📄 জান্নাতের যমীন
عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُئِلَ عَنْ أَرْضِ الْجَنَّةِ قَالَ: أَرْضُهَا مَرْمَرَةٌ بَيْضَاءُ دُرْمُكَةٌ، وَفِي رِوَايَةٍ أُخْرَى: مِسْكٌ أَذْفَرُ.
হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত। একদা রাসূল ﷺ কে জান্নাতের যমীন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, জান্নাতের যমীন হবে দুধের মতো সাদা ও উজ্জ্বল। অপর এক বর্ণনায় আছে, মেশকের মতো সুগন্ধিযুক্ত। ৯২
টিকাঃ
৯২. মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-১২৭২৮; মুসনাদে আবী ইয়ালা: হাদীস-৩৬০৬; মুস্তাদরাকে হাকেম: হাদীস-৩৬৪৭।
📄 জান্নাতবাসীদের রূপ ও সৌন্দর্য
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: أَوَّلُ زُمْرَةٍ تَدْخُلُ الْجَنَّةَ عَلَى صُورَةِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ، وَالَّذِينَ يَلُونَهُمْ عَلَى أَشَدِّ كَوْكَبٍ دُرِّيَّ فِي السَّمَاءِ إِضَاءَةً، قُلُوبُهُمْ عَلَى قَلْبِ رَجُلٍ وَاحِدٍ، لَا اخْتِلَافَ بَيْنَهُمْ، وَلَا تَبَاغُضَ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেন, সর্বপ্রথম যারা জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের চেহারা হবে পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল। তারপর যারা প্রবেশ করবে তারা হবে আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল তারকার ন্যায়। তাদের সবার অন্তর হবে এক ব্যক্তির অন্তরের ন্যায়। তাদের মাঝে কোনো মতভেদ থাকবে না এবং কোনো হিংসা-বিদ্বেষ থাকবে না।৯৩
টিকাঃ
৯৩. সহীহ বুখারী: হাদীস-৩২৪৫; সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৮৩৪।
📄 আল্লাহ তা'আলার দর্শন লাভ
عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ : خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْلَةَ الْبَدْرِ وَهُوَ يَنْظُرُ إِلَى الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ، فَقَالَ: إِنَّكُمْ سَتَرَوْنَ رَبَّكُمْ عَزَّ وَجَلَّ، كَمَا تَرَوْنَ هَذَا الْقَمَرَ لَا تَضَامُونَ فِي رُؤْيَتِهِ، فَإِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ لَا تُغْلَبُوا عَلَى صَلَاةٍ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ، وَصَلَاةٍ قَبْلَ غُرُوبِهَا، فَافْعَلُوا ثُمَّ قَرَأَ: وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا (طه : ۱۳۰)
হযরত জারির ইবনে আব্দুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূল ﷺ পূর্ণিমার রাতে আমাদের নিকট এসে চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেন, তোমরা অতিশীঘ্রই তোমাদের রবকে এমন স্পষ্ট করে দেখবে যেমনটি স্পষ্ট করে এই চাঁদ দেখছো। তাঁকে দেখতে তোমাদের কোনো ভিড় করতে হবে না। সুতরাং সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পূর্বে নামায আদায়ে সচেষ্ট থেকো। তারপর তিনি কুরআনের এই আয়াত পাঠ করলেন-
وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا
অর্থ: আর আপনি আপনার রবের প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করুন সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পূর্বে। ৯৪ ৯৫
টিকাঃ
৯৪. সূরা ত্বাহা : আয়াত-১৩০
৯৫. সহীহ বুখারী: হাদীস-৫৫৪; সহীহ মুসলিম: হাদীস-৬৩৩।
📄 জুমআর দিনের ফযীলত
عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: أَتَى جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمِرْآةٍ بَيْضَاءَ، فِيهَا نُكْتَةٌ سَوْدَاءُ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَا هَذَا يَا جِبْرِيلُ؟ قَالَ: هَذِهِ الْجُمُعَةُ يَعْرِضُهَا رَبُّكَ عَلَيْكَ لِتَكُونَ لَكَ عِيدًا وَلِقَوْمِكَ مِنْ بَعْدِكَ، قَالَ: وَمَا لَنَا فِيهَا؟ قَالَ: لَكُمْ فِيهَا خَيْرٌ كَثِيرٌ أَنْتُمْ فِيهَا الْأَوَّلُونَ، وَالْيَهُودُ وَالنَّصَارَى تَبَعٌ لَكُمْ، وَفِيهَا سَاعَةً لَا يُوَافِقُهَا عَبْدٌ مُؤْمِنٌ يَدْعُو اللَّهَ بِخَيْرِ هُوَ قَسْمُهُ إِلَّا أَعْطَاهُ إِيَّاهُ، أَوْ يَسْتَعِيذُ مِنْ شَرِّ هُوَ مَكْتُوبٌ عَلَيْهِ إِلَّا أَعَاذَهُ اللَّهُ مِنْ أَعْظَمَ مِنْهُ، وَهُوَ عِنْدَنَا سَيِّدُ الْأَيَّامِ، وَنَدْعُوهُ فِي الْآخِرَةِ يَوْمَ الْمَزِيدِ، قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: وَمَا يَوْمَ الْمَزِيدِ؟ قَالَ: إِنَّ رَبَّكَ عَزَّ وَجَلَّ اتَّخَذَ فِي الْجَنَّةِ وَادِيًا أَفْيَحَ مِنْ مِسْكِ أَبْيَضَ فَإِذَا كَانَ يَوْمُ الْجُمُعَةِ نَزَلَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى مِنْ عُرْشِهِ إِلَى كُرْسِيِّهِ، وَحُفَّ الْكُرْسِيُّ بِمَنَابِرَ مِنْ نُورٍ، وَجَاءَ النَّبِيُّونَ حَتَّى يَجْلِسُوا عَلَيْهَا، وَحُفَّ الْمَنَابِرُ بِكَرَاسِيَّ مِنْ ذَهَبٍ، وَجَاءَ الصِّدِّيقُونَ وَالشُّهَدَاءُ حَتَّى يَجْلِسُوا عَلَيْهَا، وَيَجِيءُ أَهْلُ الْغُرَفِ حَتَّى يَجْلِسُوا عَلَى الْكَثِيبِ، فَيَتَجَلَّى لَهُمْ رَبُّهُمْ عَزَّ وَجَلَّ حَتَّى يَنْظُرُوا إِلَى وَجْهِهِ الْكَرِيمِ، وَهُوَ يَقُولُ : أَنَا الَّذِي صَدَقْتُكُمْ وَعْدِي، وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي، وَهَذَا مَحَلُّ كَرَامَتِي، فَسَلُونِي. فَيَسْأَلُونَهُ الرِّضَا، فَيَقُولُ: رِضَائِي أَحَلَّكُمْ دَارِي، وَأَنَالَكُمْ كَرَامَتِي، فَيَسْأَلُونَهُ حَتَّى تَنْتَهِيَ رَغْبَةُ كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمْ، ثُمَّ يُفْتَحُ لَهُمْ مَا لَا عَيْنُ رَأَتْ، وَلَا أُذُنُ سَمِعَتْ، وَلَا خَطَرَ عَلَى قَلْبِ بَشَرٍ.
হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত। একদা হযরত জিবরাঈল আ. একটি সাদা আয়না নিয়ে রাসূল ﷺ এর নিকট আসলেন। আয়নায় একটি কালো ফোটা ছিল। রাসূল ﷺ জিজ্ঞেস করলেন, হে জিবরাঈল! এটা কী? তিনি বললেন, এটা জুমআর দিন। আপনার রব এটাকে আপনার সামনে পেশ করছেন। এটা আপনার ও আপনার উম্মতের জন্য উৎসবের দিন। রাসূল ﷺ বললেন, আমাদের জন্য এতে কী আছে? জিবরাঈল আ. বললেন, তোমাদের জন্য এতে অনেক কল্যাণ রয়েছে। তোমরা এ ব্যাপারে অগ্রগামী। ইহুদী-নাসারারা তোমাদের অনুসারী। এই দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, কোনো মুমিন বান্দা তখন তার জন্য কল্যাণকর কোনো কিছু প্রার্থনা করলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন। আর তার জন্য নির্ধারিত কোনো অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করলে আল্লাহ তাকে তা থেকে উত্তম বস্তু দান করেন। এ দিনটি আমাদের নিকট শ্রেষ্ঠ দিন। আমরা একে ইয়াওমুল মাযীদ বা অতিরিক্ত প্রাপ্তির দিন বলি। রাসূল ﷺ জিজ্ঞেস করলেন, ইয়াওমুল মাযীদ কী? তিনি বললেন, আপনার রব জান্নাতে সাদা মেশক আম্বরের এক প্রশস্ত উপত্যকা তৈরি করে রেখেছেন। জুমআর দিনে আল্লাহ তা'আলা আরশ থেকে কুরসিতে নেমে আসবেন। কুরসির চারপাশে নূরের মিম্বর থাকবে। নবীগণ এসে সেই মিম্বরে বসবেন। মিম্বরের চারপাশে থাকবে স্বর্ণের চেয়ার। সিদ্দীক ও শহীদগণ এসে সেখানে বসবেন। অন্যান্য জান্নাতীগণ এসে টিলার উপর বসবে। আল্লাহ তা'আলা তাদের সামনে নিজেকে প্রকাশ করবেন। তারা তাঁর চেহারার দিকে তাকিয়ে থাকবে। তিনি বলবেন, আমি তোমাদেরকে দেওয়া ওয়াদা পূরণ করেছি। তোমাদেরকে আমার নিয়ামত দান করেছি, আর এ স্থানটি আমার সম্মানের স্থান। তোমরা আমার নিকট চাও। তারা তাঁর নিকট তাঁর সন্তুষ্টি চাইবে। আল্লাহ বলবেন, আমার সন্তুষ্টিই তো তোমাদেরকে এই জান্নাতে প্রবেশ করিয়েছে। তারা তাদের প্রয়োজনমত চাইতেই থাকবে। তারপর তাদের জন্য এমন সব নিয়ামত উন্মুক্ত করা হবে, যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শুনেনি এবং কোনো মানুষ কল্পনাও করেনি। ৯৬
টিকাঃ
৯৬. তাফসীরে ত্ববারী: ২৪/৪৬; তাফসীরে ইবনে কাসীর: ৭/৪২৭; আল্লামা শওকানী বলেন, এই হাদীসের রাবীগণ সকলেই বিশ্বস্ত [ফতহুল কাদীর: ৫/২৩৩]।