📄 জান্নাতবাসীদের খাবার ও তার হজমপ্রক্রিয়া
عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: يَأْكُلُ أَهْلُ الْجَنَّةِ وَيَشْرَبُونَ، وَلَا يَبُولُونَ وَلَا يَتَغَوَّطُونَ وَلَا يَتَفِلُونَ وَلَا يَمْتَخِطُونَ، إِنَّمَا هُوَ جُشَاءٌ وَرَشْحٌ كَرَشْحِ الْمِسْكِ.
হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, জান্নাতবাসীগণ পানাহার করবে কিন্তু পেশাব-পায়খানা, থুতু ও কফ ফেলবে না। বরং ঢেকুর এবং মেশকের মতো সুগন্ধিযুক্ত ঘামের মাধ্যমে তাদের খাবার হজম হবে। ৯৯
ٹکا:
৯৯. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৮৩৫; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-১২৫০৬।
📄 জান্নাতের তুবা' বৃক্ষ
عَنْ عُتْبَةَ بْنِ عَبْدِ السُّلَمِيُّ، أَنَّ أَعْرَابِيًّا قَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ أَفِي الْجَنَّةِ فَاكِهَةٌ؟ قَالَ: نَعَمْ. وَفِيهَا شَجَرَةٌ تُدْعَى طُوبَى، فَهِيَ تُطَابِقُ الْفِرْدَوْسَ. قَالَ: فَأَيُّ شَجَرِ أَرْضِنَا تُشْبِهُ؟ قَالَ : لَيْسَتْ تُشْبِهُ شَيْئًا مِنْ شَجَرِ أَرْضِكَ، وَلَكِنْ هَلْ أَتَيْتَ الشَّامَ؟ قَالَ : لَا. قَالَ: فَإِنَّهَا تُشْبِهُ شَجَرَةً بِالشَّامِ تُدْعَى الْجَوْزَةَ تَنْبُتُ عَلَى سَاقٍ وَاحِدٍ، ثُمَّ يَنْتَشِرُ أَعْلَاهَا، قَالَ : فَمَا عِظَمُ أَصْلِهَا؟ قَالَ: لَوِ ارْتَحَلَتْ جَذَعَةٌ مِنْ إِبِلِ أَهْلِكَ لَمْ تُحِطْ بِأَصْلِهَا حَتَّى يَنْكَسِرَ تَرْقُوَتُهَا هَرَمًا، قَالَ: فِيهَا عِنَبٌ؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: مَا عِظَمُ الْعُنْقُودِ؟ قَالَ : مَسِيرَةُ غُرَابٍ لَا يَقَعُ شَهْرًا. قَالَ: فَمَا عِظَمُ الْحَبَّةِ؟ قَالَ : هَلْ ذَبَحَ أَبُوكَ تَيْسًا مِنْ غَنَمِهِ عَظِيمًا؟ قَالَ : نَعَمْ. قَالَ: فَسَلَخَ إِهَابَهُ، فَأَعْطَاهُ أُمَّكَ فَقَالَ: اتَّخِذِي لَنَا مِنْهُ دَلْوًا؟ قَالَ: نَعَمْ. قَالَ الْأَعْرَابِيُّ: فَإِنَّ تِلْكَ الْحَبَّةَ تُشْبِعُنِي وَأَهْلَ بَيْتِي. فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: وَعَامَّةَ عَشِيرَتِكَ.
উতবা ইবনে আব্দুস সালামা রাযি. থেকে বর্ণিত। একদা এক বেদুঈন রাসূল ﷺ কে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! জান্নাতে কি ফল থাকবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তাতে একটি গাছ থাকবে যার নাম তূবা, যা ফেরদৌসের সাথে মিলে থাকবে। সে জিজ্ঞেস করল, দুনিয়ার কোন গাছের সাথে তার সাদৃশ্য আছে? রাসূল ﷺ বললেন, দুনিয়ার কোনো গাছের সাথে তার সাদৃশ্য নেই। তুমি কি কখনো শাম (সিরিয়া) গিয়েছ? সে বলল, না। রাসূল ﷺ বললেন, শামে ‘জাওযা’ নামক একটি গাছ আছে, তার সাথে তার কিছুটা মিল আছে। এটি এক কান্ডের উপর জন্মায়, তারপর তার শাখা-প্রশাখা ছড়িয়ে যায়। সে জিজ্ঞেস করল, তার গোড়া কতটুকু মোটা? তিনি বললেন, যদি তুমি তোমার উটনির বাচ্চা নিয়ে এর গোড়ার চারদিকে ঘুরতে থাক, তাহলে বাচ্চা বুড়ো হয়ে মারা গেলেও তার চারপাশ ঘুরে শেষ করতে পারবে না। সে জিজ্ঞেস করল, তাতে কি আঙ্গুর ধরবে? রাসূল ﷺ বললেন, হ্যাঁ। সে বলল, আঙ্গুরের থোকা কত বড় হবে? তিনি বললেন, একটি কাক একমাস পর্যন্ত উড়লে যে পথ অতিক্রম করে, সে পরিমাণ হবে। সে বলল, একটি আঙ্গুর কত বড় হবে? তিনি বললেন, তোমার পিতা কি কখনো বড় একটি ছাগল জবাই করেছে? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তারপর তার চামড়া খসিয়ে তোমার মাকে দিয়ে বলেছেন, এটা দিয়ে আমাদের জন্য একটা মশক বানিয়ে দাও? সে বলল, হ্যাঁ। রাসূল ﷺ বললেন, জান্নাতের একটি আঙ্গুর তোমার এবং তোমার পরিবারের সকলের জন্য যথেষ্ট হবে। বেদুঈন বলল, তাহলে তা আমার এবং আমার পুরো গোত্রের জন্য যথেষ্ট হবে? রাসূল ﷺ বললেন, হ্যাঁ। ১০০
ٹکا:
১০০. মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-১৭৬৮২; মুসনাদে শামেয়্যীন: হাদীস-১০২৫; হাদীসটি সহীহ [মুসনাদে আহমাদ, শামেয়্যীন ও মুস্তাদরাকে হাকেম-এর মুহাক্কিকগণ]।
📄 জান্নাতীদের সৌন্দর্য
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: إِنَّ فِي الْجَنَّةِ شَجَرَةً يَسِيرُ الرَّاكِبُ فِي ظِلِّهَا مِائَةَ سَنَةٍ لَا يَقْطَعُهَا، وَاقْرَءُوا إِنْ شِئْتُمْ: {وَظِلَّ مَمْدُودٍ} [الواقعة: ٣٠] وَلَقَابُ قَوْسِ أَحَدِكُمْ فِي الْجَنَّةِ خَيْرٌ مِمَّا طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ أَوْ تَغْرُبُ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, জান্নাতে একটি বৃক্ষ আছে, যার ছায়ায় সওয়ারী একশ বছর চললেও তা শেষ করতে পারবে না। তোমরা চাইলে কুরআনের এ আয়াতটি পড়ে দেখতে পার-
وَظِلٍّ مَّمْدُودٍ
অর্থ: আর সম্প্রসারিত ছায়া। ১০১
জান্নাতে তোমাদের কারো ধনুক রাখার স্থান দুনিয়ার সবকিছুর চেয়ে উত্তম। ১০২
عَنْ مُجَاهِدٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: {وَفُرُشٍ مَرْفُوعَةٍ} [الواقعة: ٣٤] قَالَ : ارْتِفَاعُهَا كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ، مَسِيرَةُ خَمْسِ مِائَةِ عَامٍ. وَفِي الْخَبَرِ أَنَّ لِلْمُؤْمِنِ فِي الْجَنَّةِ خَيْمَةً مِنْ لُؤْلُؤَةٍ وَاحِدَةٍ مُجَوَّفَةٍ، طُولُهَا سِتُّونَ مِيلًا فِي السَّمَاءِ، فِي كُلِّ زَاوِيَةٍ مِنْهَا أَهْلٌ لَهُ لَا يَرَاهُمُ الْآخَرُونَ.
হযরত মুজাহিদ রহ. আল্লাহ তা'আলার বাণী- وَفُرُشٍ مَّرْفُوعَةٍ অর্থ: এবং উঁচু শয্যা। ১০৩-এর ব্যাখ্যায় বলেন, তার উচ্চতা হবে আসমান ও জমিনের দূরত্বের সমান।
হাদীসে আছে, জান্নাতে মুমিনের জন্য একটি তাঁবু থাকবে, যার ভেতরটা ফাঁকা এবং তা একটি মুক্তা দিয়ে তৈরি। তার দৈর্ঘ্য হবে ষাট মাইল। তার প্রতিটি কোণায় তার জন্য পরিবার থাকবে। তারা একে অপরকে দেখতে পাবে না। ১০৪
টিকাঃ
১০১. সূরা ওয়াকিয়া: আয়াত-৩০
১০২. সহীহ বুখারী: হাদীস-৩২৫২; সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৮২৮।
১০৩. সূরা ওয়াকিয়া: আয়াত-৩৪
১০৪. সহীহ বুখারী: হাদীস-৪৮৭৯; সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৮৩৮।
📄 জান্নাতীদের হাতের আংটিতে যা লেখা থাকবে
عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ، قَالَ: يُعْطَى لِكُلِّ مُؤْمِنٍ خَاتَمٌ مِنْ ذَهَبٍ، يُكْتَبُ فِيهِ: ادْخُلُوهَا بِسَلَامٍ آمِنِينَ (الحجر : ٤٦).
হযরত হাসান বসরী রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, প্রত্যেক মুমিনকে একটি স্বর্ণের আংটি দেওয়া হবে, তাতে লেখা থাকবে, ادْخُلُوهَا بِسَلَامٍ آمِنِينَ অর্থ: তোমরা তাতে প্রবেশ কর শান্তিতে, নিরাপদে। ১০৫
টিকাঃ
১০৫. সূরা হিজর: আয়াত-৪৬