📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 জান্নাতের তুবা' বৃক্ষ

📄 জান্নাতের তুবা' বৃক্ষ


عَنْ عُتْبَةَ بْنِ عَبْدِ السُّلَمِيُّ، أَنَّ أَعْرَابِيًّا قَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ أَفِي الْجَنَّةِ فَاكِهَةٌ؟ قَالَ: نَعَمْ. وَفِيهَا شَجَرَةٌ تُدْعَى طُوبَى، فَهِيَ تُطَابِقُ الْفِرْدَوْسَ. قَالَ: فَأَيُّ شَجَرِ أَرْضِنَا تُشْبِهُ؟ قَالَ : لَيْسَتْ تُشْبِهُ شَيْئًا مِنْ شَجَرِ أَرْضِكَ، وَلَكِنْ هَلْ أَتَيْتَ الشَّامَ؟ قَالَ : لَا. قَالَ: فَإِنَّهَا تُشْبِهُ شَجَرَةً بِالشَّامِ تُدْعَى الْجَوْزَةَ تَنْبُتُ عَلَى سَاقٍ وَاحِدٍ، ثُمَّ يَنْتَشِرُ أَعْلَاهَا، قَالَ : فَمَا عِظَمُ أَصْلِهَا؟ قَالَ: لَوِ ارْتَحَلَتْ جَذَعَةٌ مِنْ إِبِلِ أَهْلِكَ لَمْ تُحِطْ بِأَصْلِهَا حَتَّى يَنْكَسِرَ تَرْقُوَتُهَا هَرَمًا، قَالَ: فِيهَا عِنَبٌ؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: مَا عِظَمُ الْعُنْقُودِ؟ قَالَ : مَسِيرَةُ غُرَابٍ لَا يَقَعُ شَهْرًا. قَالَ: فَمَا عِظَمُ الْحَبَّةِ؟ قَالَ : هَلْ ذَبَحَ أَبُوكَ تَيْسًا مِنْ غَنَمِهِ عَظِيمًا؟ قَالَ : نَعَمْ. قَالَ: فَسَلَخَ إِهَابَهُ، فَأَعْطَاهُ أُمَّكَ فَقَالَ: اتَّخِذِي لَنَا مِنْهُ دَلْوًا؟ قَالَ: نَعَمْ. قَالَ الْأَعْرَابِيُّ: فَإِنَّ تِلْكَ الْحَبَّةَ تُشْبِعُنِي وَأَهْلَ بَيْتِي. فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: وَعَامَّةَ عَشِيرَتِكَ.

উতবা ইবনে আব্দুস সালামা রাযি. থেকে বর্ণিত। একদা এক বেদুঈন রাসূল ﷺ কে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! জান্নাতে কি ফল থাকবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তাতে একটি গাছ থাকবে যার নাম তূবা, যা ফেরদৌসের সাথে মিলে থাকবে। সে জিজ্ঞেস করল, দুনিয়ার কোন গাছের সাথে তার সাদৃশ্য আছে? রাসূল ﷺ বললেন, দুনিয়ার কোনো গাছের সাথে তার সাদৃশ্য নেই। তুমি কি কখনো শাম (সিরিয়া) গিয়েছ? সে বলল, না। রাসূল ﷺ বললেন, শামে ‘জাওযা’ নামক একটি গাছ আছে, তার সাথে তার কিছুটা মিল আছে। এটি এক কান্ডের উপর জন্মায়, তারপর তার শাখা-প্রশাখা ছড়িয়ে যায়। সে জিজ্ঞেস করল, তার গোড়া কতটুকু মোটা? তিনি বললেন, যদি তুমি তোমার উটনির বাচ্চা নিয়ে এর গোড়ার চারদিকে ঘুরতে থাক, তাহলে বাচ্চা বুড়ো হয়ে মারা গেলেও তার চারপাশ ঘুরে শেষ করতে পারবে না। সে জিজ্ঞেস করল, তাতে কি আঙ্গুর ধরবে? রাসূল ﷺ বললেন, হ্যাঁ। সে বলল, আঙ্গুরের থোকা কত বড় হবে? তিনি বললেন, একটি কাক একমাস পর্যন্ত উড়লে যে পথ অতিক্রম করে, সে পরিমাণ হবে। সে বলল, একটি আঙ্গুর কত বড় হবে? তিনি বললেন, তোমার পিতা কি কখনো বড় একটি ছাগল জবাই করেছে? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তারপর তার চামড়া খসিয়ে তোমার মাকে দিয়ে বলেছেন, এটা দিয়ে আমাদের জন্য একটা মশক বানিয়ে দাও? সে বলল, হ্যাঁ। রাসূল ﷺ বললেন, জান্নাতের একটি আঙ্গুর তোমার এবং তোমার পরিবারের সকলের জন্য যথেষ্ট হবে। বেদুঈন বলল, তাহলে তা আমার এবং আমার পুরো গোত্রের জন্য যথেষ্ট হবে? রাসূল ﷺ বললেন, হ্যাঁ। ১০০

ٹکا:
১০০. মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-১৭৬৮২; মুসনাদে শামেয়্যীন: হাদীস-১০২৫; হাদীসটি সহীহ [মুসনাদে আহমাদ, শামেয়্যীন ও মুস্তাদরাকে হাকেম-এর মুহাক্কিকগণ]।

আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন— طُوبَى لَهُمْ وَحُسْنُ مَآبٍ অর্থ: তাদের জন্য রয়েছে তুবা' এবং সুন্দর প্রত্যাবর্তনস্থান।

হযরত মুতআব ইবনে সামী রাহ. থেকে বর্ণিত। এই আয়াতের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, তুবা হলো, জান্নাতের একটি বৃক্ষের নাম। জান্নাতে এমন কোনো বাড়ি নেই যেখানে এই বৃক্ষের ডাল-পালার ছায়া পড়ে না। তাতে রয়েছে রকমারী ফল। তাতে বিশাল-বিশাল এক প্রকার পাখি থাকবে। কোনো জান্নাতবাসীর পাখিগুলো খেতে ইচ্ছে করলে তাকে ডাকবে। ফলে তা তার দস্তরখানে ভুনা হয়ে এসে যাবে। আর সে তার চাহিদা মোতাবেক খেয়ে নিবে। তার খাওয়ার পর পাখিটি আবার পাখি হয়ে তার স্থানে ফিরে যাবে。

টিকাঃ
১৩৫. সুরা আর রা'আদ: আয়াত-২৯

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 জান্নাতীদের সৌন্দর্য

📄 জান্নাতীদের সৌন্দর্য


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: إِنَّ فِي الْجَنَّةِ شَجَرَةً يَسِيرُ الرَّاكِبُ فِي ظِلِّهَا مِائَةَ سَنَةٍ لَا يَقْطَعُهَا، وَاقْرَءُوا إِنْ شِئْتُمْ: {وَظِلَّ مَمْدُودٍ} [الواقعة: ٣٠] وَلَقَابُ قَوْسِ أَحَدِكُمْ فِي الْجَنَّةِ خَيْرٌ مِمَّا طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ أَوْ تَغْرُبُ.

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, জান্নাতে একটি বৃক্ষ আছে, যার ছায়ায় সওয়ারী একশ বছর চললেও তা শেষ করতে পারবে না। তোমরা চাইলে কুরআনের এ আয়াতটি পড়ে দেখতে পার-
وَظِلٍّ مَّمْدُودٍ
অর্থ: আর সম্প্রসারিত ছায়া। ১০১
জান্নাতে তোমাদের কারো ধনুক রাখার স্থান দুনিয়ার সবকিছুর চেয়ে উত্তম। ১০২

عَنْ مُجَاهِدٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: {وَفُرُشٍ مَرْفُوعَةٍ} [الواقعة: ٣٤] قَالَ : ارْتِفَاعُهَا كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ، مَسِيرَةُ خَمْسِ مِائَةِ عَامٍ. وَفِي الْخَبَرِ أَنَّ لِلْمُؤْمِنِ فِي الْجَنَّةِ خَيْمَةً مِنْ لُؤْلُؤَةٍ وَاحِدَةٍ مُجَوَّفَةٍ، طُولُهَا سِتُّونَ مِيلًا فِي السَّمَاءِ، فِي كُلِّ زَاوِيَةٍ مِنْهَا أَهْلٌ لَهُ لَا يَرَاهُمُ الْآخَرُونَ.

হযরত মুজাহিদ রহ. আল্লাহ তা'আলার বাণী- وَفُرُشٍ مَّرْفُوعَةٍ অর্থ: এবং উঁচু শয্যা। ১০৩-এর ব্যাখ্যায় বলেন, তার উচ্চতা হবে আসমান ও জমিনের দূরত্বের সমান।
হাদীসে আছে, জান্নাতে মুমিনের জন্য একটি তাঁবু থাকবে, যার ভেতরটা ফাঁকা এবং তা একটি মুক্তা দিয়ে তৈরি। তার দৈর্ঘ্য হবে ষাট মাইল। তার প্রতিটি কোণায় তার জন্য পরিবার থাকবে। তারা একে অপরকে দেখতে পাবে না। ১০৪

টিকাঃ
১০১. সূরা ওয়াকিয়া: আয়াত-৩০
১০২. সহীহ বুখারী: হাদীস-৩২৫২; সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৮২৮।
১০৩. সূরা ওয়াকিয়া: আয়াত-৩৪
১০৪. সহীহ বুখারী: হাদীস-৪৮৭৯; সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৮৩৮।

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, আমার উম্মতের প্রথম যে দলটি জান্নাতে প্রবেশ করবে তারা হবে পূর্ণিমার চাঁদের মতো। তাদের পর যারা প্রবেশ করবে তারা হবে আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রের মত। এভাবে ক্রমাধারে। তাদের পেশাব পায়খানার প্রয়োজন হবে না। তাদের থুথু কফ থাকবে না। তাদের চিরুণীগুলো হবে স্বর্ণে ধুপদানী চন্দন কাঠের। তাদের ঘাম হবে মেশকের মত সুগন্ধযুক্ত। তাদের সবার স্বভাব-চরিত্র হবে এক ব্যক্তির মত অভিন্ন। তাদের উচ্চতা হবে আদি পিতা আদমের মত ষাট হাত।

হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, জান্নাতীরা চির যুবক থাকবে। তাদের দাড়ি-গোফ থাকবে না। মাথার চুল এবং চোখের ভ্রু ছাড়া তাদের শরীরে আর কোথাও লোম থাকবে না। তাদের উচ্চতা হবে আদমের মত ষাট হাত। তাদের বয়স হবে ঈসা ইবনে মারয়াম-এর মত তেত্রিশ। তারা হবে গৌর বর্ণের এবং সবুজ পোশাক পরিহিত। তাদের কেউ খাবারের দস্তরখানা বিছাবে। একটি পাখি এসে বলবে, হে আল্লাহর বন্ধু! আমি সালসাবিল ঝর্ণার পানি পান করেছি, আরশের নিচে জান্নাতের বাগ বাগিচায় ঘুরেছি, অমুক অমুক বৃক্ষের ফল খেয়েছি। সুতরাং আমাকে তোমরা খাও। এটার এক পাশের গোশত হবে পাকানো গোশতের মত, আর অপর পাশের গোশত হবে ভুনা গোশতের মত। বান্দার যতটুকু চাহিদা হবে, সেখান থেকে ভক্ষণ করবে। আল্লাহর বন্ধু ওই জান্নাতির গায়ে থাকবে সত্তর বর্ণের সত্তর জোড়া পোশাক।

টিকাঃ
১৩৬. সহীহ বুখারী: হাদীস-৩৩২৭; সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৮৩৪; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৫৩৭।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 জান্নাতীদের হাতের আংটিতে যা লেখা থাকবে

📄 জান্নাতীদের হাতের আংটিতে যা লেখা থাকবে


عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ، قَالَ: يُعْطَى لِكُلِّ مُؤْمِنٍ خَاتَمٌ مِنْ ذَهَبٍ، يُكْتَبُ فِيهِ: ادْخُلُوهَا بِسَلَامٍ آمِنِينَ (الحجر : ٤٦).

হযরত হাসান বসরী রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, প্রত্যেক মুমিনকে একটি স্বর্ণের আংটি দেওয়া হবে, তাতে লেখা থাকবে, ادْخُلُوهَا بِسَلَامٍ آمِنِينَ অর্থ: তোমরা তাতে প্রবেশ কর শান্তিতে, নিরাপদে। ১০৫

টিকাঃ
১০৫. সূরা হিজর: আয়াত-৪৬

জান্নাতীদের হাতের আংটিতে দশটি জিনিস লেখা থাকবে। যথা— প্রথমটিতে লেখা থাকবে— سَلَامٌ عَلَيْكُمْ بِمَا صَبَرْتُمْ অর্থ: তোমরা যে ধৈর্যধারণ করেছ তার ফলস্বরূপ তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। দ্বিতীয়টিতে লেখা থাকবে— أُدْখُلُوهَا بِسَلَامٍ آمِنِينَ. অর্থ: তোমরা তাতে (জান্নাতে) শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে প্রবেশ কর। তৃতীয়টিতে লেখা থাকবে— تِلْكَ الْجَنَّةُ الَّتِي أُورِثْتُمُوهَا بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ অর্থ : ওই হলো সেই জান্নাত, তোমাদের কর্মের ফলস্বরূপ তোমরা তার উত্তরাধিকার লাভ করেছ। চতুর্থ আংটিতে লেখা থাকবে— رُفِعَتْ عَنْكُمُ الْأَحْزَانُ وَالْهُمُومُ অর্থ: তোমাদের সমস্ত দুঃখ ও দুশ্চিন্তা উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। পঞ্চমটিতে লেখা থাকবে— الْبَسْنَاكُمُ الْحُلِيَّ وَالْحُلَلَ অর্থ: আমি তোমাদেরকে গহনা ও অলংকার পরিধান করিয়েছি। ষষ্ঠটিতে লেখা থাকবে— زَوَّجْنَاكُمُ الْحُورَ الْعِينِ অর্থ: আমি তোমাদেরকে বিয়ে করিয়েছি ডাগরচোখা হুরদের সাথে। সপ্তমটিতে লেখা থাকবে— وَ فِيهَا مَا تَشْتَهِيْهِ الْأَنْفُسُ وَتَلَذُّ الْأَعْيُنِ وَأَنْتُمْ فِيهَا خَالِدُونَ অর্থ: সেখানে তোমাদের জন্য থাকবে মন যা কামনা করে, চোখ যাতে আনন্দ পায়; সেখানে তোমরা হবে অমর। অষ্টমটিতে লেখা থাকবে— رَافَقْتُمُ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ অর্থ: তোমরা নবী ও সিদ্দীকগণের সঙ্গী হলে। নবমটিতে লেখা থাকবে— صِرْتُمْ شَبَابًا لَا تُهْرَمُونَ অর্থ: তোমরা চির যুবক, বার্ধক্য তোমাদেরকে কখনো আক্রান্ত করবে না। দশমটিতে লেখা থাকবে— سَكُنْتُمْ فِي جَوَارٍ مَنْ لَا يُؤْذِي অর্থ: যে কাউকে কষ্ট দেয় না, তোমরা এমন একজনের প্রতিবেশী হয়ে বাস করবে।

টিকাঃ
১৩৭. ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত এই দীর্ঘ রেওয়ায়াতটির কোনো কোনো অংশ সহীহ বা হাসান সনদে পাওয়া যায়। যেমন: “জান্নাতীরা চির যুবক থাকবে। তাদের দাড়ি-গোঁফ থাকবে না। মাথার চুল, ভ্রু এবং চোখের ভ্রু ছাড়া তাদের শরীরে আর কোথাও লোম থাকবে না।” (তিরমিযী: হাদীস-২৩৩৫; দারিমী: খণ্ড-২, পৃষ্ঠা-৫৩৯) তবে কারো কারো মতে উপরিউক্ত শব্দে বিস্তারিত যে হাদীসটি বর্ণনা করা হয়, তা জাল। [দ্র. সিলসিলাতুল আহাদীসিয যয়ীফা (২৩৮৭)]

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 জান্নাতের নেয়ামত লাভ করতে হলে পাঁচটি কাজ আবশ্যক

📄 জান্নাতের নেয়ামত লাভ করতে হলে পাঁচটি কাজ আবশ্যক


عَنْ وَهْبِ بْنِ مُنَبِّهِ، قَالَ : يُقَالُ: إِنَّ مِفْتَاحَ الْجَنَّةِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَإِنَّ أَسْنَانَهُ خَمْسَةُ أَشْيَاءَ: إِقْرَارُ بِاللِّسَانِ، وَتَصْدِيقٌ بِالْقَلْبِ، وَعَمَلُ بِالْجَوَارِحِ، وَأَكْلُ الْحَلَالِ، وَاجْتِنَابُ الْمَحَارِمِ.

ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ জান্নাতের চাবি। তার পাঁচটি দাঁত আছে। যথা-
১. মুখে স্বীকার করা।
২. অন্তরে বিশ্বাস করা।
৩. অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে আমল করা।
৪. হালাল খাওয়া।
৫. হারাম বর্জন করা।

ইমাম সমরকন্দী রহ. বলেন, যে ব্যক্তি এই সমস্ত নেয়ামত লাভ করতে আগ্রহী তাকে পাঁচটি কাজ অবশ্যই করতে হবে। যথা—
১. أَنْ يَمْنَعَ نَفْسَهُ مِنْ جَمِيعِ الْمَعَاصِي অর্থাৎ, নিজেকে যাবতীয় নাফরমানী থেকে রক্ষা করা। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন— وَأَمَّا مَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ وَنَهَى النَّفْسَ عَنِ الْهَوَى فَإِنَّ الْجَنَّةَ هِيَ الْمَأْوَى অর্থ: আর যে তার রবের সামনে দাঁড়ানোর ভয় রাখে এবং নফসকে প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে বিরত রাখে তার ঠিকানা হবে জান্নাত।
২. أَنْ يَرْضَى بِالْيَسِيرِ مِنَ الدُّنْيَا لِأَنَّهُ অর্থাৎ, পার্থিব বিষয়ে অল্পে তুষ্ট থাকা। কারণ, এক হাদীসে এসেছে; জান্নাতের মূল্য হলো, দুনিয়া বর্জন।
৩. أَنْ يَكُونَ حَرِيصًا عَلَى الطَّاعَاتِ অর্থাৎ, সর্বদা ইবাদতের প্রতি আগ্রহী থাকা। সম্ভাব্য প্রতিটি ইবাদত পালন করা। কারণ, যে কোনো নেক আমলই আল্লাহর মাগফেরাত এবং জান্নাত লাভের কারণ হতে পারে। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন— وَتِلْكَ الْجَنَّةُ الَّتِي أُورِثْتُمُوهَا بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ অর্থ: ওই সে জান্নাত তোমাদের কর্মের ফলস্বরূপ যা তোমাদেরকে দান করা হয়েছে। অন্য এক আয়াতে এসেছে— جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ অর্থ: (এই জান্নাত) তাদের আমলের প্রতিদান স্বরূপ। অর্থাৎ ইবাদতে মগ্নতার মাধ্যমেই জান্নাত ও তার নেয়ামত পাওয়া যায়।
৪. أَنْ يُحِبَّ الصَّالِحِينَ وَأَهْلَ الْخَيْرِ وَيُخَالِطَهُمْ وَيُجَالِسَهُمْ সৎকর্মশীলদের পছন্দ করা এবং তাদের সান্নিধ্য লাভ করা, তাদের সাথে উঠাবসা করা। কারণ, সৎকর্মশীলরা যখন আল্লাহর মাগফেরাত লাভ করবেন তখন তাদেরকে সঙ্গী-সাথী ও স্বজনদের জন্য সুপারিশের সুযোগ দেওয়া হবে। যেমন রাসূল ইরশাদ করেন, তোমরা বেশি (দীনি) ভাই বানাও। কারণ, তারা সবাই কিয়ামতের দিন অন্যের জন্য সুপারিশের সুযোগ পাবে না।
৫. أَنْ يُكْثِرَ الدُّعَاءَ অর্থাৎ, বেশি বেশি দোয়া করা। অর্থাৎ, আল্লাহর কাছে খাতেমা বিল খায়ের (শুভ অন্তিম) এবং জান্নাত প্রাপ্তির জন্য দোয়া করা。

টিকাঃ
১৩৮. সুরা নাযিআত: আয়াত-৪০-৪১
১৩৯. সূরা যুখরুফ: আয়াত-৭২
১৪০. সূরা আল আহকাফ: আয়াত-১৪
১৪১. হাদীসটির সনদ ও হুবহু এই শব্দে কোনো বর্ণনা আমরা পাইনি।

ফন্ট সাইজ
15px
17px