📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 জান্নাতবাসীদের রূপ ও সৌন্দর্য

📄 জান্নাতবাসীদের রূপ ও সৌন্দর্য


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: أَوَّلُ زُمْرَةٍ تَدْخُلُ الْجَنَّةَ عَلَى صُورَةِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ، وَالَّذِينَ يَلُونَهُمْ عَلَى أَشَدِّ كَوْكَبٍ دُرِّيَّ فِي السَّمَاءِ إِضَاءَةً، قُلُوبُهُمْ عَلَى قَلْبِ رَجُلٍ وَاحِدٍ، لَا اخْتِلَافَ بَيْنَهُمْ، وَلَا تَبَاغُضَ.

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেন, সর্বপ্রথম যারা জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের চেহারা হবে পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল। তারপর যারা প্রবেশ করবে তারা হবে আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল তারকার ন্যায়। তাদের সবার অন্তর হবে এক ব্যক্তির অন্তরের ন্যায়। তাদের মাঝে কোনো মতভেদ থাকবে না এবং কোনো হিংসা-বিদ্বেষ থাকবে না।৯৩

টিকাঃ
৯৩. সহীহ বুখারী: হাদীস-৩২৪৫; সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৮৩৪।

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত— তিনি বলেন, যে মহান সত্তা মুহাম্মাদ ﷺ-এর উপর কিতাব নাযিল করেছেন, তার শপথ! দুনিয়াতে যেমন মানুষের বার্ধক্য বৃদ্ধি হয়ে থাকে, জান্নাতে তেমনি তাদের রূপ ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি হতে থাকবে।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 আল্লাহ তা'আলার দর্শন লাভ

📄 আল্লাহ তা'আলার দর্শন লাভ


عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ : خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْلَةَ الْبَدْرِ وَهُوَ يَنْظُرُ إِلَى الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ، فَقَالَ: إِنَّكُمْ سَتَرَوْنَ رَبَّكُمْ عَزَّ وَجَلَّ، كَمَا تَرَوْنَ هَذَا الْقَمَرَ لَا تَضَامُونَ فِي رُؤْيَتِهِ، فَإِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ لَا تُغْلَبُوا عَلَى صَلَاةٍ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ، وَصَلَاةٍ قَبْلَ غُرُوبِهَا، فَافْعَلُوا ثُمَّ قَرَأَ: وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا (طه : ۱۳۰)

হযরত জারির ইবনে আব্দুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূল ﷺ পূর্ণিমার রাতে আমাদের নিকট এসে চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেন, তোমরা অতিশীঘ্রই তোমাদের রবকে এমন স্পষ্ট করে দেখবে যেমনটি স্পষ্ট করে এই চাঁদ দেখছো। তাঁকে দেখতে তোমাদের কোনো ভিড় করতে হবে না। সুতরাং সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পূর্বে নামায আদায়ে সচেষ্ট থেকো। তারপর তিনি কুরআনের এই আয়াত পাঠ করলেন-
وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا
অর্থ: আর আপনি আপনার রবের প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করুন সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পূর্বে। ৯৪ ৯৫

টিকাঃ
৯৪. সূরা ত্বাহা : আয়াত-১৩০
৯৫. সহীহ বুখারী: হাদীস-৫৫৪; সহীহ মুসলিম: হাদীস-৬৩৩।

হযরত সুহাইব রাযি. থেকে বর্ণিত রাসূল ইরশাদ করেন, সমস্ত জান্নাতবাসীর জান্নাতে এবং জাহান্নামবাসীদের জাহান্নামে যাওয়ার পর একজন ঘোষক ঘোষণা করবে, হে জান্নাতবাসীগণ! তোমাদেরকে দেওয়া আল্লাহর একটি প্রতিশ্রুতি রয়ে গেছে, যা তিনি পূরণ করতে চান। তারা বলবে, আর কী প্রতিশ্রুতি? তিনি কি আমাদের আমলের পাল্লা ভারি করে দেননি এবং আমাদেরকে জাহান্নাম থেকে রেহাই দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করাননি? রাসূল বলেন, তখন পর্দা সরিয়ে দেওয়া হবে এবং জান্নাতবাসীগণ তার দিদার লাভ করবে। যার হাতে আমার জীবন, সে মহান সত্তার শপথ! যিনি তাদেরকে যা কিছু দান করেছেন তার সব কিছু থেকে আল্লাহর দিদারই হবে সবচেয়ে প্রিয়।

টিকাঃ
১৩০. সহীহ মুসলিম: হাদীস-১৮১; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৫৫২।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 জুমআর দিনের ফযীলত

📄 জুমআর দিনের ফযীলত


عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: أَتَى جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمِرْآةٍ بَيْضَاءَ، فِيهَا نُكْتَةٌ سَوْدَاءُ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَا هَذَا يَا جِبْرِيلُ؟ قَالَ: هَذِهِ الْجُمُعَةُ يَعْرِضُهَا رَبُّكَ عَلَيْكَ لِتَكُونَ لَكَ عِيدًا وَلِقَوْمِكَ مِنْ بَعْدِكَ، قَالَ: وَمَا لَنَا فِيهَا؟ قَالَ: لَكُمْ فِيهَا خَيْرٌ كَثِيرٌ أَنْتُمْ فِيهَا الْأَوَّلُونَ، وَالْيَهُودُ وَالنَّصَارَى تَبَعٌ لَكُمْ، وَفِيهَا سَاعَةً لَا يُوَافِقُهَا عَبْدٌ مُؤْمِنٌ يَدْعُو اللَّهَ بِخَيْرِ هُوَ قَسْمُهُ إِلَّا أَعْطَاهُ إِيَّاهُ، أَوْ يَسْتَعِيذُ مِنْ شَرِّ هُوَ مَكْتُوبٌ عَلَيْهِ إِلَّا أَعَاذَهُ اللَّهُ مِنْ أَعْظَمَ مِنْهُ، وَهُوَ عِنْدَنَا سَيِّدُ الْأَيَّامِ، وَنَدْعُوهُ فِي الْآخِرَةِ يَوْمَ الْمَزِيدِ، قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: وَمَا يَوْمَ الْمَزِيدِ؟ قَالَ: إِنَّ رَبَّكَ عَزَّ وَجَلَّ اتَّخَذَ فِي الْجَنَّةِ وَادِيًا أَفْيَحَ مِنْ مِسْكِ أَبْيَضَ فَإِذَا كَانَ يَوْمُ الْجُمُعَةِ نَزَلَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى مِنْ عُرْشِهِ إِلَى كُرْسِيِّهِ، وَحُفَّ الْكُرْسِيُّ بِمَنَابِرَ مِنْ نُورٍ، وَجَاءَ النَّبِيُّونَ حَتَّى يَجْلِسُوا عَلَيْهَا، وَحُفَّ الْمَنَابِرُ بِكَرَاسِيَّ مِنْ ذَهَبٍ، وَجَاءَ الصِّدِّيقُونَ وَالشُّهَدَاءُ حَتَّى يَجْلِسُوا عَلَيْهَا، وَيَجِيءُ أَهْلُ الْغُرَفِ حَتَّى يَجْلِسُوا عَلَى الْكَثِيبِ، فَيَتَجَلَّى لَهُمْ رَبُّهُمْ عَزَّ وَجَلَّ حَتَّى يَنْظُرُوا إِلَى وَجْهِهِ الْكَرِيمِ، وَهُوَ يَقُولُ : أَنَا الَّذِي صَدَقْتُكُمْ وَعْدِي، وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي، وَهَذَا مَحَلُّ كَرَامَتِي، فَسَلُونِي. فَيَسْأَلُونَهُ الرِّضَا، فَيَقُولُ: رِضَائِي أَحَلَّكُمْ دَارِي، وَأَنَالَكُمْ كَرَامَتِي، فَيَسْأَلُونَهُ حَتَّى تَنْتَهِيَ رَغْبَةُ كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمْ، ثُمَّ يُفْتَحُ لَهُمْ مَا لَا عَيْنُ رَأَتْ، وَلَا أُذُنُ سَمِعَتْ، وَلَا خَطَرَ عَلَى قَلْبِ بَشَرٍ.

হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত। একদা হযরত জিবরাঈল আ. একটি সাদা আয়না নিয়ে রাসূল ﷺ এর নিকট আসলেন। আয়নায় একটি কালো ফোটা ছিল। রাসূল ﷺ জিজ্ঞেস করলেন, হে জিবরাঈল! এটা কী? তিনি বললেন, এটা জুমআর দিন। আপনার রব এটাকে আপনার সামনে পেশ করছেন। এটা আপনার ও আপনার উম্মতের জন্য উৎসবের দিন। রাসূল ﷺ বললেন, আমাদের জন্য এতে কী আছে? জিবরাঈল আ. বললেন, তোমাদের জন্য এতে অনেক কল্যাণ রয়েছে। তোমরা এ ব্যাপারে অগ্রগামী। ইহুদী-নাসারারা তোমাদের অনুসারী। এই দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, কোনো মুমিন বান্দা তখন তার জন্য কল্যাণকর কোনো কিছু প্রার্থনা করলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন। আর তার জন্য নির্ধারিত কোনো অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করলে আল্লাহ তাকে তা থেকে উত্তম বস্তু দান করেন। এ দিনটি আমাদের নিকট শ্রেষ্ঠ দিন। আমরা একে ইয়াওমুল মাযীদ বা অতিরিক্ত প্রাপ্তির দিন বলি। রাসূল ﷺ জিজ্ঞেস করলেন, ইয়াওমুল মাযীদ কী? তিনি বললেন, আপনার রব জান্নাতে সাদা মেশক আম্বরের এক প্রশস্ত উপত্যকা তৈরি করে রেখেছেন। জুমআর দিনে আল্লাহ তা'আলা আরশ থেকে কুরসিতে নেমে আসবেন। কুরসির চারপাশে নূরের মিম্বর থাকবে। নবীগণ এসে সেই মিম্বরে বসবেন। মিম্বরের চারপাশে থাকবে স্বর্ণের চেয়ার। সিদ্দীক ও শহীদগণ এসে সেখানে বসবেন। অন্যান্য জান্নাতীগণ এসে টিলার উপর বসবে। আল্লাহ তা'আলা তাদের সামনে নিজেকে প্রকাশ করবেন। তারা তাঁর চেহারার দিকে তাকিয়ে থাকবে। তিনি বলবেন, আমি তোমাদেরকে দেওয়া ওয়াদা পূরণ করেছি। তোমাদেরকে আমার নিয়ামত দান করেছি, আর এ স্থানটি আমার সম্মানের স্থান। তোমরা আমার নিকট চাও। তারা তাঁর নিকট তাঁর সন্তুষ্টি চাইবে। আল্লাহ বলবেন, আমার সন্তুষ্টিই তো তোমাদেরকে এই জান্নাতে প্রবেশ করিয়েছে। তারা তাদের প্রয়োজনমত চাইতেই থাকবে। তারপর তাদের জন্য এমন সব নিয়ামত উন্মুক্ত করা হবে, যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শুনেনি এবং কোনো মানুষ কল্পনাও করেনি। ৯৬

টিকাঃ
৯৬. তাফসীরে ত্ববারী: ২৪/৪৬; তাফসীরে ইবনে কাসীর: ৭/৪২৭; আল্লামা শওকানী বলেন, এই হাদীসের রাবীগণ সকলেই বিশ্বস্ত [ফতহুল কাদীর: ৫/২৩৩]।

হযরত আনাস ইবনে মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত। একদা হযরত জিবরাঈল আ. নবী কারীম ﷺ-এর নিকট সাদা আয়না নিয়ে আসলেন, যাতে একটি কালো বিন্দু ছিলো। রাসূল বললেন, হে জিবরাঈল! এই সাদা আয়না এটি কী? তিনি বললেন, এটি জুমআর দিন। কালো বিন্দুটি হলো, জুমআর দিনের একটি মুহূর্ত, যাতে জুমআ কায়েম করা হয়। এর মাধ্যমে আপনাকে ও আপনার উম্মতকে পূর্ববর্তী জাতিদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করা হয়েছে। অন্যান্য জাতি অর্থাৎ, ইহুদী-নাসারা আপনাদের থেকে পিছিয়ে। এই দিনে বিশেষ একটি মুহূর্ত আছে, যাতে কোনো মুমিন আল্লাহর নিকট কোনো দোয়া করলে, আল্লাহ তা'আলা অবশ্যই কবুল করবেন। সে যদি কোনো অনিষ্ট থেকে তার আশ্রয় চায়, তাহলে তিনি অবশ্যই তাকে আশ্রয় দিবেন। আমরা এই দিনটিকে আমরা ইয়াওমুল মাযিদ (আধিক্যের দিন) বলি। রাসূল জিজ্ঞেস করলেন, ইয়াওমুল মাযিদ আবার কী? তিনি বললেন, আপনার রব জান্নাতুল ফিরদাউসে একটি উপত্যকা বানিয়েছেন। তাতে মেশকের একটি টিলা আছে। জুমআর দিন সে টিলাটির উপর নূরের মিম্বার পাতা হয়, যার উপর থাকেন নবীগণ। সেখানে আরো থাকে ইয়াকুত ও যাবারযাদ পাথর খচিত কিছু মিনার, যার উপর থাকেন সিদ্দিক, শহীদ এবং নেককারগণ।

জান্নাতের অন্যান্য অধিবাসীও নেমে এসে তাদের পিছনে বসেন। অতঃপর তারা সবাই মিলে তাদের রবের দিকে মনোযোগী হবেন এবং প্রশংসার গান গাইতে থাকবেন। তখন আল্লাহ তা'আলা বলেন, তোমরা আমার নিকট প্রার্থনা কর। তারা বলেন, আমরা আপনার সন্তুষ্টি চাই। আল্লাহ বলেন, আমি তোমাদের উপর সন্তুষ্ট এবং আমার সন্তুষ্টির কারণেই তোমরা আমার বাড়িতে আসতে পেরেছ ও আমার নেয়ামত লাভ করতে সক্ষম হয়েছ। এরপর তিনি তাদের সামনে আত্মপ্রকাশ করলে তারা তার দিদার লাভ করবেন। তাই জুমআর দিন হলো জান্নাতবাসীদের সবচেয়ে প্রিয় দিন। কারণ, এই দিনে তাদের সম্মান আরও বেড়ে যাবে।

অন্য বর্ণনায় এসেছে, আল্লাহ তার ফেরেশতাদেরকে বলবেন— আমার বন্ধুদের আহার দান কর। তখন তাদের সামনে বিভিন্ন প্রকারের খাবার পরিবেশন করা হবে। খাবারের প্রতিটি গ্রাসে তারা নতুন অভূতপূর্ব স্বাদ আস্বাদন করবে। খাবার পর্ব শেষ হলে, আল্লাহ তা'আলা আদেশ করবেন, আমার বান্দাদের পান করাও। তখন তাদের সামনে নানান প্রকার পানপাত্র পরিবেশন করা হবে। প্রতিটি চুমুকে তারা অভূতপূর্ব স্বাদ আস্বাদন করবেন। পানাহার শেষে আল্লাহ বলবেন, আমি তোমাদের প্রভু এবং তোমাদেরকে দেওয়া আমার প্রতিশ্রুতি আমিই পূর্ণ করেছি। এখন আমার কাছে তোমাদের যা ইচ্ছা চাও, আমি তোমাদেরকে দান করব। তারা বলবেন, হে আমাদের রব! আমরা আপনার সন্তুষ্টি কামনা করি। এরূপ দুই কি তিন বার বলার পর আল্লাহ বলবেন, আমি তোমাদের উপর সন্তুষ্ট। তবে আমি তোমাদেরকে আরও কিছু দিতে চাই। আজ আমি এমন এক সম্মানে তোমাদেরকে ভূষিত করব, যা এসব চেয়ে অধিক মহান।

এই বলে তিনি পর্দা সরিয়ে দিবেন এবং তারা আল্লাহ তা'আলার দর্শন লাভ করবে। কিছুক্ষণ তারা এভাবে তাকিয়ে থেকে সেজদায় লুটিয়ে পড়বে। অনেক্ষণ সেজদায় থাকার পর আল্লাহ বলবেন, তোমাদের মাথা উঠাও, এটা ইবাদতের স্থান নয়। এই ঘটনার পর তারা জান্নাতের সমস্ত নেয়ামতের কথা ভুলে যাবে। সমস্ত নেয়ামতের তুলনায় আল্লাহর দিদারই তাদের নিকট সবচেয়ে প্রিয় হয়ে উঠবে। তারপর যখন তারা জান্নাতে ফিরে যেতে থাকবে তখন আরশের নিচ থেকে একটি বাতাস মেশকের টিলার উপর দিয়ে তাদের মাথা ও তাদের ঘোড়ার কপালের উপর দিয়ে বয়ে যাবে। এতে তারা তাদের পরিবারের নিকট ফিরে এসে দেখবে তাদের স্ত্রীরা আগের চেয়ে অনেক সুন্দরী হয়ে গেছে। তাদের স্ত্রীরাও তাদেরকে বলবে, তোমরা তো আগের চেয়ে অনেক সুন্দর হয়ে গেছ।

ফকীহ রহ. বলেন, পর্দা সরিয়ে দেওয়ার অর্থ হলো, মানুষের চোখের উপর থাকা যে আবরণের কারণে তারা আল্লাহকে দেখতে পারে না, আল্লাহ তা সরিয়ে দিবেন। আর বান্দা আল্লাহর দর্শন লাভ করার অর্থ হলো, তারা আল্লাহর কারামাত দেখতে পাওয়া। তবে অধিকাংশ আলেমের মতে কথাটিকে শাব্দিক অর্থেই গ্রহণ করা হয়। অর্থাৎ বান্দা সরাসরি আল্লাহর দর্শন লাভ করবে। তবে এর ধরন আমাদের পার্থিব দর্শনের মত হবে না。

টিকাঃ
১৩১. তবারানী: ৭/১৫; আল্লামা মুনযিরী ও শায়েখ আলবানী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন (তারগীব ওয়াত তারহীব: হাদীস-১২৯)।
১৩২. এই বর্ণনাটি আমরা পাইনি। তবে এক্ষেত্রে সুহাইবের বর্ণনাটিই যথেষ্ট।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 জান্নাতবাসীদের বয়স ও দৈহিক গঠন

📄 জান্নাতবাসীদের বয়স ও দৈহিক গঠন


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : أَهْلُ الْجَنَّةِ جُرْدٌ مُرْدٌ كُحْلٌ لَا تَبْلَى ثِيَابُهُمْ، وَلَا يَفْنَى شَبَابُهُمْ.

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, জান্নাতীগণ লোমহীন, শ্মশ্রুবিহীন ও সুরমাযুক্ত হবে। তাদের পোশাক কখনো পুরোনো হবে না এবং তাদের যৌবনও কখনো শেষ হবে না। ৯৭

عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: يَدْخُلُ أَهْلُ الْجَنَّةِ الْجَنَّةَ جُرْدًا مُرْدًا مُكَحَّلِينَ أَبْنَاءَ ثَلَاثِينَ أَوْ ثَلَاثٍ وَثَلَاثِينَ سَنَةً.

মুআয ইবনে জাবাল রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, জান্নাতবাসীগণ লোমহীন, শ্মশ্রুবিহীন ও সুরমাযুক্ত অবস্থায় জান্নাতে প্রবেশ করবে। তখন তাদের বয়স হবে ত্রিশ বা তেত্রিশ বছর। ৯৮

ٹکا:
৯৭. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৫৩৯; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-৭৯৫১; হাদীসটি সহীহ।
৯৮. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৫৪৫; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-৭৯৩৩; ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান গরীব বলেছেন।

হযরত ইকরিমা রা বলেন, 'আহলুল জান্নাতি কাআমছালি আওলাদি ছালাছিন ওয়া ছালাছিনা ছানাতান, রিজালুহুম ওয়া নিসাউহুম ওয়াল ক্বামাতু সিত্তুনা যিরাআন, আলা ক্বামাতি আবিহিম আদামা আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামু, শাবাবুন জুরদুন মুরদুন মুকাহহালুনা, আলাইহিম সাবউনা হুল্লাতান তাতালাউয়ানু কূল্লু হুল্লাতিন ফী কূল্লি সাআতিন সাবউনা লাওনান, ফায়ারা ওয়াজহাহু ফী ওয়াজহিহা, ইয়ানি ফী ওয়াজহি যাওজাতিহি ওয়া ফী সাদরিহা ওয়া ফী সাক্বিহা ওয়া তারা হিয়া ওয়াজহাহা ফী ওয়াজহিহি ওয়া সাদরিহি ওয়া সাক্বিহি, লা ইয়াবযুক্বুনা ওয়া লা ইয়াতামাকখাত্বুনা ওয়া মা কানা ফাওক্বা যালিকা মিনাল আযা ফাহুয়া আবয়াদু।'

জান্নাতী নারী-পুরুষ সবার বয়স হবে তেত্রিশ বছর। তাদের উচ্চতা হবে তাদের আদি পিতা আদমের মত ষাট হাত। তাদের যৌবন শেষ হবে না, কোনো প্রকারের লোম থাকবে না। তাদের চোখ হবে সুরমা মিশ্রিত। তাদের গায়ে থাকবে সত্তর জোড়া গহনা। সত্তর জোড়া অলংকার রং বেরং হবে। তারা তাদের স্ত্রীদের মুখে, বুকে ও পায়ের গোছায় নিজেদের চেহারা দেখতে পাবেন। তাদের স্ত্রীরাও তাদের মুখে, বুকে ও পায়ের গোছায় নিজেদের চেহারা দেখতে পাবেন তাদের থুতু কফ ইত্যাদি হবে না। এছাড়া মানুষের শরীরে অন্য যে সব ময়লা ও নাপাকি থাকে তা থেকে তারা সম্পূর্ণ পবিত্র হবে।

অন্য বর্ণনায় আছে— জান্নাতের কোনো হুর যদি তার এক হাত আকাশ থেকে বের করে দেয়, তাহলে আসমান-জমিন ও তার মাঝের সমস্ত কিছু আলোকিত হয়ে যাবে।

টিকাঃ
১৩৩. সুনানে তিরমিযী : হাদীস-২৫৩৮; মুসনাদে আহমদ : হাদীস-১৪৪৯; হাদীসটি সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রাযি. হতে সহীহ সনদে বর্ণিত হয়েছে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px