📄 জান্নাতীদের হাতের আংটিতে যা লেখা থাকবে
عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ، قَالَ: يُعْطَى لِكُلِّ مُؤْمِنٍ خَاتَمٌ مِنْ ذَهَبٍ، يُكْتَبُ فِيهِ: ادْخُلُوهَا بِسَلَامٍ آمِنِينَ (الحجر : ٤٦).
হযরত হাসান বসরী রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, প্রত্যেক মুমিনকে একটি স্বর্ণের আংটি দেওয়া হবে, তাতে লেখা থাকবে, ادْخُلُوهَا بِسَلَامٍ آمِنِينَ অর্থ: তোমরা তাতে প্রবেশ কর শান্তিতে, নিরাপদে। ১০৫
টিকাঃ
১০৫. সূরা হিজর: আয়াত-৪৬
📄 জান্নাতের নেয়ামত লাভ করতে হলে পাঁচটি কাজ আবশ্যক
عَنْ وَهْبِ بْنِ مُنَبِّهِ، قَالَ : يُقَالُ: إِنَّ مِفْتَاحَ الْجَنَّةِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَإِنَّ أَسْنَانَهُ خَمْسَةُ أَشْيَاءَ: إِقْرَارُ بِاللِّسَانِ، وَتَصْدِيقٌ بِالْقَلْبِ، وَعَمَلُ بِالْجَوَارِحِ، وَأَكْلُ الْحَلَالِ، وَاجْتِنَابُ الْمَحَارِمِ.
ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ জান্নাতের চাবি। তার পাঁচটি দাঁত আছে। যথা-
১. মুখে স্বীকার করা।
২. অন্তরে বিশ্বাস করা।
৩. অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে আমল করা।
৪. হালাল খাওয়া।
৫. হারাম বর্জন করা।
📄 কে আখেরাতের প্রশান্তি ও সচ্ছলতা পাবে?
عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: مَنْ أَصْبَحَ وَهَمُّهُ الْآخِرَةُ جَمَعَ اللَّهُ شَمْلَهُ، وَجَعَلَ غِنَاهُ فِي قَلْبِهِ، وَأَتَتْهُ الدُّنْيَا وَهِيَ رَاغِمَةٌ، وَمَنْ أَصْبَحَ وَهَمُّهُ الدُّنْيَا، شَتَّتَ اللَّهُ شَمْلَهُ، وَجَعَلَ فَقْرَهُ بَيْنَ عَيْنَيْهِ، وَلَمْ يَأْتِهِ مِنَ الدُّنْيَا إِلَّا مَا قُدِّرَ لَهُ
হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি পরকালকে জীবনের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে গ্রহণ করে, আল্লাহ তার সকল কাজকে গুছিয়ে দেন, তার অন্তরে সচ্ছলতা দান করেন এবং দুনিয়া তার কাছে অপদস্ত হয়ে আসে। আর যে ব্যক্তি দুনিয়াকে তার মূল উদ্দেশ্য বানায়, আল্লাহ তা'আলা তার কাজগুলোকে এলোমেলো করে দেন, তার চোখে-মুখে দারিদ্রতা লেপটে দেন, আর সে দুনিয়া থেকে ততটুকুই পায় যতটুকু তার জন্য নির্ধারিত ছিল। ১০৬
টিকাঃ
১০৬. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৪৬৫; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-৪১; হাদীসটি সহীহ।
📄 জনৈক সাধকের ঘটনা
عَنْ أَبِي سُلَيْمَانَ الدَّارَانِيِّ، قَالَ : بِتُّ لَيْلَةً فِي مِحْرَابِي، فَكَانَ قَلْبِي قَاسِيًا فَلَمْ أَجِدْ لِلْعِبَادَةِ لَذَّةً، وَلَا لِلْمُنَاجَاةِ حَلَاوَةً، فَخَرَجْتُ مِنَ الْمِحْرَابِ فَجَلَسْتُ خَلْفَ الْبَابِ، فَإِذَا بِرَجُلٍ فِي الْمِحْرَابِ يَدْعُو، وَهُوَ يَقُولُ: أَيْ رَبِّ كَمْ أَعْصِيكَ فَتُمْهِلُنِي، وَكَمْ أَسْتُرُكَ فَتَعْفُو عَنِّي، وَكَمْ مِنْ عَبْدٍ دَعَاكَ فَلَمْ تُجِبْهُ، وَدَعَوْتُكَ فَأَجَبْتَنِي، فَقُلْتُ لَهُ : مَنْ أَنْتَ رَحِمَكَ اللهُ؟ قَالَ : أَنَا رَجُلٌ أَسِيرٌ، حَبَسَنِي عَدُوٌّ. فَقُلْتُ لَهُ : وَمَنْ عَدُوُّكَ؟ قَالَ: إِبْلِيسُ. قُلْتُ: وَمَا هَذِهِ الْقُيُودُ الَّتِي أَرَاهَا عَلَيْكَ؟ قَالَ : طُولُ الْأَمَلِ، وَحُبُّ الدُّنْيَا. فَقُلْتُ: وَأَيْنَ تُرِيدُ؟ قَالَ: أُرِيدُ الْجَنَّةَ. قُلْتُ : وَالطَّرِيقُ بَعِيدٌ. قَالَ: وَالسَّفَرُ قَرِيبٌ. قُلْتُ: وَمَا زَادُكَ؟ قَالَ: التَّوَكُّلُ عَلَى اللَّهِ تَعَالَى، وَحُسْنُ الظَّنِّ بِاللَّهِ تَعَالَى. قُلْتُ لَهُ: فَبِمَ تَسْتَعِينُ عَلَى ذَلِكَ؟ قَالَ : بِخِدْمَةِ الْفُقَرَاءِ، وَحُبِّ الصَّالِحِينَ.
হযরত আবূ সুলাইমান দারানী রহ. বলেন, এক রাতে আমি আমার ইবাদতখানায় বসে ইবাদত করতে লাগলাম। কিন্তু অন্তর কঠিন হওয়ায় ইবাদতে কোনো স্বাদ পেলাম না। তখন আমি ইবাদতখানা থেকে বেরিয়ে দরজার পেছনে গিয়ে বসলাম। দেখলাম একজন লোক ইবাদতখানায় বসে দোয়া করছে,
أَيْ رَبِّ كَمْ أَعْصِيكَ فَتُمْهِلُنِي، وَكَمْ أَسْتُرُكَ فَتَعْفُو عَنِّي، وَكَمْ مِنْ عَبْدٍ دَعَاكَ فَلَمْ تُجِبْهُ، وَدَعَوْتُكَ فَأَجَبْتَنِي،
অর্থ: হে আমার রব! আমি কতবার আপনার নাফরমানী করেছি, কিন্তু আপনি আমাকে অবকাশ দিয়েছেন। কতবার আমি আপনার সামনে দাঁড়িয়েছি, আর আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। কত বান্দা আপনাকে ডেকেছে, আপনি তাদের ডাকে সাড়া দেননি। আর আমি যখনই আপনাকে ডেকেছি আপনি সাড়া দিয়েছেন। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, কে আপনি? সে বলল, আমি একজন বন্দী, শত্রু আমাকে বন্দী করে রেখেছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আপনার শত্রু কে? সে বলল, ইবলিস। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আপনার পায়ে যে বেড়ি দেখছি এগুলো কিসের? সে বলল, এগুলো লম্বা আশা আর দুনিয়ার ভালোবাসার বেড়ি। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কোথায় যেতে চান? সে বলল, জান্নাতে। আমি বললাম, পথ তো অনেক দূরের। সে বলল, যাত্রা তো সন্নিকটে। আমি বললাম, আপনার পাথেয় কী? সে বলল, আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল এবং তাঁর প্রতি সুধারণা। আমি বললাম, এ ব্যাপারে আপনি কার সাহায্য নিচ্ছেন? সে বলল, দরিদ্রদের সেবা ও সৎকর্মশীলদের ভালোবাসা।