِبِ مِنَ الضَّرَمِ
قَالَ مَالِكٌ : فَأَخَذَتِ الْقَصْعَةَ وَقَالَتْ لِي: سِرَاجُ الْبَيْتِ لَا يُوضَعُ تَحْتَ الْمِكْيَالِ. وَجَعَلَتْ تَعْمَلُ بِالنَّهَارِ وَتَصُومُ، وَتُصَلِّي بِاللَّيْلِ فَبَيْنَا أَنَا ذَاتَ لَيْلَةٍ نَائِمٌ إِذْ سَمِعْتُهَا تَقُولُ : يَا سَيِّدِي كَمْ تُحِبُّنِي؟ وَهَلْ رَضِيتَ عَنِّي. فَقُلْتُ لَهَا: نَعَمْ. وَاللَّهِ إِنِّي لَأُحِبُّكِ كُلَّ الْحُبِّ، وَقَدْ رَضِيتُ عَنْكِ كُلَّ الرِّضَا. فَرَفَعَتْ رَأْسَهَا إِلَى السَّمَاءِ وَقَالَتْ: يَا رَبِّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ سَيِّدِي قَدْ رَضِيَ عَنِّي فَاقْبِضْنِي إِلَيْكَ السَّاعَةَ، ثُمَّ سَجَدَتْ فَمَكَثَتْ سَاعَةً لَمْ تَرْفَعْ رَأْسَهَا، فَقُمْتُ إِلَيْهَا فَحَرَّكْتُهَا فَإِذَا هِيَ مَيِّتَةٌ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهَا.
মালেক রহ. বলেন, পরদিন আমার কিছু বন্ধু আমার নিকট আসলে আমার চেহারা দেখে বলল, আপনার কি শরীর খারাপ? যদি কিছু খান তাহলে ভালো লাগবে। আমি দাসীকে বললাম, আমাদের জন্য কিছু খাবার তৈরি কর। সে খাবার পরিবেশন করলে আমার বন্ধুরা বলল, আপনিও আমাদের সাথে খান। আমি বললাম, আমি রোযা রেখেছি। দাসী আমার দিকে তাকিয়ে বলল, সুবহানাল্লাহ! আপনি তো মিথ্যাবাদী ছিলেন না। আমি বললাম, আমি রোযা রাখিনি। সে বলল, রোযা রাখুন, রোযা রাখা তো সুন্নত। আমি বললাম, কাল থেকে রাখব। সে বলল, আপনি কি আগামীকাল পর্যন্ত বেঁচে থাকবেন? আপনি কি শুনেননি কবি কী বলেছেন,
يا رَاقِدًا وَالْجَلِيلُ يَحْرُسُهُ مِنْ كُلِّ سُوءٍ يَكُونُ فِي الظُّلَمِ
كَيْفَ تَنَامُ الْعُيُونُ أَوْ تَهْدَأُ عَنْ طَالِبِ الْجَنَّاتِ أَوْ هَارِبِ مِنَ الضَّرَمِ
অর্থ: হে নিদ্রামগ্ন! আল্লাহ তোমাকে সকল অনিষ্ট থেকে রক্ষা করুন। যে ব্যক্তি জান্নাতের প্রত্যাশী আর জাহান্নাম থেকে পলায়নকারী তার চোখ কীভাবে ঘুমায়?
মালেক রহ. বলেন, অতঃপর সে প্লেটটি উঠিয়ে নিয়ে বলল, ঘরের প্রদীপ কখনো পাত্রের নিচে রাখা হয় না। এরপর সে আগের মত দিনে কাজ করত আর রোযা রাখত, রাতে নামায পড়ত। এক রাতে আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। এমন সময় শুনতে পেলাম সে বলছে, হে আমার মনিব! আপনি কি আমাকে ভালোবাসেন? আপনি কি আমার উপর রাজি? আমি বললাম, হ্যাঁ, আল্লাহর কসম! আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি এবং তোমার প্রতি পূর্ণ সন্তুষ্ট। তখন সে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল, হে রব! আপনি যদি জানেন যে, আমার মনিব আমার প্রতি সন্তুষ্ট, তাহলে আমাকে আপনার নিকট উঠিয়ে নিন। এই বলে সে সেজদায় লুটিয়ে পড়ল। অনেকক্ষণ পর্যন্ত সেজদা থেকে না উঠায় আমি তার নিকট গিয়ে তাকে নাড়া দিলাম, দেখলাম সে মারা গেছে। আল্লাহ তার উপর রহম করুন।
عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَدْهَمَ رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى، أَنَّهُ سَمِعَ رَجُلًا يَقُولُ: مَا أَعَزَّ مِنَ الْوَرَعِ، فَقَالَ إِبْرَاهِيمُ: الْوَرِعُ أَعَزُّ مِنْهُ، وَمَا أَغْلَى مِنَ الْجَنَّةِ، قَالَ : طَالِبُهَا أَغْلَى مِنْهَا، وَمَا أَرْخَصَ النَّارَ. فَقَالَ: مَنِ اشْتَرَاهَا بِشَهْوَةِ سَاعَةٍ فَهُوَ أَرْخَصُ مِنْهَا.
ইবরাহীম ইবনে আদহাম রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেন, পরহেযগারী কত দামি! তখন ইবরাহীম রহ. বললেন, পরহেযগার এর চেয়েও দামি। জান্নাত কত দামি! জান্নাত তলবকারী তার চেয়েও দামি। জাহান্নাম কত সস্তা! তিনি বললেন, যে ব্যক্তি কিছুক্ষণের কামনার বিনিময়ে তা খরিদ করে নেয়, সে তার চেয়েও সস্তা।