📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 দোযখ থেকে উম্মতে মুহাম্মদীর মুক্তি

📄 দোযখ থেকে উম্মতে মুহাম্মদীর মুক্তি


عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : إِنَّ أَهْلَ النَّارِ الَّذِينَ هُمْ أَهْلُهَا، لَا يَمُوتُونَ فِيهَا وَلَا يَحْيَوْنَ، وَلَكِنَّ نَاسًا مِنْ أَهْلِ التَّوْحِيدِ تُصِيبُهُمُ النَّارُ، حَتَّى إِذَا صَارُوا حُمَمًا، أُذِنَ فِي الشَّفَاعَةِ، فَيُجَاءُ بِهِمْ ضَبَائِرَ ضَبَائِرَ، فَيُنْبَثُّونَ عَلَى أَنْهَارِ الْجَنَّةِ، فَيُقَالُ: يَا أَهْلَ الْجَنَّةِ أَفِيضُوا عَلَيْهِمْ، فَيَنْبُتُونَ نَبَاتَ الْحِبَّةِ تَكُونُ فِي حَمِيلِ السَّيْلِ.
হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, জাহান্নামের অধিবাসীরা জাহান্নামে মারাও যাবে না আবার বেঁচেও থাকবে না। কিন্তু তাওহীদে বিশ্বাসীদের কেউ কেউ জাহান্নামে থাকবে, অতঃপর তারা যখন জ্বলে পুড়ে কয়লা হয়ে যাবে তখন শাফায়াতের অনুমতি দেওয়া হবে। তাদেরকে দলে দলে আনা হবে এবং জান্নাতের নহরে ছেড়ে দেওয়া হবে। তখন বলা হবে, হে জান্নাতবাসী! তোমরা তাদের উপর পানি ঢেলে দাও। ফলে তারা সতেজ হয়ে উঠবে।৮৭

عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، دَخَلَ الْجَنَّةَ، وَلَوْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ شَعِيرَةٍ مِنْ إِيمَانٍ.

হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ বলবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে, যদিও তার অন্তরে যব পরিমাণ ঈমানও থাকে।৮৮

ٹکا:
৮৭. সহীহ মুসলিম: হাদীস-১৮৫; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-৪৩৮৫।
৮৮. সহীহ বুখারী: হাদীস-৪৪; সহীহ মুসলিম: হাদীস-১৯৩।

عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : إِنَّ أَهْلَ النَّارِ الَّذِينَ هُمْ أَهْلُهَا، لَا يَمُوتُونَ فِيهَا وَلَا يَحْيَوْنَ، وَلَكِنَّ نَاسًا مِنْ أَهْلِ التَّوْحِيدِ تُصِيبُهُمُ النَّارُ، حَتَّى إِذَا صَارُوا حُمَمًا، أُذِنَ فِي الشَّفَاعَةِ، فَيُجَاءُ بِهِمْ ضَبَائِرَ ضَبَائِرَ، فَيُنْبَثُّونَ عَلَى أَنْهَارِ الْجَنَّةِ، فَيُقَالُ: يَا أَهْلَ الْجَنَّةِ أَفِيضُوا عَلَيْهِمْ، فَيَنْبُتُونَ نَبَاتَ الْحِبَّةِ تَكُونُ فِي حَمِيلِ السَّيْلِ.
হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, জাহান্নামের অধিবাসীরা জাহান্নামে মারাও যাবে না আবার বেঁচেও থাকবে না। কিন্তু তাওহীদে বিশ্বাসীদের কেউ কেউ জাহান্নামে থাকবে, অতঃপর তারা যখন জ্বলে পুড়ে কয়লা হয়ে যাবে তখন শাফায়াতের অনুমতি দেওয়া হবে। তাদেরকে দলে দলে আনা হবে এবং জান্নাতের নহরে ছেড়ে দেওয়া হবে। তখন বলা হবে, হে জান্নাতবাসী! তোমরা তাদের উপর পানি ঢেলে দাও। ফলে তারা সতেজ হয়ে উঠবে।৮৭

عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، دَخَلَ الْجَنَّةَ، وَلَوْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ شَعِيرَةٍ مِنْ إِيمَانٍ.

হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ বলবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে, যদিও তার অন্তরে যব পরিমাণ ঈমানও থাকে।৮৮

ٹکا:
৮৭. সহীহ মুসলিম: হাদীস-১৮৫; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-৪৩৮৫।
৮৮. সহীহ বুখারী: হাদীস-৪৪; সহীহ মুসলিম: হাদীস-১৯৩।

অতঃপর আল্লাহ তা'আলা যখন তার ফয়সালা শেষে বলবেন, হে জিবরাঈল! মুহাম্মদের উম্মতের গুনাহগারদের কী অবস্থা? তিনি বলবেন, হে আল্লাহ! আপনিই তাদের ব্যাপারে ভালো জানেন। আল্লাহ বলবেন, যাও, দেখে এসো তাদের কী অবস্থা? জিবরাঈল আ. দোযখের ফেরেশতা মালেকের কাছে যাবেন, তিনি তখন জাহান্নামের মধ্যখানে আগুনের মিম্বরে সমাসীন থাকবেন। মালেক জিবরাঈল আ. কে দেখে সসম্মানে দাঁড়িয়ে যাবেন। বলবেন, হে জিবরাঈল! আপনি এখানে কী কারণে এসেছেন? জিবরাঈল বলবেন, মুহাম্মদ -এর উম্মতের গুনাহগারদের কী অবস্থা? (তা দেখতে এসেছি)। মালেক বলবেন, তাদের অবস্থা তো খুবই করুণ, তাদের অবস্থান খুবই সঙ্কীর্ণ। খুবই সঙ্কীর্ণ দশায় তারা অবস্থান করছে। তাদের দেহগুলো ভস্ম হয়ে গেছে, দেহের গোশতগুলো আগুন ভক্ষণ করে ফেলেছে। কেবল তাদের মুখমণ্ডল ও কলবসমূহ বাকী আছে, কলবে ঈমান জ্বলজ্বল করছে। জিবরাঈল বলবেন, তাদের ঢাকনা উন্মুক্ত কর, আমি তাদেরকে দেখব। রাসূল বলেন, অতঃপর মালেক রক্ষীদেরকে নির্দেশ দিবেন। তারা ঢাকনা খুলবে। জাহান্নামবাসীরা যখন জিবরাঈল আ. ও তার সুন্দর চেহারা দেখবে, তখন বুঝতে পারবে যে, ইনি আযাবের ফেরেশতা নন। তখন তারা বলবে, এ কোন বান্দা, যার চেয়ে সুন্দর কাউকে আমরা ইতঃপূর্বে দেখিনি? মালেক বলবেন, ইনি জিবরাঈল। রবের নিকট যার বড় মর্যাদা রয়েছে এবং মুহাম্মদ-এর নিকট যিনি ওহী নিয়ে যেতেন। জাহান্নামবাসীরা যখন মুহাম্মদ -এর নাম শুনবে, তখন সকলে চিৎকার করে বলে উঠবে, হে জিবরাঈল! আমাদের পক্ষ থেকে মুহাম্মদকে সালাম জানাবেন এবং বলবেন, আমাদের গুনাহ তার ও আমাদের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দিয়েছে। তাকে আমাদের মন্দ অবস্থা সম্পর্কে জানাবেন।

হযরত জিবরাঈল আ. সেখান থেকে ফিরে আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হবেন। আল্লাহ তা'আলা বলবেন, মুহাম্মদের উম্মতকে কী অবস্থায় দেখলে? জিবরাঈল বলবেন, হে রব! তাদের অবস্থা করুণ, তাদের স্থান অতি সঙ্কীর্ণ। আল্লাহ বলবেন, তারা কি তোমার নিকট কিছু চেয়েছে? তিনি বলবেন, হ্যাঁ আল্লাহ চেয়েছে। তারা আমাকে তাদের নবীর নিকট সালাম পৌঁছে দিতে এবং তাদের মন্দ অবস্থা সম্পর্কে জানাতে বলেছে। আল্লাহ তা'আলা বলবেন, যাও তাকে জানান দিয়ে আসো।

অতঃপর জিবরাঈল আ. রাসূল -এর নিকট গমন করবেন। তিনি তখন চার হাজার পা বিশিষ্ট শুভ্র মোতির তাঁবুতে অবস্থান করবেন। প্রতিটি দরজায় থাকবে স্বর্ণের তৈরি দু'টি কপাট। জিবরাঈল বলবেন, হে মুহাম্মাদ! আমি আপনার উম্মতের সে গুনাহগারদের কাছ থেকে এসেছি, যারা এখনো আযাব ভোগ করছে। তারা আপনাকে সালাম জানিয়েছে এবং বলেছে যে, তাদের অবস্থা অত্যন্ত করুণ। তাদের স্থান খুবই সঙ্কীর্ণ। একথা শুনে নবী আরশের নীচে এসে সেজদায় লুটিয়ে পড়বেন এবং আল্লাহ তা'আলার এমন প্রশংসা করবেন, যা ইতঃপূর্বে কেউ করেনি। আল্লাহ তা'আলা বলবেন, তোমার মস্তক উত্তোলন কর। আবেদন কর। প্রদান করা হবে এবং সুপারিশ কর, কবুল করা হবে।

তিনি বলবেন, হে আমার রব! আমার উম্মতের কিছু দুর্ভাগা যাদের উপর আপনার হুকুম কার্যকর হয়েছে, যাদের থেকে প্রতিশোধ নেওয়া হয়েছে, তাদের ব্যাপারে সুপারিশ করছি। তাদের ব্যাপারে সুপারিশ কবুল করুন। আল্লাহ তা'আলা তখন বলবেন, তোমার সুপারিশ কবুল করা হলো। সুতরাং তুমি জাহান্নামে যাও এবং যে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলেছে, তাদেরকে বের করে আন।

রাসূল তখন জাহান্নামে যাবেন। জাহান্নামের ফেরেশতা মালেক তাকে দেখে সসম্মানে দাঁড়িয়ে যাবেন। রাসূল বলবেন, হে মালেক! আমার উম্মতের দুর্ভাগাদের কী অবস্থা? তিনি বলবেন, তাদের অবস্থা অত্যন্ত করুণ, তারা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক আযাব ভোগ করছে। তিনি বলবেন, দরজা খুলে দাও এবং তাদের ঢাকনা উন্মুক্ত কর। জাহান্নামবাসীরা তাকে দেখে চিৎকার করে বলে উঠবে হে মুহাম্মদ! আগুনে আমাদের চামড়া পুড়ে গেছে এবং আমাদের কলিজা জ্বলে গেছে। রাসূল তাদের সকলকে বের করবেন। ইতোমধ্যে তারা কয়লা হয়ে গেছে। তিনি তাদেরকে জান্নাতের দরজার সম্মুখে এক নহরের নিকট নিয়ে যাবেন, যাকে হায়াত নামক নহর বলা হয়। তারা সেখানে গোসল করবে। ফলে তারা যুবক হয়ে বের হবে, যাদের চোখ হবে সুরমামিশ্রিত, চেহারা হবে চাঁদের মতো উজ্জ্বল। তাদের কপালে লেখা থাকবে 'আল-জাহান্নামিয়্যূনা উতিক্বা-উর রাহমানি মিনান নারি' অর্থাৎ, 'এরা হলো, জাহান্নামী যারা রহমানের বিশেষ দয়ায় জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়েছে'। এরপর তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে। জাহান্নামবাসীরা যখন দেখবে যে, মুসলমানগণ জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়েছে, তখন তারা আফসোস করে বলতে থাকবে, হায়, আমরা যদি মুসলমান হতাম এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেতাম! কুরআনে একে বর্ণনা করা হয়েছে এভাবে— 'রুবামা ইয়াওয়াদ্দু ল্লাজিনা কাফারু লাও কানু মুসলিমীন' অর্থ: যারা কুফরী করেছে, তারা এক সময় কামনা করবে, হায়, যদি তারা মুসলমান হতো।

টিকাঃ
১২২. সুরা হিজর: আয়াত-২

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 মৃত্যুকে জবাই করা

📄 মৃত্যুকে জবাই করা


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: يُجَاءُ بِالْمَوْتِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِي صُورَةِ كَبْشِ أَمْلَحَ، فَيُقَالُ: يَا أَهْلَ الْجَنَّةِ هَلْ تَعْرِفُونَ هَذَا؟ فَيَشْرَئِبُّونَ وَيَنْظُرُونَ، فَيَقُولُونَ : نَعَمْ هَذَا الْمَوْتُ. ثُمَّ يُقَالُ: يَا أَهْلَ النَّارِ هَلْ تَعْرِفُونَ هَذَا؟ فَيَشْرَئِبُّونَ وَيَنْظُرُونَ، فَيَقُولُونَ: نَعَمْ هَذَا الْمَوْتُ. ثُمَّ يُذْبَحُ ثُمَّ يُقَالُ: يَا أَهْلَ الْجَنَّةِ خُلُودٌ بِلَا مَوْتٍ، وَيَا أَهْلَ النَّارِ خُلُودٌ بِلَا مَوْتٍ.

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, কিয়ামতের দিন মৃত্যুকে একটি সাদা-কালো ভেড়ার আকৃতিতে আনা হবে এবং বলা হবে, হে জান্নাতবাসী! তোমরা কি একে চেনো? তারা ঘাড় উঁচু করে তাকিয়ে বলবে, হ্যাঁ, এটা তো মৃত্যু। অতঃপর বলা হবে, হে জাহান্নামবাসী! তোমরা কি একে চেনো? তারা ঘাড় উঁচু করে তাকিয়ে বলবে, হ্যাঁ, এটা তো মৃত্যু। অতঃপর তাকে জবাই করে দেওয়া হবে। তখন বলা হবে, হে জান্নাতবাসী! এখন থেকে চিরস্থায়ী জীবন, আর কোনো মৃত্যু নেই। হে জাহান্নামবাসী! এখন থেকে চিরস্থায়ী জীবন, আর কোনো মৃত্যু নেই। ৮৯

টিকাঃ
৮৯. সহীহ বুখারী: হাদীস-৪৭৩০; সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৮৪৯।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: يُجَاءُ بِالْمَوْتِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِي صُورَةِ كَبْشِ أَمْلَحَ، فَيُقَالُ: يَا أَهْلَ الْجَنَّةِ هَلْ تَعْرِفُونَ هَذَا؟ فَيَشْرَئِبُّونَ وَيَنْظُرُونَ، فَيَقُولُونَ : نَعَمْ هَذَا الْمَوْتُ. ثُمَّ يُقَالُ: يَا أَهْلَ النَّارِ هَلْ تَعْرِفُونَ هَذَا؟ فَيَشْرَئِبُّونَ وَيَنْظُرُونَ، فَيَقُولُونَ: نَعَمْ هَذَا الْمَوْتُ. ثُمَّ يُذْبَحُ ثُمَّ يُقَالُ: يَا أَهْلَ الْجَنَّةِ خُلُودٌ بِلَا مَوْتٍ، وَيَا أَهْلَ النَّارِ خُلُودٌ بِلَا مَوْتٍ.

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, কিয়ামতের দিন মৃত্যুকে একটি সাদা-কালো ভেড়ার আকৃতিতে আনা হবে এবং বলা হবে, হে জান্নাতবাসী! তোমরা কি একে চেনো? তারা ঘাড় উঁচু করে তাকিয়ে বলবে, হ্যাঁ, এটা তো মৃত্যু। অতঃপর বলা হবে, হে জাহান্নামবাসী! তোমরা কি একে চেনো? তারা ঘাড় উঁচু করে তাকিয়ে বলবে, হ্যাঁ, এটা তো মৃত্যু। অতঃপর তাকে জবাই করে দেওয়া হবে। তখন বলা হবে, হে জান্নাতবাসী! এখন থেকে চিরস্থায়ী জীবন, আর কোনো মৃত্যু নেই। হে জাহান্নামবাসী! এখন থেকে চিরস্থায়ী জীবন, আর কোনো মৃত্যু নেই। ৮৯

টিকাঃ
৮৯. সহীহ বুখারী: হাদীস-৪৭৩০; সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৮৪৯।

রাসূল থেকে বর্ণিত— আখেরাতে মৃত্যুকে একটি সুন্দর দুম্বার আকৃতিতে উপস্থিত করা হবে। বলা হবে হে জান্নাতবাসীগণ! তোমরা কি মৃত্যুকে চিনতে পেরেছ? মৃত্যুকে দেখে তারা চিনতে পাবে। অতঃপর বলা হবে, হে জাহান্নামবাসী! তোমরা কি মৃত্যুকে চিনতে পেরেছ? তারা মৃত্যুকে দেখে চিনতে পাবে। অতঃপর জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যবর্তী স্থানে নিয়ে তাকে জবাই করা হবে এবং বলা হবে, হে জান্নাতবাসী! চিরঞ্জীব হও, তোমাদের কোনো মৃত্যু নেই। হে জাহান্নামবাসী! চিরঞ্জীব হও, তোমাদের কোনো মৃত্যু নেই। এটিই হলো, কুরআনের নিম্নোক্ত বর্ণনার মর্ম— 'ওয়া আনযিরহুম ইয়াওমাল হাসরাতি ইয ক্বুদ্বিয়াল আমরু' অর্থ: তাদেরকে আফসোস দিনের ব্যাপারে সতর্ক করুন, যখন সব বিষয়ে ফায়সালা করা হবে。

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. বলেন, 'লা ইউগ্বতন্না ফাজিরুন বিনি'মাতিন, ফাইন্না ওয়ারাহু ত্বালিবান হাসীছান, ওয়াহিয়া জাহান্নামু কূল্লামা খাবাত যিদনাহুম সায়ীরা' কোনো গুনাহগার নেয়ামত পেয়ে যেন উল্লসিত না হয়ে ওঠে। কারণ, তার পিছনে এক অন্বেষণকারী রয়েছে। তা হলো জাহান্নাম। যখন তার আগুন কিছুটা স্তিমিত হবে, আল্লাহ তার তেজ আরো বাড়িয়ে দিবেন। আল্লাহ তা'আলাই সর্বাধিক জ্ঞানী।

টিকাঃ
১২৩. সহীহ বুখারী: হাদীস-৪৭৩০; সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৮৪৯।
১২৪. সূরা মারইয়াম: আয়াত-৩৯

ফন্ট সাইজ
15px
17px