📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ > 📄 জুমআর দিনের ফযীলত

📄 জুমআর দিনের ফযীলত


عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: أَتَى جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمِرْآةٍ بَيْضَاءَ، فِيهَا نُكْتَةٌ سَوْدَاءُ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَا هَذَا يَا جِبْرِيلُ؟ قَالَ: هَذِهِ الْجُمُعَةُ يَعْرِضُهَا رَبُّكَ عَلَيْكَ لِتَكُونَ لَكَ عِيدًا وَلِقَوْمِكَ مِنْ بَعْدِكَ، قَالَ: وَمَا لَنَا فِيهَا؟ قَالَ: لَكُمْ فِيهَا خَيْرٌ كَثِيرٌ أَنْتُمْ فِيهَا الْأَوَّلُونَ، وَالْيَهُودُ وَالنَّصَارَى تَبَعٌ لَكُمْ، وَفِيهَا سَاعَةً لَا يُوَافِقُهَا عَبْدٌ مُؤْمِنٌ يَدْعُو اللَّهَ بِخَيْرِ هُوَ قَسْمُهُ إِلَّا أَعْطَاهُ إِيَّاهُ، أَوْ يَسْتَعِيذُ مِنْ شَرِّ هُوَ مَكْتُوبٌ عَلَيْهِ إِلَّا أَعَاذَهُ اللَّهُ مِنْ أَعْظَمَ مِنْهُ، وَهُوَ عِنْدَنَا سَيِّدُ الْأَيَّامِ، وَنَدْعُوهُ فِي الْآخِرَةِ يَوْمَ الْمَزِيدِ، قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: وَمَا يَوْمَ الْمَزِيدِ؟ قَالَ: إِنَّ رَبَّكَ عَزَّ وَجَلَّ اتَّخَذَ فِي الْجَنَّةِ وَادِيًا أَفْيَحَ مِنْ مِسْكِ أَبْيَضَ فَإِذَا كَانَ يَوْمُ الْجُمُعَةِ نَزَلَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى مِنْ عُرْشِهِ إِلَى كُرْسِيِّهِ، وَحُفَّ الْكُرْسِيُّ بِمَنَابِرَ مِنْ نُورٍ، وَجَاءَ النَّبِيُّونَ حَتَّى يَجْلِسُوا عَلَيْهَا، وَحُفَّ الْمَنَابِرُ بِكَرَاسِيَّ مِنْ ذَهَبٍ، وَجَاءَ الصِّدِّيقُونَ وَالشُّهَدَاءُ حَتَّى يَجْلِسُوا عَلَيْهَا، وَيَجِيءُ أَهْلُ الْغُرَفِ حَتَّى يَجْلِسُوا عَلَى الْكَثِيبِ، فَيَتَجَلَّى لَهُمْ رَبُّهُمْ عَزَّ وَجَلَّ حَتَّى يَنْظُرُوا إِلَى وَجْهِهِ الْكَرِيمِ، وَهُوَ يَقُولُ : أَنَا الَّذِي صَدَقْتُكُمْ وَعْدِي، وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي، وَهَذَا مَحَلُّ كَرَامَتِي، فَسَلُونِي. فَيَسْأَلُونَهُ الرِّضَا، فَيَقُولُ: رِضَائِي أَحَلَّكُمْ دَارِي، وَأَنَالَكُمْ كَرَامَتِي، فَيَسْأَلُونَهُ حَتَّى تَنْتَهِيَ رَغْبَةُ كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمْ، ثُمَّ يُفْتَحُ لَهُمْ مَا لَا عَيْنُ رَأَتْ، وَلَا أُذُنُ سَمِعَتْ، وَلَا خَطَرَ عَلَى قَلْبِ بَشَرٍ.

হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত। একদা হযরত জিবরাঈল আ. একটি সাদা আয়না নিয়ে রাসূল ﷺ এর নিকট আসলেন। আয়নায় একটি কালো ফোটা ছিল। রাসূল ﷺ জিজ্ঞেস করলেন, হে জিবরাঈল! এটা কী? তিনি বললেন, এটা জুমআর দিন। আপনার রব এটাকে আপনার সামনে পেশ করছেন। এটা আপনার ও আপনার উম্মতের জন্য উৎসবের দিন। রাসূল ﷺ বললেন, আমাদের জন্য এতে কী আছে? জিবরাঈল আ. বললেন, তোমাদের জন্য এতে অনেক কল্যাণ রয়েছে। তোমরা এ ব্যাপারে অগ্রগামী। ইহুদী-নাসারারা তোমাদের অনুসারী। এই দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, কোনো মুমিন বান্দা তখন তার জন্য কল্যাণকর কোনো কিছু প্রার্থনা করলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন। আর তার জন্য নির্ধারিত কোনো অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করলে আল্লাহ তাকে তা থেকে উত্তম বস্তু দান করেন। এ দিনটি আমাদের নিকট শ্রেষ্ঠ দিন। আমরা একে ইয়াওমুল মাযীদ বা অতিরিক্ত প্রাপ্তির দিন বলি। রাসূল ﷺ জিজ্ঞেস করলেন, ইয়াওমুল মাযীদ কী? তিনি বললেন, আপনার রব জান্নাতে সাদা মেশক আম্বরের এক প্রশস্ত উপত্যকা তৈরি করে রেখেছেন। জুমআর দিনে আল্লাহ তা'আলা আরশ থেকে কুরসিতে নেমে আসবেন। কুরসির চারপাশে নূরের মিম্বর থাকবে। নবীগণ এসে সেই মিম্বরে বসবেন। মিম্বরের চারপাশে থাকবে স্বর্ণের চেয়ার। সিদ্দীক ও শহীদগণ এসে সেখানে বসবেন। অন্যান্য জান্নাতীগণ এসে টিলার উপর বসবে। আল্লাহ তা'আলা তাদের সামনে নিজেকে প্রকাশ করবেন। তারা তাঁর চেহারার দিকে তাকিয়ে থাকবে। তিনি বলবেন, আমি তোমাদেরকে দেওয়া ওয়াদা পূরণ করেছি। তোমাদেরকে আমার নিয়ামত দান করেছি, আর এ স্থানটি আমার সম্মানের স্থান। তোমরা আমার নিকট চাও। তারা তাঁর নিকট তাঁর সন্তুষ্টি চাইবে। আল্লাহ বলবেন, আমার সন্তুষ্টিই তো তোমাদেরকে এই জান্নাতে প্রবেশ করিয়েছে। তারা তাদের প্রয়োজনমত চাইতেই থাকবে। তারপর তাদের জন্য এমন সব নিয়ামত উন্মুক্ত করা হবে, যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শুনেনি এবং কোনো মানুষ কল্পনাও করেনি। ৯৬

টিকাঃ
৯৬. তাফসীরে ত্ববারী: ২৪/৪৬; তাফসীরে ইবনে কাসীর: ৭/৪২৭; আল্লামা শওকানী বলেন, এই হাদীসের রাবীগণ সকলেই বিশ্বস্ত [ফতহুল কাদীর: ৫/২৩৩]।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ > 📄 জান্নাতবাসীদের বয়স ও দৈহিক গঠন

📄 জান্নাতবাসীদের বয়স ও দৈহিক গঠন


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : أَهْلُ الْجَنَّةِ جُرْدٌ مُرْدٌ كُحْلٌ لَا تَبْلَى ثِيَابُهُمْ، وَلَا يَفْنَى شَبَابُهُمْ.

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, জান্নাতীগণ লোমহীন, শ্মশ্রুবিহীন ও সুরমাযুক্ত হবে। তাদের পোশাক কখনো পুরোনো হবে না এবং তাদের যৌবনও কখনো শেষ হবে না। ৯৭

عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: يَدْخُلُ أَهْلُ الْجَنَّةِ الْجَنَّةَ جُرْدًا مُرْدًا مُكَحَّلِينَ أَبْنَاءَ ثَلَاثِينَ أَوْ ثَلَاثٍ وَثَلَاثِينَ سَنَةً.

মুআয ইবনে জাবাল রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, জান্নাতবাসীগণ লোমহীন, শ্মশ্রুবিহীন ও সুরমাযুক্ত অবস্থায় জান্নাতে প্রবেশ করবে। তখন তাদের বয়স হবে ত্রিশ বা তেত্রিশ বছর। ৯৮

ٹکا:
৯৭. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৫৩৯; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-৭৯৫১; হাদীসটি সহীহ।
৯৮. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৫৪৫; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-৭৯৩৩; ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান গরীব বলেছেন।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ > 📄 জান্নাতবাসীদের খাবার ও তার হজমপ্রক্রিয়া

📄 জান্নাতবাসীদের খাবার ও তার হজমপ্রক্রিয়া


عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: يَأْكُلُ أَهْلُ الْجَنَّةِ وَيَشْرَبُونَ، وَلَا يَبُولُونَ وَلَا يَتَغَوَّطُونَ وَلَا يَتَفِلُونَ وَلَا يَمْتَخِطُونَ، إِنَّمَا هُوَ جُشَاءٌ وَرَشْحٌ كَرَشْحِ الْمِسْكِ.

হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, জান্নাতবাসীগণ পানাহার করবে কিন্তু পেশাব-পায়খানা, থুতু ও কফ ফেলবে না। বরং ঢেকুর এবং মেশকের মতো সুগন্ধিযুক্ত ঘামের মাধ্যমে তাদের খাবার হজম হবে। ৯৯

ٹکا:
৯৯. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৮৩৫; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-১২৫০৬।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ > 📄 জান্নাতের তুবা' বৃক্ষ

📄 জান্নাতের তুবা' বৃক্ষ


عَنْ عُتْبَةَ بْنِ عَبْدِ السُّلَمِيُّ، أَنَّ أَعْرَابِيًّا قَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ أَفِي الْجَنَّةِ فَاكِهَةٌ؟ قَالَ: نَعَمْ. وَفِيهَا شَجَرَةٌ تُدْعَى طُوبَى، فَهِيَ تُطَابِقُ الْفِرْدَوْسَ. قَالَ: فَأَيُّ شَجَرِ أَرْضِنَا تُشْبِهُ؟ قَالَ : لَيْسَتْ تُشْبِهُ شَيْئًا مِنْ شَجَرِ أَرْضِكَ، وَلَكِنْ هَلْ أَتَيْتَ الشَّامَ؟ قَالَ : لَا. قَالَ: فَإِنَّهَا تُشْبِهُ شَجَرَةً بِالشَّامِ تُدْعَى الْجَوْزَةَ تَنْبُتُ عَلَى سَاقٍ وَاحِدٍ، ثُمَّ يَنْتَشِرُ أَعْلَاهَا، قَالَ : فَمَا عِظَمُ أَصْلِهَا؟ قَالَ: لَوِ ارْتَحَلَتْ جَذَعَةٌ مِنْ إِبِلِ أَهْلِكَ لَمْ تُحِطْ بِأَصْلِهَا حَتَّى يَنْكَسِرَ تَرْقُوَتُهَا هَرَمًا، قَالَ: فِيهَا عِنَبٌ؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: مَا عِظَمُ الْعُنْقُودِ؟ قَالَ : مَسِيرَةُ غُرَابٍ لَا يَقَعُ شَهْرًا. قَالَ: فَمَا عِظَمُ الْحَبَّةِ؟ قَالَ : هَلْ ذَبَحَ أَبُوكَ تَيْسًا مِنْ غَنَمِهِ عَظِيمًا؟ قَالَ : نَعَمْ. قَالَ: فَسَلَخَ إِهَابَهُ، فَأَعْطَاهُ أُمَّكَ فَقَالَ: اتَّخِذِي لَنَا مِنْهُ دَلْوًا؟ قَالَ: نَعَمْ. قَالَ الْأَعْرَابِيُّ: فَإِنَّ تِلْكَ الْحَبَّةَ تُشْبِعُنِي وَأَهْلَ بَيْتِي. فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: وَعَامَّةَ عَشِيرَتِكَ.

উতবা ইবনে আব্দুস সালামা রাযি. থেকে বর্ণিত। একদা এক বেদুঈন রাসূল ﷺ কে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! জান্নাতে কি ফল থাকবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তাতে একটি গাছ থাকবে যার নাম তূবা, যা ফেরদৌসের সাথে মিলে থাকবে। সে জিজ্ঞেস করল, দুনিয়ার কোন গাছের সাথে তার সাদৃশ্য আছে? রাসূল ﷺ বললেন, দুনিয়ার কোনো গাছের সাথে তার সাদৃশ্য নেই। তুমি কি কখনো শাম (সিরিয়া) গিয়েছ? সে বলল, না। রাসূল ﷺ বললেন, শামে ‘জাওযা’ নামক একটি গাছ আছে, তার সাথে তার কিছুটা মিল আছে। এটি এক কান্ডের উপর জন্মায়, তারপর তার শাখা-প্রশাখা ছড়িয়ে যায়। সে জিজ্ঞেস করল, তার গোড়া কতটুকু মোটা? তিনি বললেন, যদি তুমি তোমার উটনির বাচ্চা নিয়ে এর গোড়ার চারদিকে ঘুরতে থাক, তাহলে বাচ্চা বুড়ো হয়ে মারা গেলেও তার চারপাশ ঘুরে শেষ করতে পারবে না। সে জিজ্ঞেস করল, তাতে কি আঙ্গুর ধরবে? রাসূল ﷺ বললেন, হ্যাঁ। সে বলল, আঙ্গুরের থোকা কত বড় হবে? তিনি বললেন, একটি কাক একমাস পর্যন্ত উড়লে যে পথ অতিক্রম করে, সে পরিমাণ হবে। সে বলল, একটি আঙ্গুর কত বড় হবে? তিনি বললেন, তোমার পিতা কি কখনো বড় একটি ছাগল জবাই করেছে? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তারপর তার চামড়া খসিয়ে তোমার মাকে দিয়ে বলেছেন, এটা দিয়ে আমাদের জন্য একটা মশক বানিয়ে দাও? সে বলল, হ্যাঁ। রাসূল ﷺ বললেন, জান্নাতের একটি আঙ্গুর তোমার এবং তোমার পরিবারের সকলের জন্য যথেষ্ট হবে। বেদুঈন বলল, তাহলে তা আমার এবং আমার পুরো গোত্রের জন্য যথেষ্ট হবে? রাসূল ﷺ বললেন, হ্যাঁ। ১০০

ٹکا:
১০০. মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-১৭৬৮২; মুসনাদে শামেয়্যীন: হাদীস-১০২৫; হাদীসটি সহীহ [মুসনাদে আহমাদ, শামেয়্যীন ও মুস্তাদরাকে হাকেম-এর মুহাক্কিকগণ]।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00