📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 জান্নাতবাসীদের বয়স ও দৈহিক গঠন

📄 জান্নাতবাসীদের বয়স ও দৈহিক গঠন


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : أَهْلُ الْجَنَّةِ جُرْدٌ مُرْدٌ كُحْلٌ لَا تَبْلَى ثِيَابُهُمْ، وَلَا يَفْنَى شَبَابُهُمْ.

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, জান্নাতীগণ লোমহীন, শ্মশ্রুবিহীন ও সুরমাযুক্ত হবে। তাদের পোশাক কখনো পুরোনো হবে না এবং তাদের যৌবনও কখনো শেষ হবে না। ৯৭

عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: يَدْخُلُ أَهْلُ الْجَنَّةِ الْجَنَّةَ جُرْدًا مُرْدًا مُكَحَّلِينَ أَبْنَاءَ ثَلَاثِينَ أَوْ ثَلَاثٍ وَثَلَاثِينَ سَنَةً.

মুআয ইবনে জাবাল রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, জান্নাতবাসীগণ লোমহীন, শ্মশ্রুবিহীন ও সুরমাযুক্ত অবস্থায় জান্নাতে প্রবেশ করবে। তখন তাদের বয়স হবে ত্রিশ বা তেত্রিশ বছর। ৯৮

ٹکا:
৯৭. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৫৩৯; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-৭৯৫১; হাদীসটি সহীহ।
৯৮. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৫৪৫; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-৭৯৩৩; ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান গরীব বলেছেন।

হযরত ইকরিমা রা বলেন, 'আহলুল জান্নাতি কাআমছালি আওলাদি ছালাছিন ওয়া ছালাছিনা ছানাতান, রিজালুহুম ওয়া নিসাউহুম ওয়াল ক্বামাতু সিত্তুনা যিরাআন, আলা ক্বামাতি আবিহিম আদামা আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামু, শাবাবুন জুরদুন মুরদুন মুকাহহালুনা, আলাইহিম সাবউনা হুল্লাতান তাতালাউয়ানু কূল্লু হুল্লাতিন ফী কূল্লি সাআতিন সাবউনা লাওনান, ফায়ারা ওয়াজহাহু ফী ওয়াজহিহা, ইয়ানি ফী ওয়াজহি যাওজাতিহি ওয়া ফী সাদরিহা ওয়া ফী সাক্বিহা ওয়া তারা হিয়া ওয়াজহাহা ফী ওয়াজহিহি ওয়া সাদরিহি ওয়া সাক্বিহি, লা ইয়াবযুক্বুনা ওয়া লা ইয়াতামাকখাত্বুনা ওয়া মা কানা ফাওক্বা যালিকা মিনাল আযা ফাহুয়া আবয়াদু।'

জান্নাতী নারী-পুরুষ সবার বয়স হবে তেত্রিশ বছর। তাদের উচ্চতা হবে তাদের আদি পিতা আদমের মত ষাট হাত। তাদের যৌবন শেষ হবে না, কোনো প্রকারের লোম থাকবে না। তাদের চোখ হবে সুরমা মিশ্রিত। তাদের গায়ে থাকবে সত্তর জোড়া গহনা। সত্তর জোড়া অলংকার রং বেরং হবে। তারা তাদের স্ত্রীদের মুখে, বুকে ও পায়ের গোছায় নিজেদের চেহারা দেখতে পাবেন। তাদের স্ত্রীরাও তাদের মুখে, বুকে ও পায়ের গোছায় নিজেদের চেহারা দেখতে পাবেন তাদের থুতু কফ ইত্যাদি হবে না। এছাড়া মানুষের শরীরে অন্য যে সব ময়লা ও নাপাকি থাকে তা থেকে তারা সম্পূর্ণ পবিত্র হবে।

অন্য বর্ণনায় আছে— জান্নাতের কোনো হুর যদি তার এক হাত আকাশ থেকে বের করে দেয়, তাহলে আসমান-জমিন ও তার মাঝের সমস্ত কিছু আলোকিত হয়ে যাবে।

টিকাঃ
১৩৩. সুনানে তিরমিযী : হাদীস-২৫৩৮; মুসনাদে আহমদ : হাদীস-১৪৪৯; হাদীসটি সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রাযি. হতে সহীহ সনদে বর্ণিত হয়েছে।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 জান্নাতবাসীদের খাবার ও তার হজমপ্রক্রিয়া

📄 জান্নাতবাসীদের খাবার ও তার হজমপ্রক্রিয়া


عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: يَأْكُلُ أَهْلُ الْجَنَّةِ وَيَشْرَبُونَ، وَلَا يَبُولُونَ وَلَا يَتَغَوَّطُونَ وَلَا يَتَفِلُونَ وَلَا يَمْتَخِطُونَ، إِنَّمَا هُوَ جُشَاءٌ وَرَشْحٌ كَرَشْحِ الْمِسْكِ.

হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, জান্নাতবাসীগণ পানাহার করবে কিন্তু পেশাব-পায়খানা, থুতু ও কফ ফেলবে না। বরং ঢেকুর এবং মেশকের মতো সুগন্ধিযুক্ত ঘামের মাধ্যমে তাদের খাবার হজম হবে। ৯৯

ٹکا:
৯৯. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৮৩৫; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-১২৫০৬।

হযরত যায়েদ ইবনে আরকাম রাযি. থেকে বর্ণিত— একজন আহলে কিতাব (ইহুদী বা খৃষ্টান) রাসূল ﷺ এর নিকট এসে বলল, হে আবুল কাসেম! তুমি কি মনে কর জান্নাতবাসীরা পানাহার করবে? নবী ইরশাদ করলেন, হ্যাঁ, অবশ্যই তারা পানাহার করবে। সে সত্তার শপথ যার হাতে মুহাম্মাদের জীবন! ঈমানদার ও তার স্ত্রী একশ ব্যক্তির সহবাস ও পানাহার শক্তি পাবে। লোকটি বলল, পানাহারের পর তো মানুষের প্রকৃতিক প্রয়োজন দেখা দেয়, জান্নাতের মত পবিত্র জায়গায় সেটা কীভাবে সম্ভব? তিনি বললেন, তাদের গায়ে মেশকের গন্ধ মাখা এক ধরনের ঘাম দেখা দিবে। এতে তাদের প্রকৃতিক প্রয়োজন শেষ হয়ে যাবে।

টিকাঃ
১৩৪. মুসনাদে আহমদ: ৩২/১৮(১৯২৬৯); সুনানে দারেমী: হাদীস-২৮৬৫; সহীহ ইবনে হিব্বান: হাদীস-২৬৩৭; হাদীসটি সহীহ।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 জান্নাতের তুবা' বৃক্ষ

📄 জান্নাতের তুবা' বৃক্ষ


عَنْ عُتْبَةَ بْنِ عَبْدِ السُّلَمِيُّ، أَنَّ أَعْرَابِيًّا قَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ أَفِي الْجَنَّةِ فَاكِهَةٌ؟ قَالَ: نَعَمْ. وَفِيهَا شَجَرَةٌ تُدْعَى طُوبَى، فَهِيَ تُطَابِقُ الْفِرْدَوْسَ. قَالَ: فَأَيُّ شَجَرِ أَرْضِنَا تُشْبِهُ؟ قَالَ : لَيْسَتْ تُشْبِهُ شَيْئًا مِنْ شَجَرِ أَرْضِكَ، وَلَكِنْ هَلْ أَتَيْتَ الشَّامَ؟ قَالَ : لَا. قَالَ: فَإِنَّهَا تُشْبِهُ شَجَرَةً بِالشَّامِ تُدْعَى الْجَوْزَةَ تَنْبُتُ عَلَى سَاقٍ وَاحِدٍ، ثُمَّ يَنْتَشِرُ أَعْلَاهَا، قَالَ : فَمَا عِظَمُ أَصْلِهَا؟ قَالَ: لَوِ ارْتَحَلَتْ جَذَعَةٌ مِنْ إِبِلِ أَهْلِكَ لَمْ تُحِطْ بِأَصْلِهَا حَتَّى يَنْكَسِرَ تَرْقُوَتُهَا هَرَمًا، قَالَ: فِيهَا عِنَبٌ؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: مَا عِظَمُ الْعُنْقُودِ؟ قَالَ : مَسِيرَةُ غُرَابٍ لَا يَقَعُ شَهْرًا. قَالَ: فَمَا عِظَمُ الْحَبَّةِ؟ قَالَ : هَلْ ذَبَحَ أَبُوكَ تَيْسًا مِنْ غَنَمِهِ عَظِيمًا؟ قَالَ : نَعَمْ. قَالَ: فَسَلَخَ إِهَابَهُ، فَأَعْطَاهُ أُمَّكَ فَقَالَ: اتَّخِذِي لَنَا مِنْهُ دَلْوًا؟ قَالَ: نَعَمْ. قَالَ الْأَعْرَابِيُّ: فَإِنَّ تِلْكَ الْحَبَّةَ تُشْبِعُنِي وَأَهْلَ بَيْتِي. فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: وَعَامَّةَ عَشِيرَتِكَ.

উতবা ইবনে আব্দুস সালামা রাযি. থেকে বর্ণিত। একদা এক বেদুঈন রাসূল ﷺ কে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! জান্নাতে কি ফল থাকবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তাতে একটি গাছ থাকবে যার নাম তূবা, যা ফেরদৌসের সাথে মিলে থাকবে। সে জিজ্ঞেস করল, দুনিয়ার কোন গাছের সাথে তার সাদৃশ্য আছে? রাসূল ﷺ বললেন, দুনিয়ার কোনো গাছের সাথে তার সাদৃশ্য নেই। তুমি কি কখনো শাম (সিরিয়া) গিয়েছ? সে বলল, না। রাসূল ﷺ বললেন, শামে ‘জাওযা’ নামক একটি গাছ আছে, তার সাথে তার কিছুটা মিল আছে। এটি এক কান্ডের উপর জন্মায়, তারপর তার শাখা-প্রশাখা ছড়িয়ে যায়। সে জিজ্ঞেস করল, তার গোড়া কতটুকু মোটা? তিনি বললেন, যদি তুমি তোমার উটনির বাচ্চা নিয়ে এর গোড়ার চারদিকে ঘুরতে থাক, তাহলে বাচ্চা বুড়ো হয়ে মারা গেলেও তার চারপাশ ঘুরে শেষ করতে পারবে না। সে জিজ্ঞেস করল, তাতে কি আঙ্গুর ধরবে? রাসূল ﷺ বললেন, হ্যাঁ। সে বলল, আঙ্গুরের থোকা কত বড় হবে? তিনি বললেন, একটি কাক একমাস পর্যন্ত উড়লে যে পথ অতিক্রম করে, সে পরিমাণ হবে। সে বলল, একটি আঙ্গুর কত বড় হবে? তিনি বললেন, তোমার পিতা কি কখনো বড় একটি ছাগল জবাই করেছে? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তারপর তার চামড়া খসিয়ে তোমার মাকে দিয়ে বলেছেন, এটা দিয়ে আমাদের জন্য একটা মশক বানিয়ে দাও? সে বলল, হ্যাঁ। রাসূল ﷺ বললেন, জান্নাতের একটি আঙ্গুর তোমার এবং তোমার পরিবারের সকলের জন্য যথেষ্ট হবে। বেদুঈন বলল, তাহলে তা আমার এবং আমার পুরো গোত্রের জন্য যথেষ্ট হবে? রাসূল ﷺ বললেন, হ্যাঁ। ১০০

ٹکا:
১০০. মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-১৭৬৮২; মুসনাদে শামেয়্যীন: হাদীস-১০২৫; হাদীসটি সহীহ [মুসনাদে আহমাদ, শামেয়্যীন ও মুস্তাদরাকে হাকেম-এর মুহাক্কিকগণ]।

আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন— طُوبَى لَهُمْ وَحُسْنُ مَآبٍ অর্থ: তাদের জন্য রয়েছে তুবা' এবং সুন্দর প্রত্যাবর্তনস্থান।

হযরত মুতআব ইবনে সামী রাহ. থেকে বর্ণিত। এই আয়াতের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, তুবা হলো, জান্নাতের একটি বৃক্ষের নাম। জান্নাতে এমন কোনো বাড়ি নেই যেখানে এই বৃক্ষের ডাল-পালার ছায়া পড়ে না। তাতে রয়েছে রকমারী ফল। তাতে বিশাল-বিশাল এক প্রকার পাখি থাকবে। কোনো জান্নাতবাসীর পাখিগুলো খেতে ইচ্ছে করলে তাকে ডাকবে। ফলে তা তার দস্তরখানে ভুনা হয়ে এসে যাবে। আর সে তার চাহিদা মোতাবেক খেয়ে নিবে। তার খাওয়ার পর পাখিটি আবার পাখি হয়ে তার স্থানে ফিরে যাবে。

টিকাঃ
১৩৫. সুরা আর রা'আদ: আয়াত-২৯

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 জান্নাতীদের সৌন্দর্য

📄 জান্নাতীদের সৌন্দর্য


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: إِنَّ فِي الْجَنَّةِ شَجَرَةً يَسِيرُ الرَّاكِبُ فِي ظِلِّهَا مِائَةَ سَنَةٍ لَا يَقْطَعُهَا، وَاقْرَءُوا إِنْ شِئْتُمْ: {وَظِلَّ مَمْدُودٍ} [الواقعة: ٣٠] وَلَقَابُ قَوْسِ أَحَدِكُمْ فِي الْجَنَّةِ خَيْرٌ مِمَّا طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ أَوْ تَغْرُبُ.

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, জান্নাতে একটি বৃক্ষ আছে, যার ছায়ায় সওয়ারী একশ বছর চললেও তা শেষ করতে পারবে না। তোমরা চাইলে কুরআনের এ আয়াতটি পড়ে দেখতে পার-
وَظِلٍّ مَّمْدُودٍ
অর্থ: আর সম্প্রসারিত ছায়া। ১০১
জান্নাতে তোমাদের কারো ধনুক রাখার স্থান দুনিয়ার সবকিছুর চেয়ে উত্তম। ১০২

عَنْ مُجَاهِدٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: {وَفُرُشٍ مَرْفُوعَةٍ} [الواقعة: ٣٤] قَالَ : ارْتِفَاعُهَا كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ، مَسِيرَةُ خَمْسِ مِائَةِ عَامٍ. وَفِي الْخَبَرِ أَنَّ لِلْمُؤْمِنِ فِي الْجَنَّةِ خَيْمَةً مِنْ لُؤْلُؤَةٍ وَاحِدَةٍ مُجَوَّفَةٍ، طُولُهَا سِتُّونَ مِيلًا فِي السَّمَاءِ، فِي كُلِّ زَاوِيَةٍ مِنْهَا أَهْلٌ لَهُ لَا يَرَاهُمُ الْآخَرُونَ.

হযরত মুজাহিদ রহ. আল্লাহ তা'আলার বাণী- وَفُرُشٍ مَّرْفُوعَةٍ অর্থ: এবং উঁচু শয্যা। ১০৩-এর ব্যাখ্যায় বলেন, তার উচ্চতা হবে আসমান ও জমিনের দূরত্বের সমান।
হাদীসে আছে, জান্নাতে মুমিনের জন্য একটি তাঁবু থাকবে, যার ভেতরটা ফাঁকা এবং তা একটি মুক্তা দিয়ে তৈরি। তার দৈর্ঘ্য হবে ষাট মাইল। তার প্রতিটি কোণায় তার জন্য পরিবার থাকবে। তারা একে অপরকে দেখতে পাবে না। ১০৪

টিকাঃ
১০১. সূরা ওয়াকিয়া: আয়াত-৩০
১০২. সহীহ বুখারী: হাদীস-৩২৫২; সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৮২৮।
১০৩. সূরা ওয়াকিয়া: আয়াত-৩৪
১০৪. সহীহ বুখারী: হাদীস-৪৮৭৯; সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৮৩৮।

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, আমার উম্মতের প্রথম যে দলটি জান্নাতে প্রবেশ করবে তারা হবে পূর্ণিমার চাঁদের মতো। তাদের পর যারা প্রবেশ করবে তারা হবে আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রের মত। এভাবে ক্রমাধারে। তাদের পেশাব পায়খানার প্রয়োজন হবে না। তাদের থুথু কফ থাকবে না। তাদের চিরুণীগুলো হবে স্বর্ণে ধুপদানী চন্দন কাঠের। তাদের ঘাম হবে মেশকের মত সুগন্ধযুক্ত। তাদের সবার স্বভাব-চরিত্র হবে এক ব্যক্তির মত অভিন্ন। তাদের উচ্চতা হবে আদি পিতা আদমের মত ষাট হাত।

হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, জান্নাতীরা চির যুবক থাকবে। তাদের দাড়ি-গোফ থাকবে না। মাথার চুল এবং চোখের ভ্রু ছাড়া তাদের শরীরে আর কোথাও লোম থাকবে না। তাদের উচ্চতা হবে আদমের মত ষাট হাত। তাদের বয়স হবে ঈসা ইবনে মারয়াম-এর মত তেত্রিশ। তারা হবে গৌর বর্ণের এবং সবুজ পোশাক পরিহিত। তাদের কেউ খাবারের দস্তরখানা বিছাবে। একটি পাখি এসে বলবে, হে আল্লাহর বন্ধু! আমি সালসাবিল ঝর্ণার পানি পান করেছি, আরশের নিচে জান্নাতের বাগ বাগিচায় ঘুরেছি, অমুক অমুক বৃক্ষের ফল খেয়েছি। সুতরাং আমাকে তোমরা খাও। এটার এক পাশের গোশত হবে পাকানো গোশতের মত, আর অপর পাশের গোশত হবে ভুনা গোশতের মত। বান্দার যতটুকু চাহিদা হবে, সেখান থেকে ভক্ষণ করবে। আল্লাহর বন্ধু ওই জান্নাতির গায়ে থাকবে সত্তর বর্ণের সত্তর জোড়া পোশাক।

টিকাঃ
১৩৬. সহীহ বুখারী: হাদীস-৩৩২৭; সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৮৩৪; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৫৩৭।

ফন্ট সাইজ
15px
17px